Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হালিমে মেতে নগর কলকাতা

হালিমে মেতে নগর কলকাতা
রমজানে কলকাতার রেস্তোরাঁগুলোতে বিভিন্ন প্রকারের হালিমের জমজমাট আয়োজন/ ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
কলকাতা


  • Font increase
  • Font Decrease

মূলত শীত মৌসুমের খাবার হলেও রমজান মাসে সারাদিনের রোজার শেষে, ইফতারে হালিমের কোনো বিকল্প নেই কলকাতায়। শুধু মুসলিম সম্প্রদায় কেন, এই মাংস-ডালের টানে মুসলিমদের সঙ্গে রেস্তোরাঁগুলোর সামনে রোজার মাসে লাইন পড়ে অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনেরও।

শুধু লাইন নয়, অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে হালিম। রোস্তরাঁগুলো দেদারসে অর্ডার পাচ্ছে ফুড ভিত্তিক অ্যাপগুলোয়। কলকাতার নামি রেস্তোরাঁর হালিম পৌঁছে যাচ্ছে দূর-দূরান্তের হালিমপ্রেমীদের হাতে। কলকাতার মল্লিকবাজার, পার্ক সার্কাস থেকে বেকবাগান, খিদিরপুর থেকে মেটিয়াবুরুজ, রাজাবাজার, চাঁদনীচক বিকেল হলেই রমজানে শহরের সর্বত্র একই ছবি, হালিমের জন্য লম্বা লাইন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/31/1559316868648.jpg

পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট মোড়ের কাছে আরসালান, মল্লিক বাজারের জিশান, রহমানিয়া, হাজি সাহেব, থেকে চাঁদনীচকের আলিয়া, সাবিরস থেকে চিৎপুরের রয়্যাল। সকলেই তাদের রেস্তোরাঁর সামনে দুপুরের পর থেকে মেলে ধরছে বাহারি হালিম।

বাহারি শামিয়ানার নিচে টেবিলে রাখা বিশাল বিশাল হাঁড়িতে মিলছে মাটন, চিকেনের শাহি, আরবি, ইরানি, হায়দরাবাদি, আফগানি নানা স্বাদের, নানা ধরনের হালিম। দাম গড়ে ১৮০ থেকে ২০০ রুপির মধ্যে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/31/1559316906092.jpg

সুস্বাদু ডালের ভেতর ডুবে থাকা চার থেকে ছয় টুকরোর খাসি বা চিকেন হালিম, ১৫ থেকে ২৫ রুপির রুমালি বা তন্দুরি রুটি, লাচ্ছা পরোটা সহযোগে জমে উঠছে শেষ সময়ের ইফতার। তবে পাড়ার ছোট ছোট দোকানে দাম কম। সেখানে ২৫ থেকে ৩০ রুপি মিলছে হালিম।

অতুলনীয় স্বাদের প্রতিযোগিতায় নানা রেস্তোরাঁয় বাড়ছে নানা ঘরানার হালিম। এসপ্ল্যান্ডে লাগোয়া বেন্টিক স্ট্রিটের আলিয়া রেস্তোরাঁর ম্যানেজার ৮৯ বছরের মহম্মদ জামাল আহমেদ জামাল ৫৭ বছর ধরে সামলাচ্ছেন রেস্তোরাঁ। তার কথায়, ‘হালিম শব্দ আসলে আরবি শব্দ। এসেছে আরব দেশ থেকে। আমরা সেই আরবি মাটন হালিম বানাই।’

নাখোদা মসজিদ লাগোয়া রয়্যাল রেস্তোরাঁর মহম্মদ ইরফানের কথায়, ‘আমাদের স্পেশ্যালিটি লখনউ ঘরানার মাটন হালিম।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/31/1559316933968.jpg

