Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

কৃষি‌তে মে‌শি‌ন ব্যবহা‌রের বিকল্প নেই: কৃ‌ষিমন্ত্রী

কৃষি‌তে মে‌শি‌ন ব্যবহা‌রের বিকল্প নেই: কৃ‌ষিমন্ত্রী
বক্তব্য রাখছেন কৃ‌ষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপ‌ন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

কৃ‌ষি‌কা‌জের জন্য প্র‌য়োজনীয় মে‌শিন ব্যবহা‌রের বিকল্প নেই ব‌লে মন্তব্য ক‌রে‌ছেন সরকা‌রের কৃ‌ষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

বুধবার (১৯ জুন) রাজধানীর হো‌টেল ইন্টারক‌ন্টি‌নেন্টা‌লে এ‌সিআই ও ইয়ানমারের যৌথ আ‌য়োজ‌নে ইয়ানমার এগ্রো‌টেক বাংলা‌দে‌শের আনুষ্ঠা‌নিক উদ্বোধনের সময় এ মন্তব্য ক‌রেন কৃ‌ষিমন্ত্রী।

এসময় তি‌নি ব‌লেন, ‘কৃষক‌কে কৃ‌ষিযন্ত্রের (মে‌শি‌ন) সঙ্গে অভ্যস্ত হ‌তে হ‌বে। এর বিকল্প নেই। প্র‌য়োজ‌নে দক্ষতা অর্জন ও ব্যবহার শেখার জন্য প্র‌শিক্ষণ নিতে হ‌বে।’

কৃ‌ষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ব‌লেন, ‘কৃষক ধা‌নের দাম না পাওয়ার আসল কারণ হ‌চ্ছে প্রচুর ধা‌নের উৎপাদন হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া আর একটা কারণ হ‌চ্ছে কৃ‌ষি কাজ করার জন্য দে‌শে পর্যাপ্ত শ্র‌মিক নেই। দেশ এ‌গিয়ে য‌া‌চ্ছে, প্র‌তিনিয়ত উন্নত হ‌চ্ছে। শ্রমি‌কের দাম বাড়‌ছে। কিন্তু কৃ‌ষিজ উৎপা‌দিত ধান, সব‌জি বা ফলমূল কোনোটারই ঠিক দাম নেই। এবার বা‌জেটে কৃ‌ষি উৎপাদন বৃ‌দ্ধি ও কৃ‌ষি যন্ত্রপা‌তি কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ র‌য়ে‌ছে।’

অনুষ্ঠানে বাংলা‌দে‌শে নিযুক্ত জাপা‌নের রাষ্ট্রদূত হি‌রোইয়াসু ইজু‌মি, কৃ‌ষি মন্ত্রণালয়ের স‌চিব না‌সিরুজ্জামান ও ইয়ানমার এ‌গ্রি‌বিজ‌নেসের প্রে‌সি‌ডেন্ট হি‌রোআ‌কি কিতাওকা বি‌শেষ অ‌তি‌থি হি‌সে‌বে বক্তব্য রা‌খেন। এসময় এসিআই লি‌মি‌টেডের চেয়ারম্যান এম. আ‌নিস উদ দৌলা, এসিআই লি‌মি‌টে‌ডের ব্যবস্থাপনা প‌রিচালক ড. ফা হ আনসারী ও নির্বাহী প‌রিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

আপনার মতামত লিখুন :

বোরোর লোকসান পুষিয়ে নিতে আগাম আমন চাষ

বোরোর লোকসান পুষিয়ে নিতে আগাম আমন চাষ
আগাম আমন চাষ করছেন বগুড়ার কৃষকরা

বোরো চাষের লোকসান পুষিয়ে নিতে আগাম আমন চাষ শুরু করেছেন বগুড়ার কৃষকরা। তবে বৃষ্টির অভাবে জমি তৈরি করতে পারছেন না তারা। অনেকেই সেচ মেশিনের পানি দিয়ে আমন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণ করছেন।

বগুড়া জেলার অধিকাংশ জমি তিন ফসলি। কৃষক বোরো ধান ঘরে তোলার পর এক থেকে দেড় মাস জমি ফেলে রাখেন। আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি থেকে আমন চাষ শুরু করেন। আমন ধান ঘরে তোলার সঙ্গে সঙ্গে জমিতে আলু চাষ শুরু হয়। আমন চাষের মৌসুম পহেলা শ্রাবণ থেকে শুরু হলেও আলু চাষের কারণে বগুড়া অঞ্চলের কৃষকরা ১৫-২০ দিন আগে থেকেই আমন চাষের প্রস্তুতি নেন।

প্রকৃতির নিয়মে বর্ষার ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ় থেকেই পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি থাকার কথা। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। বর্ষাকালে বৃষ্টি নেই, মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হলেও প্রখর রোদে জমির পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বর্ষা মৌসুমেও কৃষককে ব্যবহার করতে হচ্ছে সেচ মেশিন।

বগুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কেউ বীজতলা পরিচর্যা করছেন, কেউবা সেচ মেশিন দিয়ে পানি সেচ দিয়ে জমি তৈরিতে ব্যস্ত, আবার কোথায় আমন চারা রোপণ করা হয়ে গেছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/05/1562296108267.jpg
শিবগঞ্জ উপজেলার চন্ডিহারা এলাকার কৃষক আব্দুল হান্নান বার্তা২৪.কমকে বলেন, বোরো চাষ করে লোকসান হয়েছে। এ কারণে চাষাবাদ তো আর বন্ধ করা যাবে না। লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আগাম আমন ধানের চারা রোপণ করেছি। আমন ধান ঘরে তোলার পর একই জমিতে আলু চাষ করব। তিন ফসল চাষ করতে পারলে লোকসান থাকবে না বলে জানান কৃষক আব্দুল হান্নান।

