Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

‘মানুষকে ভাগ করতেই তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ’

‘মানুষকে ভাগ করতেই তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ’
কলকাতায় সিপিআইএম -এর বিক্ষোভ মিছিল, ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
কলকাতা


  • Font increase
  • Font Decrease

কলকাতায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহের রোড শো ঘিরে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বামফন্ট্রের চেয়ারম্যান বিমান বসু। তিনি বলেছেন, তীব্র মেরুকরণের মাধ্যমে মানুষকে ভাগ করার লক্ষ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি ন্যাক্কারজনক এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (১৫ মে) সকালে কলকাতার কলেজস্ট্রিটে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআইএম) বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বামফ্রন্টের উদ্যোগে কলকাতা বইপাড়া এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়।

মিছিলে হাঁটেন বামফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সীতারাম ইয়েচুরি, প্রকাশ করাত, বিমান বসু, নীলোৎপল বসু প্রমুখ। সাথে পা মেলান বামপন্থী বিভিন্ন শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

ওই ঘটনায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙাসহ হিংসাত্মক হামলা ও সংঘর্ষের তীব্র নিন্দা জানান কবি শঙ্খ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘কথা বলার কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। অধঃপতনের আর কোন স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে, তা জানি না।’

‘মানুষকে ভাগ করতেই তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ’
কবি শঙ্খ ঘোষ

 

সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘পশ্চিমবাংলার রাজধানীতে এই কুৎসিত ঘটনা ঘটিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল কি ভাবছে, তারা মানুষের সমর্থন আদায় করতে পারবে? যখন তারা বুঝতে পারছে তাদের বাংলার মানুষের কাছে ধ্বংসাত্মক ও গ্রহণযোগ্য নয়, তখন হতাশা থেকে মরিয়া হয়ে এ ধরনের কাজে লিপ্ত হয়েছে। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙল। এটাই কি তাদের ভারতীয় সভ্যতার ঐতিহ্যের পক্ষে সওয়ালের নমুনা? জ্ঞানচর্চাকে আক্রমণ করা, পশ্চিমবাংলার মানুষ ধ্বংসাত্মক এই নীতিকে কখনোই গ্রহণ করবেন না।’

রাজ্য সিপিআইএম সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, ‘এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনার মধ্য দিয়ে মানুষের সামনে আরো স্পষ্ট হলো বিজেপি-তৃণমূলের চরিত্র। বহিরাগত দুই দলের মধ্যেই ছিল। উসকানিমূলক ও প্ররোচনামূলক স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দিক থেকেই ইট পাথর ছোড়া ও আগুন লাগানো হয়েছে। হিংসাত্মক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এমনকি দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর করেছে বাংলার নবজাগরণের কান্ডারি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি। তৃণমূল ও বিজেপি এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে রাজনীতি করে মানুষকে ভাগ করতে চাইছে। বাংলায় শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ এটা কখনোই ক্ষমা করবে না।’

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএম) পলিটব্যুরো সদস্য ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, ‘এটা নিছক তৃণমূল-বিজেপি ঝগড়া নয়। এরা আমাদের গণতন্ত্র ধ্বংস করছে, সংস্কৃতি ধ্বংস করছে। এবার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস করছে। ওরা সুকান্ত ও লেলিনের মূর্তি ভেঙেছে, এবার বিদ্যাসাগরের মূর্তিও ভাঙল।’

‘মানুষকে ভাগ করতেই তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ’

মিছিলে অংশ নেওয়া রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, মঙ্গলবার কলেজ স্ট্রিট চত্বরে যে গুন্ডামির খণ্ডচিত্র দেশের মানুষ দেখল, সেটা পশ্চিমবাংলার মানুষের লজ্জা। গণতন্ত্রের লেশমাত্র থাকলে কোনো রাজনৈতিক দল এই ঘটনা ঘটাতে পারে না। যারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙল তারা আর যাই হোক, রাজনৈতিক কর্মী বলা যায় না। আজ আবার প্রমাণ হলো- রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। রাজ্য প্রশাসন আগেই পঙ্গু হয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৪ মে) কলকাতায় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের রোড শো ছিল। রোড শো যখন বইপাড়া অঞ্চলে প্রবেশ করে তখন কলকাতা ইউনিভার্সিটি ও বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে তৃনমূলের ছাত্র সংগঠন কালো পতাকা ও গোব্যাক মোদি স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় বিজেপির মিছিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষ বাধে উভয় পক্ষের, তৈরি হয় রণক্ষেত্র। ভাঙচুর করা হয় কলেজ, জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বাইক, ভেঙে দেওয়া হয় প্রাচীণ বিদ্যাসাগরের মূর্তি।

আরও পড়ুন: কলকাতায় অমিত শাহের রোড শো ঘিরে রণক্ষেত্র

আপনার মতামত লিখুন :

তৃতীয় বিয়ের ইচ্ছেই কাল হল ভারতের ধোসার স্রষ্টার

তৃতীয় বিয়ের ইচ্ছেই কাল হল ভারতের ধোসার স্রষ্টার
ধোসার স্রষ্টা পি রাজা গোপাল, ছবি: সংগৃহীত

