Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ফারুকী হত্যায় সরাসরি জড়িত জঙ্গি হাদিসুর রহমান সাগর

ফারুকী হত্যায় সরাসরি জড়িত জঙ্গি হাদিসুর রহমান সাগর
মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী ও জঙ্গি হাদিসুর রহমান সাগর।
শাহরিয়ার হাসান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

 

ঢাকা: চ্যানেল আইয়ের কাফেলা অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ৯ জঙ্গির সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। হত্যাকাণ্ডের তথ্যসহ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে জেএমবির শীর্ষ নেতা হাদিসুর রহমান সাগর। ইসলামের অপব্যাখ্যা দেওয়ার অপরাধে ফারুকীকে হত্যা করা হয় বলে জানায় নব্য জেএমবির এই শীর্ষ নেতা। 

হাদিসুর রহমান সাগরের জবানবন্দিতে দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা এই হত্যাকাণ্ডের জট খুলে গেছে। মূলত এ বছরই মামলাটি সিআইডিতে আসে, তার আগে দীর্ঘ দিন মামলার তদন্তের ভার ছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপর।

সিআইডি সূত্র বলছে, হাদিসুর রহমান সাগর গ্রেফতারের আগে পর্যন্ত ফারুকী হত্যা মামলা পুরোটা অন্ধকারে ছিল। সাগরকে গ্রেফতারের পর সিআইডি ফারুকী হত্যা সম্পর্কে জানতে আদালতের কাছে তার রিমান্ড আবেদন করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে এক পর্যায়ে হত্যা সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য দেন সাগর। পাশাপাশি তার  নিজের  সম্পৃক্ততাও স্বীকার করে নেন। সর্বশেষ তা আদালতে জবানবন্দি দেন এই জঙ্গি নেতা।

সিআইডি সূত্রে আরও জানা যায়, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হাদিসুর রহমান সাগর বলেন, ফারুকী হত্যায় তাদের মোট দুটি টিম অংশ নেয়। তাসনিমের নেতৃত্ব একটি টিম ফারুকীর বাসায় ঢুকে হত্যাকাণ্ড চালায়। আরেকটি টিম হাদিসুর রহমান সাগরের নেতৃত্বে ব্যাকআপ টিম হিসেবে বাসার নিচে দাঁড়িয়ে থাকে। তবে সব মিলে এ ঘটনায়  ৯ জন জঙ্গি ছিল বলে সাগর জানায়।

হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া এই  ৯ জঙ্গি হলেন, জঙ্গি শীর্ষ নেতা  হাদিসুর রহমান সাগর, জঙ্গি শীর্ষ নেতা সারোয়ার জাহান মানিক,  তাসনিম, আনোয়ার হোসেন ওরফে জামাই ফারুক, রজব, ইমন, রফিক, নাইম ও আশফাক।

এই জঙ্গিদের সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছে জানতে গিয়ে জানা যায়,  গত ২২ মার্চ রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে নব্য জেএমবির শীর্ষ দুই জঙ্গি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর ও আকরাম হোসেন নিলয়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাদেরকে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) কাছে হস্তান্তর করেন।

সে সময় সিটিটিসি থেকে জানা যায়, হাদিসুর রহমান সাগর পুরনো জেএমবির সদস্য। তিনি গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার ঘটনায় অন্যতম সন্দেহভাজন পলাতক আসামি ছিলেন। পুলিশের  অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সাগর ওই হামলার ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ করেছিল। জেএমবিতে বোমা তৈরির কারিগর হিসেবেও সাগরের বেশ পরিচিতি আছে।

অন্যদিকে র‍্যাব সদরদফতর থেকে জানা যায়, ৮ অক্টোবর  ২০১৬ তে  র‌্যাবের অভিযানের মুখে পালাতে গিয়ে নিহত হন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন (জেএমবি) সারোয়ার তামিম গ্রুপের তৎকালীন আমির এই হত্যাকাণ্ডের অন্য সহযোগি সারোয়ার জাহান মানিক। অন্য জঙ্গি জামাই ফারুক গত বছর ভারতে গ্রেফতার হয়েছে। সাগর ও তাসনিম রয়েছে কারাগারে। বাকিদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই।

৪ বছর আগে ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাতে ১৭৪/পূর্ব রাজাবাজারে নিজ বাসায় ঢুকে স্ত্রী ও স্বজনদের আটকে রেখে, নুরুল ইসলাম ফারুকীকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

ফারুকী সুন্নী মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বাংলাদেশের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া মৃত্যুর আগ পর্যন্তও তিনি হাইকোর্ট মাজার মসজিদের খতিব ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম

কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম
কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম, ছবি: সংগৃহীত

কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ে গঠিত আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম।

২ আগস্ট, শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ২০১৭, ১৮ ও ১৯ সালের পরীক্ষায় মুমতাজ (স্টারমার্ক) বিভাগে উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা উপলক্ষে মতবিনিময় সভারও আয়োজন করেছে সংগঠনটি । অনুষ্ঠানে বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, শিক্ষক ও ইসলামি চিন্তাবিদরা উপস্থিত থাকবেন।

উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে 01674609982, 01670269028 এই নম্বরে নাম তালিকাভুক্তির জন্য যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

কওমি ফোরাম দেশের প্রতিনিধিত্বশীল আলেমদের নিয়ে একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম গঠনের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন- মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আউয়ুবি, মাওলানা হাসান জামিল, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান, মাওলানা গাজী ইয়াকুব, মুফতি এনায়েতুল্লাহ ও মুফতি মুর্তজা হাসান ফয়েজি মাসুম ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী আলেমদের উপস্থিতিতে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ‘আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন ‘কওমি মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদান বিল ২০১৮’ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হয়। ৮ অক্টোবর এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হয়।

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ
আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়, ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে আরও ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট কিংবা প্রতিস্থাপনের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২২ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল্লাহ আরিফ মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের কথা জানানো হয়েছে।

হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের জন্য ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে হজ অফিসের পরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে এবং তা অনলাইনে নিশ্চিত করতে হবে। এজেন্সির নিজস্ব প্যাডে লিখিত আবেদনে হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সুপারিশ থাকতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপনযোগ্য হজযাত্রীর গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুজনিত কারণে হজপালন করতে পারবেন না মর্মে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রী অথবা মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর লিখিত আবেদন এবং উপযুক্ত চিকিৎসকের সনদ দাখিল করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি দেখতে ক্লিক করুন

প্রতিস্থাপন প্রাপ্তির জন্য এজেন্সির পক্ষ থেকে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হচ্ছে না মর্মে তিনশ’ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে। হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে জাতীয় হজ ও ওমরা নীতি-২০১৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হজ নীতিমালায় ৫ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয় বিশেষ সার্কুলার জারি করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দিয়ে থাকে। চলতি বছর দুই দফায় ৫ শতাংশ করে ১০ শতাংশ হারে রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এবার আরও ৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দেওয়া হলো।

হজযাত্রার জন্য প্রাক-নিবন্ধনের পর মৃত্যু ও অসুস্থতাসহ নানা কারণে যারা হজপালনে সৌদি আরব যেতে পারেন না, তাদের পরিবর্তে অন্যদের হজপালনের সুযোগকে রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন বলে। সৌদি দূতাবাস কর্তৃক হজ ভিসা দেওয়া বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্লাইট চালু সাপেক্ষে যাত্রীদের রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র