Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

বিক্রি হয়ে গেল রাজ কাপুরের আরকে স্টুডিও

বিক্রি হয়ে গেল রাজ কাপুরের আরকে স্টুডিও
আরকে ফিলমস অ্যান্ড স্টুডিও / ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
কলকাতা


  • Font increase
  • Font Decrease

বলিউড বিখ্যাত তারকা রাজ কাপুর তাঁর ছবি প্রযোজনার জন্য ১৯৪৮ সালে আরকে ফিল্মস নামে একটি সংস্থা তৈরি করেন৷ এর দু’বছরের মধ্যেই ১৯৫০ সালে তিনি গড়ে তোলেন স্টুডিও।

এই স্টুডিও থেকে একের পর নির্মিত হয়েছে জনপ্রিয় সব ছবি। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, আওয়ারা, শ্রী চারশো বিশ, জিস দেশমে গঙ্গা বহতি হ্যায়, মেরা নাম জোকার, ববি, সত্যম শিবম সুন্দরম, প্রেমরোগ, রাম তেরি গঙ্গা মইলি’র মতো ছবিগুলো৷

এছাড়া আর কে ফিল্মস থেকে অন্যান্য ছবি মিলিয়ে প্রায় শ’খানেক ছবি এই স্টুডিওতে নির্মিত হয়েছিল৷ ১৯৯১ সালে ‘হেনা’ এই স্টুডিওর শেষ ছবি। অর্থাৎ বহুদিন আগে থেকেই এখানে ছবি তৈরি হচ্ছিল না৷ তার উপর ২০১৭ সালে এক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে হয়ে যায় স্টুডিওটি৷

তা সত্বেও ১৯৮৮ সালে রাজ কাপুরের মৃত্যুর পরও প্রতিষ্ঠিত আর কে স্টুডিও ছিল কাপুর বংশের ঐতিহ্যশালী সম্পদ৷ আগুন লাগার পর গত বছরের আগস্ট মাসে রাজ কাপুরের ছেলেরা জানান, এই স্টুডিও পুনর্নিমাণ করা সম্ভব নয় এবং তা বিক্রি করে দেওয়া হবে৷

ফলে চিরতরে মুছে গেল কাপুর বংশের ঐতিহ্য৷ সম্পত্তিটি হাত বদল হয়ে গোদরেজ কোম্পানি কেনায় ওই জায়গায় এখন গড়ে উঠবে আধুনিক শপিং আবাসন৷

প্রায় আড়াই একর জায়গা উপর ছিল স্টুডিও৷ এটি ভেঙে গোদরেজ প্রোপার্টিজ সাড়ে তিন লাখ বর্গফুটের আবাসন এবং ৩৩ হাজার বর্গফুটের অত্যাধুনিক শপিং মল গড়ে তুলবে।

কত টাকায় এই সম্পত্তি হাতবদল হয়েছে তা কোনো পক্ষই জানায়নি৷ তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর বাজার মূল্য বর্তমানে প্রায় ২০০ কোটি রুপি।

ফলে বলিউড ইতিহাসের একটা বিশেষ অধ্যায়ের ইতি ঘটলো৷ কারণ, সিনেমা তৈরির পাশাপাশি এখানে প্রতি বছর গণেশ পূজো এবং হোলি উৎসব পালন শুরু করেন রাজ কাপুর।

জানা যায়, মুম্বাইয়ে প্রথম তারকাদের একত্রিত করে হোলি খেলা রাজকাপুরের হাত ধরে এই স্টুডিওতে হতো।

এবার এই স্টুডিও ভেঙে আবাসন গড়ার কথা শুনে স্বাভাবিকভাবেই অনেক সিনেমাপ্রেমী হতাশ হয়েছেন৷

 

 

 

আপনার মতামত লিখুন :

কলকাতা: জন্মদিনের শুভেচ্ছা

কলকাতা: জন্মদিনের শুভেচ্ছা
কলকাতা

১৬৯০ সাল। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ দশক। দিনটি ছিল ২৪ আগস্ট। ঔপনিবেশিক ইংরেজ বণিকদের হাতে জন্ম নিল দক্ষিণ এশিয়ার এক নতুন শহর, কলকাতা।

কালে কালে সে শহর নবজাগরণ ও রাজনীতির কেন্দ্রে পরিণত হলো। একদা সমগ্র ভারতবর্ষের রাজধানী শহরটি এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী। আজ সে শহর পা রাখলো  ৩২৬ বছরে।

এক মেঘলা দিনে প্রায়-গ্রাম্য ও জঙ্গলাকীর্ণ কলকাতার মাটিতে পা রেখেছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলা জোব চার্নক। সেই দিনটিই পালিত হয়ে আসছে কলকাতার জন্মদিন হিসাবে। কলকাতার গোড়াপত্তনের সেটাই ছিল সূচনা। 

যদিও কেউ কেউ এর বিরোধিতা করে বলেন, চার্নক সাহেব আসার আগেও কলকাতায় মনুষ্যবসতি ছিল। ফলে তিনি কলকাতা শহরের জনক, এটা ঠিক নয়। কিন্তু এটা ঠিক যে, আধুনিক কলকাতা বলতে যা বোঝায়, তার পত্তন করেছিলেন জোব চার্নক-ই। বাংলার তৎকালীন রাজধানী মুর্শিদাবাদকে এড়িয়ে নতুন একটি শহর গড়ার ভাবনা দূরদর্শী চার্নকের আগে কেউ ভাবেন নি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566652877201.jpg

