Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

শবেকদর প্রাপ্তির মাধ্যম

শবেকদর প্রাপ্তির মাধ্যম
মুসলিম জীবনে লাইলাতুল কদর অতিপুণ্যময় ও অনন্য এক রাত, ছবি: সংগৃহীত
মাওলানা আবদুল জাব্বার
অতিথি লেখক
ইসলাম
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মুসলিম জীবনে লাইলাতুল কদর অতিপুণ্যময় ও অনন্য এক রাত। মর্যাদাময় এ রাতটিতে রয়েছে শান্তি, সান্ত¡না এবং সার্বিক কল্যাণ। এ রজনী ভাস্বর হয়ে আছে পবিত্র কোরআন নাজিলের মহিমায়, ভাস্বর হয়ে থাকবে স্বল্প সময়ে অধিক পুণ্য লাভের নিশ্চয়তায়। এ রাতের সম্মানে পবিত্র কোরআনে ‘সূরা কদর’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা অবতীর্ণ হয়েছে।

লাইলাতুল কদরের অর্থ
‘লাইলাতুন’ শব্দের অর্থ রাত। ‘কদর’ শব্দের অর্থ পরিমাপ, পরিমাণ, নির্ধারণ ও ভাগ্য নিরূপণ। ‘কদর’ থেকেই ‘তাকদির’ শব্দ। অবশ্য কদর শব্দের অন্য অর্থ সম্মান, গৌরব, মর্যাদা ও মহিমা। সুতরাং ‘লাইলাতুল কদর’ মহিমান্বিত রজনী, সম্মানিত রাত্রি, ভাগ্য নিরূপণ, বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ রজনী অর্থে সাধারণত ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সাহাবি হজরত আবুবকর আররাক (রা.) বর্ণনা করেন, এ রাতকে এ জন্য লাইলাতুল কদর বলা হয় যে, যে ব্যক্তি ইতিপূর্বে কোনো ইবাদত-বন্দেগি করে কদর বা সম্মানের অধিকারী হয়নি, সে ব্যক্তি এ রাতে তওবা-ইস্তিগফার করে ইবাদত-বন্দেগি করলে কদর বা সম্মানের অধিকারী হতে পারবেন।

লাইলাতুল কদরের উৎপত্তি
ইবনে জারির (রহ.)-এর বর্ণনায় আছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) একবার ইসরাঈল গোত্রের জনৈক ইবাদতকারী সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, তিনি একাধারে এক হাজার মাস যাবত সারারাত ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং সকাল হলেই জেহাদে বের হয়ে যেতেন। মুসলমানরা এ কথা শুনে বিস্মিত হন ও আফসোস করতে থাকেন। তখন আল্লাহতায়ালা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উম্মতের জন্য শুধু এক রাত্রির ইবাদতকেই ওই ইবাদাতকারীর এক হাজার মাসের ইবাদত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন করে এ রাত প্রদান করেন। -তাফসিরে মাজহারি

কদর কোন রাতে
পবিত্র কোআনের সুস্পষ্ট বর্ণনায় আছে, লাইলাতুল কদর রমজান মাসেই। তবে কবে? এটা নিয়ে ইসলামি স্কলারদের একাধিক মতামত পরিলক্ষিত হয়। তাফসিরে মাজহারির বর্ণনা মতে, ‘এ রাত রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের মধ্যে আসে। কিন্তু এরও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই।’ সহিহ হাদিসে রেওয়ায়েত মতে রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘লাইলাতুল কদরকে রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে তালাশ করো।’ –সহিহ বোখারি

মহান আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের রমজানের শেষ ১০ দিন অধিক ইবাদত করার প্রতি আকৃষ্ট করার জন্যই মূলত লাইলাতুল কদরকে গোপন রেখেছেন। তারপরও অধিক সম্ভাব্য রাত হিসেবে ২৬ রোজার দিবাগতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: পবিত্র শবেকদর: শান্তি ও সার্বিক কল্যাণের রাত

