Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

শাড়িতেও রঙ লেগেছে ভোটের!

শাড়িতেও রঙ লেগেছে ভোটের!
নেতাদের ছবি ব্যবহার করে তৈরি শাড়ি / ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
কলকাতা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদ, দুর্গাপূজা এবং বড়দিনের মতো উৎসবগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল কলকাতার ফ্যাশন। কিন্তু এবার নতুন ট্রেন্ড যুক্ত হয়েছে, ভোট উৎসব। আর উৎসব থাকলেই পরিবর্তন হয় ফ্যাশনের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাওয়া ফ্যাশনের হাত ধরেই কলকাতার বাজারে আগমন ভোটের শাড়ি! তাই ভোট নামক উৎসবে নতুন মাত্রা দিতে কলকাতার বাঙালির শপিংয়ের প্রাণকেন্দ্র নিউমার্কেটে চোখে পড়বে এসব শাড়ি।

সময়টা ছিল ২০১১ সাল, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের বিরুদ্ধে তৎকালীন মমতার স্লোগান ছিল ‘বদলা নয়, বদল চাই- পরিবর্তন চাই’। সে সময় তৃণমূল কংগ্রেসের নারী কর্মী-সমর্থকদের তাদের প্রতীক, জোড়াফুল ছাপানো শাড়ি দিত বিনা মূল্যে। ক্ষমতায় আসে মমতা। তারপর তৃণমূলের কোনো স্লোগান সেভাবে চোখ না টানলেও, ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ও বামদের স্লোগান কিন্তু চোখ টানছে ভোটারদের। বিজেপির ক্যপশান, ‘পরিবর্তন নয়, পরিত্রাণ চাই’। আর বামদের স্লোগান ‘ফেরাতে হাল, ফিরুক লাল’। সে যাই হোক স্লোগানের পরিবর্তন এলেও তৎকালীন মমতার ক্ষমতায় আসার সময় তৃণমূলী শাড়ির ফ্যাশন দেখা গিয়েছিল কলকাতায়। কিন্তু এর আগে দোকানে বিক্রি হতে দেখা যায়নি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/06/1557129222502.jpg

এবার যা দেখা গেল নিউমার্কেট লাগোয়, হগ মার্কেটের মনসা শাড়ি স্টলে। দোকানের শোকেস থেকে একেবারে ভেতরে থরেথরে সাজানো তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেসের প্রতীকী শাড়ি। বাদ নেই বামরাও। বিক্রেতা বিক্রম বার্তা২৪.কমকে জানালেন, ‘সারা বছর তো সব ধরনের শাড়ি বিক্রি করি, এবারই প্রথম নিয়ে এলাম ভোটের শাড়ি। আর এটা যে হটকেক হবে তা জানা ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাই সব তুলে আমজনতার মতন ভোটেই মেতেছি। তবে অন্য শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না তা নয়, ক্রেতা চাইলে বিক্রি করছি। তবে এখনো বাংলাদেশি ঈদ শপিং জমে ওঠেনি আর কলকাতায় কোনো উৎসব নেই, তাই ভোট উৎসবেই মেতেছি। ভোটের বাজারে শাড়ির চাহিদাও ভাল।’

বিক্রম জানান, তৃণমূলের প্রতীক জোড়াফুল, তাই শাড়ির গায়ে প্রতীক ছাপা আর আঁচলে মুখ্যমন্ত্রী। এখানে এই শাড়ির চাহিদা বেশি। তবে রাজ্যে ভোটের বাজারে ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে বিজেপি। ফলে কম নেই মোদীর চাহিদা। কাঁধ থেকে আঁচল অবধি বিরাজ করছেন মোদিজি। পাশাপাশি কংগ্রের হাল ইন্দিরামুখী প্রিয়াঙ্কা ধরতেই কংগ্রেসী শাড়িতেও আছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। আর বাম! তাও আছে, তবে দলটি চিরকালই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে ব্যক্তিকে গুরুত্ব দেয়নি। সে জ্যোতিবাবু হোক বা বুদ্ধবাবু। ফলে শাড়ির শরীর জুড়ে প্রতীক কাস্তে-হাতুড়ি আঁকা। রাজ্যে বামদের পতনের মতো শাড়ির সেলও একটু ডাউনে আছে।

কারা তৈরি করেন এই ভোটের শাড়ি?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/06/1557129288966.jpg

পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুর থেকে আসছে শাড়ি। সেখানকার তাঁতিরাই তৈরি করেছেন। তবে তাঁতের বুননে নয়, এসব প্রতীক হচ্ছে স্ক্রিন প্রিন্টিংয়ে। ভোটের বাজার একদমই ছোট মৌসুম এবং হাতে সময় বেশি নেই। তাই ঝুঁকি নিয়ে বেশি দামের তাঁতের শাড়ি বুনতে চাইছেন না শাড়ি ব্যবসায়ীরা। তাই স্কিন প্রিন্টিংয়েই তুলে ধরছে ভোট শিল্প। এবার ট্রেন্ডটা শুধু বুঝে নিতে চাইছে। তবে রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের কথা মাথায় রেখে অপেক্ষাকৃত দাম কম রাখা হয়েছে। সাড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে এসব ভোটের শাড়ি।

আবার তাঁতিদের কথায়, মূলত শান্তিপুরে চৈত্র-ফাল্গুন মাস থেকেই ঈদ এবং দুর্গাপূজার শাড়ি তৈরি হয়। এবার ভোট উৎসবে বাড়তি একটা বাজার পাওয়া গেছে। দোকানের পাশাপাশি নেতাদের থেকেও বরাত আসছে, বরাত আসছে কলকাতা, শিলিগুড়িসহ অন্যান্য এলাকার পাইকারদের থেকেও। বাজার পাচ্ছে কলকাতার নিউ মার্কেট থেকেও।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/06/1557129307338.jpg