ইতিহাসের বড় বড় উত্থান-পতন আর পালাবদলের মাঝ দিয়ে কলকাতার ইতিহাসের ঘটনাবহুল  ৩২৬ বছর কেটেছে। যদিও উপমহাদেশের অন্যান্য শহর, দিল্লি, আগ্রা, লক্ষ্ণৌ, ঢাকার চেয়ে কলকাতা ‘নবীন’ শহর, তথাপি ইতিহাসের পথ-পরিক্রমায় কলকাতা থেকেছে সামনের কাতারে।জোব চার্নকের আগমনের সময় থেকে এতগুলো বছর পেরিয়ে জীবন্ত ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে কলকাতা।

১৭৭২ সালে তৎকালীন বড়লাট বা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস সুবে বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে সরিয়ে আনেন কলকাতায়। তাতে শুধু বাণিজ্যিক গুরুত্বই নয়, কলকাতা অর্জন করে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রাধান্য । হেস্টিংসের এই সিদ্ধান্তে রাতারাতি কলকাতার রাজনীতিক, প্রশাসনিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বও বেড়ে যায়।

ইংরেজের নেতৃত্বে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে বাংলা তথা ভারতে যে নবজাগরণ শুরু হয়েছিল, তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কলকাতাই। কলকাতাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে ঔপনিবেশিক যুগের প্রাথমিক পর্যায়ের দিনগুলো।

কলকাতাকে ইংরেজরা বানাতে চেয়েছিল দ্বিতীয় লন্ডন। ফলে ব্রিটিশ শাসনে কলকাতা কিছু গৌরবজনক ঘটনার সাক্ষী হয়। যেমন ১৮৩৫ সালে এশিয়ার প্রথম মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয় কলকাতাতেই। কলকাতা মেডিকেল কলেজে তখন এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকেও ছেলেরা পড়তে আসত। ১৮৫৭ সালে তৈরি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল গোটা পূর্ব ভারতে (এখনকার বাংলাদেশ ধরে) প্রথম এমন কুলীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ট্রাম, টেলিগ্রাম, ক্রিকেট আসে কলকাতায় অন্য শহরের আগে। 

১৯১১ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত ভারতবর্ষের রাজধানী ছিল কলকাতা। তারপর ছিল অবিভক্ত বঙ্গদেশের রাজধানী। ১৯৪৭ সালে ইংরেজ বিদায়ের পর কলকাতায় হয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী। সীমানার দূরত্বের পরেও বাঙালি ও বাংলার সংস্কৃতি, স্মৃতি ও ইতিহাসের পাতায় পাতায় কলকাতা মিশে আছে অম্লান।

কল্লোলিনী কলকাতার জন্মদিনে শুভেচ্ছা।  

 

নেতাজির মৃত্যুদিন ঘোষণা করে বিপাকে পিআইবি

নেতাজির মৃত্যুদিন ঘোষণা করে বিপাকে পিআইবি
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যুদিন বলে ঘোষণা করে বিতর্কে ভারতের পিআইবি (প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো) সংস্থাটি। সংস্থাটির তরফে একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে সেখানে লেখা হয়েছে "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব", পাশাপাশি ১৯৪৫ সালটিকে নেতাজির 'মৃত্যুসাল' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তাইহকু প্লেন দুর্ঘটনার তারিখ ছিল ১৯৪৫ সালের ১৮ অগাস্ট। ওই বিমানেই নেতাজি ছিল বলে দাবি অনেকের। এবং সেই প্লেন দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যূ হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। তথাপি ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সরকারিভাবে কোনো সরকার আজ অবদি মৃত্যুদিনটিকে স্বীকৃতি দিতে পারেনি। বর্তমান সরকারও সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনো সিলমোহর দেয়নি। তবে সেই প্লেন দুর্ঘটনাতেই নেতাজির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সরকারি সংস্থা পিআইবি।

এই ছবি সামনে আসতেই জোর চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে দেশজুড়ে। শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নেতাজি পরিবারের সদস্য তথা বিজেপি নেতা চন্দ্র বসু মন্তব্য করেছেন, "কোথাও ভুল হচ্ছে। কোথাও কোনো ত্রুটি থেকে যাচ্ছে।"

অপরদিকে, রোববার(১৮ আগস্ট) সকালে দিনটিকে স্মরণ করে, নেতাজির অন্তর্ধান নিয়ে টুইট করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “নেতাজির বিষয়ে জানার অধিকার সকল দেশবাসীর রয়েছে। আজকের দিনেই ১৯৪৫ সালে নেতাজি তাইওয়ানের তাইহুকু বিমানবন্দর থেকে নিখোঁজ হন। আজও জানি না এরপর কী হয়েছে। দেশমাতৃকার এই বীর সন্তানের বিষয়ে জানার অধিকার সকল দেশবাসীর আছে।”

তবে প্রকাশ্যে কোনো অনুষ্ঠান না হলেও কংগ্রেস-বিজেপি সকলেই মৃত্যুদিন হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে স্মরণ করেছে। যা এবারই প্রথম ঘটলো ভারতে। কারণ নেতাজির মৃত্যুদিন সরকারিভাবে এখনও ঘোষণা হয়নি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র