Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সেই মাসুদ এখন ব্যস্ত হাজিদের খেদমতে

সেই মাসুদ এখন ব্যস্ত হাজিদের খেদমতে
আবুল কালাম মো: মাসুদ। ছবি: বার্তা২৪
জাহিদুর রহমান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট


  • Font increase
  • Font Decrease

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: একটা সময় পথে পথে ঘুরে হাজিদের হোটেলে তুলে দিতেন নোয়াখালীর আবুল কালাম মো: মাসুদ (৪৬)। বিনিময়ে পেতেন ১০ থেকে ২০ টাকা। সেই মানুষটি এখন পবিত্র মক্কা নগরীর ২৫ টি হোটেলের অংশীদার।

এসব হোটেলে থাকা দেশ- বিদেশের ১৫ হাজার হাজির যাতায়াত, থাকা খাওয়াসহ সকল সুযোগ সুবিধা পরিচালিত হয় তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠিত দুটি কোম্পানির অধীনে।

চেষ্টা আর পরিশ্রম করলে যে জীবনে কেবল সফলতাই নয়, বেশ ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়, তার জলন্ত উদাহরণ মাসুদ। এখন তার অধীনেই সৌদিতে কাজ করে ২০০ অধিক বাংলাদেশি।

হোটেল ব্যবসার সুবাদে দেশে-বিদেশে এখন অনেকেই চেনে মাসুদকে। যেমন নেপাল,মালদ্বীপ,মরিশাস থেকে আসা সকল হাজিদের সেবার ভার মাসুদের কোম্পানির। আর দেশ থেকে আসা মন্ত্রী থেকে শুরু করে ভিভিআইপি অনেকেই নাম মাসুদের ঠোঁটের ডগায়।

মাসুদ বলেন, এটা আমার অর্জন। আমি ব্যবসা করি যতটা না তার চেয়ে হাজিদের জন্য খেদমত করি বেশি। যে কারণে সাধারণ মানুষ থেকে ভিভিআইপি হাজিদের অনেকেই আমাকে পছন্দ করেন।

যেমন ধরুন, এ বার রাজশাহী থেকে আসা একজন হাজি সাহেব আমার জন্যে এক মন আম নিয়ে এসেছেন। এটা কিন্তু কেনা যাবে না।এটার মূল্য পরিশোধও করা যাবে না। মানুষ আমাকে ভালোবাসে- এটাই দিন শেষে আমার প্রাপ্তি "- বলেন তিনি।

নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার ছয়আনি গ্রামের সন্তান আবুল কালাম মো: মাসুদ। ভাগ্য অন্বেষণে ১৯৯০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পাড়ি দেন মধ্য প্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরবে।

বাবা মো: রফিক উল্লাহ চেয়ারম্যান। দুই ভাই তিন বোনের মধ্যে মাসুদ দ্বিতীয়। এ দেশে এসেছিলেন ফ্রি ভিসায়। ফ্রি ভিসা হচ্ছে স্বাধীনভাবে যে কোন কাজ করার সুযোগ। আড়াই মাসের মতো বিন লাদের কোম্পানিতে কাজ করেছেন নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে।

শেষের ১৫ দিন কাজ করেছেন পবিত্র কাবাঘর সংলগ্ন মসজিদ আল হারামের সম্প্রসারণ প্রকল্পে।

এই কাজের পাশাপাশি মক্বায় আসা দেশী-বিদেশী হাজীদের হোটেল খুঁজে দিতেন। বিনিময়ে হাজীরাও ১০ /২০ রিয়েল বখশিস দিতেন। পাশাপাশি হোটেল মালিকরাও কমিশন হিসেবে কিছু অর্থ দিতেন।

"কোন কোন দিন এভাবে ১ হাজার রিয়ালও পেতাম। আর ৫‘শ রিয়াল কামাই না হলে ঘরেই ফিরতাম না"- অতীতের সংগ্রামের দিনগুলোতে ফিরে যান মাসুদ।

" মনে হলো এভাবে হাজী টোকানোর ( সংগ্রহ) কাজ না করে নিজেই হোটেল ব্যবসা করলে কেমন হয়! টাকা জমানো শুরু হলো। একজনকে সঙ্গে নিয়ে ৩৫ হাজার রিয়াল চুক্তিতে একটি বাড়ি ভাড়া নিলাম। অগ্রীম দিলাম ২০ হাজার রিয়াল। সেখান থেকে লাভ হলো ৪৫ হাজার রিয়াল।

এখানকার হিসেবে ডলার প্রতি সাড়ে ২২ টাকা হিসেবে ১০ লাখ টাকা। তখন অবশ্য টাকার দাম ছিলো আরো বেশি।

তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এভাবে ব্যবসা বাড়তে থাকায় অংশীদার নিয়ে নিজেই দেশে খুলে ফেলেন খেদমত ট্রাভেল লি: নামের হজ এজেন্সি।

প্রথম বছর লোকশান হলেও সমস্যা হয়নি। কারণ লাভটা হয়েছে পরকালের। হাজীদের যেভাবে সেবা দিয়েছি,তাদের সন্তুষ্টিই ছিলো আসল মুনাফা। পরের দু'বছর এ ব্যবসাটাও দাঁড়িয়ে যায়।

আসলে দেশে এসব ব্যবসার লাভ ক্ষতির অতীতে হিসেব নেয়াও হয় না। কারণ এখানকার ব্যবসা পরিচালনাতেই বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। এবারের হজ মওসুমে বাংলাদেশ হজ মিশনকেও তিনটি বাড়ি ভাড়া দিয়েছেন মাসুদ।

