Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ইসলামিক ফাইন্যান্স ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও জনপ্রিয় হচ্ছে

ইসলামিক ফাইন্যান্স ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও জনপ্রিয় হচ্ছে
ইসলামিক ফাইন্যান্স ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও জনপ্রিয় হচ্ছে, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতেই শুধু ইসলামিক ফাইন্যান্সের প্রাধান্য রয়েছে। কিন্তু এখন বাকি বিশ্বের বেশিরভাগই ইসলামিক ফাইন্যান্সে সম্পৃক্ত হচ্ছে। অধিকতর সুস্থির বাজার পরিস্থিতি ও উন্নত নিয়ন্ত্রণমূলক প্রেক্ষাপটের ধারণা থেকে অমুসলিম দেশগুলো কর্তৃক ইসলামি ঋণ প্রদান ২০১৭ সালে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পায়।

ইসলামি আর্থিক পণ্য শারিয়া বা ইসলামি আইন মেনে চলে। আর তা ঝুঁকি ও মুনাফা ভাগাভাগির নীতিভিত্তিক। শরিয়া গ্রাহককে দেওয়া ঋণের ওপর সুদ গ্রহণ বন্ধ এবং অ্যালকোহল শুকরের মাংস, পর্নোগ্রাফি ও জুয়া সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অর্থায়ন নিষিদ্ধ করেছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিলজিকের উপাত্ত অনুযায়ী অমুসলিম দেশগুলো কর্তৃক মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বাইরে ইস্যুকৃত সার্বভৌম সুকুক বা ইসলামিক বন্ডের মূল্য ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ২.২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটা ২০১৬ সালে দুই বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি এবং ২০১৫ সালে এক বিলিয়ন ডলারের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।

ইসলামি ব্যাংকিং বিশ্ব ব্যাংকিংয়ের উপেক্ষিত প্রান্ত থেকে উত্থিত হয়ে বিশ্বের বিরাট অংশের ক্রমবর্ধমান অর্থায়নের উৎস হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুকুক বিক্রয়কারী ঋণগ্রহীতাদের তালিকা দীর্ঘতর হয়েছে। এ খাতে প্রবেশ করা প্রথম অমুসলিম দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুর। তারপর আসে যুক্তরাজ্য, লুক্সেমবার্গ ও হংকংয়ের নাম। তারা ২০১৪ সালে তাদের প্রথম সুকুক ইস্যু করে। আফ্রিকার দেশগুলো যেমন দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া ও আইভরি কোস্ট আইন ও কর নীতি পরিবর্তন করে ঋণ গ্রহীতাদের জন্য সুকুক ইস্যু সহজ করেছে।

বিশ্বের নামকরা আর্থিক কোম্পানিগুলোও এ ব্যাপারে পিছিয়ে নেই। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন কান্ট্রি গার্ডেন ও বেইজিং এন্টারপ্রাইজেস ওয়াটার গ্রুপ তাদের মালয়েশিয়ান অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে যথাক্রমে ২০১৫ ও ২০১৭ সালে ইসলামিক বন্ড ইস্যু করে। কোম্পানিগুলো এসব আয় দিয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক আর্থিক সঙ্কট সরকার ও কোম্পানিগুলোকে তাদের অর্থায়ন সুযোগকে বহুমুখি করতে উৎসাহিত করেছে। প্রচালিত ব্যাংক ব্যবস্থায় ইসলামি ফাইন্যান্সকে অধিকতর স্থিতিশীল বিকল্প হিসেবে দেখা হয়।

মালয়েশিয়ার ঋণ হার নির্ধারণ সংস্থা আর এ এম’র পরিচালক ইসলামিক ফাইন্যান্সের প্রধান রুসলেনা রামলি এ বিষয়ে বলেন, টেকসই ও দায়িত্বশীল বিনিয়োগের জোরালো আবেদন ইসলামিক ফাইন্যান্সের প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, ইসলামিক আর্থিক পণ্যের কয়েকটি ক্যাটাগরি রয়েছে। সেগুলো হলো-

মুদারাবা: একজন অর্থ বিশেষজ্ঞ একজন গ্রাহককে বিশেষজ্ঞ বিনিয়োগ পরামর্শ দেন ও তারা সম্মত হারে যে কোনো মুনাফা ভাগাভাগি করে নেন।

মুশারাকা: এক বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব যাতে দুই বা আরও বেশি পক্ষ, যেমন ব্যাংক ও তার গ্রাহকরা, বিনিয়োগের মুনাফা ও ক্ষতি সম্মতহারে ভাগাভাগি করে নেন।

মুরাবাহা: আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পদ ক্রয় করে, যেমন বাড়ি বা গাড়ি এবং লাভের ভিত্তিতে কোনো গ্রাহকের কাছে তা বিক্রি করে। কিস্তি ভিত্তিতে মূল্য পরিশোধ করা হতে পারে।

ইজারা: আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পদ ক্রয় করে এবং কোনো গ্রাহকের কাছে নির্ধারিত ভাড়ার ভিত্তিতে লিজ প্রদান করে। ব্যাংক মালিকানা বজায় রাখে তবে শেষ পর্যন্ত মালিকানা গ্রাহককে হস্তান্তর করে।

সুকুক: একটি বন্ডের মতো, কিন্তু একজন সুকুক ক্রেতা লাভের জন্য বিনিয়োগকৃত অন্তর্নিহিত সম্পদের আংশিক মালিকানার অধিকারী হন।

বিশ্ব ইসলামিক অর্থনৈতিক ফোরাম ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আহমদ ফুজি আবদুল রাজাক বলেন, ব্যবসায়ে অনুমানের ধরনকে নিষিদ্ধকারী শারিয়া নীতি ঋণ সঙ্কটের কারণে যখন বিশ্ব আর্থিক বাজার কম্পিত হয় তখন ইসলামিক অর্থায়ন পণ্যের কম দুর্বলতা নিশ্চিত করে।

তিনি বলেন, যে সঙ্কটের সৃষ্টি হয় তা অত্যধিক জল্পনা-কল্পনার কারণে যা ক্ষতিকর। ইসলামিক ফাইন্যান্স এ ধরনের ফাঁদ পরিহার করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এখনও মুসলিম বিশ্বের বাইরের তাদের সম্পৃক্ততা বিক্ষিপ্ত। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া ইসলামিক আর্থিক সম্পদের প্রধান অংশের যোগানদাতা।

ডিলজিকের করা গবেষণার উপাত্ত থেকে দেখা যায়, সার্বভৌম সুকুক ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ১১.৮৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া সংগ্রহ করেছে ৩.৯৬ বিলিয়ন ডলার।

গত দশকে ইসলামিক আর্থিক সম্পদ বার্ষিক ১০ থেকে ১২ শতাংশ করে বৃদ্ধি পেয়ে ২ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে। কিন্তু আইএমএফ’র মতে, তা বিশ্ব আর্থিক সম্পদের একটি ক্ষুদ্র অংশ, ১ শতাংশেরও কম।

বস্তুত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ইসলামি অর্থনীতি খাতের উন্নয়ন হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানিগুলো বিকল্প তহবিল সূত্র ও বৃহত্তর সংখ্যক বিনিয়োগকারী অন্বেষণ করার প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের মধ্যে আরও সম্প্রসারিত হয়ে এ শিল্পের আকার ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।

-অন ইসলাম অবলম্বনে

আপনার মতামত লিখুন :

বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট ৪ জুলাই

বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট ৪ জুলাই
হজযাত্রীদের ফাইল ছবি

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চলতি মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইট আগামী ৪ জুলাই। ওই দিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিজি-৩০০১ ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যাবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মাহবুব আলী এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের বিদায় জানাবেন।

প্রথম দিনে হজ ফ্লাইট বিজি-৩১০১ সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে, বিজি-৩২০১ বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে, বিজি-৩৩০১ সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে এবং শিডিউল ফ্লাইট বিজি-০০৩৫ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে।

নির্ধারিত সময়ে, নির্বিঘ্নে হজ ফ্লাইট পরিচালনার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকেও চলতি বছর যথাক্রমে ১৯টি ও ৩টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন ধর্মপ্রাণ মানুষ পবিত্র হজব্রত পালনে সৌদি আরব যাবেন। চলতি বছর হজ ফ্লাইট ও শিডিউল ফ্লাইটে বিমানে যাবেন মোট ৬৩,৫৯৯ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭,১৯৮ ব্যালটি, অবশিষ্ট ৫৬,৪০১ নন-ব্যালটি হজযাত্রী যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।

এ বছর হজযাত্রীদের ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে পরিবহনের জন্য বিমানের ৪টি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিমানের নিয়মিত শিডিউল ফ্লাইটেও হজযাত্রীরা পবিত্র ভূমি জেদ্দায় যাবেন। ঢাকা থেকে জেদ্দা প্রতি ফ্লাইটের উড্ডয়নকাল হবে আনুমানিক ৭ ঘণ্টা।

