Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জবিতে ২০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য একটিমাত্র লিফট

জবিতে ২০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য একটিমাত্র লিফট
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক, ছবি: সংগৃহীত
নিজাম উদ্দিন শামীম
জবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পুরান ঢাকায় অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর উঠানামার জন্য রয়েছে একটি মাত্র লিফট। ফলে নিয়মিত লিফট কেন্দ্রিক ভোগান্তি রাড়ছে শিক্ষার্থীদের। ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়েও লিফটে যায়গা পাওয়া যায় না। পেলেও ধাক্কাধাক্কি করে লিফটে চড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।

জবির নতুন ভবনে অবস্থিত শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে জন্য রয়েছে একটি লিফট ও শিক্ষকদের যাতায়াতের জন্য রয়েছে একটি লিফট। নয় তলা এ ভবনটিতে নিয়মিত প্রায় সাড়ে সাত হাজার শিক্ষার্থী আসা যাওয়া করে। এছাড়া এ ভবনটির ৬ষ্ঠ তলায় লাইব্রেরি থাকায় ও বিভিন্ন কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর যাতায়াত করতে হয়।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। আর শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয় মাত্র একটি লিফটে চড়ে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। অনেকে এই নিয়ে সময় মতো ক্লাসে উপস্থিত হতে পারেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র হতে জানা যায়, জবির এ নতুন ভবনটিতে সাতটি লিফট লাগানোর জায়গা রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে দুটি লিফট কার্যকর করা হয়েছে। একটি শিক্ষার্থীদের জন্য এবং অন্যটি শিক্ষকদের জন্য। তবে ভবনটি ১৩ তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে সবগুলো লিফট কার্যকর করা হবে বলে জানা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভবনটিতে ১৫টি বিভাগে মোট ৭ হাজার ৮৮০ শিক্ষার্থী রয়েছে। যার মধ্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ৩৮৮, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে ১৩১, ফার্মেসি বিভাগে ২৮৬, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে ৩০৮, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৩৮৫, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগে ১১৯, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে ১২৬ একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে রয়েছে ১ হাজার ২২৩ শিক্ষার্থী, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ১ হাজার ২২০, মার্কেটিং বিভাগে ৭৫২, ফিন্যান্স বিভাগে ৮২৬, আধুনিক ভাষা ইনিস্টিটিউট বিভাগে ৩৪২, আইন বিভাগে ৬১১, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগে ২০৫ ও নৃবিজ্ঞান বিভাগে ৫১৫ জন শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ২০০৫ সালে ভবনটি নির্মাণের জন্য ৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। যার সময়সীমা ছিল ২০১৩ সাল পর্যন্ত। কিন্তু নানা অজুহাতে ভবনটির নির্মাণ কাজে বিলম্ব করা হয়।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'লিফটের জন্য নির্ধারিত সময় পর ক্লাসে যেতে হয়। এছাড়া মাঝে মাঝে লিফটে যায়গা না পেয়ে সিঁড়ি বেয়েই ৮ তলা ৯ তলায় উঠতে হয়।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী সুকুমার চন্দ্র সাহা বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'শিক্ষক শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য তিনটি লিফটের কাজ শেষ করা হয়েছিল। তবে ভবনের ওপরে কাজ চলার কারণে অনিবার্য কারণ বশত একটি লিফট বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে দুইটি লিফট চালু রয়েছে। একটি শিক্ষকদের জন্য অন্যটি শিক্ষার্থীদের জন্য। বর্তমানে এ ভবনটিতে যাতায়াতের জন্য সাতটি লিফটের যায়গা রাখা হয়েছে। বাকি লিফটগুলো লাগানোর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।'

আপনার মতামত লিখুন :

শাবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তন ডিসেম্বরে, কমিটি গঠিত

শাবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তন ডিসেম্বরে, কমিটি গঠিত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘোষিত হয়েছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) তৃতীয় সমাবর্তনের তারিখ। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় সমাবর্তন।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, গত ১৪ মে একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ নিয়ে একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন- কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম, ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন, জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, কৃষি ও খনিজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, ভৌত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানবৃন্দ, আইআইসিটির পরিচালক, আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের পরিচালক, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক, প্রক্টর, হিসাব পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রধান প্রকৌশলী এবং এতে সদস্য সচিব করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে।

১৯৯১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর মাত্র দুইবার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৯৮ সালের ২৯শে এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন আয়োজন করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এম হাবিবুর রহমান। এর ঠিক নয় বছর পর ২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজন করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম। ১৯৯১-৯২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০০০-০১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত দুই বারে সর্বমোট ১০টি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সমাবর্তন পেয়েছেন। এরপর ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১৪-১৫ পর্যন্ত মোট ১৪টি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সম্মান সম্পন্ন করেছেন, তারা এখনো সমাবর্তন পায়নি।

এদিকে কিছুদিন আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন সমাবর্তন না হওয়ায় একটি বিরাট সংখ্যক শিক্ষার্থী সমাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে। যার ফলে এই বিরাট সংখ্যক শিক্ষার্থীর এক সাথে সমাবর্তন দেওয়া সম্ভব নয়। দুইভাগে সমাবর্তন দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের সঙ্গে কথা বলে ডিসেম্বরে সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তৃতীয় সমাবর্তনে ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং আগামী বছর সম্ভাব্য চতুর্থ সমাবর্তনে বাকি শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারবে। আগস্ট থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু করা হবে জানিয়েছিলেন তিনি।

 

জাবির পরিবহনে যুক্ত হলো ৫টি নতুন গাড়ি

জাবির পরিবহনে যুক্ত হলো ৫টি নতুন গাড়ি
গাড়ি উদ্বোধন করলেন জাবি উপাচার্য, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবহন ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করতে নতুন করে আরও পাঁচটি গাড়ি যুক্ত করা হয়েছে। পাঁচটি গাড়ির মধ্যে রয়েছে- দুটি এসি মিনিবাস, একটি নন এসি মিনিবাস, একটি এসি মাইক্রোবাস ও একটি পিকআপ।

জানা যায়, দুটি এসি মিনিবাস ও এসি মাইক্রোবাস শিক্ষকদের পরিবহনে এবং নন এসি মিনিবাসটি শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ব্যবহৃত হবে বলে জানা যায়।

বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে পরিবহনগুলোর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

উদ্বোধনকালে উপাচার্য বলেন, 'আমরা অত্যন্ত খুশি যে, শেষ পর্যন্ত নতুন বাস পেলাম। এর মধ্যদিয়ে আমাদের পরিবহন আরও সমৃদ্ধ হল। যদিও চাহিদার তুলনায় বাসের সংখ্যা এখনো কম। খুব শীঘ্রই আরও কিছু বাস আমরা পরিবহনে সংযোজন করতে পারব।'

গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণে সকলের সহযোগিতা কামনা করে উপাচার্য আরও বলেন, 'এসব আপনাদের সম্পদ। আমাদের পরিবহন শুধু গাড়িতেই সুন্দর হবে তা নয়। পরিবহন সেবায় নিয়োজিত সকলের আচরণও ভালো হবে আশা করি।'

এদিকে দুই কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে গাড়িগুলো কেনা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ সিটের এসি মিনিবাস দুটি ক্রয়ে এক কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার ও ১৬ সিটের মাইক্রোবাস ক্রয়ে ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া পিকআপ ২৯ লাখ এবং ৩০ সিটের নন এসি মিনিবাস ক্রয়ে ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করা হয়েছে।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নূরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক বশির আহমেদ, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক রাশেদা আখতার, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র