মাসুদের এ সাফল্যের পেছনে একদিকে যেমন রয়েছে টিকে থাকার সংগ্রাম।অন্যদিকে কঠোর পরিশ্রম।

"যেমন আমার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার নিয়োগ কর্তা ( কফিল) মুসাত সাদ আল মাসউদী একদিন আমাকে নিয়ে গেলো জেদ্দা এয়ারপোর্টে। জানালো, একজনকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্যে আমাকে সঙ্গে নিয়েছে সে। তবে হঠাৎ করেই আমার মনে জানান দিলো যে, সে আমাকে দেশে পাঠানোর চূড়ান্ত বন্দোবস্ত করেছেন। বিষয়টি টের পেয়েই আমি টয়লেটে যাবার কথা বলে পালিয়ে আসি।

তারপর মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেও মানুষের ভালোবাসা আজ আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। এক পর্যায়ে আমার কাছে সেই নিয়োগকর্তা ক্ষমাও চান।জীবন আর মানুষের জটিলতা তখন থেকেই চেনা- বলেন মাসুদ।

হামজা রশীদ আহমদ আমীর নামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন নিয়োগ কর্তার অধীনে পরে এ দেশেই ডারকুম হোটেল ও মাশারাত কিংডম হোটেল নামে পৃথক দুটি কোম্পানি খুলে সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন দুশয়ের বেশি বাংলাদেশীকে।

এ ছাড়াও বিন আমীর কেটারিং ও হোটেল নামে পৃথক আরেকটি কোম্পানি খুলেছেন তিনি।

দেশেও জমি কিনেছেন।লালমাটিয়ায় দুটিসহ রাজধানীতে চারটি বহুতল বাড়ি ছাড়াও দেশে বিভিন্ন সেক্টরে তার রয়েছে বিপুল বিনিয়োগ।

এ বছর মাসুদের হজ এজেন্সির অধীনে দেশ থেকে ৮০ জন নারীসহ ২২৩ জন হাজি এসেছেন মক্কায়। তাদের পেছনেই দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেন মাসুদ।

কে কখন কাবাঘর তাওয়াফ করতে যাবে। কখন গাড়ি আসবে। কার লাগেজ এখনো হাতে পৌঁছেনি,কার কি খাবার পছন্দ, এর বাইরে হাজিদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতেও  ক্লান্ত বোধ করেন না তিনি।

এত ব্যবসা ছেড়ে এখানে কেন?

আমার প্রতিষ্ঠান থেকে হাজি সাহেবরা এসেছেন। তাদের একটু বাড়তি সুযোগ সুবিধা আর দেখভাল করার দায়িত্ব আমার। এভাবেই মানুষের খেদমতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই- জানান আবুল কালাম মো: মাসুদ।

আপনার মতামত লিখুন :

কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম

কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম
কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম, ছবি: সংগৃহীত

কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ে গঠিত আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম।

২ আগস্ট, শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ২০১৭, ১৮ ও ১৯ সালের পরীক্ষায় মুমতাজ (স্টারমার্ক) বিভাগে উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা উপলক্ষে মতবিনিময় সভারও আয়োজন করেছে সংগঠনটি । অনুষ্ঠানে বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, শিক্ষক ও ইসলামি চিন্তাবিদরা উপস্থিত থাকবেন।

উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে 01674609982, 01670269028 এই নম্বরে নাম তালিকাভুক্তির জন্য যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

কওমি ফোরাম দেশের প্রতিনিধিত্বশীল আলেমদের নিয়ে একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম গঠনের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন- মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আউয়ুবি, মাওলানা হাসান জামিল, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান, মাওলানা গাজী ইয়াকুব, মুফতি এনায়েতুল্লাহ ও মুফতি মুর্তজা হাসান ফয়েজি মাসুম ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী আলেমদের উপস্থিতিতে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ‘আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন ‘কওমি মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদান বিল ২০১৮’ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হয়। ৮ অক্টোবর এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হয়।

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ
আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়, ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে আরও ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট কিংবা প্রতিস্থাপনের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২২ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল্লাহ আরিফ মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের কথা জানানো হয়েছে।

হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের জন্য ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে হজ অফিসের পরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে এবং তা অনলাইনে নিশ্চিত করতে হবে। এজেন্সির নিজস্ব প্যাডে লিখিত আবেদনে হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সুপারিশ থাকতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপনযোগ্য হজযাত্রীর গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুজনিত কারণে হজপালন করতে পারবেন না মর্মে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রী অথবা মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর লিখিত আবেদন এবং উপযুক্ত চিকিৎসকের সনদ দাখিল করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি দেখতে ক্লিক করুন

প্রতিস্থাপন প্রাপ্তির জন্য এজেন্সির পক্ষ থেকে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হচ্ছে না মর্মে তিনশ’ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে। হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে জাতীয় হজ ও ওমরা নীতি-২০১৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হজ নীতিমালায় ৫ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয় বিশেষ সার্কুলার জারি করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দিয়ে থাকে। চলতি বছর দুই দফায় ৫ শতাংশ করে ১০ শতাংশ হারে রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এবার আরও ৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দেওয়া হলো।

হজযাত্রার জন্য প্রাক-নিবন্ধনের পর মৃত্যু ও অসুস্থতাসহ নানা কারণে যারা হজপালনে সৌদি আরব যেতে পারেন না, তাদের পরিবর্তে অন্যদের হজপালনের সুযোগকে রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন বলে। সৌদি দূতাবাস কর্তৃক হজ ভিসা দেওয়া বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্লাইট চালু সাপেক্ষে যাত্রীদের রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র