Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

ভ্রমণের সময়ে রোজার বিধান

ভ্রমণের সময়ে রোজার বিধান
ভ্রমণকালীন সময়ে রোজার বিধান, ছবি: সংগৃহীত
মুফতি মাহফূযুল হক
অতিথি লেখক
ইসলাম
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাচীন যুগ থেকে বর্তমান যুগেও ভ্রমণ মানুষের জীবনের অতি প্রয়োজনীয় অংশ। দ্বীন প্রচার, অর্থ উপার্জন, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষকে ভ্রমণে বের হতে হয়। আবার মহান আল্লাহর কুদরতের বৈচিত্র্যতা নিজ চোখে দেখে ঈমান বাড়াতেও মানুষ ভ্রমণে বের হয়। যে কারণেই ভ্রমণ করা হোক, তা মানুষের জন্য সীমাহীন কষ্ট, অস্বস্তি ও বিড়ম্বনার কারণ। অত্যাধুনিক বিলাসী যানবাহনের ভ্রমণও কিন্ত কষ্টমুক্ত নয়। তাই ইসলাম মানুষের জন্য বিধানকে সহজ করতে যেয়ে প্রায় সবব্যাপারেই ভ্রমণের বিধান ভিন্ন রেখেছে।

যে ব্যক্তি ৮৭.৭৬ কিলোমিটার বা তার চেয়ে বেশি দূরে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে নিজের এলাকা ত্যাগ করেছে শরিয়তের পরিভাষায় সে মুসাফির। যতক্ষণ পর্যন্ত যে নিজ এলাকায় ফিরে না আসছে অথবা কোনো এলাকায় ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার ইচ্ছা না করছে ততক্ষণ পর্যন্ত সে মুসাফির বিবেচিত হবে।

মুসাফিরের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তবে সফর সমাপ্ত হওয়ার পর এ দিনগুলোর কাজা রোজা রাখতে হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তবে কেউ (রমজান মাসে) অসুস্থ থাকলে অথবা সফরে থাকলে অন্য সময় এ দিনগুলো পূরণ করবে। তোমাদের জন্য যা সহজ আল্লাহ তা চান। আর যা তোমাদের জন্য কষ্টকর তা তিনি চান না। যেন তোমরা সংখ্যাপূরণ কর এবং তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মহিমা গাও। তাহলেই তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারবে।’ -সূরা বাকারা: ১৮৫

খুব বেশি কষ্ট না হলে মুসাফিরের জন্য রমজান মাসে রোজা রাখাই উত্তম। কেননা, অন্য সময় কাজা রেখে সংখ্যাপূরণ করলেও রমজান মাসে ইবাদত আদায়ের বাড়তি বরকত তো আর পাওয়া যাবে না।

দিনের শুরু অংশে নিজ এলাকায় থাকা অবস্থায় রোজা শুরু করার পর সফরে যেয়ে সফরের অজুহাতে সে দিনের রোজা ভাঙা জায়েজ হবে না। তবে কেউ যদি ভেঙে ফেলে তবে শুধু কাজা ওয়াজিব হবে; কাফ্ফারা নয়।

আবার দিনের শুরু অংশে সফরে থাকা অবস্থায় রোজা না রাখার পর নিজ এলাকায় ফিরে আসলে সে দিনের অবশিষ্ট অংশে রমজানের মর্যাদা রক্ষার্থে পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে। যদিও পরবর্তীতে সেই দিনের কাজা করতে হবে। তবে কেউ যদি পানাহার করে তবে এতে কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না।

অতি দ্রুতগামী যানবাহনে পশ্চিম দিকে ভ্রমণ করার কারণে রোজাদারের জন্য দিন দীর্ঘ হবে। সেক্ষেত্রে ভ্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তার রোজাও দীর্ঘ হবে। রোজাদার বর্তমানে যে জায়গায় অবস্থান করছে সে জায়গার সূর্যাস্তের পরেই তাকে ইফতার করতে হবে। এতে ব্যত্যয়ের কোনো সুযোগ নেই। কেননা, আল্লাহর স্পষ্ট ঘোষণা, রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ কর। -সূরা বাকারা: ১৮৭

তবে দিন অস্বাভাবিক দীর্ঘ হওয়ার জন্য কেউ যদি রোজা কুলোতে না পারে, দেহের পানি শূন্যতায় তার মৃত্যুর আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠে তাহলে শরিয়ত তাকে রোজা ভাঙার অনুমতি দিয়েছে। পরে সে দিনের কাজা করে নেবে।

