Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

ছাত্রীদেরকে যৌন হয়রানি

বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষককে অব্যাহতি

বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষককে অব্যাহতি
অফিস আদেশে শিক্ষককে প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতির পাশাপাশি ৪ বছরের কর্মবিরতি দেয়া হয়েছে, ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
গোপালগঞ্জ
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির দায়ে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান আক্কাস আলীকে বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে ওই শিক্ষককে জানুয়ারি-জুন ২০১৯ থেকে জুলাই-ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত মোট ৮ সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মোঃ নুরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার জানান, গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষক আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তবে ওই সময়ে (৪ বছর) তিনি বেতনসহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যান্য সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন কি না সেটা তার জানা নেই বলে জানান।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শৃঙ্খলা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, তদন্ত প্রতিবেদন গোপনীয় একটি বিষয়। তদন্ত কমিটি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত দুই ছাত্রীর অভিযোগ সত্য কি না এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেননি।

উপাচার্য বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিবেচনা করে এবং তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উল্লেখিত সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরো বেতন ও সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও তাকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কোন কাজ করতে দেওয়া হবে না।'

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে দুই ছাত্রী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন। অভিযোগের বিষয়টি শিক্ষার্থীদের ফেসবুকে স্থান পায়। এক সময় তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তির দাবিতে ৭ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন।

আপনার মতামত লিখুন :

ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে পৃথিবীকে স্বর্গ বানাতে হবে: শোভন

ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে পৃথিবীকে স্বর্গ বানাতে হবে: শোভন
রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবন্ধীদের উদ্দেশ্য করে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নাতনি সায়েমা ওয়াজেদ পুতুলও আপনাদের মতো মানুষদের নিয়ে কাজ করেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নে আপনাদেরও অংশীদার হতে হবে। আপনাদের অন্যরকম দৃষ্টিভঙ্গিতে পৃথিবীটা স্বর্গ বানাতে হবে। মুজিবের আর্দশকে ধারণ করে আত্মবিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

রোববার (২৫ আগস্ট) আরসি মজুমদার মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিবন্ধী শিক্ষা ও পুনর্বাসন সংস্থা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

শোভন বলেন, ‘কৃষক-শ্রমিকসহ শ্রমজীবী মানুষের কথা ভেবে ১৯৭৫ সালে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।’

সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহদী আল মুহতাসিম নিবিড় বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের প্রতিবন্ধকতা অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও প্রতিভা বিকশিত করার মাধ্যমেই দূর করতে হবে। ১৯৭৪ সালে ৪৭টি বিদ্যালয়ের সমন্বয়ে পড়াশোনা চালুর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশে প্রথম দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। বর্তমানে দেশে প্রায় ১০ রাখ প্রতিবন্ধী মাসিক ৭৫০ টাকা হারে ভাতা পেয়ে থাকে, কিন্তু যৌক্তিক হারে তা বৃদ্ধি করা উচিত। বঙ্গবন্ধু আমাদের যে ত্যাগের শিক্ষা দিয়ে গেছে তা অনুসরণ করে অন্যদের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।’

প্রতিবন্ধী শিক্ষা ও পুনর্বাসন সংস্থার সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা একজন স্বচ্ছ মানুষের চেয়ে কম নই। ইচ্ছা থাকলেই আমরা সব কিছু করতে পারি।’

এ সময় তিনি প্রতিবন্ধীদের ভাতা তিন হাজার টাকা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।

আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন ও বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি মনসুর আহমেদ চৌধুরী, চাকরি প্রত্যাশী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদের আহ্বায়ক মো. আলী হোসেন প্রমুখ।

জাবির উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় প্রতিবাদ

জাবির উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় প্রতিবাদ
বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

পূর্বঘোষিত তিন দফার ছয় দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের কয়েকটি ভবন ও প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুরাদ চত্বরে সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়।

মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের পাশের তিনটি হল স্থানান্তর করে নতুন জায়গায় দ্রুত কাজ শুরু করা, উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা দূর্নীতির ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করা এবং টেন্ডার ছিনতাইকারদীর বিচারের আওতায় আনাসহ প্রকল্পের সকল ব্যয়ের হিসেব জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানান।

এছাড়া উপাচার্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় নিন্দা জানান বক্তারা।

আরও পড়ুন: জাবিতে সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় নিন্দা

উপাচার্যসহ তার পরিবার প্রকল্পের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারন সম্পাদক মোহাম্মাদ দিদার বলেন, ‘আমরা পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি এই দুর্নীতির সঙ্গে স্বয়ং উপাচার্য জড়িত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বারবার নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। এবার উপাচার্য ও তার পরিবার যে জনসাধারণের টাকা লুটপাট করতে নেমেছেন তা বন্ধ করতে আমরাও রুখে দাঁড়াব।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566732339061.jpg

সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মাথা হলো উপাচার্য। আমরা লক্ষ্য করছি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাথায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। আমরা এটার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করছি। সাংবাদিকরা যখন অর্থ কেলেঙ্কারির তথ্য তুলে ধরলেন তখন উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম উপাচার্য সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করতে চেয়েছেন। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই হুমকি ধামকি দিয়ে আপনারা কারও কণ্ঠ রোধ করতে পারবেন না।’

আরও পড়ুন: ৬ দাবি আদায়ে আন্দোলনে জাবি শিক্ষার্থীরা

নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের কাজ চোর ধরে বেড়ানো না। তেমনি শিক্ষকদের কাজ চুরিতে সহযোগিতা করা না। শুরু থেকে এই মাস্টারপ্ল্যান নামক জিনিসটা নিয়ে যে লুকোচুরি চলছে এবং নানা পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাধারণের মতকে উপেক্ষা করে অস্বচ্ছ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুল পরিমান টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা এবং খরচ করার পায়তারা করছে।’

প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন করে ছাত্র শৃঙ্খলা বিধি যুক্ত করা হয়েছে অভিযোগ করে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন,‘আমরা উন্নয়নের বিরুদ্ধে নয়। আমরা উন্নয়ন চাই তবে সেটা হোক পরিকল্পিত উন্নয়ন। কিন্তু আমরা দেখছি তড়িঘড়ি করে উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে যেয়ে লুটপাট শুরু করে দেওয়া হয়েছে।’

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সদস্য রাকিবুল রনি, বাংলাদেশ সাধারন ছাত্র অধিকার ও সংরক্ষণ পরিষদের জাবি শাখার সমন্বয়ক আবু সাইদ প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র