দুই মাসব্যাপী হজ ফ্লাইট পরিচালনায় শিডিউল ফ্লাইটসহ মোট ৩৬৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যার মধ্যে ৩০৪ ‘ডেডিকেটেড’ এবং ৬১টি শিডিউল ফ্লাইট। ০৪ জুলাই থেকে ০৫ আগস্ট পর্যন্ত ‘প্রি-হজ্জ’-এ মোট ১৮৯ টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে (ডেডিকেটেড-১৫৭ এবং শিডিউল ৩২)। ‘পোস্ট-হজ্জ’-এ ১৪৭টি ফ্লাইট চলবে ১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (ডেডিকেটেড-১৪৭ এবং শিডিউল ২৯) এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মদিনা ১৮টি ও মদিনা থেকে বাংলাদেশে ১৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-জেদ্দা উভয় স্থানেই বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন করেছে।

প্রথমবারের মতো এ বছর কিছু ফ্লাইটের জেদ্দা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ঢাকা থেকেই সম্পন্ন করা হবে। এ উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের একটি ইমেগ্রেশন টিম ঢাকায় অবস্থান করবে। এ বছর বিমান হজযাত্রীদের উড়োজাহাজের সামনের অপেক্ষাকৃত বড় ও আরামদায়ক নিশ্চিত আসন নেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়ানওয়ে-তে ১০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকা এবং রির্টান যাত্রা (যাওয়া-আসা) ২০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকার বিধান রেখেছে।

এছাড়া হজযাত্রীদের টিকিট ক্রয় করার পর যাত্রার তারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রার ২৪ ঘণ্টা পূর্বে ২০০ মার্কিন ডলার এবং যাত্রার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রা পরিবর্তনের জন্য ৩০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বাড়তি মাশুল আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া নির্ধারিত ফ্লাইটে না গেলে ওই টিকিটের অর্থ ফেরতযোগ্য হবে না। বিমান কর্তৃক পরিচালিত ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটসমূহের চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা প্রতিবারের মতো এবারও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন আশকোনা হজ ক্যাম্পেই সম্পন্ন করা হবে।

চলতি বছর সৌদি সরকার নির্ধারিত বরাদ্দকৃত স্লটের বাইরে অতিরিক্ত কোন ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে।

প্রত্যেক হজযাত্রী বিনামূল্যে সর্বাধিক ২টি ব্যাগেজে ৪৬ কেজি মালামাল বিমানে এবং কেবিন ব্যাগেজে ৭ কেজি মালামাল সঙ্গে নিতে পারবেন। কোন অবস্থাতেই প্রতি ব্যাগেজের ওজন ২৩ কেজির বেশি হবে না। প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য ৫ লিটার জমজমের পানি ঢাকা/চট্টগ্রাম/সিলেট নিয়ে আসা হবে এবং প্রত্যেক হাজিকে ঢাকা/চট্টগ্রাম/সিলেট ফেরৎ আসার পর তা’ দেওয়া হবে। কোন অবস্থাতেই হাজিরা সঙ্গে করে বিমানে পানি বহন করতে পারবেন না।

যেকোন ধারালো বস্তু যেমন-ছুরি, কাঁচি, নেইল কাটার, ধাতব নির্মিত দাঁত খিলন, কান পরিষ্কারক, তাবিজ ও গ্যাস জাতীয় বস্তু যেমন- অ্যারোসল এবং ১০০ মিলির বেশি তরল পদার্থ হ্যান্ড ব্যাগেজে বহন করা যাবে না এবং কোন প্রকার খাদ্য সামগ্রী সঙ্গে নেওয়া যাবে না। ব্যাগেজ স্যুটকেস অথবা ট্রলিব্যাগ হতে হবে। যে কোন অবস্থায় গোলাকৃত, দড়িবাঁধা ব্যাগ ইত্যাদি বিভিন্ন আকৃতির ব্যাগেজ গ্রহণযোগ্য হবে না।

১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ১০ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৪ জন হাজি হজপালনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবা নিয়েছেন।

একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’

একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’
একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’, ছবি: সংগৃহীত

হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হজপালনের মাধ্যমে মানুষ সদ্যভূমিষ্ঠ নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। হজপালনকারী নিজে জান্নাতে যাবেন এবং অন্যদের ব্যাপারে সুপারিশ করার ক্ষমতা পাবেন। এমন মর্যাদাসম্পন্ন ইবাদতটি সহিহ-শুদ্ধভাবে পালন করা জরুরি। অথচ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক হজপালনকারী এ বিষয়ে গুরুত্ব দেন না।

