Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

ইসলামিক ফাইন্যান্স ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও জনপ্রিয় হচ্ছে

ইসলামিক ফাইন্যান্স ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও জনপ্রিয় হচ্ছে
ইসলামিক ফাইন্যান্স ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও জনপ্রিয় হচ্ছে, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতেই শুধু ইসলামিক ফাইন্যান্সের প্রাধান্য রয়েছে। কিন্তু এখন বাকি বিশ্বের বেশিরভাগই ইসলামিক ফাইন্যান্সে সম্পৃক্ত হচ্ছে। অধিকতর সুস্থির বাজার পরিস্থিতি ও উন্নত নিয়ন্ত্রণমূলক প্রেক্ষাপটের ধারণা থেকে অমুসলিম দেশগুলো কর্তৃক ইসলামি ঋণ প্রদান ২০১৭ সালে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পায়।

ইসলামি আর্থিক পণ্য শারিয়া বা ইসলামি আইন মেনে চলে। আর তা ঝুঁকি ও মুনাফা ভাগাভাগির নীতিভিত্তিক। শরিয়া গ্রাহককে দেওয়া ঋণের ওপর সুদ গ্রহণ বন্ধ এবং অ্যালকোহল শুকরের মাংস, পর্নোগ্রাফি ও জুয়া সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অর্থায়ন নিষিদ্ধ করেছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিলজিকের উপাত্ত অনুযায়ী অমুসলিম দেশগুলো কর্তৃক মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বাইরে ইস্যুকৃত সার্বভৌম সুকুক বা ইসলামিক বন্ডের মূল্য ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ২.২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটা ২০১৬ সালে দুই বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি এবং ২০১৫ সালে এক বিলিয়ন ডলারের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।

ইসলামি ব্যাংকিং বিশ্ব ব্যাংকিংয়ের উপেক্ষিত প্রান্ত থেকে উত্থিত হয়ে বিশ্বের বিরাট অংশের ক্রমবর্ধমান অর্থায়নের উৎস হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুকুক বিক্রয়কারী ঋণগ্রহীতাদের তালিকা দীর্ঘতর হয়েছে। এ খাতে প্রবেশ করা প্রথম অমুসলিম দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুর। তারপর আসে যুক্তরাজ্য, লুক্সেমবার্গ ও হংকংয়ের নাম। তারা ২০১৪ সালে তাদের প্রথম সুকুক ইস্যু করে। আফ্রিকার দেশগুলো যেমন দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া ও আইভরি কোস্ট আইন ও কর নীতি পরিবর্তন করে ঋণ গ্রহীতাদের জন্য সুকুক ইস্যু সহজ করেছে।

বিশ্বের নামকরা আর্থিক কোম্পানিগুলোও এ ব্যাপারে পিছিয়ে নেই। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন কান্ট্রি গার্ডেন ও বেইজিং এন্টারপ্রাইজেস ওয়াটার গ্রুপ তাদের মালয়েশিয়ান অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে যথাক্রমে ২০১৫ ও ২০১৭ সালে ইসলামিক বন্ড ইস্যু করে। কোম্পানিগুলো এসব আয় দিয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক আর্থিক সঙ্কট সরকার ও কোম্পানিগুলোকে তাদের অর্থায়ন সুযোগকে বহুমুখি করতে উৎসাহিত করেছে। প্রচালিত ব্যাংক ব্যবস্থায় ইসলামি ফাইন্যান্সকে অধিকতর স্থিতিশীল বিকল্প হিসেবে দেখা হয়।

মালয়েশিয়ার ঋণ হার নির্ধারণ সংস্থা আর এ এম’র পরিচালক ইসলামিক ফাইন্যান্সের প্রধান রুসলেনা রামলি এ বিষয়ে বলেন, টেকসই ও দায়িত্বশীল বিনিয়োগের জোরালো আবেদন ইসলামিক ফাইন্যান্সের প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, ইসলামিক আর্থিক পণ্যের কয়েকটি ক্যাটাগরি রয়েছে। সেগুলো হলো-

মুদারাবা: একজন অর্থ বিশেষজ্ঞ একজন গ্রাহককে বিশেষজ্ঞ বিনিয়োগ পরামর্শ দেন ও তারা সম্মত হারে যে কোনো মুনাফা ভাগাভাগি করে নেন।

মুশারাকা: এক বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব যাতে দুই বা আরও বেশি পক্ষ, যেমন ব্যাংক ও তার গ্রাহকরা, বিনিয়োগের মুনাফা ও ক্ষতি সম্মতহারে ভাগাভাগি করে নেন।

মুরাবাহা: আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পদ ক্রয় করে, যেমন বাড়ি বা গাড়ি এবং লাভের ভিত্তিতে কোনো গ্রাহকের কাছে তা বিক্রি করে। কিস্তি ভিত্তিতে মূল্য পরিশোধ করা হতে পারে।

ইজারা: আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পদ ক্রয় করে এবং কোনো গ্রাহকের কাছে নির্ধারিত ভাড়ার ভিত্তিতে লিজ প্রদান করে। ব্যাংক মালিকানা বজায় রাখে তবে শেষ পর্যন্ত মালিকানা গ্রাহককে হস্তান্তর করে।

সুকুক: একটি বন্ডের মতো, কিন্তু একজন সুকুক ক্রেতা লাভের জন্য বিনিয়োগকৃত অন্তর্নিহিত সম্পদের আংশিক মালিকানার অধিকারী হন।

