Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

অমিতাভ ঘোষের নতুন বই ‘গান আইল্যান্ড’ আসছে জুনে

অমিতাভ ঘোষের নতুন বই ‘গান আইল্যান্ড’ আসছে জুনে
ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

‘দ্য শ্যাডো লাইনস’- এর জন্য ১৯৮৯ এ পেয়েছেন সাহিত্য একাডেমি। এরপর ২০১৮ তে পেলেন ভারতীয় সাহিত্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার জ্ঞানপীঠ। সম্প্রতি কলকাতায় এসেছিলেন লেখক অমিতাভ ঘোষ। আগামী জুন মাসে প্রকাশিত হবে  তাঁর উপন্যাস "গান আইল্যান্ড", সেখানকার প্রধান চরিত্র এক পুস্তকবিক্রেতা।

কথা প্রসঙ্গে জানালেন "তাঁর বাঙালিয়ানার শিকড় বাংলাদেশ। এখনো বাংলাদেশের কারো সাথে কথা বললে তার কাছে ফিরে সেই বাংলা ভাষা ও তাঁর স্মৃতি।

তিনি  আরো  বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষা হিন্দি প্রভাবিত তাই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ভরকেন্দ্র এখন ঢাকাকে বলা যায়।

আপনার মতামত লিখুন :

সীমান্ত সুরক্ষায় পশ্চিমবঙ্গকে বিপুল অর্থ সাহায্য

সীমান্ত সুরক্ষায় পশ্চিমবঙ্গকে বিপুল অর্থ সাহায্য
জোরদার করা হচ্ছে সীমান্ত নিরাপত্তা, ছবি: সংগৃহীত

২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পরই রাজ্যে জঙ্গিচক্রের খোঁজ মেলে। এ নিয়ে দীর্ঘ আলাপের পর সীমান্ত সুরক্ষায় রাজ্যকে বিপুল অর্থ সাহায্য করেছে দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসা মোদি সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মোট ৩১৬ কোটি রুপি আর্থিক সাহায্যের অনুমোদন দিল দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। যা ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তায় গোটা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ অর্থ সহযোগিতা পেল পশ্চিমবাংলা। 

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্টে বলা হয়েছে, মুর্শিদাবাদ ও বর্ধমানের মাদরাসাগুলির নব প্রজন্মের মগজধোলাইয়ের কাজে ব্যবহার করছে জঙ্গিরা। এতে দুই দেশের জঙ্গি শিবির জড়িত। পাশাপাশি একাধিক জঙ্গিশিবির চালাচ্ছে জেএমবি। তারা বাংলাদেশে থাকতে না পেরে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে পশ্চিমবঙ্গে। আর সে কারণেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তায় জোর দিল কেন্দ্রীয় সরকার। 

৩১৬ কোটি রুপি সীমান্ত রক্ষায় গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেল পশ্চিমবঙ্গই। যা জম্মু-কাশ্মীর, রাজস্থান, অসমের মতো স্পর্শকাতর সীমান্তর থেকে বেশী বরাদ্দ। 

সংসদ ভবনে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নেওয়া হচ্ছে একাধিক পদক্ষেপ। বাড়ানো হচ্ছে পোস্ট ও নাকা চেকিং-এর সংখ্যা। এছাড়া উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও নাইট ভিশনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি এলাকা চিহ্নিতকরণও করা হয়েছে। 

এছাড়া ওই মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতে গণতান্ত্রিক সরকার ফেলে সেখানে শরিয়া প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করছে জেএমবি। সেজন্য রাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় গোপন আস্তানা তৈরি করেছে তারা। পশ্চিমবঙ্গে হদিশ মিলেছে একাধিক নিষিদ্ধ মাদরাসার, যেখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হত জঙ্গিদের।

তৃতীয় বিয়ের ইচ্ছেই কাল হল ভারতের ধোসার স্রষ্টার

তৃতীয় বিয়ের ইচ্ছেই কাল হল ভারতের ধোসার স্রষ্টার
ধোসার স্রষ্টা পি রাজা গোপাল, ছবি: সংগৃহীত