রমজান মাসে দেশ পরিবর্তন করার কারণে যদি রোজা ৩০টির বেশি হয়ে যায় তাহলেও বেশি রোজা রাখতে হবে। যেমন রমজান মাসের প্রথম দিকে পশ্চিমের এমন কোনো দেশে ছিলেন যেখানে চাঁদ দেখাগেছে ১/২ দিন আগে। রমজান মাসের শেষের দিকে আপনি চলে আসলেন পূর্বের কোনো দেশে। যেখানে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে ১/২ দিন পরে। এমতাবস্থায় আপনি যে দেশে অবস্থান করছেন সে দেশের মানুষের সাথে সাথে আপনাকেও বাড়তি রোজাগুলো রাখতে হবে এবং মানুষের সাথেই আপনাকে ঈদ করতে হবে।

আপবার বিপরীতে রমজান মাসে দেশ পরিবর্তনের কারণে যদি আপনার রোজা ২৯টির কম হয়ে যায় তাহলে বর্তমান দেশের মানুষের সাথেই আপনাকে ঈদ করতে হবে। ঈদের পরে কাজা রোজা রেখে ২৯ পূর্ণ করে নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

একসঙ্গে ৫৮ জনের জানাজা!

একসঙ্গে ৫৮ জনের জানাজা!
জানাজার নামাজের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: শুক্রবার (১৬ আগস্ট) মসজিদে হারামে ফজরের নামাজের পর দুইবারে ৫৮ জনের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদে হারামের এত সংখ্যক মানুষের নামাজে জানাজা একসঙ্গে আদায়ের ঘটনা আর ঘটেনি। ৫৮ জনের মধ্যে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন হাজি রয়েছেন।

মসজিদে হারামে প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজ শেষে ‘আস সালাতু আলাল আমওয়াতি ইয়ারহামু কুমুল্লাহ', অথবা 'আস সালাতু আলাল আমওয়াতি ওয়াল আতফালি ইয়ারহামু কুমুল্লাহ' বলে জানাজার নামাজের ঘোষণা দেওয়া হয়। 

চলতি হজ মৌসুমে ফরজ নামাজের পর একবার জানাজা শেষে দ্বিতীয়বার ঘোষণা দিয়ে আবার জানাজার নামাজ পড়া হচ্ছে। এটা নিয়ে এক ধরণের কৌতূহল কাজ করছে। এ বিষয়ে খোজ নিয়ে জানা গেছে, জানাজার জন্য আসা লাশের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে দুইবার জানাজা পড়তে হচ্ছে। শুক্রবার ফজরের নামাজের পরও দু'বার ঘোষণা দিয়ে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566023261620.jpg

 

হজযাত্রী এবং মক্কার আশপাশের এলাকার স্থানীয় সৌদি নাগরিক কিংবা কোনা প্রবাসী মারা গেলে তাদের জানাজা মসজিদে হারামে অনুষ্ঠিত হয়। হজযাত্রীরা ফরজ নামাজের পর সঙ্গে সঙ্গে সুন্নত নামাজ শুরু না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন জানাজার জন্য, এটাই রীতি।

হজপালন করতে এসে কোনো হজযাত্রী হোটেল, বাড়ি কিংবা রাস্তায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অথবা হাসপাতালে মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয় না। তবে লাশ দেশে না পাঠালেও মৃত্যুবরণকারী হাজির মৃত্যুর সনদ যথাসময়ে তাদের পরিবার বা তাদের প্রতিনিধি কিংবা এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মরদেহের গোসল করানো, কাফন পরানো, জানাজা পড়ানো ও দাফন করাসহ যাবতীয় কাজ নির্দিষ্ট বিভাগ করে থাকে। মক্কার রুশাইফায় রয়েছে লাশের গোসল ও কাফন পরানোর ব্যবস্থা। হজপালনকারীদের লাশ বহন করার জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশের এখানে কোনো কিছু করতে হয় না।

মসজিদে হারামে জানাজার জন্য লাশ গাড়িতে করে কাবা শরিফের দক্ষিণে নবী করিম (সা.)-এর জন্মস্থানের পাশে বাবে ইসমাইলের কাছে রাখা হয়। ফরজ নামাজের পর ইমাম সাহেব লাশ রাখার স্থানে এসে জানাজার নামাজ পড়ান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566023327139.jpg

 

আরবদের মাঝে লাশ বহরকারী খাটিয়া কাঁধে নেওয়ার আগ্রহ অনেক। এটা তাদের একটি বিশেষ গুণ। এটাকে তারা সৌভাগ্য মনে করে। এজন্য লাশ পরিচিত হওয়া জরুরি নয়।

