Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

কোরবানির গোশতের সামাজিক বণ্টন নিয়ে কিছু কথা

কোরবানির গোশতের সামাজিক বণ্টন নিয়ে কিছু কথা
কোরবানির গোশত মুসলিম সমাজে বিলি-বণ্টন করা ঐতিহ্যবাহী রেওয়াজ, ছবি: সংগৃহীত
মুফতি মাহফূযুল হক
অতিথি লেখক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

কোরবানির গোশত কোরবানিদাতার ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিলি-বণ্টন করা ঐতিহ্যবাহী রেওয়াজ। ইসলামের শুরু থেকেই এভাবে চলে আসছে। সামাজিকভাবে সমাজপতিদের নেতৃত্বে কোরবানির গোশত বণ্টনের কোনো দৃষ্টান্ত অনুসরণীয় প্রথম তিন যুগে পাওয়া যায় না। তার পরও নতুন চালু হওয়া এ সামাজিক বণ্টন প্রথা বেশদ্রুত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে।

প্রচলিত সামাজিক বণ্টনের ধরণ, স্থানভেদে সামান্য ভিন্নতার সঙ্গে অনেকটাই এমন- প্রত্যেক কোরবানিদাতা তার কোরবানির গোশতের এক তৃতীয়াংশ মসজিদে দিয়ে আসেন। মসজিদ কমিটির নেতৃত্বে সবার জমাকৃত গোশত সমাজের সবার মাঝে সমান করে বণ্টন করা হয়।

এ পদ্ধতির একটাই মাত্র সুবিধা, তা হলো- কোরবানিদাতার বাড়িতে ভিক্ষুকদের ভিড় থাকে না এবং কোরবানিদাতাকে গোশতের ব্যাগ নিয়ে বাড়ি বাড়ি যেতে হয় না। এ সুবিধার কারণেই মূলত কোরবানিদাতাদের অনেকেই এ পদ্ধতিকে পছন্দ করে থাকেন। কিন্তু এ পদ্ধতির বেশ কিছু শরয়ি সমস্যা রয়েছে। সেগুলোর অন্যতম হলো-

১. ইসলামের প্রথম তিন যুগের অনুসৃত পদ্ধতি বদলে যাচ্ছে।
২. কোরবানি একটি ব্যক্তিগত ইবাদত, দলবদ্ধ ইবাদত নয়। কিন্তু প্রচলিত গোশত বণ্টন পদ্ধতির জেরে কোরবানি দলবদ্ধ ইবাদতের রূপ পরিগ্রহ করছে।

৩. কোরবানির গোশত আদৌ বিতরণ করা হবে কি-না, বিতরণ করা হলে কতটুকু অংশ বিতরণ করা হবে তা সম্পূর্ণ কোরবানিদাতার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। শরিয়ত তাকে কোনো কিছুতেই বাধ্য করেনি। কিন্তু প্রচলিত সামাজিক বণ্টন পদ্ধতিতে সমাজপতিরা কোরবানিদাতার এ ঐচ্ছিক অধিকার হরণ করে। গোশতের নির্ধারিত একটি অংশ সামাজের জন্য দিতে তাকে বাধ্য করা হয়। কোথাও কোথাও তো গোশত না দিলে সমাজচ্যুত করার হুমকিও দেওয়া হয়। আবার কোথাও জোরাল কোনো হুমকি না থাকলে সমাজের লোকদের বাঁকাদৃষ্টি ও তীর্যক মন্তব্যের ভয়ে সমাজপতিদের নির্ধারিত অংশ দিতে কোরবানিদাতা বাধ্যবাধকতা অনুভব করেন। যা আল্লাহতায়ালা বাধ্য করেননি, আল্লাহ যা ঐচ্ছিক রেখেছেন সমাজ ও সমাজপতিরা তা বাধ্য করার অধিকার কিভাবে পায়?