হজ পালন করা যেমন ফরজ, হজের মাসয়ালাসমূহ জানাও তেমনিভাবে ফরজ। পাশাপাশি আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা, কাবা শরিফের মহব্বত, মক্কা শরিফের প্রতি সম্মান, মদিনা শরিফের প্রতি আকর্ষণ এবং নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সর্বোচ্চ ইশ্ক নিয়ে হজ পালন করা দরকার।

হজপালনকারী হজপালনের উদ্দেশে নিজ ঘর থেকে বের হয়ে হজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে হজের প্রস্তুতিসহ মক্কা-মদিনায় যেসব সুবিধা-অসুবিধা, নতুন নতুন সংকট ও তার সমাধান কী সেগুলো বোঝার জন্য সহজবোধ্য করে বর্ণনা করা হয়েছে ‘জীবন্ত হজ্জ’ বইটিতে।
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে লেখক সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের হজ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিজেও হজপালন করে আসছেন। অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বইটি রচনা করেছেন।
জীবনে প্রথমবার যে হজপালন করবেন বইটি পড়লে হজের আমল পরিপালনের স্থানগুলো অনেকটা তার চোখের সামনে ভেসে উঠবে। এমন কিছু খুঁটিনাটি বিষয় এ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সাধারণত হজ গাইডে উল্লেখ করা হয় না।

এক কথায়, ঘর থেকে বের হয়ে পুনরায় ফিরে আসা পর্যন্ত প্রতিটি স্থানের করণীয় ও দলিলনির্ভর মাসয়ালাসহ হজের পূর্ণাঙ্গ দিক-নির্দেশনা সম্বলিত বই ‘জীবন্ত হজ্জ’।

বইটির লেখক মুফতি অহিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে উত্তরার মসজিদ আল-মাগফিরাহ-তে খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সঙ্গে জামিয়া ইমাম বুখারী ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল।

বইটিতে শুধু হজ-উমরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করা হয়নি। ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে- মসজিদুল হারামে নামাজের ফজিলত, হজের প্রস্তুতির নানাদিক, হজের সফরে যে সামগ্রীগুলো প্রয়োজন, ইহরাম বাঁধার আগে করণীয়, ইহরাম বাঁধার নিয়ম-পদ্ধতি, বিমানবন্দরে উপস্থিতি ও করণীয়, মক্কা শরিফ পৌঁছে কী কী করবেন, কিভাবে উমরার তাওয়াফ করবেন, তাওয়াফ করা অবস্থায় কোন কোন কাজ বেয়াদবি, হজের মূল পাঁচদিনের আমলসমূহ, মিনা-আরাফা ও মুজদালিফার আমলসমূহ, শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের বিধান, কোরবানি প্রসঙ্গ, ফরজ তাওয়াফসহ হজের বিধানগুলো বর্ণনা করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে লেখক উল্লেখ করেছেন, হজের সফরে কষ্ট হয় কেন? কোন স্থানে ঝগড়া হয়, অজ্ঞতাবশত ও আবেগতাড়িত হয়ে যে ভুলগুলো হাজিরা করে থাকেন, নারীদের হজের মাসয়ালা, বদলি হজের বিধান ও ফজিলত, যেসব কারণে হজের কাজা ওয়াজিব হয়, মক্কা-মিনা-আরাফা ও মুজদালিফায় নামাজের বিধান, মক্কায় দোয়া কবুলের স্থানসমূহ, মক্কার ঐতিহাসিক জায়গার বিবরণ, মদিনা শরিফের মর্যাদা, মসজিদে নববীর পরিচিতি ও জিয়ারতে মদিনার বিধান, মদিনায় করণীয়, মসজিদে নববীতে প্রবেশের নিয়ম, রওজাতুল জান্নাহতে প্রবেশের বিধান, রওজা শরিফে সালাম পেশ করার তরিকা, অন্যের সালাম কিভাবে দেবেন, মসজিদে নববীতে নামাজের ফজিলত, হজের পরিভাষা ও হজ থেকে ফিরে এসে কিভাবে চলবেন সেসব বিষয় অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বইটিতে।

এক কথায় বইটি হজযাত্রীদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বইটি নির্ভরযোগ্য ও প্রাণবন্ত। আমরা এর বহুল প্রচার কামনা করি।

বই: জীবন্ত হজ্জ
লেখক: মুফতি অহিদুল আলম
প্রথম প্রকাশ: জুলাই ২০১৭
প্রকাশনায়: ইমাম বুখারী রহ. ট্রাস্ট, বাড়ী- ৯, রোড-৯৯/বি, সেক্টর-৫, উত্তরা, ঢাকা
মূল্য: ২০০ (দুইশত) টাকা মাত্র।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র