মহাস্থান এলাকার কৃষক খয়বর হোসেন বলেন, সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ মেশিনের পানিতেই আমন চাষের জমি তৈরি করছি। বৃষ্টির আশায় থাকলে আমনের পর আলু চাষে দেরি হয়ে যাবে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পহেলা শ্রাবণ থেকে আমন চাষ শুরু করা হয়, চলে ভাদ্র মাসের ১ম সপ্তাহ পর্যন্ত।

বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর চরে আশ্বিন মাস পর্যন্ত গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণ। এবার আমন মৌসুমে জেলার ১২ উপজেলায় ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

এদিকে আবহাওয়া অফিস বৃষ্টির পূর্বাভাস দিলেও বৃষ্টি তেমন হচ্ছে না। গত ১৫ দিনে আবহাওয়া অফিস ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। যা বর্ষাকালের জন্য পর্যাপ্ত না।

বগুড়া আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সজীব ওয়াজেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম না। তবে যখন কৃষকের প্রয়োজন সেই সময়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না।

ধৈঞ্চা চাষ করে মাটির উর্বরতা বাড়াচ্ছেন কৃষকরা

ধৈঞ্চা চাষ করে মাটির উর্বরতা বাড়াচ্ছেন কৃষকরা
ছবি: বার্তা২৪.কম

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার মিরপুরে সবুজ সার তথা ধৈঞ্চার চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। রাসায়নিক সার ব্যবহারে দিনকে দিন জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। একারণে মাটির গুণাগুণ ও জৈব শক্তি বাড়াতে এর চাষ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

এখন চলছে রোপা আমন চাষের প্রক্রিয়া। জমির শক্তি বাড়াতে উপজেলা কৃষি অফিসও কৃষকদের ধৈঞ্চা চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। মাসখানেক আগে জমিতে ধৈঞ্চার বীজ ছিটিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে সেসব, জমিতে চাষ করে সবুজ সারে রূপান্তরিত করা হচ্ছে।

সরেজমিন মিরপুর উপজেলার বলিদাপাড়া ব্লকের চুনিয়াপাড়া মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ধৈঞ্চা চাষের পর জমিতে মিশিয়ে দিয়ে তা সবুজ সার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বারুইপাড়া ইউনিয়নের কৃষি উপ-সহকারী মাহিরুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, কোনো উদ্ভিদকে চাষ করে সবুজ অবস্থায় তা মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে যে সার উৎপন্ন হয় তাকে সবুজ সার বলা হয়। স্থানীয় কৃষকদের জমির উর্বরতা রক্ষা ও মাটিতে জৈব পদার্থের গুণাগুণ রক্ষায় ধৈঞ্চা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তার ব্লকে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে ধৈঞ্চার চাষ হয়েছে। এক বিঘা জমিতে ৪ কেজি ধৈঞ্চা বীজের প্রয়োজন পড়ে। প্রতি কেজি বীজের দাম ৫০ টাকা। কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যেও কৃষকদের মাঝে সরবরাহ হয়ে থাকে।

চুনিয়াপাড়া কৃষক খোসবার আলী নিজে প্রায় ২ বিঘা জমিতে ধৈঞ্চা চাষ করেছেন। তিনি বলেন, আমি গত ৪ বছর ধরে ধৈঞ্চা চাষ করে আসছি। এর ফলে রোপা আমন চাষে সাধারণত যে পরিমাণ রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হতো তার অর্ধেক সার ব্যবহার করা লাগবে বলেও জানান তিনি।

ওই এলাকার আরেক কৃষক মাসুদ আলী এবার ৪ বিঘা জমিতে ধৈঞ্চা চাষ করেছেন। তিনি জানান, আমি বিষয়টি জানার পর প্রতিবছরই ধৈঞ্চার চাষ করে থাকি। এরফলে রাসায়নিক সার কম প্রয়োজন হয়। তিনি আরো জানান, একবার যিনি (কৃষক) ধৈঞ্চার চাষ শুরু করেছেন তিনি প্রতি বছরই চাষ করবেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/03/1562140930112.jpg

কৃষি অফিসসূত্রে জানা যায়, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে দুইবার চাষ দিয়ে প্রতি হেক্টর জমিতে ৪০-৫০ কেজি বীজ ছিটিয়ে বুনতে হয়। বীজ রোপণের ৪০ দিন পর গাছে ফুল আসার সময় সবুজ থাকা অবস্থায় মই দিয়ে তা মাটিতে মিশিয়ে দিতে হয়। এরও ১০-১২ দিন পর আবার মই দিলে তা পচে সবুজ সারে পরিণত হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, জমিতে মাত্রা অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটির প্রয়োজনীয় জৈব পদার্থের উপাদান উদ্বেগজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। ধৈঞ্চা চাষে সবুজ অবস্থায় এটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার ফলে একদিকে যেমন মাটির উর্বরতা বাড়ে অপরদিকে মাটির জৈব পদার্থের উপাদানের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে নাইট্রোজেনের পরিমাণও বাড়ে। সবুজ গাছ পচার সময় জীবাণুর কার্যকারিতা বাড়ে। সবুজ জাতীয় গাছ মাটির আচ্ছাদন সৃষ্টি করে রাখে ও ভূমিক্ষয় রোধ হয়। এতে করে বেলে মাটিতে পানির ধারণ ক্ষমতা বাড়ে এবং মাটির অভ্যন্তরে বাতাস চলাচলে সুবিধা হয়। তিনি আরো জানান, চলতি বছর উপজেলার প্রায় ২ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে ধৈঞ্চা আবাদ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র