সোমবার (৬ এপ্রিল) চলছে পঞ্চম দফার লোকসভা ভোট। এখনো রাজ্যে আরও দু’দফা ভোট বাকি। শুধু চাহিদা নয়, বলতে পারেন বড়তি বোনাস। এমনই জানালেন মনসা শাড়ির বিক্রেতা বিক্রম।

আপনার মতামত লিখুন :

সপ্তাহ শেষে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করবে বর্ষা

সপ্তাহ শেষে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করবে বর্ষা
ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি নিম্নচাপের জেরে আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা জেলায় এ সপ্তাহেই মৌসুমি বায়ু ঢুকতে পারে বলে আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হয়েছে। ফলে গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলবে।  পাশাপাশি চাষবাসের জন্য এখনই ভারী বৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন।

পশ্চিমবঙ্গসহ সমগ্র ভারতে বৃষ্টির ঘাটতি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে যথেষ্ট উদ্বেগে রেখেছে। অবশ্য প্রাক বর্ষার বৃষ্টি ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে। আগামী দুই তিনদিন এই পরিস্থিতি থাকবে বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার (২১ জুন) নাগাদ উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপটি তৈরি হলে বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা আশা করছেন।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (২০ জুন) তাপমাত্রা কিছুটা কমবে। পাশাপাশি আবহাওয়াবিদরা আশা করছেন, এই নিম্নচাপ পশ্চিমবঙ্গ সহ পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলো ছাড়াও মধ্য ভারতে বর্ষা টেনে আনার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। এবারে দেশে বর্ষা বেশ ধীর গতিতে এগোচ্ছে।

নির্ধারিত সময়ের আট দিন পর কেরল উপকূল দিয়ে স্থলভূমিতে বর্ষা ঢুকেছে। তারপরও মৌসুমি বায়ু বিশেষ সক্রিয় নয়। এই সময়ের মধ্যে দক্ষিণ, পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব ভারতের একটা বড় অংশে পুরোদমে বর্ষা শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। স্বাভাবিক নিয়মে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে গোটা দেশ বর্ষার আওতায় এসে যায়। জুন মাসে বৃষ্টির ব্যাপক ঘাটতি হলে তা বর্ষাকালের বাকি তিন মাসে পূরণ করা সমস্যা হয়ে দাড়াবে।

মৌসুমি উত্তর রেখা বৃহস্পতিবার উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের খুব কাছে চলে এসেছে। বঙ্গোপসাগরে এই অংশের সংলগ্ন এলাকার দক্ষিণবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলে অবস্থান করছে। শুক্রবার নাগাদ বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপটি তৈরি হলে বৃষ্টি বাড়বে। ওড়িশা ও অন্ধ্র তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টি পাবে। পশ্চিমবঙ্গসহ বিহার, ঝাড়খণ্ডও বৃষ্টি হবে।

 

অভিযোগ প্রমাণ হলে সানি হারাতে পারেন এমপি পদ

অভিযোগ প্রমাণ হলে সানি হারাতে পারেন এমপি পদ
পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর আসনে নির্বাচিত এমপি সানি দেওল

ভারতে সদ্য সমাপ্ত হওয়া লোকসভা নির্বাচনে পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর আসন থেকে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী তথা বলিউড তারকা সানি দেওল। এমপি পদে শপথ নেওয়ার পর থেকে তাঁর সংসদ সদস্য পদ ঘিরে শুরু হয়েছে জটিলতা।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, অভিনেতা সানির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ উঠে এসেছে । তবে এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সানি দেওলের জেতা আসনও হারাতে হতে পারে।    


 
ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিয়মনুযায়ী, এবারের লোকসভা নির্বাচনে প্রত্যেক প্রার্থী প্রচারের জন্য সর্বোচ্চ ৭০ লক্ষ রুপি পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবে। সেখানে সানি দেওল নিজের নির্বাচনী প্রচারে ৮৬ লক্ষ রুপি  খরচ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নজরদারি কমিটির কাছে একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে, অভিযুক্ত সংসদ সদস্যর ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে নির্বাচন কমিশন।

এমনকি, জয়ী প্রার্থীকে বরখাস্ত করে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে জয়ী হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতাও রয়েছে কমিশনের হাতে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/20/1561032884410.jpg

প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনের দিন ঘোষণার অনেক পরে পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর আসনে অভিনেতা সানি দেওলকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে বিজেপি। নির্বাচনের অন্তিম পর্যায়ে এসে নাম ঘোষণার ফলে সানির জয় নিয়ে সন্দিহান ছিলেন দেশের বহু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ। কিন্তু তাঁদেরকে কার্যত ভুল প্রমাণ করে পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের প্রধান সুনীল জাখরকে ৮০ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হন সানি দেওল।  আগে ঐ আসনে বিজেপির আসনে ভোটে জিতেছিলেন অভিনেতা তথা রাজনীতিবিদ বিনোদ খান্না। তাঁর মৃত্যুর পর এই আসনে নতুন মুখ দরকার ছিল বিজেপির। এই আসনে কে প্রার্থী হতে পারেন, তা নিয়ে জল্পনার মধ্যেই সানি দেওলের নাম ঘোষণা করেছিল বিজেপি।  

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র