৪. মসজিদের মাসিক চাঁদা, মুষ্ঠির চাল না দিলে কোরবানির গোশতের ভাগ না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। অপরদিকে যারা মসজিদের মাসিক চাঁদা, মুষ্ঠির চাল ইত্যাদি দিয়ে আসছেন তারা এ সূত্র ধরে গোশতের ভাগকে নিজের প্রাপ্য অধিকার জ্ঞান করে।
দ্বি-পাক্ষিক বস্তু আদান-প্রদানে যখন একটি অপরটির ওপর নির্ভরশীল থাকে- তখন স্পষ্টই তা বেচাকেনা। অতএব, প্রচলিত সামাজিক বণ্টনে সারা বছরের মাসিক চাঁদা ও মুষ্ঠির চালের বিনিময়ে কোরবানির গোশত বিক্রি করা হচ্ছে।
অথচ এ মাসয়ালা সবাই জানে যে, কোরবানির গোশত বিক্রি করা নাজায়েয। না জেনে বিক্রি করে থাকলে তার মূল্য অথবা সেই পরিমাণ গোশত কোরবানির বাইরে থেকে গরিবদের মাঝে দান করা ওয়াজিব।

৫. অন্য সমাজের মসজিদে নামাজ পড়লে কোরবানির গোশতের ভাগ না দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় কোথাও কোথাও।
অথচ কোরবানির গোশত প্রদানে ইসলাম কোনো শর্ত রাখেনি। এমনকি অমুসলিমদেরও কোরবানির গোশত দেওয়ার অনুমতি ইসলামে আছে। ইসলাম যা নিঃশর্তে প্রদান করতে বলেছে, তা প্রদানের জন্য নিজেদের মসজিদে নামাজ পড়ার শর্ত দেওয়ার অধিকার সমাজপতিরা কোথায় পায়?

৬. প্রচলিত বণ্টন পদ্ধতিতে সমাজের সবাইকে গোশতের ভাগ দেওয়া হয়। যারা কোরবানি করেনি তাদেরকে দেওয়া হয়, আবার যারা কোরবানি করেছেন তাদেরও দেওয়া হয়। ফল দাঁড়াচ্ছে, সমাজের জন্য গোশত দিয়ে দেওয়ার পর তার কিছু অংশ কোরবানি দাতারা ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
দেওয়ার পর ফিরিয়ে নেওয়া একটি ঘৃণিত কাজ, নিকৃষ্ট স্বভাব। হাদিসে এর উপমা দেওয়া হয়েছে নিজের বমি নিজেই খাওয়া। সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘দেওয়ার পর ফিরিয়ে নেওয়া কোনো মানুষের জন্য হালাল নয়। এর দৃষ্টান্ত হলো- কুকুরের মতো। কুকুরের যখন খেতে খেতে তৃপ্তি মিটে যায়, তখন সে বমি করে। কিছুক্ষণ পরে নিজেই আবার নিজের সেই বমি চেটে চেটে খায়।’ -মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ২২১৩১

৭. যদিও কোরবানির গোশত বিলি করা ওয়াজিব না, সবটুকু গোশত নিজের পরিবারের লোকদের খাওয়ানো জায়েয আছে কিন্তু মুস্তাহাব হলো তিন ভাগের দুই ভাগ বিলি করা। এক ভাগ গরিবদের মাঝে বিলি করা, আরেক ভাগ আত্মীয়, পড়শি ও বন্ধুদের মাঝে বিলি করা।
প্রচলিত সামাজিক বণ্টনে যারা কোরবানির গোশত জমা দেয় তারা কিন্তু গরিবের ভাগটাই এখানে জমা দেয়। যার জন্য বাড়িতে কোনো গরিব, মিসকিন, ভিক্ষুক আসলে তাদের সোজা বলে দেয়, গরিবের ভাগ মসজিদে দিয়ে দিছি। অথচ মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও সমাজপতিরা কোরবানির গোশতের এ গরিবের ভাগ সমাজের ধনি, গরিব, স্বচ্ছল, অস্বচ্ছল নির্বিশেষে সবাইকে দেয়। এটা চরম লজ্জাকর একটি কাজ।

