Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

অন্যের বাসার খাবারে ‘ওদের’ সেহেরি-ইফতার

অন্যের বাসার খাবারে ‘ওদের’ সেহেরি-ইফতার
গঙ্গাচড়া দক্ষিণ হাবু হাফিজিয়া মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং, ছবি: বার্তা২৪.কম
ফরহাদুজ্জামান ফারুক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
রংপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

বছর চারেক আগে মাকে হারিয়েছে শিশু আরিফুল। তখন থেকেই মায়ের স্নেহবