Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মুমিনের নয় গুণ

মুমিনের নয় গুণ
কোরআনে বলা হয়েছে, মুমিনের নয় গুণ সম্পর্কে, ছবি: সংগৃহীত
মাওলানা আবদুল জাব্বার
অতিথি লেখক
ইসলাম
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

যারা আল্লাহতায়ালার দেওয়া বিধানমতো জীবন পরিচালনা করেন তারাই- তার পছন্দের মানুষ ও খাঁটি মুমিন। তার পরও খাঁটি মুমিনের গুণ সম্পর্কে কোরআনে কারিমের সূরা ফুরকানের কয়েকটি আয়াতে বিস্তারিত বলা হয়েছে। গুণগুলো হলো-

১. সব কাজকর্ম আল্লাহর মর্জি অনুযায়ী করেন
খাঁটি মুমিনের প্রথম গুণ হলো তার বিশ্বাস, চিন্তা-চেতনা, ইচ্ছা-আকাঙ্খা এবং আচার-আচরণ সবই আল্লাহতায়ালার মর্জি মোতাবেক হয়। যে সব কাজে আল্লাহতায়ালা রাজি নন সে সব কাজ তারা আদৌ করে না।

২. জমিনে নম্রভাবে চলাফেরা করেন
খাঁটি মুমিনের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, চোখ, কান, হাত, পা ইত্যাদি আল্লাহর সামনে হীন ও অক্ষম হয়ে থাকে। আল্লাহ ভীতির কারণে তারা বিনম্র হয়ে ও দুর্বলভাবে চলাফেরা করে। ইরশাদ হচ্ছে, আল্লাহর বান্দা তারাই যারা জমিনে নম্রভাবে চলাফেরা করে। -সূরা ফুরকান: ৬৩

৩. অজ্ঞ লোকের কথার জবাব কটু কথা দিয়ে দেয় না
খাঁটি মুমিন তারা যারা মুর্খদের জবাবে নিরাপত্তার কথাবার্তা বলে, যাতে অন্যেরা কষ্ট না পায় এবং নিজেরা গোনাহগার না হয়। বলা হয়েছে, যখন অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে সম্বোধন করে (কটু কথা) বলে, তারা এর প্রতিবাদ করে না বরং প্রশান্তিমূলক কথাবার্তা বলে। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘মন্দের জবাবে তাই বলুন যা উত্তম। -সূরা মুমিনুন: ৯৫

৪. নামাজে রাত কাটিয়ে দেয়
আল্লাহতায়ালার প্রিয় বান্দাদের অন্যতম গুণ হলো- তারা দিনরাত আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকে। দিবাভাগে শিক্ষাদান, দ্বীনি দাওয়াত, জিহাদ ইত্যাদি কাজে ব্যস্ত থাকে এবং রাতে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকে। সাহাবায়ে কেরামের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল, দিনে সৈনিক, রাত্রে দরবেশ। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তারা রাত্রিযাপন করে তাদের পালনকর্তার সামনে সিজদা করা অবস্থায় ও (নামাজে) দণ্ডায়মান অবস্থায়।’ -সূরা ফুরকান: ৬৪

রাতের নামাজের মধ্যে তাহাজ্জুদ অন্যতম। নবী করিম (সা.) বলেছেন, নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়। কেননা, এটা তোমাদের পূর্ববর্তী সব নেক বান্দার অভ্যাস ছিল। এটা তোমাদেরকে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য দানকারী, মন্দকাজের কাফফারা এবং পাপাচার থেকে নিবৃত্তকারী। -মাজহারি

৫. সদা জাহান্নামের ভয়ে ভীত থাকে
আল্লাহর প্রিয় বান্দারা শুধু দিনরাতে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থেকেই নিশ্চিন্ত হয় না; বরং সদা আল্লাহর আজাবের ভয়ে ভীত থাকে। আর আজাব থেকে বাঁচার জন্য তার কাছে কড়জোরে প্রার্থনা করে। আল্লাহর বাণী, খাঁটি বান্দা তারা যারা বলে, হে আমাদের রব! আমাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তি হটিয়ে দাও। -সূরা ফুরকান: ৬৫

৬. অযথা ব্যয় করে না
খাঁটি মুমিন অযথা এবং না হক পথে ব্যয় করে না। আর ব্যয় করার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন ও কৃপণতা উভয়ই পরিহার করে। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, খাঁটি মুমিন হলো তারা যারা অযথা ব্যয় করে না এবং কৃপণতাও করে না এবং তাদের পন্থা হয় এতদুভয়ের মধ্যবর্তী। -সূরা ফুরকান: ৬৭

৭. ইবাদতে শিরক করে না
শিরক হলো কবিরা গোনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় কবিরা গোনাহ। শিরক দু’প্রকার। ক. আকিদাগত শিরক তথা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা এবং তার ইবাদত করা, খ. লোক দেখানো ইবাদত। ইবাদত করতে হবে সম্পূর্ণ একনিষ্ঠতার সঙ্গে এবং লৌকিকতামুক্ত ভাবে। লোক দেখানো ইবাদত শিরক। সব ধরনের শিরকই হারাম। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘খাঁটি মুমিন হলো তারা যারা আল্লাহতায়ালার সঙ্গে অন্য উপাস্যের ইবাদত করে না।’ –সূরা ফুরকান: ৬৮

৮. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে না
খাঁটি মুমিনের অন্যতম গুণ হলো, সে অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে না। আল্লাহর বাণী, আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করে না। -সূরা ফুরকান: ৬৮

অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে, যে কেউ প্রাণের বিনিময় ছাড়া কাউকে হত্যা করলো অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করার জন্য কাউকে হত্যা করলো সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করলো। আর যে কারও জীবন রক্ষা করলো সে যেন সবার জীবন রক্ষা করলো। -সূরা মায়েদা: ৩২

৯. ব্যভিচার করে না
খাঁটি মুমিন স্বীয় জীবনকে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র রাখে। ব্যভিচার করা তো দূরের কথা, এর নিকটেও যায় না। কারণ, আল্লাহতায়ালা বলেছেন, আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। অবশ্যই তা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। -সূরা বণি ইসরাঈল: ৩২

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, খাঁটি মুমিন ব্যভিচার করে না। -সূরা ফুরকান: ৬৮

আপনার মতামত লিখুন :

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করছেন হজযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজপালনে ৬২ হাজার ৭৪৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ১৪১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৫টিসহ মোট ১৭৩টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব ব্যবস্থাপনামহ ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু করেছে।

অনলাইনে হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ জন হজযাত্রীর।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে সৌদি আরবে ১২ জন ইন্তেকাল করেছেন। তন্মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের ৯ জন মক্কায়, মদিনায় ২ জন ও জেদ্দায় ১ জন ইন্তেকাল করেন।

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র