পবিত্র হাদিসের ভাষ্যমতে, জানাজার নামাজ আদায় করলে উহুদ পর্বত সমান সওয়াব ব্যক্তির আমলনামায় যোগ হয়। জানাজার নামাজ আদায় করা- ‘ফরজে কেফায়া।’ অর্থাৎ সমাজের কিছু মানুষ তা আদায় করলে সবাই দায়িত্ব থেকে মুক্তি লাভ করেন। আর কেউ যদি এই কাজ না করেন, তাহলে সবাই পাপের ভাগীদার।

ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে ‘জানাজার নামাজ’ বলে যে ইবাদতটি পরিচিত, আরব দেশের জনগণ সেটিকে ‘সালাত আলাল মাইয়্যেত’ বা মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া বলে থাকেন। জানাজার নামাজ মূলতঃ মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা।

এক হাদিসের মর্মার্থ হলো- জানাজা মুসলমানের অন্যতম হক। এতে অংশ নিলে পরকালের কল্যাণ লাভের সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানের অধিকার সংরক্ষণের মতো মহৎ একটি কর্ম সম্পাদিত হয়।

 

আরও পড়ুন, হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু

হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু

হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু
দেশে ফিরতে এয়াপোর্টে যাচ্ছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: শুরু হচ্ছে হজের ফিরতি ফ্লাইট। শনিবার (১৭ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া হজের ফিরতি ফ্লাইট চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের হাজিরা দেশে ফিরবেন। এবার ১ লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন বাংলাদেশি হজপালনের জন্য সৌদি আরব এসেছেন। হজপালনে এসে সৌদি আরবে শনিবার পর্যন্ত ৮১ জন ইন্তেকাল করেছেন।

৪১৯ জন হাজি নিয়ে সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় ঢাকার উদ্দেশে জেদ্দা ছেড়ে যাবে বিমানের বিজি৩৫২০ ফ্লাইট। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪০মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছার কথা রয়েছে। প্রথম দিন তিনটি ফিরতি ফ্লাইট রয়েছে।

আরও পড়ুন: ২৬ বছরের জমানো টাকায় হজ!

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইনসের ৩৬৫টি ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন বাংলাদেশি হাজিরা। জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হাজিদের সেবা দিতে কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566019669426.jpg

প্রত্যেক হাজি বিনা মূল্যে সর্বাধিক দুটি ব্যাগে ৪৬ কেজি মালামাল আনতে পারবেন। বিজনেস ক্লাসের জন্য সর্বাধিক দুটি ব্যাগে ৫৬ কেজি মালামাল বহন করতে পারবেন। কেবিন ব্যাগেজে ৭ কেজি মালামাল সঙ্গে রাখতে পারবেন। তবে কোনোভাবেই প্রতি পিস ব্যাগের ওজন ২৩ কেজি এবং বিজনেস ক্লাসে ২৮ কেজির বেশি হতে পারবে না।

আরও পড়ুন: হাজিরা মক্কা ছাড়তে শুরু করেছেন

বাংলাদেশের যাত্রীরা ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে এবং সৌদির যাত্রীরা জেদ্দা এয়ারপোর্ট থেকে ৫ লিটার জমজমের পানি বিনা মূল্যে নিতে পারবেন। সুতরাং মক্কা কিংবা জেদ্দা থেকে জমজমের পানি সংগ্রহের কোনো প্রয়োজন নেই। বিমানে পানির জন্য প্রত্যেককে একটি করে টোকেন দেওয়া হবে। পরে ওই টোকেন দেখিয়ে জমজমের পানি সংগ্রহ করতে হবে বিমান বন্দরের নিদিষ্ট কাউন্টার থেকে।

পবিত্র হজপালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে আসার সময় ৬০ হাজার হাজি মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভের আওতায় ঢাকায় প্রি-ডিপারচার এরাইভাল সুবিধা পেয়েছেন এবং তাদের লাগেজ নিজ নিজ হোটেলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ফিরতি ফ্লাইট মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভের আওতায় না থাকায় হাজিদেরকে তাদের লাগেজ নিজ দায়িত্বে বহন করতে হবে।

আরও পড়ুন: হজের খুতবা দেওয়া হয় যে মসজিদ থেকে

লাগেজসহ মক্কা থেকে হাজিদের জেদ্দা বিমান বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে মক্কা বাংলাদেশ হজ মিশন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র