Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পাকিস্তানও আমাদের মতো হতে চায়: জাফর ইকবাল

পাকিস্তানও আমাদের মতো হতে চায়: জাফর ইকবাল
ছবি: বার্তা২৪
ঢাবি করেসপনডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক এগিয়েছে। বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পাকিস্তানও আমাদের মতো হতে চায়।’

শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল লনে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ বোটানি অলিম্পিয়াড-২০১৮, ঢাকা বিভাগের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন ।

জাফর ইকবাল বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশের কোনো অর্থনীতি ছিল না। কিন্তু আজ বাংলাদেশ এমন অবস্থানে এসেছে যে পৃথিবীর সমস্ত দেশ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে কীভাবে এদেশ এত উন্নতি করেছে। আমাদের সময় এত সুযোগ ছিল না। তোমরা যারা কম্পিউটার সায়েন্স পড়তে পারনি, যারা উদ্ভিদবিদ্যায় পড়ছ, তোমাদের কোনো চিন্তার কারণ নেই। উদ্ভিদবিদ্যা একটি অভিজাত বিষয়। তোমাদের জন্য অসংখ্য সুযোগ রয়েছে।'

অলিম্পিয়াডে যোগ দিতে আসা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমাদের হাতেই দেশ গড়ার দায়িত্ব। সুন্দরভাবে দেশটা গড়ে তোলার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু আমি উদ্বিগ্ন যে অনেক শিক্ষার্থীর পড়ালেখায় মনোযোগ নেই। এর কারণ স্মার্টফোন। প্রযুক্তি ভাল জিনিস। তবে আমরা প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করব, প্রযুক্তি আমাদের নয়।’

শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও গবেষণা করতে উৎসাহিত করে জাফর ইকবাল বলেন, ‘চিন্তা কর, চিন্তা কর এবং চিন্তা কর। তাহলে ভাল গবেষক হতে পারবে। আর এজন্য প্রচুর বই পড়তে হবে এবং তা মাথায় কল্পনা করতে হবে।'

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রাখহরি সরকার বলেন, ‘উদ্ভিদবিজ্ঞান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সনাতন বিষয়। সারা বিশ্বব এ বিষয়ে গবেষণায় এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে আছে। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবহারিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাঝে এ বিষয়ে আগ্রহ তৈরি করা জরুরি।'

বোটানি অলিম্পিয়াড-২০১৮ ঢাকা বিভাগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোজাদ্দেদী আলফেসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বোটানি অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. জসীম উদ্দিন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান জাদুঘরের সহকারী কিউরেটর মুমিনুর রশিদ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাখহরি সরকার, বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটির সভাপতি ড. এম এ গফুর ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা প্রমুখ।

সমাপনী অনুষ্ঠানের পর্বে অলিম্পিয়াডে ঢাকা বিভাগের চূড়ান্ত বাচাই পর্বে ২১টি কলেজের অর্ধসহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর আগে শিক্ষার্থীদের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ বাড়াতে দেশের মোট আটটি বিভাগের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ‘বোটানি অলিম্পিয়াড' এর আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটি ও জাতীয় বিজ্ঞান জাদুঘর যৌথভাবে এই আয়োজন করে।

আপনার মতামত লিখুন :

ম্যান্ডেলার জন্মবার্ষিকীতে রাবিতে আলোচনা সভা

ম্যান্ডেলার জন্মবার্ষিকীতে রাবিতে আলোচনা সভা
ম্যান্ডেলার জন্মবার্ষিকীতে রাবিতে আলোচনা সভা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের ফোকলোর গ্যালারিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশন এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সংগঠনটির সভাপতি রাশেদ রিমনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাব্বত হোসেন মিলনের সঞ্চালনায় সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম কনক।

আলোচনা সভায় আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'পৃথিবীতে দুটি নাম মানুষ সবচেয়ে বেশি জানে। তার একটি হলো নেলসন ম্যান্ডেলা। তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি। গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে তিনি অনেকগুলো পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯০ সালে ভারত সরকার প্রদত্ত ভারত রত্ন পুরস্কার ও ১৯৯৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ তাদের মধ্যে অন্যতম।'

আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, 'পৃথিবীর অনেকেই সংগ্রাম করে, নেতা হয় বা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়। কিন্তু ক্ষমতা পাওয়ার পরপরই তাদের নিজেদের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু নেলসন ম্যান্ডেলা এমন একজন নেতা যিনি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।'

এছাড়া আলোচনা সভায় নেলসন ম্যান্ডেলার আদর্শে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

রাবির ৩ বিভাগের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক ফি আদায়ের অভিযোগ

রাবির ৩ বিভাগের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক ফি আদায়ের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিন বিভাগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অযৌক্তিক ফি আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ভূগোল এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে রশিদ ছাড়াই টাকা নেওয়া হচ্ছে। আর বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ কয়েকটি খাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমের কাছে অভিযোগ করেন তিন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তবে বিভাগগুলোর কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থী ও বিভাগের উন্নয়নেই টাকা ব্যবহার করা হয়।

জানা গেছে, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি কার্যক্রম চলছে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে ২ হাজার ৯৮০ ও ১৪০ টাকা জমা দিতে হচ্ছে। এছাড়া, রশিদ ছাড়াই বিভাগের প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- বিভাগে ভর্তির ফরম কেনার জন্য সাড়ে চার হাজার দিতে হচ্ছে। তবে টাকা আদায়ের কোনো রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে কোন খাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে তা বুঝতে পারছেন না। এমনকি এ বিষয়ে শিক্ষার্থদেরও কিছু বলছে না।

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. রেজাউর রহমান বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে যে টাকা নেওয়া হয়, তা শিক্ষার্থীদের এবং বিভাগের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে দেওয়া টাকায় তেমন কিছুই হয় না। আর বিভাগের সিদ্ধান্তেই রশিদ দেওয়া হয় না।’

অন্যদিকে বাংলা বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে পরীক্ষার জন্য মোট ৩ হাজার ৩০০ টাকা ব্যাংকে দিতে হচ্ছে। বাংলা সমিতির জন্য ৮০০ টাকা। সাহিত্যিকী নামক রিভিউ জার্নাল, সেমিনার লাইব্রেরির উন্নয়ন, বাংলা গবেষণা সংসদ ও মুক্তিযুদ্ধের কবিতা বই বাবদ ৩০০ টাকা, পরীক্ষা পরিচালনা ফি ও দরিদ্র তহবিল ফি বাবদ ২০০ টাকা, কম্পিউটার ল্যাব ফি ৪০০ এবং উন্নয়ন তহবিলের জন্য ৫০০ টাকা গুণতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশেষ করে বাংলা সমিতি, সাহিত্যিকী জার্নাল এবং মুক্তিযুদ্ধের কবিতা বইয়ের জন্য অপ্রয়োজনে টাকা দিতে হচ্ছে। যার ফলে ফরম ফিলাফের জন্য বাড়তি চাপ পড়ছে।

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক পিএম সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাহিত্যিকী জার্নাল শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করবে। মুক্তিযুদ্ধের কবিতা এখন শিক্ষার্থীদের সিলেবাসভুক্ত। বিভাগের উন্নয়ন এবং নানা আয়োজন-উৎসবের জন্য বাংলা সমিতির টাকা নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের টাকা শিক্ষার্থীদের কাছেই ফিরে যাচ্ছে।’

এদিকে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তির জন্য ৬০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এর জন্য শিক্ষার্থীদের কোনো রশিদ দেওয়া হয় না। রশিদ না দেওয়ায় তারা টাকা ব্যয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে পারেন না।

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এসএম এক্রাম উল্যাহ বলেন, ‘টাকা জমার সমস্ত তথ্য বিভাগে জমা থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো রশিদ বই দেয় না। তাই আমরাও রশিদ দিই না।’

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘টাকা যেখানেই, যে কারণেই নেওয়া হোক, অবশ্যই রশিদ দিতে হবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র