একেবারে গরিব পরিবার বলতে যা বোঝায়, সেই পরিবারের ছেলে ছিলেন ধোসার স্রষ্টা অর্থাৎ পি রাজা গোপাল। নিবাসের জন্ম তামিলনাড়ুর একটি অখ্যাত গ্রামে। বাবা ছিলেন পেঁয়াজের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এমন একটা সময় গিয়েছে রাজা গোপালের জীবনে, যেখানে অন্যের ছেঁড়া জামাকাপড়ই ছিল মহার্ঘ বস্তুর সমান। সেই রাজা গোপালই একদিন চমকে দিয়েছিলেন খাদ্য রসিকদের। বিশ্বজুড়ে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়েছিল ধোসা কিং বা ধোসা মাস্টার নামে। নিজের গ্রামেই গড়ে তুলেছিলেন সারাভানা ভবন। যে ভবনে খাদ্যের সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রাজাগোপাল। তাঁর ধোসা সম্রাট হয়ে ওঠার কাহিনীও অনেকটা রূপকথার মতোই।

সময়টা ১৯৮১ সাল। আজকের চেন্নাই অর্থাৎ তৎকালীন মাদ্রাসে একটি ছোট্ট মুদির দোকান খুলে বসেন রাজাগোপাল। কিছুদিন পর দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিয়ে মুদির দোকান পরিবর্তন করে খুলে ফেললেন একটি রেস্তরাঁ। সেখানে দক্ষিণ ভারতীয় খাবার তৈরিতে রাজা গোপালের চলতো নিত্যনতুন পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ।

এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে একে একে তাঁর ফর্মুলাতেই তৈরি হতে থাকল ধোসা, ইডলি ও বড়া। স্বাদে অতুলনীয় এবং দাম কম অর্থাৎ গরিব মানুষের নাগালের মধ্যে। অল্প কয়েকদিনের জনপ্রিয় হয়ে উঠল রাজাগোপালের সেই রেস্তরাঁ। তাঁর হাত ধরে দক্ষিণ ভারতীয় খাদ্যাভাসে ঢুকে পড়ল ইডলি, ধোসা। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি রাজা গোপালকে। এরপরই তিনি ঢুকে পড়লেন চেন রেস্তরাঁর ব্যবসায়। সমগ্র ভারত ছাড়িয়ে পড়ল তার রেস্তরাঁ সাম্রাজ্যের গল্প। সবমিলিয়ে এই মুহূর্তে ৮০টি রেস্তরাঁ ছড়িয়ে রয়েছে দেশে ও বিদেশে।

এরপরই চেন্নাইয়ে রাজাগোপাল গড়ে তুললেন ‘সারাভানা ভবন’। গরিব, মধ্যবিত্তের কাছে সারাভানা ছিল অত্যন্ত পছন্দের। তাঁদের আতিথেয়তায় কোনো কার্পণ্য করতেন না রাজা গোপাল। কর্মীদের সঙ্গেও তাঁর ছিল অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক। তাঁদের জীবন স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখার সবরকম চেষ্টা চালাতেন তিনি। কর্মীরা তাঁকে ডাকতেন আন্নাচি (বড়দাদা) বলে।

সেই রাজাগোপাল চরম বিপাকে পড়লেন তৃতীয় বিয়ে করার তীব্র বাসনায়। তাঁরই রেস্তরাঁর এক নারীকর্মীকে বিয়ে করতে চাইলেন তিনি। সেই নারী ছিলেন আবার বিবাহিত। ওই নারীকে অন্ধভাবে ভালোবাসতেন রাজা গোপাল। কিন্তু,  স্বামী-সংসার ছেড়ে রাজা গোপালকে বিয়ে করতে চাননি। সবসময় এড়িয়ে চলতেন। সেটা মানতে পারতেন না ধোসা কিং। ২০০০ সালে ওই নারীর সান্নিধ্য পেতে রাজা গোপাল উদভ্রান্ত হয়েছিলেন। ওই পরিবারকে ভীতি প্রদর্শন করা শুরু করলেন। তাতেও কাজ না হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলেন। ২০০১ সালে ওই নারীকে কাছে পেতে তার স্বামীকে পি রাজাগোপালই খুন করিয়েছিলেন। খুনের মামলায় ২০০৪ সালে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরে রাজাগোপালের যাবজ্জীবনের সাজা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল নিহতের পরিবার। আবেদন গ্রাহ্য করেন শীর্ষ আদালত। তাকে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করেন আদালত। আর চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে আদালতে রাজা গোপালকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

গোটা জীবনে একটাই মাত্র ভুল সিদ্ধান্ত। আর তাতেই বৈভবের শিখর থেকে সোজা জেলের কুঠুরিতে। অদ্ভুত পতন ভারতের ধোসা কিং পি রাজা গোপালের। ফকির থেকে রাজা আবার রাজা থেকে ফকির। পিছনে পড়ে রইল চেন রেস্তরাঁর সাম্রাজ্যপাট। বাকি জীবনটা জেলেই কাটাতে হবে ৭১ বছরের পি রাজা গোপালকে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র