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) গণিত সূত্র দিয়ে এর অধিক সম্ভাব্যতা প্রমাণ করেছেন। যেমন, সূরা কদরে লাইলাতুল কদর শব্দটি তিনবার উল্লেখ আছে। আরবি বর্ণমালা অনুযায়ী লাইলাতুল কদর লিখতে ৯টি অক্ষরের প্রয়োজন হয়। ৩ কে ৯-এর সঙ্গে গুণ করলে গুণফল ২৭ হয়। এ হিসেবে লাইলাতুল কদর রমজানের ২৭ তারিখ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

লাইলাতুল কদরের ইবাদত
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) যেভাবে এ রাত কাটাতেন এর পূর্ণ অনুসরণ করাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য প্রথমত নিজে রাত জেগে ইবাদত করা এবং পরিবারের সদস্য ও অধীনস্থদের ইবাদতে উদ্বুদ্ধ করা। এ লক্ষ্যে নিম্নবর্ণিত আমলগুলো করা যেতে পারে।

কোরআন তেলাওয়াত
কোরআনে কারিম তেলাওয়াত। এ রাতে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। মানবজাতির এই বিরাট নিয়ামতের কারণেই এ রাতের এত মর্যাদা ও ফজিলত। এই কোরআনকে ধারণ করলেই মানুষ সম্মানিত হবে, একটি দেশ ও জাতি মর্যাদাবান হবে; গোটা জাতির ভাগ্য বদলে যাবে। কাজেই এ রাতে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে। কোরআনের বিধান এবং শিক্ষাকে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠার শপথ গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কোরআনের গভীর অধ্যয়ন আমাদের সৌভগ্যের দ্বার খুলে দেবে।

নফল নামাজ
এ রাতে নফল নামাজ ন্যূনতম আট রাকাত থেকে যত সম্ভব পড়া যেতে পারে। এ জন্য সাধারণ সুন্নতের নিয়মে ‘দুই রাকাত নফল পড়ছি’ এ নিয়তে নামাজ শুরু করে শেষ করতে হবে। এ জন্য সূরা ফাতেহার সঙ্গে আপনার জানা যেকোনো সূরা মেলালেই চলবে। বাজারে প্রচলিত কিছু বইতে ৩৩ বার সূরা কদর, ৩৩ বার সূরা ইখলাস ইত্যাদি উল্লেখ করে অহেতুক জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। বরেণ্য ইসলামি স্কলাররা এগুলো জরুরি মনে করেন না। এ ছাড়া সালাতুল হাজত ও সালাতুত তাসবিহ নামাজও আপনি পড়তে পারেন। নফল নামাজের সিজদার মধ্যে তাসবিহ পাঠ শেষে দোয়া করা। কেননা, সেজদাবনত অবস্থায় মানুষ তার রবের অতি নিকটে চলে যায়। ফলে তখন দোয়া কবুল হয়।

জিকির ও দোয়া
হাদিসে যেসব দোয়া ও জিকিরের অধিক ফজিলতের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো থেকে পড়া যেতে পারে। ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) ও দরুদ আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়। কমপক্ষে ১০০ বার ইস্তেগফার ও ১০০ বার দরুদ পড়া যেতে পারে। হজরত আয়েশা (রা.)বলেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! যদি কোনো প্রকারে আমি জানতে পারি রাতটি লাইলাতুল কদর তাহলে কী দোয়া করব? জবাবে নবী করিম (সা.) বলেন, এই দোয়া পড়বে- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন, তুহিব্বুল আফওয়া ফা-ফু আন্নি।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি বড়ই মাফ করনেওয়ালা, মাফ করে দেওয়াই তুমি পছন্দ করো। অতএব, তুমি আমাদের গোনাহগুলো মাফ করে দাও। হজরত আয়েশা (রা.) কে শেখানো দোয়া আমরা আবেগের সঙ্গে বারবার পড়ব। এ রাতে কবুল হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে নিজ পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও জীবিত-মৃত ব্যক্তিদের জন্য সর্বোপরি দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে একাগ্রচিত্তে দোয়া করা।

