Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রাবিতে প্রকাশ্যে চলে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রম!

রাবিতে প্রকাশ্যে চলে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রম!
ছবি: বার্তা২৪
সাইফুল্লাহ সাইফ রাবি করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ইসলামী ছাত্র শিবির গোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছে সংগঠনটির নারী শাখা ইসলামী ছাত্রী সংস্থা। অভিযোগ আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকটি ছাত্রী হলে একক আধিপত্য বিস্তার করে কার্যক্রম চালাচ্ছে সংস্থার নেত্রীরা।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, হলগুলোতে ছাত্রলীগের কমিটি না থাকা এবং ছাত্রলীগের কর্মী-সমর্থক সংকটের কারণে তাদের কার্যক্রম বাড়ছে। তাছাড়া সংগঠনের সমর্থন বাড়াতে ও নতুনদের দলে টানতে আয়োজন করা হয় পিঠা উৎসবসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। এছাড়া সংস্থার বৈঠকে অংশ নিতে রুমে রুমে গিয়ে আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে কোরআন, হাদিস ও ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জানা গেছে, হলগুলোতে ছাত্রী সংস্থার নিয়ন্ত্রিত কিছু কক্ষ আছে। কেউ হল ছাড়লে তাদের কর্মী-সমর্থককে সেসব কক্ষে তোলা হয়। শুধু তাই না, হলে হলে ব্লক ভাগ করে নিজস্ব নিয়ম প্রথা চালুর চেষ্টাও করা হয়।

ছাত্রী হলের আবাসিক একাধিক ছাত্রী জানান, ছাত্রী সংস্থার কর্মীরা সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বৈঠক করেন। কর্তৃপক্ষ যেন বুঝতে না পারে সেজন্য তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে।

২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় সরকার। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রী ও সরলমনা ধর্মভীরু নারীদের জিহাদে অংশগ্রহণসহ প্রচলিত সংবিধানের বাইরে সমাজ প্রতিষ্ঠা তথা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে জিহাদী মনোভাবাপন্ন করে তোলার চেষ্টা করছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষাঙ্গনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়াসহ অরাজকতা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। তাই অনতিবিলম্বে এ অপচেষ্টা বন্ধ করা প্রয়োজন।’

সম্প্রতি রাবির শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছাত্রী সংস্থার এক সদস্যের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জানাজানি হলে গত ২৪ এপ্রিল রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তখন থেকেই ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রমের বিষয়টি সবার সামনে আসে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় শিবির। এ হামলায় ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক নিহত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে চিরুনি অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়লে গোপনে কার্যকক্রম চালায় শিবির।

এ বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ দেয়। কিন্তু আমরা ছাত্রী হলে অভিযান চালাতে পারি না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে বারবার বলা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে ছাত্রী সংস্থার কর্মীরা প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ড. মো. আমিনুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শুনেছি ছাত্রী সংস্থা হলগুলোতে কার্যক্রম চালাচ্ছে। কিন্তু এ কাজে জড়িতদের পরিচয় আমরা জানতে পারিনি। পরিচয় পেলে ব্যবস্থা নেওয়া যেত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এই বিষয়টি প্রাধ্যক্ষ পরিষদ দেখবে। তারা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে তখন আমরা সাহায্য করতে পারবো। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেননি।’

আপনার মতামত লিখুন :

সোমবারও ঢাবিতে ঝুলতে পারে তালা!

সোমবারও ঢাবিতে ঝুলতে পারে তালা!
রোববার আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজ বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো সোমবারও (২২ জুলাই) প্রশাসনিক ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনে তালা ঝুলতে পারে। বন্ধ থাকতে পারে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম।

রোববার (২১ জুলাই) রাতে আন্দোলনকারী একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

রোববার আন্দোলনকারীদের অবরোধে বন্ধ থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম। বিকেলে শিক্ষার্থীদের লাগানো তালাগুলো ভেঙে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিতে তাদের সহানুভূতি রয়েছে দাবি করে তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার সকাল ৬টার দিকে তাদের সবার ডাকসু ভবনের সামনে একত্রিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে তালা লাগানোর কর্মসূচি পালন করা হবে।

কলাভবন, এফবিএস, আইইআর, রেজিস্ট্রার বিল্ডিং ও ভিসির কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

এদিকে ডাকসু নেতাদের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সে সম্পর্কে গণমাধ্যমকে কিছু জানানো হয়নি। তবে বৈঠকে যাই হোক আন্দোলনকারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

রাবি ছাত্রীকে যৌন হয়রানির সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

রাবি ছাত্রীকে যৌন হয়রানির সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক বিষ্ণুকুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে করা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

রোববার (২১ জুলাই) বিকেলে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল হাসান চৌধুরী।

অধ্যাপক আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, 'দুই শিক্ষার্থীর অভিযোগের সত্যতার আলামত মিলেছে। হাইকোর্ট যৌন হয়রানির বিষয়ে যে ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ মিলে গেছে এবং আমরা তার প্রমাণ পেয়েছি। ওই দুই শিক্ষার্থীর সাথে তার (শিক্ষকের) কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি এবং আচরণ যৌন হয়রানির মতোই ছিল বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।'

যৌন হয়রানির শিকার শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষক বিষ্ণুকুমার হুমকি দিচ্ছেন এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক বলেন, 'তারা বলেছিল, শিক্ষক অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে। আমরা তদন্তে পেয়েছি, শিক্ষকের অনুসারী কিছু শিক্ষার্থীকে দিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে ভুক্তভোগীদের বলা হয়েছে। শিক্ষক বড় হুমকি হতে পারত তাদের একাডেমিক ফলাফলে সেজন্য তাকে আমরা ক্লাস-পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দিয়েছি।'

আগামীকাল সোমবার (২২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের কাছে কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানান কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আবুল হাসান চৌধুরী।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রী এবং ২৭ জুন দ্বিতীয় বর্ষের আরেক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ ইনস্টিটিউটে বিষ্ণুকুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর ইনস্টিটিউটের পরিচালক আবুল হাসানকে আহ্বায়ক করে এবং ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আকতার বানু ও অধ্যাপক রুবাইয়াত জাহানকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অভিযোগকারী দুই শিক্ষার্থীকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য শিক্ষক চাপ দিচ্ছেন উল্লেখ করে গত ২৮ জুন নগরীর মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। এরপর ওই শিক্ষককে ৩ জুলাই ইনস্টিটিউটের স্নাতক পর্যায়ের চারটি বর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দেয় একাডেমিক কাউন্সিল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র