Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ডাক্তারদের টানা ৬০ ঘণ্টার কর্মবিরতি, বিপাকে রোগীরা

ডাক্তারদের টানা ৬০ ঘণ্টার কর্মবিরতি, বিপাকে রোগীরা
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের বিড়ম্বনা, ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কলকাতায় পুলিশ ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে টানা ৬০ ঘণ্টা ধরে আবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এনআরএসের জুনিয়র ডাক্তাররা। অবস্থান কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন আন্দোলনরত ডাক্তাররা।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) টানা ৬০ ঘণ্টার মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ডাক্তাররা। শুধু এনআরএসে নয়, কলকাতার বেশকিছু হাসপাতালে এই কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এতে রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালের আউটডোর সেবাও বন্ধ রয়েছে। এই ঘটানায় তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কলকাতার চিকিৎসা সেবা।

জুনিয়র ডাক্তারদের টানা ৬০ ঘণ্টার অবস্থান, বিপাকে রোগীরা

হাসপাতালগুলোতে আউটডোরের তিকিত বিক্রি হলেও ডাক্তারের দেখা নেই। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীতে ভরে হাসপাতালের করিডোর। এনআরএস হাসপাতালের সামনের এজেসি রোডেও রোগীর স্বজনদের বসে থাকতে দেখা যায়।

এদিকে বুধবার (১২ জুন) রাতে স্বাস্থ্য ভবনের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে জুনিয়র এনআরএসের জুনিয়র ডাক্তারদের এই কর্মবিরতি তুলে নিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি তদারকি করছেন বলেও তাতে জানানো হয়।

বিবৃতিতে, চিকিৎসকদের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।

আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তার এবং সিনিয়র ডাক্তারদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীকে নিজে বিবৃতি দিয়ে এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে। তার পরই বিষয়টি ভেবে দেখা হবে। আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

বৃষ্টি নেই, তাই পাতে দেশি ইলিশও নেই

বৃষ্টি নেই, তাই পাতে দেশি ইলিশও নেই
কলকাতার মাছ বাজারের ইলিশ মাছ নেই বললেই চলে, ছবি: সংগৃহীত

গত মরশুমেও আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যজীবীদের মুখে ছিল গালভরা হাসি। কারণ ঐ মরশুমে দুটো পয়সার মুখ দেখেছিলেন তারা। ধরা পড়েছিল টনে টনে ইলিশ। আর সেই ইলিশ সহযোগে, ভাত খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছিল কলকাতার আম-আদমি। তবে এবার জুলাই মাস শেষ হতে চললেও এখনও ইলিশ পড়েনি কলকাতার আমবাঙালির পাতে।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিকেলে কয়েকশ ট্রলার মোহনায় নানা ধরনের মাছ ধরে ফিরে এলেও ইলিশের সাক্ষাৎ পাননি মৎস্যজীবীরা। অথচ ২০১৮ জুলাই মাসে রাজ্যের মেদিনীপুর জেলার দিঘার সমুদ্র ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা উপকূল মিলিয়ে টনে টনে ইলিশ মাছ ধরেছিলেন মৎস্যজীবীরা।

তথ্য বলছে, গত বছরের ২১ জুলাই জালে উঠেছিল ৫০ টন রুপালি ইলিশ, আর এবছরে এখনো অবধি প্রাপ্তি মাত্র এক টন ইলিশ। মৎস্যজীবীদের সাথে একমত রাজ্য মৎস্য দফতরের কর্তারাও।

মৎস্য দফতরের কর্মকর্তা সুরজিৎ বাগ বলেন, 'ইলিশ মাছ আবহাওয়া অনুকূল হলে মিষ্টি পানিতে ডিম পাড়ার জন্য মোহনায় আসে। এবার রাজ্যে ইলিশ আসার পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। বর্ষা না হওয়ায় ইলিশের ঝাঁক উপকূলের দিকে আসছে না। তবে এখনই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বর্ষার সময় এখনো আছে। জালে একেবারে ইলিশ উঠছে না, এটা সঠিক নয়। যা উঠছে, চাহিদার তুলনায় খুবই কম।'

