Alexa

জাবির নিরাপত্তা প্রহরীর বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

জাবির নিরাপত্তা প্রহরীর বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

জাবির প্রীতিলতা হল, ছবি: বার্তা২৪.কম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রীতিলতা হলের এক নিরাপত্তা প্রহরীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উক্ত নিরাপত্তা প্রহরীকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে বার্তা২৪.কম-কে নিশ্চিত করেছেন যৌন নিপীড়ন বিরোধী কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রাশেদা আখতার।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম গোলাম কিবরিয়া। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হলের নিরাপত্তা প্রহরী বলে জানা যায়।

নিপীড়নের শিকার নারী শিক্ষার্থী ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ দিবাগত রাত দুইটার দিকে নিপীড়নের শিকার নারী শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর হল সুপারিনটেন্ডেন্ট রোকেয়া বেগম সহ হলের নিরাপত্তা প্রহরী হাবিব, শহিদ ও গোলাম কিবরিয়া তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সে তাদের সাথে ঐ নারী শিক্ষার্থীর একজন বান্ধবী ছিলেন। চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে অভিযুক্ত গোলাম কিবরিয়া অসুস্থ শিক্ষার্থীর শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিতে থাকেন। পরবর্তীতে গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেলে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ দায়ের করেছেন নিপীড়নের শিকার শিক্ষার্থী।

জানা যায়, অভিযুক্ত গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ওই হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরকেও বিভিন্ন ভাবে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

হলের শিক্ষার্থীরা জানান, গোলাম কিবরিয়ার ভাগ্নি ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রী হলেও প্রায়ই তাকে প্রীতিলতা হলে থাকতে দেখা গেছে। ইডেন মহিলা কলেজের সেই ছাত্রী মামার ক্ষমতা প্রদর্শন করে হলে থাকছেন।

এদিকে, এই অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্ত কমিটি ওই হলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে একটি নোটিশ দিয়েছে। নোটিশে কোন শিক্ষার্থী হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীর দ্বারা কোন রকম হয়রানির শিকার হলে তদন্ত কমিটিকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম কিবরিয়া বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘অভিযোগ সত্য নয়। আমি সেদিন হল সুপারের নির্দেশে শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাই। পরে চিকিৎসা শেষে আবার হলে নিয়ে আসি। শুনেছি আমার বিরুদ্ধে নাকি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এমন কোন ঘটনা ঘটে নাই। আর সেদিন আমিতো একা ছিলাম না, আমার সাথে আরও পাঁচ জন ছিলেন।’

প্রীতিলতা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক কৌশিক সাহা বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমরা অভিযোগপত্র পেয়ে সেটা যৌন নিপীড়ন সেলে পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে আমি আর কিছু বলতে পারবো না।’

যৌন নিপীড়ন বিরোধী অভিযোগ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রাশেদা আখতার বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমরা একটা অভিযোগপত্র পেয়েছি। তদন্ত কাজ চলছে। আপাতত অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

আপনার মতামত লিখুন :