ধর্মতলার সাবির রেস্তোরাঁর ম্যানেজার মুহম্মদ আহমেদের কথায়, ‘আমরা শুধু মাটন শাহী হালিমই বানাই।’ রেস্তোরাঁ সিরাজে মিলছে শাহী হালিমের পাশাপাশি ইরানি, হায়দরাবাদি, আফগানি হালিম।

আরসালানের শেফ মহম্মদ সালাহউদ্দিনের কথায়, ‘এই হালিম তৈরি করতে বহুত মেহনতি লাগে। সারারাত ধরে বানাতে হয়। মুগ, মুসুর, অরহর, বুটের ডাল সহ আট-দশ রকমের ডাল, ডালিয়া, সুগন্ধি চাল, ধনে, জিরে, আদা, পিঁয়াজ, রসুন, জায়ফল, জয়িত্রী, গরম মশালা ও বাজারের আরও কিছু মশলা, পাঁঠার গোশত সব মিশিয়ে তৈরি হয় হালিম।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/31/1559316949611.jpg

তবে সালাহউদ্দিনের কথায়, ‘এটা ভারতীর খাবার নয়। এর আসল নাম ডালিম। রোজার শেষে ইফতারিতে এর চল সবচেয়ে বেশি। শক্তিবৃদ্ধি ও এনার্জী ফেরাতে খেজুর, শরবতের সাথে ইফতারে পরিবেশন হতো ডালিম। পরে এর মধ্যে গোশত মিশিয়ে নাম পরিবর্তন হয়। ডালিম বা হালিম যাই হোক না কেন খুবই পুষ্টিকর খাদ্য এটি।’

অতএব, বোঝাই যাচ্ছে রোজার বাকি কটা দিন কলকাতাবাসী বিরিয়ানি, চাপ, রেজালা, কাবাবকে দুরে রেখে মজে থাকবে হালিমেই।

আপনার মতামত লিখুন :

বুড়ো হতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনটাই সঁপে দিচ্ছেন না তো!

বুড়ো হতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনটাই সঁপে দিচ্ছেন না তো!
ছবি: সংগৃহীত

বার্ধক্য হারিয়ে যৌবন ফিরে পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছিল ভানু বন্দোপাধ্যায় অভিনীত ‘৮০তে আসিও না’। ফুল কমেডি ওই সিনেমায় পানিতে ডুব দিয়ে ফিরে পাচ্ছিল হারিয়ে যাওয়া যৌবন। তারুণ্য বা যৌবন ফিরে পেতে একেবারে হুলুস্থুল বাধিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে নব্য প্রজন্ম মেতেছে বৃদ্ধ হওয়ার নেশায়। ফেসবুকের দৌলতে যৌবন এখন অ্যাপের ভেতর ডুব দিয়ে পরিণত হচ্ছে বৃদ্ধয়! অর্থাৎ নব প্রজন্মের নাগরিকেরা নিজেদের ভবিষ্যতের ছবি প্রকাশ করছেন।

এ ধরনের অ্যাপ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি। কারো ছবি অ্যাপে দিলে বয়স বাড়িয়ে দিচ্ছে। শুধুই কি বয়স বাড়াচ্ছে? কমিয়েও দিচ্ছে। এমনকি পুরুষকে মহিলা বা মহিলাকে পুরুষ হলে কেমন দেখতে লাগবে তাও ছবির মাধ্যমে ফুটে উঠছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে রসিকতা। কিন্তু পাশাপাশি ভারতে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

অনেকেই বলছেন সাময়িক আনন্দের ফাঁদে পা দিয়ে ওই প্রস্তুতকারী সংস্থার কাছে অ্যাপ ব্যবহারকারীর ছবি ও তথ্য চলে যাচ্ছে। রাশিয়ার একটি সংস্থার তৈরি হওয়া ওই অ্যাপে যাওয়া তথ্যগুলো দিয়ে হতে নানা অপকর্ম- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতীয় হ্যাকিং বিষেশজ্ঞরা।

