Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

কবুল হজের বিনিময় জান্নাত

কবুল হজের বিনিময় জান্নাত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

হজ ইসলামের একটি অন্যতম স্তম্ভ। এখানে স্মরণ রাখা দরকার, হজ তিন প্রকারের; যার জন্য যে প্রকার হজ প্রযোজ্য- তা করলেই হজ আদায় হয়ে যাবে। এতে ফজিলতগত কোনো পার্থক্য নেই।

হজের উদ্দেশ্য
নবী-রাসূলের স্মৃতি জাগানিয়া স্থানসমূহে কান্নাকাটি করে গোনাহ মাফ করিয়ে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনসহ মানবতার খেদমতই হজের মূল উদ্দেশ্য।

হজের পুরস্কার সমূহ
গোনাহ মাফ: সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হজরত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করল এবং ওই সফরে সব ধরনের যৌনাকাঙ্ক্ষা, পাপাচার ও ঝগড়াঝাটি থেকে বিরত থাকল, সে এ অবস্থায় ফিরে এলো যেন এই মাত্র মাতৃগর্ভ থেকে আগমন করল। অর্থাৎ মাসুম শিশুর মতো হয়ে গেল।

জান্নাতের সুসংবাদ: তিনি আরও বর্ণনা করেন নবী করিম (সা.) বলেন, ‘মাবরুর হজের (কবুল হজ) বিনিময় জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।’ এর ব্যাখ্যায় বিশিষ্ট তাবেয়ি হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘হজ আদায়ের পর দুনিয়ার প্রতি অনাগ্রহ ও আখেরাতের কর্মকাণ্ডে আগ্রহ সৃষ্টিই হলো- মাবরুর হজের পরিচয়।’

দারিদ্র্যতা দূর হওয়া: হজরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) বর্ণিত নবী করিম (সা.) বলেন, ‘হজ ও উমরা গোনাহসমূহ মুছে দিয়ে দারিদ্র্যতা দূর করে দেয়, আগুন যেমন সোনা, রুপা ও লোহার ময়লা দূর করে ঔজ্জ্বল্য বাড়িয়ে তোলে।’

দোয়া বা সুপারিশ কবুলের অধিকার

নবী করিম (সা.) বলেন, প্রকৃত হাজীগণের দোয়া বা সুপারিশ কবুল করা হয়। এক বর্ণনায় এসেছে, একজন হাজি নিজ পরিবার-পরিজনের ৪শ’ লোকের জন্য দোয়া বা সুপারিশের অধিকারী হন। মাসুম শিশুর বায়না যেমন বাবা-মা ফেলতে পারে না, তেমনি মাসুম হাজির দোয়াও আল্লাহতায়ালা কি করে ফেলবেন? তিনি তো পিতার চেয়ে লক্ষ গুণ বেশি মায়াময় দয়াময় রাহমান এবং রাহিম।

হজ না করার ভয়ংকর হুশিয়ারি

হজরত নবী করিম (সা.) বলেন, হজ ফরজ হওয়া সত্ত্বেও যে ব্যক্তি হজ না করে মারা গেল সে কি ইহুদি না নাসারা হয়ে মারা গেল সে দায়িত্ব আমার নয়। অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যে অবহেলা করে হজ তরক (ছেড়ে দেয়) করে আমি জানি না তার মৃত্যু ঈমানের ওপর হবে কি না।’

হজের আগে মক্কায় অবস্থানকালীন আমল
যার ওপর হজ ফরজ তার ওপর উমরা ওয়াজিব। নিজের ওয়াজিব উমরা আদায় হয়ে গেলে সম্ভব হলে নিজ পিতামাতা, নিকটাত্মীয়-স্বজনদের পক্ষে উমরা করে নিতে পারেন। হজের পরে এ সুযোগ নাও পেতে পারেন। ওই সময় প্রচণ্ড ভিড় হয়। উমরার ইহরাম বাঁধার জন্য মক্কাবাসীর মিকাত তানঈম এলাকার আয়েশা মসজিদে যেতে হয়। এর অবস্থান মসজিদে হেরেম থেকে ৪ মাইল উত্তরে। হেরেমের চারদিকেই প্রাইভেট পরিবহন চালকরা আয়েশা আয়েশা বলে ডাকে জনপ্রতি ৫/৮ রিয়াল বাড়া নিয়ে যাওয়া যায়।

