Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

কলকাতায় গঙ্গাবক্ষে বিচিত্র বর্ণের পালের নৌকা

কলকাতায় গঙ্গাবক্ষে বিচিত্র বর্ণের পালের নৌকা
বেলুড় মঠের পাশে বহমান গঙ্গা নদীতে বিচিত্র পালের নৌকা/ ছবি: বার্তা২৪
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রাষ্ট্রবিজ্ঞানি প্রফেসর ড. আবদুর রশিদ দীর্ঘবছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শেষে যোগ দিয়েছিলেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে। কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে এই সুলেখক ও অনুবাদক ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশ-দেশান্তরে। বার্তা২৪.কমের জন্য তিনি মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) পাঠিয়েছেন কলকাতার পাশে বহমান গঙ্গায় ভাসমান বিচিত্র বর্ণের পালের নৌকার ছবি।

বেলুড় মঠের কাছে বহমান গঙ্গা থেকে তিনি আলোকচিত্রটি গ্রহণ করেন। ‘এটি ছিল আমাদের কাছে অভাবনীয় দৃশ্য’, আধুনিক নগরায়নের পাশে ঐতিহ্যের উপস্থিতি দেখে জানান তিনি।

কলকাতায় তিনি প্রাণ খুলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ঐতিহ্যবাহী মহানগরের প্রায়-প্রতিটি স্থান পরিদর্শন করছেন। সময় পেলে তিনি সেসব ভ্রমণ কাহিনী লিখবেন বলেও জানিয়েছেন।

প্রফেসর ড. আবদুর রশিদ জোড়াসাঁকোর রবীন্দ্রতীর্থ, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়েল, গড়ের মাঠ, কলেজ স্ট্রিট গিয়েছেন। কফি হাউজের কফি পান ও আড্ডার ফাঁকে হয়েছেন স্মৃতিকাতর-নস্টালজিক। হেয়ার স্কুলে গিয়ে ডেভিড হেয়ার, মাইকেল, বিদ্যাসাগরের পদচারণা অনুভব করেছেন। পাতাল রেলে চড়ে গিয়েছেন মহানায়ক উত্তম কুমারের ভাস্কর্য পর্যন্ত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/15/1547559497428.jpg

পথে কালীঘাটেও পরিভ্রমণ করেন। আদিগঙ্গা দেখতে পেয়েছেন সেখানে তিনি ক্ষীণতোয়া অবয়বে। দক্ষিণেশ্বর ও বেলুড় এবং শহরের ধর্মতলা, নিউমার্কেট, বিবাদি বাগ ঘুরেছেন। বলতে গেলে কলকাতার স্মৃতি, অতীত আর বর্তমানকে ধরে ধরে দেখছেন তিনি।

কদিন আগেই প্রফেসর ড. আবদুর রশিদ ঘুরে এলেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা। সেখানকার নীরসাগর, রাজমহল, নিসর্গ ও প্রকৃতির প্রসঙ্গে আলাপ করছিলেন তিনি আমার সঙ্গে। ‘রাজনৈতিক শব্দকোষ’ নামক একটি এনসাইক্লোপিডিক বিপুলায়তন কাজের মাধ্যমে তিনি রাজনীতি বিজ্ঞান অঙ্গনে বিপুল পরিচিত। হান্টিংটন এবং অপরাপর পণ্ডিতদের সমকালীন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের অনুবাদক হিসাবেও তিনি বিশিষ্ট। কিন্তু ভ্রামণিক হিসাবে তার অজানা পরিচিয় সম্পর্কে অনেকেই অবহিত নন। 

শুধু ভারত, কলকাতা বা আগরতলা নয়, কিছুদিন আগেই প্রফেসর ড. আবদুর রশিদ দীর্ঘ ভ্রমণ করেছেন প্রাচীন জনপদ মিসর। পিরামিড থেকে নীল নদের মোহনা পর্যন্ত চষে বেড়িয়েছেন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আদি শেকড়ের সন্ধানে। গিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে ঊষর মরুর অন্যান্য দেশেও। সেখানকার জনজীবন ও প্রকৃতিকে নিবিড়ভাবে অনুভব করেছেন।

