Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হজে চিকিৎসকদের সহায়ক গানম্যান-গাড়িচালক!

হজে চিকিৎসকদের সহায়ক গানম্যান-গাড়িচালক!
চিকিৎসা নিচ্ছেন হাজিরা, ছবি: সংগৃহীত
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
বিভাগীয় প্রধান
ইসলাম
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

৪ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৯৮ জন হজে যাবেন। বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেন। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

হজ মৌসুমে সৌদি আরবে অসুস্থ বাংলাদেশি হজযাত্রীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য ২৩০ সদস্যবিশিষ্ট হজ চিকিৎসক দল গঠন করা হয়েছে অনেক আগেই। দুই দলে বিভক্ত হয়ে তারা সৌদি আরবে দায়িত্ব পালন করবেন। হজ চিকিৎসক দলে ১০৫ জন চিকিৎসক, ৭৫ জন নার্স-ব্রাদার, ৪০ জন ফার্মাসিস্ট ও ১০ জন ওটি এসিস্ট্যান্ট-ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান রয়েছেন।

সৌদি আরবে হজ ব্যবস্থাপনার সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়, হজযাত্রী সেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য গঠন করা হয়েছে ৫৭ সদস্যের হজ প্রশাসনিক দল।

হজ মৌসুমে সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ অফিস জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় হজ প্রশাসনিক দল ও মৌসুমি অফিসারদের দাফতরিক সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সহায়তার রয়েছে ১৭ সদস্যের হজ কারিগরি দল।

এবার হজ চিকিৎসক দলকে সহায়তার জন্য গঠন করা হলো ১১৮ সদস্যের হজ সহায়ক দল। তারা চিকিৎসক দলকে ‘সহায়তা’ করবেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আবদুল্লাহ আরিফ মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে হজ চিকিৎসক দল গঠনের কথা জানা গেছে।

প্রশ্ন উঠেছে- ১০৫ জন চিকিৎসক, ৭৫ জন নার্স-ব্রাদার, ৪০ জন ফার্মাসিস্ট এবং ১০ জন টেকনিশিয়ানের সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসক দলের কাজ কী? যদি চিকিৎসক দলের সহায়তা দল প্রয়োজন হয়, তাহলে চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের এ দলে অন্তর্ভুক্ত করাই ছিল বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তা না করে, মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার, অফিস সহায়ক, প্লাম্বার, পৌরসভার সচিব, পুলিশ কনস্টেবল, সিকিউরিটি ইন্সপেক্টর, জমাদার সরদার, টেকনিশিয়ান, মোটর ক্লিনার, ওয়্যারম্যান, ইমাম, মুয়াজ্জিন, সহকারি হজ অফিসার, বার্তাবাহক, মসজিদের খাদেম, মন্ত্রীর নিরাপত্তাকর্মী, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, টাইপিস্ট, জনসংযোগ কর্মকর্তা, প্রুফ রিডার, মালি, গাড়ি চালক, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ আরও যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই সহায়তা দলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- তাদের কারও সঙ্গে চিকিৎসক দলকে সহায়তা করার কোনো সম্পর্ক নেই।

চিকিৎসা বিষয়ে তাদের কী অভিজ্ঞতা আছে সেটাও স্পষ্ট নয়, তারা কোন উপায়ে চিকিৎসক দলকে ‘সহায়তা’ করবেন সেটাও বোধগম্য নয়। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, হজযাত্রীদের চিকিৎসক দলকে সহায়তা করার জন্য আলাদা ‘সহায়ক টিম’ সৌদি আরবে পাঠানোর আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কি না?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারেন নার্স ও ব্রাদাররা, তাদের সঙ্গে থাকতে পারেন কিছু পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এভাবে চিকিৎসক, নার্স-ব্রাদার, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দল পাঠানোই যথেষ্ট। সেখানে আবার তাদের সহায়তার নামে আলাদা একটা টিম গঠন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রীর পছন্দের লোকজনকে সেই টিমের অন্তর্ভুক্ত করে জনগণের করের টাকায় সৌদি আরবে বেড়াতে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া একেবারেই অনুচিত।

তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ৩০ জন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ২২ জন, গানম্যান ৬ জন ও ১৭ জন গাড়ি চালক রয়েছেন। এতজন ড্রাইভার কি সৌদি আরব যেয়ে গাড়ি চালাবেন? গানম্যানরা কাকে নিরাপত্তা দেবেন? তদ্রুপ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা চিকিৎসক দলকে কিভাবে সহায়তা করবেন? তাদের পদ-পদবি বিবেচনায় এ দলে অন্তর্ভুক্ত করা কতটা শোভন সেটা নিয়েও কথা উঠছে।

