Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের অলিখিত ৪১ ‘স্পট’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের অলিখিত ৪১ ‘স্পট’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক/ ছবি: বার্তা২৪.কম
শাহরিয়ার হাসান ও সাইফুল্লাহ সাইফ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ও রাবি করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী থেকে: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে মাদকের ভয়াবহতা চরমে। অবাধে মাদক সেবনের সুযোগে একের পর এক শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন। বহিরাগতদের সহজে অনুপ্রবেশের সুযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১টি জায়গাকে মাদকের অলিখিত স্পট (নির্দিষ্ট স্থান) বানিয়ে ফেলেছেন মাদকসেবীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ৪১টি স্পটে সন্ধ্যা নামলেই শিক্ষার্থীরা গড়ে তোলেন মাদকের আখড়া। যার নেতৃত্বে থাকেন স্থানীয় তথাকথিত নেতা ও তার অনুসারীরা।

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশেষ অভিযানও চালিয়ে ছিল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। প্রায় এক বছর অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত পেরে উঠতে পারেনি প্রশাসন। গত ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে এ মাদকবিরোধী অভিযান। যার ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর, কাজলা, তালাইমারী, কাটাখালি, স্টেশন বাজার, বুধপাড়া, মেহেরচন্ডী থেকে কতিপয়  শিক্ষার্থীরা গাজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদব্য সংগ্রহ করছে। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের মাদক সরবরাহ করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/20/1555722580333.jpg
রাবি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধে চলাফেরা

রাবির প্রক্টরিয়াল বডির সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী সীমান্ত পার্শ্ববর্তী এলাকায় হওয়াতে ঐ এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরণের মাদক ঢুকছে। মাদক ব্যবসায়ীরা নিরাপদ স্থান হিসেবে নেতা ও অনুসারীদের যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নিরাপদ হিসেবে ব্যবহার করছে।

রাবির লোক প্রশাসনের বিভাগের শিক্ষার্থী সজল বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘মাদক সেবনের আখড়া হিসেবে পরিচিত ক্যাম্পাসের বেশকিছু জায়গা রয়েছে। যেখানে শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা অহরহ মাদক সেবন করে থাকেন।’ 

সরেজমিনে আরো দেখা যায়, মাদক সেবনের স্পট  হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের ছাদ, ছাত্রদের হলের ছাদ, সাবাস বাংলাদেশ মাঠের দক্ষিণ পশ্চিম কোণ, আইবিএ ভবন চত্বর, হবিবুর রহমান হলের মাঠ, জুবেরী মাঠ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের পুকুর ঘাট, আমীর আলী হলের মাঠ, নবাব আব্দুল লতিফ হলের পূর্ব পাশের মাঠ, শাহ মখদুম হলের পশ্চিম পাশে আমগাছ তলা।

এছাড়াও শহীদ শামসুজ্জোহা হলের পূর্ব পাশে, জিমনেসিয়ামের সামনের মাঠ, ইবলিশ চত্বর, শহীদুল্লাহ কলা ও মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের সামনের আমতলা, সিরাজী ভবনের সামনে মেহগনী বাগান, পশ্চিম পাড়া শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায়, চারুকলা ও কৃষি অনুষদ সংলগ্ন মাঠ, চারটি বিজ্ঞান ভবনের চারপাশে, শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সামনের মাঠ মাদকের স্পট হিসেবে পরিচিত।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে এ অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পারে। কিন্তু তারা করে না। অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে প্রশাসনের কার্যক্রম। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/20/1555722529651.jpg
রাবির হল

 

বহিরাগতদের কাছ থেকে মাদক সরবরাহ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সামির বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার বহিরাগতরা এসে আমাদের কাছে গাজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় সরবরাহ করে। যার ফলে মাদক সেবনকারী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মাদকের আসর বসান।’ 

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন ছাত্র নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে মাদক সরবরাহ করে। আবার অনেক সময় তারাও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন হলে মাদক সেবন করেন।’ 

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘মাদকের স্পটগুলো সর্ম্পকে আমরা অবহিত আছি। মাদকের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছি। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন চিহ্নিত জায়গায় অভিযান চালিয়েছি। আবারও অভিযান শুরু হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতারা বহাল, সাংগঠনিক কার্যক্রম বেহাল