৮. সাধারণত প্রান্তিক গ্রামাঞ্চলে অনেক পাড়া, মহল্লা এমন থাকে যেখানের কেউই কোরবানি দেয় না। মহল্লাবাসী সবাই দরিদ্র, দিনমজুর। কিন্তু পাশের মহল্লায়, গ্রামে অনেকেই কোরবানি দেয়।
আগে এ ধরণের পাড়ার দরিদ্ররা কোরবানির দিন আশ-পাশের পাড়া-মহল্লার কোরবানিদাতাদের বাড়িতে যেত। সবার থেকে কিছু কিছু গোশত পেত। যাতে তাদের দু’এক দিন অনায়েসেই চলে যেত। তৃপ্ত করে গোশত খেত।
কিন্তু সামাজিক বণ্টন প্রথার রেওয়াজ তাদের গোশত খাওয়ার এ সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এখন তারা পাশের মহল্লার কোরবানিদাতাদের বাড়িতে গেলে গোশত পায় না। কোরবানিদাতা উত্তর দেয়, গরিবের ভাগ মসজিদে দিছি। তোমরা মসজিদে যাও। আর মসজিদে গেলে সমাজপতিরা তাদের উত্তর দেয়, খাতায় তোমার নাম নেই। তুমি এ সমাজের না। তোমাকে আমরা গোশত দিতে পারব না।

বাড়ি থেকে গোশত বিলি করার অসুবিধার কারণে যদি একান্তই দলবদ্ধভাবে গোশত বিলি করার উদ্যোগ নিতে হয় তবে নিম্নলিখিত শর্তগুলো নিশ্চিত করতে হবে। যথা-

১. গোশত বিতরণে এ দিকে আদৌ ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না যে, কে মসজিদে চাঁদা দেয় আর কে দেয় না। মসজিদ বা কোনো প্রতিষ্ঠানের দানের সঙ্গে কোরবানির গোশতকে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত করা যাবে না।

২. সামাজিক সীমানাকে গুরুত্ব দেওয়া যাবে না।

৩. সামাজিক আয়োজনে গোশত জমা দিতে বা গোশতের নির্দিষ্ট পরিমাণ জমা দিতে কোরবানিদাতাদের বাধ্য করা যাবে না। এমনকি কোনো কোরবানিদাতা সমাজে গোশত জমা না দিয়ে নিজে ব্যক্তিগতভাবে গরিবদের মাঝে বিলি করলে তার সমালোচনা করা যাবে না, তার নিন্দা করা যাবে না, তাকে সমাজচ্যুত করা যাবে না। গোশত জমাদানকে সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক রাখতে হবে।

৪. গোশতের ভাগ বিতরণের জন্য মুসলমান, নামাজি, পরহেজগার ইত্যাদি কোনো শর্তারোপ করা যাবে না।

৫. যারা কোরবানি দিয়েছে এবং যারা সমাজে ধনি হিসেবে খ্যাত তাদেরকে সম্মিলিত গোশতের ভাগ দেওয়া যাবে না।
সমাজের কোরবানিদাতাদের এবং ধনিদের গোশত দিতে হলে বাড়িতে কোরবানি দাতারা তিনের যে দু’ভাগ গোশত রেখে দিয়েছে তার দ্বিতীয় ভাগ থেকে নিজ উদ্যোগে দিবে। কেননা, এ দ্বিতীয় ভাগ আত্মীয়, পড়শি ও বন্ধুদের জন্য।

৬. সামজের বাইরের ভাসমান দরিদ্রদের জন্য এবং অন্যান্য দরিদ্র সমাজগুলোর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য গোশতের বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
এটা দু’ভাবে হতে পারে। হয়তো কোরবানিদাতারা গোশতের একটা অংশ বাড়িতে রেখে দিবে। সমাজের বাইরে থেকে আগত ভিক্ষুকদের মাঝে নিজ হাতে দিবে। অথবা হয়তো দলবদ্ধ গোশত নিজ সমাজের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টনের আগেই উল্লেখযোগ্য একটা অংশ আলাদা করে ফেলবে। যা নিজ সমাজের বাইরের গরিবদের মাঝে ও দূরদূরান্ত থেকে আগত ভিক্ষুকদের মাঝে বিতরণ করবে।

