Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গের তারকা প্রার্থীদের জয়জয়কার

লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গের তারকা প্রার্থীদের জয়জয়কার
দেব, নুসরাত জাহান, মিমি চক্রবর্তী ও শতাব্দী রায়/ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গের তারকা প্রার্থীরা কেউ জয় করতে পারলেন জনগণের সমর্থন আবার কেউ ভোটের লড়াইতে পরাজিত হয়ে এড়িয়ে গেলেন সংবাদ মাধ্যমকে।

সকাল থেকেই খবর আসছিলো এগিয়ে আছেন তৃণমূল প্রার্থী সুপারস্টার দেব। বেলা গড়াতেই দেবের সঙ্গে যুক্ত হয় তৃণমূল প্রার্থী মিমি এবং নুসরতের খবর। খবর আসতে থাকে  বিজেপি  প্রার্থী গায়ক বাবুল সুপ্রিয়ের সঙ্গে লড়াইতে ক্রমশ পিছিয়ে পরছেন অভিনেত্রী মুনমুন সেন। বেলা আরও বাড়লে খবর আসে এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী অভিনেত্রী শতাব্দী রায়।

তবে সব থেকে বড় চমক ছিল বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের এগিয়ে যাওয়া।

বিকেলে জানা যায় পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর লোকসভা  কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মিমি চক্রবর্তী তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির অনুপম হাজারাকে ২ লাখের অধিক ভোটে পরাজিত করেছেন।

২০১৪ সালে ১ লাখ ২৫ হাজার ২০৩ ভোটে  এই কেন্দ্র থেকে জয় লাভ করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস।

এরপরেই খবর আসে জয়লাভ করেছেন আরেক টলিউডের নায়িকা নুসরত জাহানের। তৃণমূল কংগ্রেসের  এই প্রার্থী তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী সায়ন্তন বসুকে পরাজিত করেন।

প্রায় একই সঙ্গে খবর আসে ঘাটাল কেন্দ্র থেকে। জানা যায়, এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেব তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেছেন।

অন্যদিকে আসানসোলে পিছিয়ে পরার খবর আসে তৃণমূল প্রার্থী অভিনেত্রী মুনমুন সেনের। অবশেষে তিনি পরাজিত হন বিজেপির তারকা প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়র কাছে। বীরভূমে জয় লাভ করেন তৃণমূল প্রার্থী অভিনেত্রী শতাব্দী রায়।

পশ্চিমবঙ্গের তারকা প্রার্থীদের সৌজন্যে ভারতের সপ্তদশ লোকসভা হতে চলেছে বর্ণময় । ভোটারদের আশা যে ভাবে তারা পর্দায় মানুষের মন জয় করেছেন সেই ভাবেই তারা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে আবারও মানুষের মন জয় করতে পারবেন।

 

আপনার মতামত লিখুন :

কলকাতা: জন্মদিনের শুভেচ্ছা

কলকাতা: জন্মদিনের শুভেচ্ছা
কলকাতা

১৬৯০ সাল। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ দশক। দিনটি ছিল ২৪ আগস্ট। ঔপনিবেশিক ইংরেজ বণিকদের হাতে জন্ম নিল দক্ষিণ এশিয়ার এক নতুন শহর, কলকাতা।

কালে কালে সে শহর নবজাগরণ ও রাজনীতির কেন্দ্রে পরিণত হলো। একদা সমগ্র ভারতবর্ষের রাজধানী শহরটি এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী। আজ সে শহর পা রাখলো  ৩২৬ বছরে।

এক মেঘলা দিনে প্রায়-গ্রাম্য ও জঙ্গলাকীর্ণ কলকাতার মাটিতে পা রেখেছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলা জোব চার্নক। সেই দিনটিই পালিত হয়ে আসছে কলকাতার জন্মদিন হিসাবে। কলকাতার গোড়াপত্তনের সেটাই ছিল সূচনা। 

যদিও কেউ কেউ এর বিরোধিতা করে বলেন, চার্নক সাহেব আসার আগেও কলকাতায় মনুষ্যবসতি ছিল। ফলে তিনি কলকাতা শহরের জনক, এটা ঠিক নয়। কিন্তু এটা ঠিক যে, আধুনিক কলকাতা বলতে যা বোঝায়, তার পত্তন করেছিলেন জোব চার্নক-ই। বাংলার তৎকালীন রাজধানী মুর্শিদাবাদকে এড়িয়ে নতুন একটি শহর গড়ার ভাবনা দূরদর্শী চার্নকের আগে কেউ ভাবেন নি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566652877201.jpg