আত্মসমালোচনা
আত্মসমালোচনা অর্থ আত্মবিচার। অর্থাৎ, আপনি নিজেই নিজের পর্যালোচনা করুন। জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোতে আল্লাহর কতগুলো হুকুম অমান্য করেছেন, আল্লাহর ফরজ ও ওয়াজিবগুলো কতটা পালন করেছেন এবং তা কতটা নিষ্ঠার সঙ্গে করেছেন, ইচ্ছা-অনিচ্ছায় কী কী বড় গোনাহ আপনি করে ফেলেছেন, আল্লাহর গোলাম হিসেবে দুনিয়ায় আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় আপনি কতটুকু ভূমিকা রেখেছেন- এগুলো ভাবুন। যা কিছু ভালো করেছেন তার জন্য আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করুন, আর যা হয়নি তার জন্য আল্লাহর ভয় মনে জাগ্রত করুন, ব্যর্থতার জন্য সত্যিকারের তওবা করুন। এ রাতে নীরবে-নিভৃতে কিছুটা সময় এ আত্মসমালোচনা করুন দেখবেন আপনি সঠিক পথ খুঁজে পাবেন। আত্মসমালোচনা মানুষের বিবেক জাগিয়ে তুলে।

আত্মসমালোচনা আত্মশুদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘হে ঈমানদার লোকেরা! আল্লাহতায়ালাকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত আগামীকালের জন্য (পরকাল) সে কী প্রেরণ করেছে, তা চিন্তা করা’ -সূরা হাশর: ১৮

লাইলাতুল কদরের ফজিলত
অগণিত ফজিলতপূর্ণ এ রাতটির কতিপয় ফজিলত নিম্নে বর্ণনা করা হলো- এ রাতের ফজিলত বর্ণনা করে এ রাতেই একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা অবতীর্ণ হয়েছে, যার নাম সূরাতুল কদর। এ রাতে ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। এ রাতে পৃথিবীতে অসংখ্য ফেরেশতা নেমে আসেন এবং তারা তখন দুনিয়ায় কল্যাণ, বরকত ও রহমত বর্ষণ করতে থাকেন। এ রাতে ইবাদতে লিপ্ত বান্দাদেরকে ফেরেশতারা জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তির বাণী শোনান। এ রাতে তওবা কবুল হয়, এ রাতে নফল নামাজ আদায় করলে মুমিনদের অতীতের সগিরা গোনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হয়। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াব লাভের আশায় কদরের রাতে নফল নামাজ আদায় ও রাত জেগে ইবাদত করে, আল্লাহতায়ালা তার ইতোপূর্বের যাবতীয় সগিরা গোনাহ ক্ষমা করে দেন।’ –সহিহ বোখারি ও মুসলিম

রাতটি চিহ্নিত করার কিছু আলামত
এ রাতকে চিহ্নিত করার কিছু আলামত হাদিস শরিফে পাওয়া যায়। যেমন রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না, আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ হবে। মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে, ইবাদত-বন্দেগিতে অধিক তৃপ্তি অনুভূত হবে। বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে। হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে, যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো। -সহিহ বোখারি ও মুসলিম

লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির উত্তম মাধ্যম
লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির সুবর্ণ সুযোগ হচ্ছে রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করা। নবী করিম (সা.) প্রতি রমজানের শেষ ১০ দিন নিয়মিত ইতিকাফ করতেন।

মুমিনদের জন্য লাইলাতুল কদর অত্যন্ত মঙ্গলময় এবং বরকতময় রাত। এক রাত ইবাদত করে এক হাজার মাসেরও অধিক সময়ের ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যাবে, এর চেয়ে বড় সুবর্ণ সুযোগ আর কী হতে পারে? তাইতো নবী করিম (সা.) বলেছেন, এ রাতের ইবাদত হতে বিমুখ ব্যক্তি সত্যিই হতভাগা। নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শবেকদর থেকে বঞ্চিত হয়েছে সে ব্যক্তি সর্ব প্রকার মঙ্গল থেকেই বঞ্চিত হলো। আর যে বঞ্চিত হলো প্রকৃতপক্ষে সে সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো।’ –নাসাঈ

আপনার মতামত লিখুন :