একেবারে গরিব পরিবার বলতে যা বোঝায়, সেই পরিবারের ছেলে ছিলেন ধোসার স্রষ্টা অর্থাৎ পি রাজা গোপাল। নিবাসের জন্ম তামিলনাড়ুর একটি অখ্যাত গ্রামে। বাবা ছিলেন পেঁয়াজের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এমন একটা সময় গিয়েছে রাজা গোপালের জীবনে, যেখানে অন্যের ছেঁড়া জামাকাপড়ই ছিল মহার্ঘ বস্তুর সমান। সেই রাজা গোপালই একদিন চমকে দিয়েছিলেন খাদ্য রসিকদের। বিশ্বজুড়ে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়েছিল ধোসা কিং বা ধোসা মাস্টার নামে। নিজের গ্রামেই গড়ে তুলেছিলেন সারাভানা ভবন। যে ভবনে খাদ্যের সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রাজাগোপাল। তাঁর ধোসা সম্রাট হয়ে ওঠার কাহিনীও অনেকটা রূপকথার মতোই।

সময়টা ১৯৮১ সাল। আজকের চেন্নাই অর্থাৎ তৎকালীন মাদ্রাসে একটি ছোট্ট মুদির দোকান খুলে বসেন রাজাগোপাল। কিছুদিন পর দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিয়ে মুদির দোকান পরিবর্তন করে খুলে ফেললেন একটি রেস্তরাঁ। সেখানে দক্ষিণ ভারতীয় খাবার তৈরিতে রাজা গোপালের চলতো নিত্যনতুন পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ।

এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে একে একে তাঁর ফর্মুলাতেই তৈরি হতে থাকল ধোসা, ইডলি ও বড়া। স্বাদে অতুলনীয় এবং দাম কম অর্থাৎ গরিব মানুষের নাগালের মধ্যে। অল্প কয়েকদিনের জনপ্রিয় হয়ে উঠল রাজাগোপালের সেই রেস্তরাঁ। তাঁর হাত ধরে দক্ষিণ ভারতীয় খাদ্যাভাসে ঢুকে পড়ল ইডলি, ধোসা। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি রাজা গোপালকে। এরপরই তিনি ঢুকে পড়লেন চেন রেস্তরাঁর ব্যবসায়। সমগ্র ভারত ছাড়িয়ে পড়ল তার রেস্তরাঁ সাম্রাজ্যের গল্প। সবমিলিয়ে এই মুহূর্তে ৮০টি রেস্তরাঁ ছড়িয়ে রয়েছে দেশে ও বিদেশে।

এরপরই চেন্নাইয়ে রাজাগোপাল গড়ে তুললেন ‘সারাভানা ভবন’। গরিব, মধ্যবিত্তের কাছে সারাভানা ছিল অত্যন্ত পছন্দের। তাঁদের আতিথেয়তায় কোনো কার্পণ্য করতেন না রাজা গোপাল। কর্মীদের সঙ্গেও তাঁর ছিল অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক। তাঁদের জীবন স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখার সবরকম চেষ্টা চালাতেন তিনি। কর্মীরা তাঁকে ডাকতেন আন্নাচি (বড়দাদা) বলে।

সেই রাজাগোপাল চরম বিপাকে পড়লেন তৃতীয় বিয়ে করার তীব্র বাসনায়। তাঁরই রেস্তরাঁর এক নারীকর্মীকে বিয়ে করতে চাইলেন তিনি। সেই নারী ছিলেন আবার বিবাহিত। ওই নারীকে অন্ধভাবে ভালোবাসতেন রাজা গোপাল। কিন্তু,  স্বামী-সংসার ছেড়ে রাজা গোপালকে বিয়ে করতে চাননি। সবসময় এড়িয়ে চলতেন। সেটা মানতে পারতেন না ধোসা কিং। ২০০০ সালে ওই নারীর সান্নিধ্য পেতে রাজা গোপাল উদভ্রান্ত হয়েছিলেন। ওই পরিবারকে ভীতি প্রদর্শন করা শুরু করলেন। তাতেও কাজ না হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলেন। ২০০১ সালে ওই নারীকে কাছে পেতে তার স্বামীকে পি রাজাগোপালই খুন করিয়েছিলেন। খুনের মামলায় ২০০৪ সালে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরে রাজাগোপালের যাবজ্জীবনের সাজা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল নিহতের পরিবার। আবেদন গ্রাহ্য করেন শীর্ষ আদালত। তাকে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করেন আদালত। আর চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে আদালতে রাজা গোপালকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

গোটা জীবনে একটাই মাত্র ভুল সিদ্ধান্ত। আর তাতেই বৈভবের শিখর থেকে সোজা জেলের কুঠুরিতে। অদ্ভুত পতন ভারতের ধোসা কিং পি রাজা গোপালের। ফকির থেকে রাজা আবার রাজা থেকে ফকির। পিছনে পড়ে রইল চেন রেস্তরাঁর সাম্রাজ্যপাট। বাকি জীবনটা জেলেই কাটাতে হবে ৭১ বছরের পি রাজা গোপালকে।

এরশাদের মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতার শোকবার্তা

এরশাদের মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতার শোকবার্তা
এরশাদের মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতার শোক

সাবেক রাষ্ট্রপতি  ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  

রোববার (১৪ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি এ শোক প্রকাশ করেন।

শোকবার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। আজ সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর৷ কোচবিহারের বাসিন্দা মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে আমার অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল।

প্রয়াত এরশাদ বাংলাদেশের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন ৷  তাঁর প্রয়াণে রাজনৈতিক জগতে অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়।

শোকবার্তায় মূখ্যমন্ত্রী এরশাদের পরিবার-পরিজন ও  অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র