Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

বেরোবির কেনা ‘মাইক্রোবাস’ নিয়ে বিতর্কে উপাচার্য

বেরোবির কেনা ‘মাইক্রোবাস’ নিয়ে বিতর্কে উপাচার্য
বেরোবি শিক্ষকদের জন্য ক্রয়কৃত মাইক্রোবাস ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ / ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
রংপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিতর্কের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ। একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় আসছেন। এবার বেরোবি শিক্ষকদের জন্য কেনা মাইক্রোবাস ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে ব্যবহার করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ডিএনসিসি নির্বাচনে বেরোবির শিক্ষকদের মাইক্রোবাসটি ব্যবহার করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা জানিপপ।

এদিকে শিক্ষকদের ব্যবহারের জন্য কেনা মাইক্রোবাসটি উপাচার্য তার নির্বাচনী সংস্থার পর্যবেক্ষণ কাজে ব্যবহার করায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিষয়টিকে উপাচার্যের ইচ্ছে শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দাবি করছেন।

নাম না প্রকাশের শর্তে সাবেক এক শিক্ষক নেতা বলেন, ‘অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান ভুলে গেছেন তিনি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তাকে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হয় না বলেই তিনি যখন যা ইচ্ছে করে যাচ্ছেন। উপাচার্য তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান জানিপপ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তার মাথা ব্যথা নাই।'

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আনা-নেওয়ার জন্য সম্প্রতি একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস (যার নম্বর রংপুর চ-৫১-০০২৭) কেনা হয়। মাইক্রোবাসটি গত বছরের ১৪ আগস্ট থেকে রংপুর থেকে ঢাকায় নিয়ে যান উপাচার্য। এরপর থেকে মাইক্রোবাসটি তার প্রয়োজনে এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান জানিপপের বাহন হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। উপাচার্য তার নির্বাচনী কাজে মাইক্রোবাসটি ব্যবহারের সাথে সাথে জ্বালানি খরচটাও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিচ্ছেন।

এদিকে মাইক্রোবাস ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ড. অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ্। তিনি জানান, গাড়ির সংকট থাকায় এবং বৃষ্টির কারণে তাকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবাসটি ব্যবহার করতে হয়েছে। তবে জ্বালানি খরচের বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা প্রতিষ্ঠানের গাড়ি নির্বাচনে ব্যবহার করা দুঃখজনক। উপাচার্য তার সংস্থার কাজে শিক্ষকদের পরিবহন সুবিধার জন্য কেনা মাইক্রোবাসে পর্যবেক্ষকের স্টিকার ব্যবহার করতে পারেন না। রংপুরের বাইরে গিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বেরোবির মাইক্রোবাসের ব্যবহার উপাচার্যের চরম অনৈতিক কাজের উদাহরণ।'

উল্লেখ্য, ড. অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য হলেও তিনি মাসের বেশির ভাগ সময়ই ঢাকায় অবস্থান করেন। টেলিভিশন টক-শো আর তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান জানিপপ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তার ব্যাপারে নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

আপনার মতামত লিখুন :

গ্রেনেড হামলা দিবসে ইবিতে প্রতিবাদ র‌্যালি

গ্রেনেড হামলা দিবসে ইবিতে প্রতিবাদ র‌্যালি
ইবিতে প্রতিবাদ র‍্যালি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে প্রতিবাদ র‌্যালি, আলোচনা সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (২১ আগস্ট) ক্যাম্পাসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারীর নেতৃত্বে প্রতিবাদ র‌্যালি বের হয়। এরপর র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।

এসময় র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. আনিছুর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যালি শেষে বেলা ১২টায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জাতীয় শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক শাসুজ্জামান খান।

বায়ো টেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা জামাল হ্যাপির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শানিহনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা। এছাড়া স্বাগত বক্তা ছিলেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ।

এদিকে জাতীয় শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস ২০১৯ উপলক্ষে সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিবের পাদদেশে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। মানববন্ধনে ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের মধ্যে যাদেরকে এখনো শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি, তাদের শাস্তি কার্যকরে জোর দাবি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুর ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে মানববন্ধনে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

জাবিতে তারেক-বাবর-পিন্টুর প্রতীকী ফাঁসি

জাবিতে তারেক-বাবর-পিন্টুর প্রতীকী ফাঁসি
জাবিতে ২১ আগস্টের হামলায় জড়িত খুনিদের প্রতীকী ফাঁসি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে প্রতীকী ফাঁসির কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগ।

বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মহুয়া তলায় এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করে দলীয় নেতাকর্মীরা। এতে গ্রেনেড হামলায় জড়িত তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু ও হারিস চৌধুরীকে প্রতীকী ফাঁসি দেয়া হয়।

এর আগে বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ চত্বর থেকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার নেতৃত্বে কালো পতাকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চের সামনে এসে শেষ হয়।

প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, '২০০৪ সালের আগস্টের এই দিনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার মধ্যদিয়ে দেশকে অন্ধকারে পতিত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু দেশনেত্রীকে তারা হত্যা করতে পারেনি। সেদিন রক্তাক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। ২১ আগস্টের ভয়াল এই হামলার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার জড়িত ছিল। এই হামলায় জড়িতদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।'

এ সময় শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দুইশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র