পরিশেষে বলব, ইসলাম যা ব্যক্তিগত রেখেছে তা ব্যক্তিগত রাখাই অধিকতর কল্যাণকর। তাকে দলবদ্ধ বা সমাজবদ্ধ রূপ দেওয়া অনুচিত। তাই কোরবানির গোশত বিতরণে সামাজিক বণ্টনের দিকে পারতপক্ষে না যাওয়াই শ্রেয়। আর সে দিকে যেতে হলে উদ্ভুত শরয়ি সমস্যাগুলোর সুষ্ঠু সমাধান করে, সকল শর্ত যথাযথভাবে পালন করে তবেই সামাজিক বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া। কেননা, সামাজিক বণ্টনের প্রচলিত ধরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আপনার মতামত লিখুন :

আগামীতে হজ কার্যক্রম আরও সহজ করা হবে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

আগামীতে হজ কার্যক্রম আরও সহজ করা হবে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
সবার মাঝে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: এবারের হজের ভুল-ক্রটি সংশোধন করে আগামীতে হজ কার্যক্রম আরও সহজ করা হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাতে মক্কায় সৌদি সরকারের দক্ষিণ এশিয়া হজ সেবা সংস্থা মোয়াসসাসার সঙ্গে হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর মতবিনিময় ও নৈশভোজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আগামীতে হাজিদের আরও সুবিধা নিশ্চিতের জন্য বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত হাবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দেশে ফিরে আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে। কোনো অবস্থাতেই হাজিদের কষ্ট হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।'

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোয়াসসাসা চেয়ারম্যান ড. রাফাত ইসমাইল বদর। তিনি বাংলাদেশি হাজিদের সুবিধায় সৌদি আরব সরকারের নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'হাজিদের সুবিধা দেওয়ার ধারা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে আরও সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। হাজিদের আল্লাহর মেহমান উল্লেখ করে ড. রাফাত বলেন, ই-ভিসা সিস্টেম ও মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের মতো সুযোগ-সুবিধা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, এটা নিয়ে কাজ চলছে।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566052174957.jpg

হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সভাপতি এম শাহাদত হোসাইন তসলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় হজ এজেন্সিগুলোর মালিক, প্রতিনিধি ও ধর্মীয় পরামর্শক হিসেবে হজে আসা বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলেম-উলামারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মোয়াসসাসার ডিরেক্টর জেনারেল ওমর সিরাজ আকবর নিজেকে বাংলাদেশি বলে উল্লেখ করে বলেন, 'আমি গর্ববোধ করি বাংলাদেশি হাজিদের সেবা দিতে পেরে।'

সৌদি আরব ধর্ম মন্ত্রণালয়ের (দক্ষিণ এশিয়া) জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুল আজিজ ফাহাদ রাহমা, হাব মহাসচিব ফারুক আহমদ সরদারসহ হাব নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে হাবের পক্ষ থেকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও মোয়াসসারার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবে পৌঁছার পর বিমান বন্দর থেকে হোটেল, হোটেল থেকে হজের আনুষ্ঠানিকতার জায়গা মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা ও কংকর নিক্ষেপের স্থান জামারার হাজিদের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করে মোয়াসসাসা অফিস। মোয়াসসাসার অধীনে প্রায় শতাধিক মুয়াল্লিম রয়েছে। এই মুয়াল্লিমদের মাধ্যমে সৌদি আরবে হাজিদের বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়।

একসঙ্গে ৫৮ জনের জানাজা!