কলকাতার ইন্ডিয়ান স্কুল অফ এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের অধিকর্তা সন্দীপ সেনগুপ্তের মতে, এতে বহু মানুষ নিজেদের ছবি দিয়েছেন। সেগুলো সংস্থার সার্ভারে চলে গেছে। বর্তমানে বহু ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড, মুখের ছবি তাদের কাছে রয়েছে। তাছাড়া এমন অ্যাপগুলো বহুক্ষেত্রে নজরদারির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

সন্দীপ সেনগুপ্তর কথায় ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয় খোদ মার্ক জুকারবার্গেরও রয়েছে। তার নিজের ল্যাপটপের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন বন্ধ করে রাখার ছবিও নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। এছাড়া সরকারি এবং বেসরকারি দুই দিক থেকেই তথ্য সংগ্রহের প্রতিযোগিতা চলছে। আগামী দিনে যা আরও বড় আকার নেবে।

এছাড়া অন্যান্য সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের একাধিক অ্যাপ বাজারে আছে। এই সমস্ত অ্যাপ ব্যবহারের আগে অনেকেই শর্তাবলী খুঁটিয়ে পড়েন না। তার ফলে অজান্তেই সেই সব শর্তাবলী মেনে নেন। শর্তনুযায়ী ওই অ্যাপ বিনামূল্যে ব্যবহারের বিনিময়ে ব্যবহারকারী, সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ফেসবুকে তার বন্ধুদের তথ্য তুলে দিচ্ছেন সংস্থার সার্ভারে। অ্যাপে তিনি যত ছবি ব্যবহার করছেন, সেগুলিও সংস্থার কাছে চলে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে একবার এই অ্যাপ নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছিলো ভারতে। তখন অ্যাপটি ব্যান করে দেওয়া হয় ভারতে। ফের নতুন ভার্সনে ভারতে ব্যবহারকারীদের মোবাইলে ঢুকে পড়ছে এবং জনপ্রিয় হওয়ায় নজরে এসেছে বিষয়টি।

শুধু এই একটি নয়, তথ্য সংগ্রহের ফাঁদ পেতে নেট দুনিয়ায় আরও হাজার হাজার অ্যাপ রয়েছে। না জেনে সেই অ্যাপের ফাঁদে নিরন্তর পা দিচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। এসব অ্যাপ একবার ইনস্টল হয়ে গেলে, মোবাইল বন্ধ হলেও ক্যামেরাসহ সিস্টেমের একটা অংশ চলতেই থাকে। ব্যক্তিগত ছবি এমনকি ভিডিও চলতে থাকে। ফলে সমস্ত তথ্যসহ ব্যক্তিগত জীবনটাই চলে যাচ্ছে হ্যকারদের হাতে। সাময়িক আনন্দের আগে একবার নিজের ব্যক্তিগত কথা ভাবুন। এমনটাই মত ভারতের সাইবার বিশেষজ্ঞদের।

কাশ্মীরের বাইরে ভারত-পাকিস্তানের অন্য এক মহারণ!

কাশ্মীরের বাইরে ভারত-পাকিস্তানের অন্য এক মহারণ!
হায়দ্রাবাদের শেষ সম্রাট নিজাম ওসমান আলি খান, ছবি: সংগৃহীত

ভারতের হায়দ্রাবাদের শেষ সম্রাট নিজাম ওসমান আলি খানের সম্পত্তি লন্ডনের ন্যাট ওয়েস্ট ব্যাংকে লকারবন্দি হয়ে পড়ে আছে যুগযুগ ধরে। তথ্য বলছে, বর্তমানে যার বাজার মূল্য ব্রিটেনের মুদ্রায় তিন কোটি ৫০ লক্ষ পাউন্ডেরও বেশি। তবে সেই সম্পত্তির দাবিদার কে? এহেন প্রশ্নে দশকের পর দশক ধরে আইনি যুদ্ধ চলছে দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে।