ইতিহাসের বড় বড় উত্থান-পতন আর পালাবদলের মাঝ দিয়ে কলকাতার ইতিহাসের ঘটনাবহুল  ৩২৬ বছর কেটেছে। যদিও উপমহাদেশের অন্যান্য শহর, দিল্লি, আগ্রা, লক্ষ্ণৌ, ঢাকার চেয়ে কলকাতা ‘নবীন’ শহর, তথাপি ইতিহাসের পথ-পরিক্রমায় কলকাতা থেকেছে সামনের কাতারে।জোব চার্নকের আগমনের সময় থেকে এতগুলো বছর পেরিয়ে জীবন্ত ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে কলকাতা।

১৭৭২ সালে তৎকালীন বড়লাট বা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস সুবে বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে সরিয়ে আনেন কলকাতায়। তাতে শুধু বাণিজ্যিক গুরুত্বই নয়, কলকাতা অর্জন করে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রাধান্য । হেস্টিংসের এই সিদ্ধান্তে রাতারাতি কলকাতার রাজনীতিক, প্রশাসনিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বও বেড়ে যায়।

ইংরেজের নেতৃত্বে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে বাংলা তথা ভারতে যে নবজাগরণ শুরু হয়েছিল, তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কলকাতাই। কলকাতাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে ঔপনিবেশিক যুগের প্রাথমিক পর্যায়ের দিনগুলো।

কলকাতাকে ইংরেজরা বানাতে চেয়েছিল দ্বিতীয় লন্ডন। ফলে ব্রিটিশ শাসনে কলকাতা কিছু গৌরবজনক ঘটনার সাক্ষী হয়। যেমন ১৮৩৫ সালে এশিয়ার প্রথম মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয় কলকাতাতেই। কলকাতা মেডিকেল কলেজে তখন এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকেও ছেলেরা পড়তে আসত। ১৮৫৭ সালে তৈরি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল গোটা পূর্ব ভারতে (এখনকার বাংলাদেশ ধরে) প্রথম এমন কুলীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ট্রাম, টেলিগ্রাম, ক্রিকেট আসে কলকাতায় অন্য শহরের আগে। 

১৯১১ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত ভারতবর্ষের রাজধানী ছিল কলকাতা। তারপর ছিল অবিভক্ত বঙ্গদেশের রাজধানী। ১৯৪৭ সালে ইংরেজ বিদায়ের পর কলকাতায় হয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী। সীমানার দূরত্বের পরেও বাঙালি ও বাংলার সংস্কৃতি, স্মৃতি ও ইতিহাসের পাতায় পাতায় কলকাতা মিশে আছে অম্লান।

কল্লোলিনী কলকাতার জন্মদিনে শুভেচ্ছা।  

 

নেতাজির মৃত্যুদিন ঘোষণা করে বিপাকে পিআইবি

নেতাজির মৃত্যুদিন ঘোষণা করে বিপাকে পিআইবি
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যুদিন বলে ঘোষণা করে বিতর্কে ভারতের পিআইবি (প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো) সংস্থাটি। সংস্থাটির তরফে একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে সেখানে লেখা হয়েছে "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব", পাশাপাশি ১৯৪৫ সালটিকে নেতাজির 'মৃত্যুসাল' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তাইহকু প্লেন দুর্ঘটনার তারিখ ছিল ১৯৪৫ সালের ১৮ অগাস্ট। ওই বিমানেই নেতাজি ছিল বলে দাবি অনেকের। এবং সেই প্লেন দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যূ হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। তথাপি ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সরকারিভাবে কোনো সরকার আজ অবদি মৃত্যুদিনটিকে স্বীকৃতি দিতে পারেনি। বর্তমান সরকারও সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনো সিলমোহর দেয়নি। তবে সেই প্লেন দুর্ঘটনাতেই নেতাজির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সরকারি সংস্থা পিআইবি।

এই ছবি সামনে আসতেই জোর চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে দেশজুড়ে। শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নেতাজি পরিবারের সদস্য তথা বিজেপি নেতা চন্দ্র বসু মন্তব্য করেছেন, "কোথাও ভুল হচ্ছে। কোথাও কোনো ত্রুটি থেকে যাচ্ছে।"

অপরদিকে, রোববার(১৮ আগস্ট) সকালে দিনটিকে স্মরণ করে, নেতাজির অন্তর্ধান নিয়ে টুইট করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “নেতাজির বিষয়ে জানার অধিকার সকল দেশবাসীর রয়েছে। আজকের দিনেই ১৯৪৫ সালে নেতাজি তাইওয়ানের তাইহুকু বিমানবন্দর থেকে নিখোঁজ হন। আজও জানি না এরপর কী হয়েছে। দেশমাতৃকার এই বীর সন্তানের বিষয়ে জানার অধিকার সকল দেশবাসীর আছে।”

তবে প্রকাশ্যে কোনো অনুষ্ঠান না হলেও কংগ্রেস-বিজেপি সকলেই মৃত্যুদিন হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে স্মরণ করেছে। যা এবারই প্রথম ঘটলো ভারতে। কারণ নেতাজির মৃত্যুদিন সরকারিভাবে এখনও ঘোষণা হয়নি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র