কলকাতা ভ্রমণে প্রফেসর ড. আবদুর রশিদ নিরীক্ষকের চোখে দেখছেন পাশের শহর এবং সহনাগরিকদের। দেখছেন একদার অখণ্ড বাংলার অপর প্রান্তীয় প্রকৃতি ও পরিবেশ। ধরেছেন গঙ্গায় বিচিত্র পালের নৌকার ছবি।

একজন বিশিষ্ট সমাজ ও রাজনীতি বিজ্ঞানির বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার ভ্রমণ বিবরণ অশেষ তথ্য ও বিশ্লেষণ-সমৃদ্ধ হবে, সে কথা বলাই বাহুল্য। প্রফেসর ড. আবদুর রশিদের সুরম্য ভ্রমণ কাহিনির জন্য আমরা অপেক্ষায় রইলাম।

আপনার মতামত লিখুন :

কলকাতা: জন্মদিনের শুভেচ্ছা

কলকাতা: জন্মদিনের শুভেচ্ছা
কলকাতা

১৬৯০ সাল। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ দশক। দিনটি ছিল ২৪ আগস্ট। ঔপনিবেশিক ইংরেজ বণিকদের হাতে জন্ম নিল দক্ষিণ এশিয়ার এক নতুন শহর, কলকাতা।

কালে কালে সে শহর নবজাগরণ ও রাজনীতির কেন্দ্রে পরিণত হলো। একদা সমগ্র ভারতবর্ষের রাজধানী শহরটি এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী। আজ সে শহর পা রাখলো  ৩২৬ বছরে।

এক মেঘলা দিনে প্রায়-গ্রাম্য ও জঙ্গলাকীর্ণ কলকাতার মাটিতে পা রেখেছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলা জোব চার্নক। সেই দিনটিই পালিত হয়ে আসছে কলকাতার জন্মদিন হিসাবে। কলকাতার গোড়াপত্তনের সেটাই ছিল সূচনা। 

যদিও কেউ কেউ এর বিরোধিতা করে বলেন, চার্নক সাহেব আসার আগেও কলকাতায় মনুষ্যবসতি ছিল। ফলে তিনি কলকাতা শহরের জনক, এটা ঠিক নয়। কিন্তু এটা ঠিক যে, আধুনিক কলকাতা বলতে যা বোঝায়, তার পত্তন করেছিলেন জোব চার্নক-ই। বাংলার তৎকালীন রাজধানী মুর্শিদাবাদকে এড়িয়ে নতুন একটি শহর গড়ার ভাবনা দূরদর্শী চার্নকের আগে কেউ ভাবেন নি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566652877201.jpg

ইতিহাসের বড় বড় উত্থান-পতন আর পালাবদলের মাঝ দিয়ে কলকাতার ইতিহাসের ঘটনাবহুল  ৩২৬ বছর কেটেছে। যদিও উপমহাদেশের অন্যান্য শহর, দিল্লি, আগ্রা, লক্ষ্ণৌ, ঢাকার চেয়ে কলকাতা ‘নবীন’ শহর, তথাপি ইতিহাসের পথ-পরিক্রমায় কলকাতা থেকেছে সামনের কাতারে।জোব চার্নকের আগমনের সময় থেকে এতগুলো বছর পেরিয়ে জীবন্ত ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে কলকাতা।

১৭৭২ সালে তৎকালীন বড়লাট বা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস সুবে বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে সরিয়ে আনেন কলকাতায়। তাতে শুধু বাণিজ্যিক গুরুত্বই নয়, কলকাতা অর্জন করে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রাধান্য । হেস্টিংসের এই সিদ্ধান্তে রাতারাতি কলকাতার রাজনীতিক, প্রশাসনিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বও বেড়ে যায়।