একসঙ্গে ৫৮ জনের জানাজা!
জানাজার নামাজের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: শুক্রবার (১৬ আগস্ট) মসজিদে হারামে ফজরের নামাজের পর দুইবারে ৫৮ জনের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদে হারামের এত সংখ্যক মানুষের নামাজে জানাজা একসঙ্গে আদায়ের ঘটনা আর ঘটেনি। ৫৮ জনের মধ্যে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন হাজি রয়েছেন।

মসজিদে হারামে প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজ শেষে ‘আস সালাতু আলাল আমওয়াতি ইয়ারহামু কুমুল্লাহ', অথবা 'আস সালাতু আলাল আমওয়াতি ওয়াল আতফালি ইয়ারহামু কুমুল্লাহ' বলে জানাজার নামাজের ঘোষণা দেওয়া হয়। 

চলতি হজ মৌসুমে ফরজ নামাজের পর একবার জানাজা শেষে দ্বিতীয়বার ঘোষণা দিয়ে আবার জানাজার নামাজ পড়া হচ্ছে। এটা নিয়ে এক ধরণের কৌতূহল কাজ করছে। এ বিষয়ে খোজ নিয়ে জানা গেছে, জানাজার জন্য আসা লাশের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে দুইবার জানাজা পড়তে হচ্ছে। শুক্রবার ফজরের নামাজের পরও দু'বার ঘোষণা দিয়ে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566023261620.jpg

 

হজযাত্রী এবং মক্কার আশপাশের এলাকার স্থানীয় সৌদি নাগরিক কিংবা কোনা প্রবাসী মারা গেলে তাদের জানাজা মসজিদে হারামে অনুষ্ঠিত হয়। হজযাত্রীরা ফরজ নামাজের পর সঙ্গে সঙ্গে সুন্নত নামাজ শুরু না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন জানাজার জন্য, এটাই রীতি।

হজপালন করতে এসে কোনো হজযাত্রী হোটেল, বাড়ি কিংবা রাস্তায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অথবা হাসপাতালে মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয় না। তবে লাশ দেশে না পাঠালেও মৃত্যুবরণকারী হাজির মৃত্যুর সনদ যথাসময়ে তাদের পরিবার বা তাদের প্রতিনিধি কিংবা এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মরদেহের গোসল করানো, কাফন পরানো, জানাজা পড়ানো ও দাফন করাসহ যাবতীয় কাজ নির্দিষ্ট বিভাগ করে থাকে। মক্কার রুশাইফায় রয়েছে লাশের গোসল ও কাফন পরানোর ব্যবস্থা। হজপালনকারীদের লাশ বহন করার জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশের এখানে কোনো কিছু করতে হয় না।

মসজিদে হারামে জানাজার জন্য লাশ গাড়িতে করে কাবা শরিফের দক্ষিণে নবী করিম (সা.)-এর জন্মস্থানের পাশে বাবে ইসমাইলের কাছে রাখা হয়। ফরজ নামাজের পর ইমাম সাহেব লাশ রাখার স্থানে এসে জানাজার নামাজ পড়ান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566023327139.jpg

 

আরবদের মাঝে লাশ বহরকারী খাটিয়া কাঁধে নেওয়ার আগ্রহ অনেক। এটা তাদের একটি বিশেষ গুণ। এটাকে তারা সৌভাগ্য মনে করে। এজন্য লাশ পরিচিত হওয়া জরুরি নয়।

পবিত্র হাদিসের ভাষ্যমতে, জানাজার নামাজ আদায় করলে উহুদ পর্বত সমান সওয়াব ব্যক্তির আমলনামায় যোগ হয়। জানাজার নামাজ আদায় করা- ‘ফরজে কেফায়া।’ অর্থাৎ সমাজের কিছু মানুষ তা আদায় করলে সবাই দায়িত্ব থেকে মুক্তি লাভ করেন। আর কেউ যদি এই কাজ না করেন, তাহলে সবাই পাপের ভাগীদার।

ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে ‘জানাজার নামাজ’ বলে যে ইবাদতটি পরিচিত, আরব দেশের জনগণ সেটিকে ‘সালাত আলাল মাইয়্যেত’ বা মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া বলে থাকেন। জানাজার নামাজ মূলতঃ মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা।

এক হাদিসের মর্মার্থ হলো- জানাজা মুসলমানের অন্যতম হক। এতে অংশ নিলে পরকালের কল্যাণ লাভের সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানের অধিকার সংরক্ষণের মতো মহৎ একটি কর্ম সম্পাদিত হয়।

 

আরও পড়ুন, হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র