বিশ্ব ইসলামিক অর্থনৈতিক ফোরাম ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আহমদ ফুজি আবদুল রাজাক বলেন, ব্যবসায়ে অনুমানের ধরনকে নিষিদ্ধকারী শারিয়া নীতি ঋণ সঙ্কটের কারণে যখন বিশ্ব আর্থিক বাজার কম্পিত হয় তখন ইসলামিক অর্থায়ন পণ্যের কম দুর্বলতা নিশ্চিত করে।

তিনি বলেন, যে সঙ্কটের সৃষ্টি হয় তা অত্যধিক জল্পনা-কল্পনার কারণে যা ক্ষতিকর। ইসলামিক ফাইন্যান্স এ ধরনের ফাঁদ পরিহার করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এখনও মুসলিম বিশ্বের বাইরের তাদের সম্পৃক্ততা বিক্ষিপ্ত। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া ইসলামিক আর্থিক সম্পদের প্রধান অংশের যোগানদাতা।

ডিলজিকের করা গবেষণার উপাত্ত থেকে দেখা যায়, সার্বভৌম সুকুক ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ১১.৮৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া সংগ্রহ করেছে ৩.৯৬ বিলিয়ন ডলার।

গত দশকে ইসলামিক আর্থিক সম্পদ বার্ষিক ১০ থেকে ১২ শতাংশ করে বৃদ্ধি পেয়ে ২ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে। কিন্তু আইএমএফ’র মতে, তা বিশ্ব আর্থিক সম্পদের একটি ক্ষুদ্র অংশ, ১ শতাংশেরও কম।

বস্তুত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ইসলামি অর্থনীতি খাতের উন্নয়ন হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানিগুলো বিকল্প তহবিল সূত্র ও বৃহত্তর সংখ্যক বিনিয়োগকারী অন্বেষণ করার প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের মধ্যে আরও সম্প্রসারিত হয়ে এ শিল্পের আকার ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।

-অন ইসলাম অবলম্বনে

আপনার মতামত লিখুন :

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা
মসজিদে হারামে নামাজ আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: হজপালন শেষে মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা মক্কার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে হারামে আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করে কাটাচ্ছেন।

মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা উমরার নিয়ত করলে তাদের ইহরাম বাধার জন্য যেতে হয় আয়েশা মসজিদে। সেখানে যেয়ে (ইহরাম আগেও পড়া যায় মসজিদে আয়েশাতে যেয়েও অনেকে পরিধান করেন) দুই রাকাত নামাজ পড়ে তালবিয়া (লাব্বাইক .... ) পড়ে কাবা শরিফে এসে উমরার সব নিয়মনীতি পালন করেন।

মসজিদটি মক্কার তানঈম এলাকায় অবস্থিত। এটাকে মসজিদে তানঈমও বলা হয়। হেরেম এলাকার বাইরে এটি মক্কা থেকে সর্বাধিক নিকটবর্তী স্থান। মক্কা থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে মক্কা-মদিনা রোডে আল হিজরা এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদ। রাতদিন ২৪ ঘণ্টা এখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392961853.jpg

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে উমরা করেছিলেন। পরে সেখানে একটি বিশাল মসজিদ গড়ে উঠে। মসজিদটি ইসলামি শিল্পনৈপুণ্যের এক অনুপম নিদর্শন।

বিদায় হজের সময় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)কে তার ভাই হজরত আবদুর রহমান (রা.)-এর সঙ্গে হারামের বাইরে এখান থেকে উমরার ইহরাম বাঁধার জন্য পাঠিয়েছিলেন।

এ কারণে এখান থেকে মক্কাবাসীরা উমরার জন্য এখান থেকে ইহরাম বেঁধে থাকেন। বিদেশি হাজিরা এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে থাকেন। অবশ্য এটা নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মাঝে বিতর্ক আছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392972633.jpg

মক্কা থেকে এখানে আসতে বাস ভাড়া ৩ রিয়াল, আর ট্যাক্সি ভাড়া ৫ রিয়াল। সারাক্ষণ নফল উমরার ইহরামের জন্য আসা হাজিদের ভিড় থাকে মসজিদটিতে। বিশাল এই মসজিদের দু’টি মিনার ও একটি গম্বুজ অনেক দূর থেকে দেখা যায়। মসজিদটি খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত। মসজিদের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বিশাল জায়গা রয়েছে। রয়েছেন অজু ও নারীদের নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

হজ বা উমরাপালন করতে যারা বিমানযোগে সৌদি আরব আসেন তারা নিজ দেশ থেকে কিংবা নির্দিষ্ট মিকাত থেকে নিয়ত করেন। কিন্তু হজের পর উমরা করতে চাইলে উত্তম হলো- নির্দিষ্ট মিকাতে যেয়ে উমরার নিয়ত করা। এজন্য তায়েফ, রাবেক, মদিনা, আস-সাইরুল খাবির, আস-সাদিয়াত যেতে পারেন। এসব জায়গা থেকে আসার পথে মিকাত পড়বে। সেখান যথা নিয়মে উমরার নিয়ত করে উমরা আদায় করতে পারেন।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হচ্ছে, হজে গিয়ে বেশি বেশি তাওয়াফ করা। এটি সুন্নত এবং সবচেয়ে উত্তম কাজ। কাজেই যারা মক্কায় অবস্থান করেন, তারা বেশি করে তাওয়াফ করবেন এবং আল্লাহর ঘরে গিয়ে বেশি করে নফল নামাজ আদায় করবেন।

আরও পড়ুন: হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

আরও পড়ুন: হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র