ইংরেজের নেতৃত্বে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে বাংলা তথা ভারতে যে নবজাগরণ শুরু হয়েছিল, তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কলকাতাই। কলকাতাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে ঔপনিবেশিক যুগের প্রাথমিক পর্যায়ের দিনগুলো।

কলকাতাকে ইংরেজরা বানাতে চেয়েছিল দ্বিতীয় লন্ডন। ফলে ব্রিটিশ শাসনে কলকাতা কিছু গৌরবজনক ঘটনার সাক্ষী হয়। যেমন ১৮৩৫ সালে এশিয়ার প্রথম মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয় কলকাতাতেই। কলকাতা মেডিকেল কলেজে তখন এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকেও ছেলেরা পড়তে আসত। ১৮৫৭ সালে তৈরি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল গোটা পূর্ব ভারতে (এখনকার বাংলাদেশ ধরে) প্রথম এমন কুলীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ট্রাম, টেলিগ্রাম, ক্রিকেট আসে কলকাতায় অন্য শহরের আগে। 

১৯১১ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত ভারতবর্ষের রাজধানী ছিল কলকাতা। তারপর ছিল অবিভক্ত বঙ্গদেশের রাজধানী। ১৯৪৭ সালে ইংরেজ বিদায়ের পর কলকাতায় হয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী। সীমানার দূরত্বের পরেও বাঙালি ও বাংলার সংস্কৃতি, স্মৃতি ও ইতিহাসের পাতায় পাতায় কলকাতা মিশে আছে অম্লান।

কল্লোলিনী কলকাতার জন্মদিনে শুভেচ্ছা।  

 

নেতাজির মৃত্যুদিন ঘোষণা করে বিপাকে পিআইবি

নেতাজির মৃত্যুদিন ঘোষণা করে বিপাকে পিআইবি
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যুদিন বলে ঘোষণা করে বিতর্কে ভারতের পিআইবি (প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো) সংস্থাটি। সংস্থাটির তরফে একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে সেখানে লেখা হয়েছে "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব", পাশাপাশি ১৯৪৫ সালটিকে নেতাজির 'মৃত্যুসাল' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তাইহকু প্লেন দুর্ঘটনার তারিখ ছিল ১৯৪৫ সালের ১৮ অগাস্ট। ওই বিমানেই নেতাজি ছিল বলে দাবি অনেকের। এবং সেই প্লেন দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যূ হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। তথাপি ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সরকারিভাবে কোনো সরকার আজ অবদি মৃত্যুদিনটিকে স্বীকৃতি দিতে পারেনি। বর্তমান সরকারও সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনো সিলমোহর দেয়নি। তবে সেই প্লেন দুর্ঘটনাতেই নেতাজির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সরকারি সংস্থা পিআইবি।

এই ছবি সামনে আসতেই জোর চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে দেশজুড়ে। শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নেতাজি পরিবারের সদস্য তথা বিজেপি নেতা চন্দ্র বসু মন্তব্য করেছেন, "কোথাও ভুল হচ্ছে। কোথাও কোনো ত্রুটি থেকে যাচ্ছে।"

অপরদিকে, রোববার(১৮ আগস্ট) সকালে দিনটিকে স্মরণ করে, নেতাজির অন্তর্ধান নিয়ে টুইট করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “নেতাজির বিষয়ে জানার অধিকার সকল দেশবাসীর রয়েছে। আজকের দিনেই ১৯৪৫ সালে নেতাজি তাইওয়ানের তাইহুকু বিমানবন্দর থেকে নিখোঁজ হন। আজও জানি না এরপর কী হয়েছে। দেশমাতৃকার এই বীর সন্তানের বিষয়ে জানার অধিকার সকল দেশবাসীর আছে।”

তবে প্রকাশ্যে কোনো অনুষ্ঠান না হলেও কংগ্রেস-বিজেপি সকলেই মৃত্যুদিন হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে স্মরণ করেছে। যা এবারই প্রথম ঘটলো ভারতে। কারণ নেতাজির মৃত্যুদিন সরকারিভাবে এখনও ঘোষণা হয়নি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র