হজ সহায়ক দল গঠনের প্রজ্ঞাপনে হজ চিকিৎসক দলের সহায়তাকারী সদস্যদের মেডিকেল অথবা ক্লিনিকে রোগীদের সৃষ্ট ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার, রোগীদের চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ গ্রহণে সহযোগিতা, ক্লিনিক পরিছন্ন রাখা এবং হজ চিকিৎসক দলের দলনেতা, উপ-দলনেতার নির্দেশক্রমে অপরাপর দায়িত্ব পালন করার কথা বলা হয়েছে।

বলা হয়েছে, হজ চিকিৎসক দলের সহায়তাকারীগণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দলনেতা, উপদলনেতা এবং অন্যান্য চিকিৎসকগণের নির্দেশমতে কাজ করবেন। যে সব রোগী শয্যায় চিকিৎসা গ্রহণ করবেন তাদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সহায়তকারীরা বাংলাদেশের হাসপাতালে যেভাবে দায়িত্ব পালন করেন ঠিক সেভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

৪ দলে বিভক্ত হয়ে সহায়তা দলের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে তারা ৯ জুলাই থেকে সৌদি আরব গমন করবেন।

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন

আপনার মতামত লিখুন :

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ
আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়, ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে আরও ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট কিংবা প্রতিস্থাপনের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২২ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল্লাহ আরিফ মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের কথা জানানো হয়েছে।

হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের জন্য ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে হজ অফিসের পরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে এবং তা অনলাইনে নিশ্চিত করতে হবে। এজেন্সির নিজস্ব প্যাডে লিখিত আবেদনে হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সুপারিশ থাকতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপনযোগ্য হজযাত্রীর গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুজনিত কারণে হজপালন করতে পারবেন না মর্মে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রী অথবা মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর লিখিত আবেদন এবং উপযুক্ত চিকিৎসকের সনদ দাখিল করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি দেখতে ক্লিক করুন

প্রতিস্থাপন প্রাপ্তির জন্য এজেন্সির পক্ষ থেকে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হচ্ছে না মর্মে তিনশ’ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে। হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে জাতীয় হজ ও ওমরা নীতি-২০১৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হজ নীতিমালায় ৫ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয় বিশেষ সার্কুলার জারি করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দিয়ে থাকে। চলতি বছর দুই দফায় ৫ শতাংশ করে ১০ শতাংশ হারে রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এবার আরও ৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দেওয়া হলো।

হজযাত্রার জন্য প্রাক-নিবন্ধনের পর মৃত্যু ও অসুস্থতাসহ নানা কারণে যারা হজপালনে সৌদি আরব যেতে পারেন না, তাদের পরিবর্তে অন্যদের হজপালনের সুযোগকে রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন বলে। সৌদি দূতাবাস কর্তৃক হজ ভিসা দেওয়া বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্লাইট চালু সাপেক্ষে যাত্রীদের রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

৫ লাখ ৬৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন

৫ লাখ ৬৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন
৫ লাখ ৬৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন, ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছর হজপালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজযাত্রীরা যাওয়া শুরু করেছেন। রোববার (২১ জুলাই) সকাল আটটা পর্যন্ত সৌদি আরবে বিভিন্ন দেশ থেকে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬২ জন হজযাত্রী পৌঁছেছেন।

এসব হজযাত্রীদের মধ্যে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১৪৯ জন আকাশপথে, ৮ হাজার ৭১০ জন সড়কপথে ও ৬ হাজার ৩ জন নৌপথে সৌদি আরব পৌঁছেছেন।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১৮৬টি দেশ থেকে হজযাত্রী আসবেন হজপালনের জন্য।

বিভিন্ন দেশের মুসলিম জনসংখ্যার হার অনুপাতে সৌদি আরব হজপালনকারীদের জন্য কোটা বরাদ্দ দিয়ে থাকে। তাদের দেওয়া কোটা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে হজ পালনেচ্ছুদের হজে আসতে হয়। সাধারণত ১০ লাখ লোকের জন্য ১ হাজার কোটা বরাদ্দের একটি নিয়ম তারা অনুসরণ করে।

এবার বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। ইতোমধ্যে ৭২ হাজার ৭৪৬ জন সৌদি আরব গিয়ে পৌঁছেছেন।

সৌদি গেজেটের এক খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের নাগরিক ও দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীসহ ৩ লাখেরও বেশি মানুষ এ পর্যন্ত হজপালনের অনুমতি পেয়েছেন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা নিবন্ধিত হয়েছেন।

হজযাত্রীরা নিরাপদ ও স্বস্তির সঙ্গে হজপালন করতে পারেন, সেজন্য সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হজ সেবা সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো নিরলসভাবে কাজ করছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র