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতারা বহাল, সাংগঠনিক কার্যক্রম বেহাল
মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ/ ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের এক বছর মেয়াদী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। এরপর থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকায় হচ্ছে না রাজনীতির চর্চা, নেই নিয়মিত মিছিল-মিটিং। মাঝে মাঝে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালন করলেও অন্য কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি থাকে খুবই নগন্য।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়। পদপ্রত্যাশী নেতাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনটির কার্যক্রমে গতিশীলতা বাড়াতে যেন দ্রুত নতুন কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর রাবি শাখা ছাত্রলীগের ২৫তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং ১১ ডিসেম্বর গোলাম কিবরিয়াকে সভাপতি ও ফয়সাল আহমেদ রুনুকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট এক বছর মেয়াদী আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এর প্রায় ছয় মাস পর ১৯ জুন ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির স্থলে ২৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ঐ কমিটিতে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের পদ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠে। শুরুর দিকে বিভিন্ন ধরনের ইতিবাচক কাজ করে সাড়া ফেললেও শেষ পর্যন্তÍ এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি সেই কমিটি। বিভিন্ন সময় সাংবাদিক-শিক্ষার্থী মারধর, ছিনতাই, শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি ও ছাত্রী উত্যক্তসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বার বার গণমাধ্যমে শিরোনাম হতে হয়েছে রাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের।

এদিকে, হল ইউনিটকে ক্যাম্পাস রাজনীতির প্রাণ বলা হলেও দীর্ঘ সাড়ে চার বছর ধরে নেই হল কমিটি। বার বার হল কমিটি দেওয়ার আশ্বাস দিলেও হয়নি। এতে হলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। যার ফলে হলগুলোতে সিট বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ও ২২ নভেম্বর দুই ভাগে ছাত্রদের ১১টি হলের সম্মেলন করে তৎকালনী রানা-বিপ্লব কমিটি। পরে বিভিন্ন সময়ে ৯টি হলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঝুলিয়ে রাখা হয় শের-ই-বাংলা ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল শাখার কমিটি। নতুন করে আর হল কমিটি দেয়নি ছাত্রলীগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের একাধিক নেতা বলেন, প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে হল কমিটি দেওয়া হচ্ছে না। কেন্দ্র থেকে নির্দেশ থাকলেও কোনো এক অজানা কারণে এখনো পর্যন্ত হল কমিটি হয়নি। যার ফলে অনেক নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। তাই দ্রুত নতুন কমিটি দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

অধিভুক্তি বাতিলের আন্দোলনে ডাকসু সদস্য তিলোত্তমার বাধা!

অধিভুক্তি বাতিলের আন্দোলনে ডাকসু সদস্য তিলোত্তমার বাধা!
আন্দোলনকারীদের অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য শাসান তিলোত্তমা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের করা অবরোধ অন্দোলনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডাকসু ও সিনেট সদস্য তিলোত্তমা শিকদারের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) অবরোধ চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার আদেশ দেন তিনি।

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে টিএসসির চতুর্দিকের রাস্তাসহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও দোয়েল চত্বর অবরোধ করে রেখেছিল ঢাবি শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, টিএসসিতে অবরোধ চলাকালীন দুপুর ১২টার দিকে সুফিয়া কামাল হল থেকে রিকশাযোগে টিএসসিতে আসেন তিলোত্তমা শিকদার। টিএসসিতে এসে তিনি নিজ হাতে ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলেন এবং আন্দোলনকারীদের অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য শাসিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী কিছু শিক্ষার্থী জানান, তিলোত্তমা শিকদার ব্যারিকেড সরিয়ে দিলে আন্দোলনকারীদের সাথে তার বাদানুবাদ হয়। তখন তিলোত্তমা বলেন, 'সুফিয়া কামাল হল থেকে টিএসএসি পর্যন্ত আসতে তার ৪০ মিনিট সময় লেগেছে।'

জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় পত্র না দেখালে অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা কোনো রিকশা ছেড়ে দিচ্ছেন না। তাই অবরোধ তুলে নিতে বলেছি।'

অধিভুক্ত বাতিল, অটোমেশনের আওতায় যাবতীয় কার্যক্রম, রিকশা ভাড়া নির্ধারণসহ চার দফা দাবি বাস্তবায়নে গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছিল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর ২টার দিকে ডাকসু সদস্য তানভির হাসান সৈকত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন। শাহবাগে অবরোধ শেষে প্রোগ্রামের সমাপ্তি টানেন অপরাজেয় বাংলায় এসে।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, ভিসি কার্যালয় ঘেরাও, শাহবাগমোড় অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিলসহ ইত্যাদি লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে আজকের মতো অবরোধ স্থগিত করেছেন আন্দোলনকারীরা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র