Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মতবিরোধ সত্ত্বেও খারাপ ব্যবহার নয়

মতবিরোধ সত্ত্বেও খারাপ ব্যবহার নয়
মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে ইসলাম কঠোরভাবে নিষেধ করেছে, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মানুষ সমাজবদ্ধ হয়ে চলতে ভালোবাসে। তার পরও নানা কারণে মানুষে মানুষে মতবিরোধ হয়। এখন প্রশ্ন হলো, যদি কারও সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে মতের অমিল হয় কিংবা কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকে, তাহলে তার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতে হবে? মতবিরোধ বলে কী তাকে এড়িয়ে চলতে হবে, না তাকে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা যাবে?

এ বিষয়ে ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো- মতের অমিল কিংবা মতপার্থক্যের ধরণের ওপর এর হুকুম নির্ভরশীল। যদি মতপার্থক্য হয় ধর্মীয় বিষয় নিয়ে, আর বিষয়টি যদি হক বাতিলের প্রসঙ্গ হয়; তাহলে বাতিলকে উম্মাহের কাছে পরিস্কারভাবে বাতিল হিসেবে জানিয়ে দেওয়া উলামায়ে কেরামের দায়িত্ব। সে হিসেবে ইসলামি শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে কঠোরতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করা প্রত্যেক দায়িত্বশীল আলেমদের দায়িত্ব। সেই সঙ্গে সচেতন প্রতিটি মুসলিমেরও এ বিষয়ে সতর্কতা জরুরি।

বাতিলকে কঠোরভাবে বিরোধীতা না করলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে। তাই কঠোরতার সঙ্গে এর বিরোধীতা করতে হবে। বাতিলের দোষত্রুটিসমূহ জাতির সামনে পেশ করতে হবে।

এর নাম গিবত নয়। উম্মতকে ভ্রান্ত্রি থেকে রক্ষার নিমিত্তে ভ্রান্ত ব্যক্তির আকিদা, ভুল বিশ্বাস, ভুল বক্তব্য, ভুল মনোভাব তুলে ধরা গিবত নয়; গোনাহের কাজও নয়। বরং এটি সওয়াবের কাজ। আর এ কাজ করা আলেমদের দায়িত্ব।

আর সাধারণ মুসলমানদের উচিত গ্রহণযোগ্য মুত্তাকি আলেমদের বক্তব্য অনুপাতে আমল করা।

তবে বিরোধীতা করতে যেয়ে কোনো অবস্থাতেই গালাগাল করা বৈধ নয়। প্রয়োজনে কঠোর শব্দ ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু গালাগাল করা যাবে না।

কিন্তু ধর্মীয় বিষয় ছাড়া দুনিয়াবী কোনো বিষয়ে মতভেদ হলে বেশি কঠোরতা কাম্য নয়। বরং ধৈর্যধারণ করা, আল্লাহতায়ালার কাছে এর বিনিময়ে উত্তম প্রতিদানের জন্য আবেদন করা উচিত। সেই সঙ্গে হেকমতের সঙ্গে ভুলগুলো তুলে ধরে তাকে সতর্ক করা। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যখন তাদেরকে বলা হয়, অন্যান্যরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আনো, তখন তারা বলে, আমরাও কি ঈমান আনব বোকাদেরই মতো! মনে রেখো, প্রকৃতপক্ষে তারাই বোকা, কিন্তু তারা তা বোঝে না।’ -সূরা বাকারা: ১৩

বর্ণিত আয়াতে মক্কার মুশরিকরা সাহাবাদেরকে বোকা বলে ভর্ৎসনা করেছে, এর বদলে আল্লাহতায়ালাও কঠোরভাষায় তাদের বোকা বলে সম্বোধন করেছেন। যা প্রমাণ করে, ধর্মীয় বিষয়ে ভুল বিশ্বাসে থাকা মানুষদের কঠোর সমালোচনা করা জায়েজ আছে। যা এ আয়াত থেকে পরিস্কারভাবে প্রমাণিত।

বস্তুত আচার-ব্যবহার মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য উপাদান। জগতের সব মানুষ পারস্পরিক সর্বোত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিকার রাখে। ইসলামে সুন্দর ব্যবহারকে অত্যাবশ্যকীয় ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়।

কেননা, আচার-ব্যবহারের মধ্য দিয়েই মনুষ্যত্বের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে। মানুষ ভালো কথাবার্তা ও আচার-ব্যবহার গঠনের মাধ্যমে নিজেকে শোভন, সুন্দর আর পরিশীলিত করে অন্যের প্রীতিভাজন হয়ে উঠতে পারে। সবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা পিতা-মাতা, আত্মীয়স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকটতম প্রতিবেশী, দূরবর্তী প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথি, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করবে।’ -সূরা আল নিসা: ৩৬

মানুষের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার ও ইসলামি শরিয়াহ পরিপালন পরস্পর সহধর্মী। মানবসমাজে সবাইকে ভদ্রোচিতভাবে অন্যের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে কথায় ও কাজে আত্মসংযমী হতে হয়। মানুষকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, কাউকে কথা দিয়ে প্রতিশ্রুতি না রাখা, অবান্তর প্রশ্ন করা এবং অহেতুক রাগ-অনুরাগ বা হিংসা-বিদ্বেষ করা উচিত নয়।

আপনার মতামত লিখুন :

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করছেন হজযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজপালনে ৬২ হাজার ৭৪৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ১৪১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৫টিসহ মোট ১৭৩টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব ব্যবস্থাপনামহ ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু করেছে।

অনলাইনে হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ জন হজযাত্রীর।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে সৌদি আরবে ১২ জন ইন্তেকাল করেছেন। তন্মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের ৯ জন মক্কায়, মদিনায় ২ জন ও জেদ্দায় ১ জন ইন্তেকাল করেন।

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র