রাজ্যের মৎস্য দফতরের কর্তারা আশার কথা শোনালেও কবে বর্ষা নামবে তা আবহাওয়াবিদরাও সঠিকভাবে বলতে পারছেন না। ফলে ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে সকলেই। পশ্চিমবঙ্গে এবারে বর্ষাকাল, তা শুধু ক্যালেন্ডারই জানান দিচ্ছে। রাজ্যের উত্তর ভাগ অর্থাৎ দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ির মত জেলাগুলোয় বৃষ্টি হলেও দক্ষিণবঙ্গ অর্থাৎ ইলিশ ওঠার উপযুক্ত জেলাগুলোয় বৃষ্টি নেই। ফলে দেখা মিলছে না রুপালি ফসলের। শুধুই কি বর্ষা না হওয়ায় মিলছে না ইলিশ?

এই পরিস্থিতির জন্য পরিবেশবিদ সহ মৎস্যজীবীদের একাংশ মনে করছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, নিম্নচাপের মতো দুর্যোগ, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বৃষ্টি না হওয়া পাশাপাশি পানি দূষণ ও যথেচ্ছ ভাবে ছোট ইলিশ শিকার রোধ করতে না পারার নিট ফল এ মরশুমে মিলছে না ইলিশ।

মৎস্যজীবী রুই বাগ বলেন, '১৫ জুন থেকে সমুদ্রে মাছ ধরা শুরু হলেও খুব কম পরিমাণে অন্যান্য মাছ ধরা পড়েছে। আর ইলিশের দেখাতো পাওয়াই যায়নি। ফলে আমরা কষ্টে আছি। এবারে ইলিশ না ধরা পড়লে মাছ ধরার খরচই উঠবে না। গত মরশুমে এসময় যে পরিমাণ ইলিশ উঠেছিল তার একভাগও এবার ধরতে পারিনি। তাই কখন বৃষ্টি নামবে সে অপেক্ষায় বসে আছি আমরা।'

মাছের জোগান কমে যাওয়ায় স্বভাবতই টান পড়েছে কলকাতার মাছ বাজারে। ইলিশ দূরে থাক, সাধারণ মাছ কিনতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছে মধ্যবিত্ত বাঙালির। বর্ষা না হওয়ায় নদী, খাল বিলে অন্যান্য মাছেরও একই অবস্থা। মিয়ানমারের ইলিশ ও ভিন রাজ্যের চাষের মাছের সহযোগে একপ্রকার বাধ্য হয়ে গ্রাসাচ্ছাদন করছেন কলকাতার বাঙালি।

বুড়ো হতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনটাই সঁপে দিচ্ছেন না তো!

বুড়ো হতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনটাই সঁপে দিচ্ছেন না তো!
ছবি: সংগৃহীত

বার্ধক্য হারিয়ে যৌবন ফিরে পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছিল ভানু বন্দোপাধ্যায় অভিনীত ‘৮০তে আসিও না’। ফুল কমেডি ওই সিনেমায় পানিতে ডুব দিয়ে ফিরে পাচ্ছিল হারিয়ে যাওয়া যৌবন। তারুণ্য বা যৌবন ফিরে পেতে একেবারে হুলুস্থুল বাধিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে নব্য প্রজন্ম মেতেছে বৃদ্ধ হওয়ার নেশায়। ফেসবুকের দৌলতে যৌবন এখন অ্যাপের ভেতর ডুব দিয়ে পরিণত হচ্ছে বৃদ্ধয়! অর্থাৎ নব প্রজন্মের নাগরিকেরা নিজেদের ভবিষ্যতের ছবি প্রকাশ করছেন।