লন্ডন আদালতের কাছে পাকিস্তানের দাবি, নিজামের ওই সম্পত্তির ওপর অধিকার তাদেরই। আবার ভারতের কথায়, নিজামের ওই সম্পত্তির ওপর ভারত ছাড়া অন্য কোনো রাষ্ট্রের অধিকার নেই। কাশ্মীরের বাইরে ১৯৪৭ সাল থেকে এক অন্য স্নায়ুর যুদ্ধ চলে আসছে ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের মধ্যে।

এ বিষয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছেন নিজাম আলির দুই উত্তরসূরি। একজন, হায়দ্রাবাদের অষ্টম নিজাম তথা যুবরাজ মুকারাম জাহ, বয়স ৮০। অন্যজন, তার বড় ভাই মফাখাম জাহ, বয়স ৮৪ বছর। দুজনেই থাকেন তুরস্কে। শেষ বয়সে তারা দেখে যেতে চান, দাদু ওসমান আলি খানের সম্পত্তির মালিক ভারত সরকার। সেই মতো দিল্লির পাশাপাশি লন্ডনের হাইকোর্টে নিজেদের কৌসুলিও দাঁড় করিয়েছেন তারা।

অপরদিকে, নিজামের সম্পত্তির দখল নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘ আইনি লড়াই এখন শেষের দিকে। তিন পক্ষেরই বক্তব্য শুনেছেন বিচারপতি মার্কিউস স্মিথ। শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন নিজামের দুই উত্তরসূরির আইনজীবী। ছিলেন ভারতের নিযুক্ত আইনজীবীরাও এবং উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের আইনজীবীরাও।

দুই দেশই যখন এই সম্পত্তির দাবিদার তখন ইতিহাস বলছে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর উভয় সংকটে পড়েছিলেন হায়দ্রাবাদের সম্রাট নিজাম ওসমান আলি খান। ভারতে থাকবেন নাকি, পাকিস্তানে যাবেন? তা নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না তিনি। এইরকম দ্বিধায় নিজের আর্থিক নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজাম কিছু অর্থ ও সম্পত্তি ব্রিটেনে পাঠিয়ে দেয়। যা বর্তামানে পাকিস্তানের দূতাবাস। তৎকালীন সময়ে ব্রিটেনের মুদ্রায় মূল্য ছিল ১০ লক্ষ সাত হাজার ৯৪০ পাউন্ড ও ৯ সিলিং।

ওই সম্পত্তি দূতাবাসের হাত ঘুরে জমা পড়ে লন্ডনের ন্যাট ওয়েস্ট ব্যাংকের লকারে। আজও তা সেই ব্যাংকে গচ্ছিত। নিজাম আলি মারা যান ১৯৬৭ সালে। তার ঠিক ১৭ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৫০ সালে গচ্ছিত সম্পত্তি ভারতে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছিলেন নিজাম। কিন্তু পাকিস্তানে তাতে বাধা দেয়। মূলত সেই থেকে নিজামের সম্পত্তি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের স্নায়ুর যুদ্ধ শুরু।

তবে পাকিস্তানের এই দাবি কতখানি ধোপে টিকবে, সেটাই দেখার। কারণ আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরাধিকার সূত্রে নিজামের গচ্ছিত সম্পত্তির পাওয়ার অধিকার রয়েছে যুবরাজ মুকারাম ও তার বড় ভাই মফাখামের। সেই সূত্রে সম্পত্তির ভাগীদার ভারতই হবে। তবে এখন সবটাই নির্ভর করছে ব্রিটেনের রয়্যাল কোর্ট অব জাস্টিসের চূড়ান্ত রায়ের ওপর। ব্যাংকে গচ্ছিত হায়দ্রাবাদের শেষ সম্রাট নিজাম ওসমান আলি খানের সম্পত্তির কে হবেন ভাগীদার। ভারত নাকি পাকিস্তান? দুই দেশের এ এক অন্য মহারণ এমটাই দাবি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র