এছাড়া ‘সেপ্টেকো’ কোম্পানির লাল রংয়ের বাস, ‘নাফেল’ কোম্পানির সাদা রংয়ের বড় বাস জনপ্রতি ২ রিয়াল ভাড়ায় চলাচল করে। সেপ্টেকো জাবালে উমরের কাছে, নাফেল মেসফালা এলাকায় পাওয়া যায়। এসব যানবাহনে আয়েশা মসজিদ গিয়ে অজু গোসল সেরে ইহরামের কাপড় পরে মসজিদে ইহরামের সুন্নত নামাজ শেষে উমরার নিয়ত করে তালবিয়া পড়তে পড়তে হেরেম শরিফে এসে আবার পূর্বের নিয়মে উমরার কাজ সমাপ্ত করে হালাল হয়ে বাকি সময়টুকু বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগিতে কাটিয়ে দিন।

শরীরে কুলালে প্রতিদিন ফজরের পর থেকে রোদের প্রখরতা বাড়ার আগেই উমরার কাজ সমাধা করতে পারেন।

নফল তাওয়াফ, উমরা সুযোগ পেলেই করুন এর সওয়াব বাবা-মা, দাদা-দাদী, নানা-নানী, স্ত্রী, পুত্র-কন্যা এবং নিজ মুরুব্বি-উস্তাদ, পীর-বুজুর্গের নামে উৎসর্গ করুন। এতে মনে এক ধরনের শান্তি পাবেন আর মানসিক শক্তি বাড়বে।

আপনার মতামত লিখুন :

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা
মসজিদে হারামে নামাজ আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: হজপালন শেষে মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা মক্কার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে হারামে আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করে কাটাচ্ছেন।

মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা উমরার নিয়ত করলে তাদের ইহরাম বাধার জন্য যেতে হয় আয়েশা মসজিদে। সেখানে যেয়ে (ইহরাম আগেও পড়া যায় মসজিদে আয়েশাতে যেয়েও অনেকে পরিধান করেন) দুই রাকাত নামাজ পড়ে তালবিয়া (লাব্বাইক .... ) পড়ে কাবা শরিফে এসে উমরার সব নিয়মনীতি পালন করেন।

মসজিদটি মক্কার তানঈম এলাকায় অবস্থিত। এটাকে মসজিদে তানঈমও বলা হয়। হেরেম এলাকার বাইরে এটি মক্কা থেকে সর্বাধিক নিকটবর্তী স্থান। মক্কা থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে মক্কা-মদিনা রোডে আল হিজরা এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদ। রাতদিন ২৪ ঘণ্টা এখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392961853.jpg

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে উমরা করেছিলেন। পরে সেখানে একটি বিশাল মসজিদ গড়ে উঠে। মসজিদটি ইসলামি শিল্পনৈপুণ্যের এক অনুপম নিদর্শন।

বিদায় হজের সময় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)কে তার ভাই হজরত আবদুর রহমান (রা.)-এর সঙ্গে হারামের বাইরে এখান থেকে উমরার ইহরাম বাঁধার জন্য পাঠিয়েছিলেন।

এ কারণে এখান থেকে মক্কাবাসীরা উমরার জন্য এখান থেকে ইহরাম বেঁধে থাকেন। বিদেশি হাজিরা এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে থাকেন। অবশ্য এটা নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মাঝে বিতর্ক আছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392972633.jpg

মক্কা থেকে এখানে আসতে বাস ভাড়া ৩ রিয়াল, আর ট্যাক্সি ভাড়া ৫ রিয়াল। সারাক্ষণ নফল উমরার ইহরামের জন্য আসা হাজিদের ভিড় থাকে মসজিদটিতে। বিশাল এই মসজিদের দু’টি মিনার ও একটি গম্বুজ অনেক দূর থেকে দেখা যায়। মসজিদটি খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত। মসজিদের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বিশাল জায়গা রয়েছে। রয়েছেন অজু ও নারীদের নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

হজ বা উমরাপালন করতে যারা বিমানযোগে সৌদি আরব আসেন তারা নিজ দেশ থেকে কিংবা নির্দিষ্ট মিকাত থেকে নিয়ত করেন। কিন্তু হজের পর উমরা করতে চাইলে উত্তম হলো- নির্দিষ্ট মিকাতে যেয়ে উমরার নিয়ত করা। এজন্য তায়েফ, রাবেক, মদিনা, আস-সাইরুল খাবির, আস-সাদিয়াত যেতে পারেন। এসব জায়গা থেকে আসার পথে মিকাত পড়বে। সেখান যথা নিয়মে উমরার নিয়ত করে উমরা আদায় করতে পারেন।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হচ্ছে, হজে গিয়ে বেশি বেশি তাওয়াফ করা। এটি সুন্নত এবং সবচেয়ে উত্তম কাজ। কাজেই যারা মক্কায় অবস্থান করেন, তারা বেশি করে তাওয়াফ করবেন এবং আল্লাহর ঘরে গিয়ে বেশি করে নফল নামাজ আদায় করবেন।

আরও পড়ুন: হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

আরও পড়ুন: হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র