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি
হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে কাফা, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে ধূমপান নিষিদ্ধ। আর ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান মাকরুহ তথা চরম অবাঞ্ছিত কাজ। তারপরও মক্কায় দেখা যায় অনেকেই মসজিদে হারামের বাইরের চত্বরে ধূমপান করেন। রাস্তাঘাটেও ধূমপান করতে দেখা যায় অনেককে। এমনকি ইহরাম পরিহিত অনেককে মিনা, মুজাদালিফা ও আরাফাতের ময়দানে ধূমপান করতে দেখা গেছে।

ধূমপানের এমন ব্যাপকতা থেকে হজযাত্রীদের নিরুতসাহ করতে সৌদি আরবের তামাক, ধূমপান ও মাদক প্রতিরোধ সংস্থা ‘কাফা’ (The Tobacco and Narcotics Combat Charity Society-Kafa) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।

সংস্থাটি হজের আনুষ্ঠানিকতার জায়গাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র স্থাপন করে। সেখান থেকে ধূমপায়ীদের মাঝে ধূমপান বিরোধী প্রচারপত্র বিলির পাশাপাশি কাউন্সেলিং করানো হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ধূমপান ছাড়তে হজযাত্রীদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ দিয়ে থাকেন। ধূমপানের ক্ষতির বিষয়ে সচেতন করতে হাজিদের মাঝে পুস্তিকা, লিফলেট ও মিসওয়াক বিতরণ করা হয়। এভাবে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র থেকে এবার ১১ হাজার ৪৮০ ধূমপায়ীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

কাফার ক্লিনিকে সেবা নিতে এসে ধূমপানের বিপত্তি ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবগত হয়ে অনেকে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। চলতি হজ মৌসুমের ধূমপান ত্যাগীর সংখ্যা ৩১৩ জন। কাফার সেবাকেন্দ্র থেকে সেবা নিয়ে তার ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন।

মক্কায় ধূমপানের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি জন্য গঠিত কমিটির প্রধান আবু গাজালাহ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের দাতব্য মন্ত্রণালয়, হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাফা ধূমপান বিরোধী নানা কর্মসূচি প্রণয়ন করে থাকে। সেই সঙ্গে কাফা মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতসহ মক্কায় হজযাত্রীদের ধূমপান বিরোধী চিকিতসা দেয়।

চার বছর ধরে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

অবশ্য অনেক ধূমপায়ী পবিত্র হজপালন শেষে নিজ থেকেই ধূমপান ছেড়ে দেন। তাদের হিসাব এখানে আসেনি।

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু
মদিনা হাইওয়ে, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: পবিত্র হজপালন শেষে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে বাংলাদেশি হাজি বহনকারী বাস দুর্ঘটনায় ১ জন হাজি ঘটনাস্থলে ইন্তেকাল ও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া হাজির নাম নুরুল ইসলাম (৭০)। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী সদরে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টার দিকে মদিনা থেকে একশ' মাইল আগে ওয়াদি ফারা নামক স্থান বাসের চাকা বিস্ফোরণ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বাসটি উল্টে যায়। ওই বাসটিতে ৩৫ জন হাজি ছিলেন। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর। বাসের যাত্রীরা স্কাই ট্রাভেলসের মাধ্যমে সৌদি আরবে হজপালনের উদ্দেশ্যে আসেন।

আহতদের মদিনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন নারী ছাড়া বাকিদের অবস্থা উন্নতির দিকে। গুরুতর আহতদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

আহতদের ৮ জন মদিনা কিং ফাহাদ হাসপাতালে, মিকাত হাসপাতালে ৪ জন, উহুদ হাসপাতালে ২ জন, সৌদি-জার্মান হাসপাতালে ২ জন ও ইয়াতামা হাসপাতালে ২ জন চিকিতসাধীন রয়েছেন।

এদিকে হজপালনে সৌদি আরবে এসে শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত পর্যন্ত ৮১ জন হাজি ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৭১ জন, নারী ১০ জন। মারা যাওয়া হাজিদের ৭২ জন মক্কায়, ৮ জন মদিনায় ও ১ জন জেদ্দায় ইন্তেকাল করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র