এ ধরনের অ্যাপ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি। কারো ছবি অ্যাপে দিলে বয়স বাড়িয়ে দিচ্ছে। শুধুই কি বয়স বাড়াচ্ছে? কমিয়েও দিচ্ছে। এমনকি পুরুষকে মহিলা বা মহিলাকে পুরুষ হলে কেমন দেখতে লাগবে তাও ছবির মাধ্যমে ফুটে উঠছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে রসিকতা। কিন্তু পাশাপাশি ভারতে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

অনেকেই বলছেন সাময়িক আনন্দের ফাঁদে পা দিয়ে ওই প্রস্তুতকারী সংস্থার কাছে অ্যাপ ব্যবহারকারীর ছবি ও তথ্য চলে যাচ্ছে। রাশিয়ার একটি সংস্থার তৈরি হওয়া ওই অ্যাপে যাওয়া তথ্যগুলো দিয়ে হতে নানা অপকর্ম- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতীয় হ্যাকিং বিষেশজ্ঞরা।

কলকাতার ইন্ডিয়ান স্কুল অফ এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের অধিকর্তা সন্দীপ সেনগুপ্তের মতে, এতে বহু মানুষ নিজেদের ছবি দিয়েছেন। সেগুলো সংস্থার সার্ভারে চলে গেছে। বর্তমানে বহু ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড, মুখের ছবি তাদের কাছে রয়েছে। তাছাড়া এমন অ্যাপগুলো বহুক্ষেত্রে নজরদারির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

সন্দীপ সেনগুপ্তর কথায় ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয় খোদ মার্ক জুকারবার্গেরও রয়েছে। তার নিজের ল্যাপটপের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন বন্ধ করে রাখার ছবিও নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। এছাড়া সরকারি এবং বেসরকারি দুই দিক থেকেই তথ্য সংগ্রহের প্রতিযোগিতা চলছে। আগামী দিনে যা আরও বড় আকার নেবে।

এছাড়া অন্যান্য সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের একাধিক অ্যাপ বাজারে আছে। এই সমস্ত অ্যাপ ব্যবহারের আগে অনেকেই শর্তাবলী খুঁটিয়ে পড়েন না। তার ফলে অজান্তেই সেই সব শর্তাবলী মেনে নেন। শর্তনুযায়ী ওই অ্যাপ বিনামূল্যে ব্যবহারের বিনিময়ে ব্যবহারকারী, সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ফেসবুকে তার বন্ধুদের তথ্য তুলে দিচ্ছেন সংস্থার সার্ভারে। অ্যাপে তিনি যত ছবি ব্যবহার করছেন, সেগুলিও সংস্থার কাছে চলে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে একবার এই অ্যাপ নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছিলো ভারতে। তখন অ্যাপটি ব্যান করে দেওয়া হয় ভারতে। ফের নতুন ভার্সনে ভারতে ব্যবহারকারীদের মোবাইলে ঢুকে পড়ছে এবং জনপ্রিয় হওয়ায় নজরে এসেছে বিষয়টি।

শুধু এই একটি নয়, তথ্য সংগ্রহের ফাঁদ পেতে নেট দুনিয়ায় আরও হাজার হাজার অ্যাপ রয়েছে। না জেনে সেই অ্যাপের ফাঁদে নিরন্তর পা দিচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। এসব অ্যাপ একবার ইনস্টল হয়ে গেলে, মোবাইল বন্ধ হলেও ক্যামেরাসহ সিস্টেমের একটা অংশ চলতেই থাকে। ব্যক্তিগত ছবি এমনকি ভিডিও চলতে থাকে। ফলে সমস্ত তথ্যসহ ব্যক্তিগত জীবনটাই চলে যাচ্ছে হ্যকারদের হাতে। সাময়িক আনন্দের আগে একবার নিজের ব্যক্তিগত কথা ভাবুন। এমনটাই মত ভারতের সাইবার বিশেষজ্ঞদের।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র