Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

এরশাদের মৃত্যুতে ধর্মীয় নেতাদের শোক ও দোয়া

এরশাদের মৃত্যুতে ধর্মীয় নেতাদের শোক ও দোয়া
এরশাদের মৃত্যুতে ধর্মীয় নেতাদের শোক ও দোয়া, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ইসলাম ডেস্ক
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন ইসলামি দলের নেতারা। গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক শোকবার্তায় তারা এরশাদের কর্মময় জীবনের কথা স্মরণের পাশাপাশি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

এরশাদের মৃত্যৃতে শোক প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির ও হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফি।

শোকবার্তায় হেফাজত আমির রাষ্ট্রপতি থাকাকালে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করাসহ ধর্মীয় বিষয়ে এরশাদের গঠনমূলক নানা ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। এ সময় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/14/1563109366617.jpg
সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয় সফরকালে তিনি কাবার শরিফের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পান, ছবি: সংগৃহীত

 

শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন, খাদেমুল ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও গওহরডাঙ্গা গওহরডাঙ্গা মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন।

শোকবার্তায় তিনি বলেন, এরশাদের শাসনামলে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের প্রচার-প্রসারে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। সাংবিধানিকভাবে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করায় দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে স্মরণ রাখবে। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এরশাদের মৃত্যৃতে আরও শোক প্রকাশ করেছেন যাত্রাবাড়ী মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মাহমুদুল হাসান। শোকবার্তায় মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ খতমে বোখারি ও দাওয়াতুল হকের একাধিক ইজতিমায় অংশ নিতে যাত্রবাড়ী মাদরাসায় এসেছেন। তিনি গুলশান আজাদ মসজিদে জুমার নামাজে প্রায়ই অংশ নিতেন। তিনি একজন ইসলামপ্রিয় মানুষ ছিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/14/1563109462639.jpg
আল্লাম শফির সঙ্গে এরশাদ, ছবি: সংগৃহীত

 

মাওলানা মাহমুদুল হাসান মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তার জন্য দোয়া করেন, আল্লাহতায়ালা যেন তার ভুলত্রুটি মাফ করে তাকে জান্নাত নসিব করেন।

ইসলামি ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করে বলেন, আমি তার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমাবেদনা জানাচ্ছি।

এরশাদের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন খেলাফত আন্দোলনের আমিরে শরিয়ত মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী ও মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী। এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, এরশাদ ইসলাম ও দেশের কল্যাণে অনেক অবদান রেখে গেছেন। তিনি সংবিধানে বিসমিল্লাহ অন্তর্ভুক্ত, ছুটির দিন শুক্রবার ও পল্লী এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করে দেশবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

নেতৃদ্বয় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/14/1563109519959.jpg
ছারছীনা দরবার শরিফে এরশাদ, ছবি: সংগৃহীত

 

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেনা জ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা ইসমাঈল নূরপুরী ও মহাসচিব মুফতি মাহফুজুল হক।

নেতৃদ্বয় শোকবার্তায় বলেন, ইসলাম ও দেশের কল্যাণে অনেক অবদান রেখেছেন এরশাদ। যা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এর বিনিময় আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন।

নেতৃদ্বয় তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেনা জ্ঞাপন করেন ও তার জন্য আল্লাহর দরবারে মাগফিরাতের দোয়া কামনা করেন।

ছারছীনা শরিফের পীর ছাহেব কেবলা হজরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ এরশাদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত এবং তার আখেরাতের কল্যান কামনা করেন।

বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর আমির তার শোকবার্তায় বলেন, তিনি মুসলিম বিশ্বসহ বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে সৈন্য প্রেরণ তার যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। তিনি দেশের আলেম সমাজের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। রেড ক্রস নাম পরিবর্তন করে রেড ক্রিসেন্ট রাখা ও রোববারের পরিবর্তে শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ঘোষণা করা তার অমর কীর্তি।

আপনার মতামত লিখুন :

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা
মসজিদে হারামে নামাজ আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: হজপালন শেষে মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা মক্কার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে হারামে আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করে কাটাচ্ছেন।

মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা উমরার নিয়ত করলে তাদের ইহরাম বাধার জন্য যেতে হয় আয়েশা মসজিদে। সেখানে যেয়ে (ইহরাম আগেও পড়া যায় মসজিদে আয়েশাতে যেয়েও অনেকে পরিধান করেন) দুই রাকাত নামাজ পড়ে তালবিয়া (লাব্বাইক .... ) পড়ে কাবা শরিফে এসে উমরার সব নিয়মনীতি পালন করেন।

মসজিদটি মক্কার তানঈম এলাকায় অবস্থিত। এটাকে মসজিদে তানঈমও বলা হয়। হেরেম এলাকার বাইরে এটি মক্কা থেকে সর্বাধিক নিকটবর্তী স্থান। মক্কা থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে মক্কা-মদিনা রোডে আল হিজরা এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদ। রাতদিন ২৪ ঘণ্টা এখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392961853.jpg

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে উমরা করেছিলেন। পরে সেখানে একটি বিশাল মসজিদ গড়ে উঠে। মসজিদটি ইসলামি শিল্পনৈপুণ্যের এক অনুপম নিদর্শন।

বিদায় হজের সময় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)কে তার ভাই হজরত আবদুর রহমান (রা.)-এর সঙ্গে হারামের বাইরে এখান থেকে উমরার ইহরাম বাঁধার জন্য পাঠিয়েছিলেন।

এ কারণে এখান থেকে মক্কাবাসীরা উমরার জন্য এখান থেকে ইহরাম বেঁধে থাকেন। বিদেশি হাজিরা এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে থাকেন। অবশ্য এটা নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মাঝে বিতর্ক আছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392972633.jpg

মক্কা থেকে এখানে আসতে বাস ভাড়া ৩ রিয়াল, আর ট্যাক্সি ভাড়া ৫ রিয়াল। সারাক্ষণ নফল উমরার ইহরামের জন্য আসা হাজিদের ভিড় থাকে মসজিদটিতে। বিশাল এই মসজিদের দু’টি মিনার ও একটি গম্বুজ অনেক দূর থেকে দেখা যায়। মসজিদটি খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত। মসজিদের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বিশাল জায়গা রয়েছে। রয়েছেন অজু ও নারীদের নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

হজ বা উমরাপালন করতে যারা বিমানযোগে সৌদি আরব আসেন তারা নিজ দেশ থেকে কিংবা নির্দিষ্ট মিকাত থেকে নিয়ত করেন। কিন্তু হজের পর উমরা করতে চাইলে উত্তম হলো- নির্দিষ্ট মিকাতে যেয়ে উমরার নিয়ত করা। এজন্য তায়েফ, রাবেক, মদিনা, আস-সাইরুল খাবির, আস-সাদিয়াত যেতে পারেন। এসব জায়গা থেকে আসার পথে মিকাত পড়বে। সেখান যথা নিয়মে উমরার নিয়ত করে উমরা আদায় করতে পারেন।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হচ্ছে, হজে গিয়ে বেশি বেশি তাওয়াফ করা। এটি সুন্নত এবং সবচেয়ে উত্তম কাজ। কাজেই যারা মক্কায় অবস্থান করেন, তারা বেশি করে তাওয়াফ করবেন এবং আল্লাহর ঘরে গিয়ে বেশি করে নফল নামাজ আদায় করবেন।

আরও পড়ুন: হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

আরও পড়ুন: হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র