Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

বন্ধের পথে বানিয়াচং তাজবিদুল কোরআন মাদরাসা

বন্ধের পথে বানিয়াচং তাজবিদুল কোরআন মাদরাসা
তাজবিদুল কোরআন মাদরাসায় পড়াশোনা করছেন শিক্ষার্থীরা, ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
হবিগঞ্জ
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সহিহ শুদ্ধভাবে পবিত্র কোরআন শিক্ষার বিশ্বস্ত ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান তাজবিদুল কোরআন মাদরাসা। এখানে কেরাতের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সদরের পাইকপাড়া খাকশীরি গ্রামে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি এখন ধ্বংসের মুখে। আর্থিক টানাপোড়ানের কারণে ভেঙে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। এ অবস্থায় সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতার বিকল্প দেখছেন না প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ।

১৯৮৫ সালে বানিয়াচং সদরের পাইকপাড়া খাকশীরি গ্রামে বিশিষ্ট কারি মো. সালাউদ্দিন দ্বীনি শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীদের সামান্য বেতন ও এলাকাবাসীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুদানে পরিচালিত হয়ে আসছে মাদরাসাটি। এই মাদরাসা থেকে দেশবরেণ্য অনেক কারি শিক্ষা নিয়েছেন। নিয়মিত শিক্ষার্থী ছাড়াও প্রতি রমজান মাসে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এই মাদরাসায় কেরাত প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন।

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা কারি সালাহউদ্দিনের মৃত্যুর পর তার ছেলে কারি মাওলানা রাফি উদ্দিন মাদরাসাটির হাল ধরেন। বর্তমানে ১৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আর তাদের পাঠদানের জন্য রয়েছে ১৩ জন শিক্ষক। এর মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী।

বর্তমানে নানা সমস্যা জর্জরিত গুরুত্বপূর্ণ এই মাদরাসাটি। জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে মাদরাসার ভবন। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে ক্লাসরুমে ভেসে যায়। শ্রেণি কক্ষের অভাবে কখনও খোলা আকাশের নিচে আবার কখনও অন্যত্র ঘর ভাড়া নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত করতে হচ্ছে। শিক্ষকদের বেতন নিয়মিত পরিশোধ করা সস্তব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে নূরানি বিভাগের শিক্ষক হাফেজ শফিউল ইসলাম বলেন, ‘মাদরাসাটির অবস্থা এখন করুণ। জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এছাড়া কখনও খোলা আকাশের নিচে আবার কখনও অন্য স্থানে ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।’

কেরাত বিভাগের শিক্ষক কারি আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আর্থিক দূরবস্থার কারণে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। একইসঙ্গে আমরা শিক্ষকরা সামান্য টাকা বেতনে এখানে চাকরি করছি। কিন্তু তাও ঠিকভাবে পাই না। ফলে আমাদেরকেও পরিবার-পরিজন নিয়ে খারাপ অবস্থা কাটছে।’
তিনি বলেন, ‘দ্বীন শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি-বেসরকারি অনুদানের বিকল্প নেই।’

কেরাত বিভাগের শিক্ষক কারি তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘৫০ জন নারী শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের জন্য নারী শিক্ষক মাত্র ৩ জন। ফলে পাঠাদানে অনেক সমস্যা হচ্ছে। আমরা আশা করব দ্বীন শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারসহ সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসবেন।’

এ ব্যাপারে মাদরাসার মুহতামিম কারি মাওলানা রাফি উদ্দিন বলেন, ‘মাদরাসাটি নিয়ে আমার বাবার অনেক স্বপ্ন ছিলো। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এই মাদরাসাটিতে একদিন পাঁচ তলা একটি ভবন হবে। কিন্তু তার স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। উল্টো অর্থের অভাবে মাদরাসাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি অন্য এক জায়গায় চাকরি করি। ওই চাকরিতে যে বেতন পাই তা দিয়ে পরিবার চালানোই দায় হয়ে গেছে। এর মধ্যে মাদরাসাটিতে অনুদান দেওয়া কমে গেছে। এ অবস্থা সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা না পেলে মাদরাসাটি একদিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' অর্থাৎ 'আমি উপস্থিত হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত।' সাদা দুই টুকরো কাপড় গায়ে জড়িয়ে বারবার এ ঘোষণায় আকাশ-বাতাস মুখর করে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মধ্য দিয়ে এবার হজপালন করলেন প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম। আরাফাতের ময়দানে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সফেদ-শুভ্র কাপড় পরে চোখে পানি নিয়ে মোনাজাত করেছেন হাজিরা জীবনের যাবতীয় পাপ মাফের জন্য।

এবার হজপালন করেছেন ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ জন। ২০১৮ সালে হজপালন করেছিলেন ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৭৫ জন। গতবারের তুলনায় এবার হজপালনকারীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৩১ জন বেশি। এবারের হজপালনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রী ছিলো- ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ জন, আর সৌদি আরবের হজপালনকারী ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৯ জন (সৌদি নাগরিক ২ লাখ ১১ হাজার ৩ জন, সৌদিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৬ জন)। এই বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীর মধ্যে পুরুষ হজযাত্রী ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৩৪ জন (শতকরা ৫৩ ভাগ), নারী হজযাত্রী ১১ লাখ ৪ হাজার ১৭২ জন (শতকরা ৪৭ ভাগ)। এবার ৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৩০ দম্পতি হজপালন করেছেন। হজযাত্রীরা আকাশ পথ, সড়ক পথ ও নৌ-পথ ব্যবহার করে হজপালন করতে সৌদি আরব এসেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় এশিয়া মহাদেশ শীর্ষে। আর দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া। এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে হজপালন করছেন ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী। বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮। বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে বয়স অনুযায়ী ৪১-৬০ বছর বয়সী যাত্রীর হার শকতরা ৩৪ ভাগ। আর লিঙ্গ অনুযায়ী পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ৬৩ ভাগ। বাংলাদেশ থেকে ঢাকা বিভাগের হজযাত্রী বেশি (শতকরা ৩৩ ভাগ) আর যাত্রী কম সিলেট বিভাগের (শতকরা ২ ভাগ)। হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শতকরা ৯ ভাগ চাকরিজীবির বিপরীতে শতকরা ৪০ ভাগ ব্যবসায়ী এবার হজ পালন করেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা হিসেবে শীর্ষ দশের অন্য দেশগুলো হলো- দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান (১ লাখ ৭৯ হাজার ২১০), তৃতীয় ভারত (১ লাখ ৭০ হাজার), পঞ্চম মিসর (১ লাখ ৮ হাজার), ষষ্ঠ ইরান (৮৬ হাজার ৫০০), সপ্তম তুরস্ক (৭৯ হাজার), অষ্টম নাইজেরিয়া (৭৯ হাজার), নবম আলজেরিয়া (৩৬ হাজার) ও দশম স্থানে রয়েছে মরক্কো (৩১ হাজার)।

উল্লেখিত দেশসমূহ বাদে অন্য দেশসমূহের হজযাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১০৬ জন।

এবারও হজ উপলক্ষে সৌদি সরকার ৫ রিয়াল মূল্যমানের ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছে। প্রথমবারের মতো আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া হজের খুতবা রেডিওর মাধ্যমের সরাসরি ৬টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়েছে। ওই ৬টি ভাষা হলো- ইংরেজি, চাইনিজ, উর্দু, ফার্সি, ফ্রান্স ও মালি। সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো ৫০ ভাষার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হজ অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয় হজপালনকারীদের মোবাইলে প্রতিদিন বিভিন্ন পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনামূলক প্রায় ৩২ লাখ এসএমএস পাঠিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র