Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

জাবিতে দোকান কর্মচারীকে ছাত্রলীগ কর্মীর মারধর

জাবিতে দোকান কর্মচারীকে ছাত্রলীগ কর্মীর মারধর
অভিযুক্ত তৌফিক আহমেদ / ছবি: সংগৃহীত
জাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলার নুরজাহান হোটেলের এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে।

শনিবার (২৩ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী তৌফিক আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৪৩তম ব্যাচ ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানার অনুসারী।

পাশ্ববর্তী একাধিক দোকানদার অভিযোগ করে জানান, শুক্রবার রাতে নুরজাহান হোটেল থেকে বান্ধবীর জন্য খাবার নেন তৌফিক। সেই খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তার বান্ধবী। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নুরজাহান হোটেলের মালিক মো. ফরমান খানের সঙ্গে দোকানের সামনে কথা বলেন তিনি। এ সময় একই দোকানের কর্মচারী রমজান আলী কাস্টমার ডাকতে সেদিকে গেলে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। তৌফিককে রাগান্বিত হয়ে উচ্চাবাচ্য করতে দেখা যায়।

মারধরের শিকার রমজান আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কার কাছে বিচার দিব? কে এর বিচার করবে? এই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কোনো বিচার হয় না।’

অভিযুক্ত তৌফিক আহমেদ বলেন, ‘শুক্রবার রাতে ওই দোকান থেকে আমার বান্ধবীর জন্য খাবার নিয়ে যাই। খাবার খাওয়ার পর তার পেটে সমস্যা হয়। এজন্য দুপুরে আমি মালিকের সঙ্গে কথা বলতে দোকানেরা সামনে যাই। এ সময় রমজান এগিয়ে আসলে তাকে ধাক্কা দিয়ে পাঠিয়ে দেই। আমি চাইনি কর্মচারীর সামনে দোকানের মালিকের সম্মান নষ্ট হোক।’

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, ‘বটতলার খাবারের মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়া উচিত। তবে কর্মচারীদের গায়ে হাত তোলাটা কাম্য নয়। এ রকম কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘এ রকম কোনো ঘটনা এখনো শুনিনি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

আপনার মতামত লিখুন :

বেরোবিতে কর্মচারীদের আন্দোলনে স্থবির কার্যক্রম

বেরোবিতে কর্মচারীদের আন্দোলনে স্থবির কার্যক্রম
বেরোবিতে কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি, ছবি: বার্তা২৪.কম

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) নতুন প্রক্টর নিয়োগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সভা সমাবেশ বন্ধের ঘোষণায় প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ করছেন কর্মচারীরা। একই সঙ্গে আন্দোলনরত কর্মচারীদের ওপর হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে শিক্ষক সমিতি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

এদিকে নতুন প্রক্টরের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীরা টানা চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত রাখায় অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাস। ফলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

বুধবার (২৬ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পার্কের মোড় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। পরে তারা নতুন প্রক্টরের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করে রাখেন প্রশাসনিক ভবন চত্বর। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) একই স্থানে অবস্থান নিয়ে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন তারা।

বেরোবিতে কর্মচারীদের আন্দোলনে স্থবির কার্যক্রম

এ সময় কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক মাহাবুবার রহমান অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার (২৫ জুন) তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গণযোগাযোগ বিভাগের সহকারী শিক্ষক তাবিউর রহমানের নেতৃত্বে বেশি কিছু শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা তাদেও ওপর হামলা চালিয়ে দশজন কর্মচারীকে আহত করেন। এ ঘটনার বিচার না করে উল্টো মধ্যরাতে প্রক্টর ফরিদুল ইসলামকে অপসারণ করে সহকারী প্রক্টর আতিউর রহমানকে প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করার পায়তারা চালানো হচ্ছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা শিক্ষক তাবিউর রহমানকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

এদিকে মঙ্গলবার হামলার ঘটনার পর নতুন ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক আতিউর রহমানকে প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) নিয়োগ দেয়া হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, 'ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন প্রক্টরও নিয়োগ দেয়া হয়েছে'।

গত রোববার (২৩ জুন) থেকে কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। তারা কর্মচারীবান্ধব পদোন্নতি/আপগ্রেডেশন নীতিমালা বাস্তবায়ন, ৪৪ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান, দশম গ্রেডপ্রাপ্ত ২৫ জন কর্মকর্তাকে পদমর্যাদা প্রদান ও মাস্টার রোল কর্মচারীদেরও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সংগঠন কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন করছেন।

‘বাজেট বাস্তবায়নের নামে টাকা নষ্ট করা হচ্ছে’

‘বাজেট বাস্তবায়নের নামে টাকা নষ্ট করা হচ্ছে’
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, প্রতি বছর বাজেট হচ্ছে কিন্তু সেটা বাস্তবায়নের নামে টাকা নষ্ট করা হচ্ছে। জুন মাস আসলেই টাকা খরচের ধুম পড়ে যায়। এর ফলে রেলে লোহার বদলে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে।

যেসব প্রকল্পে খরচ কম সেখানে সরকারের আগ্রহ কম বলে উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, গত পাঁচ থেকে সাত বছরে রেলের পিছনে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে কিন্তু তার আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি।

বুধবার (২৬ জুন) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট আয়োজিত ‘বাজেট ২০১৯-২০: কতটা উন্নয়নের কতটা বৈষম্যের’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, রূপপূর পারমাণবিক কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ ৩২ হাজার কোটি থেকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি করা হয়েছে। এ প্রকল্পের শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয় যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। অথচ এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঋণ গ্রহণ করতে হচ্ছে সরকারকে। আর এ ঋণ পরিশোধের জন্য বেড়ে যাচ্ছে পরোক্ষ করের পরিমাণ। ফলে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে।

একটি দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ খাতে বেশি বরাদ্দ দেওয়ার প্রয়োজন। অথচ শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বেশি দেখানোর জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীন প্রশিক্ষণ ও পারমাণবিক ব্যয়কেও শিক্ষাখাতের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে উল্লেখ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এই অধ্যাপক।

জাবি ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সুস্মিতা মরিয়মের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন বলেন, এই উপমহাদেশের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেওয়া হয় বাংলাদেশে। গবেষণায় বরাদ্দ এতটাই কম যে, এতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র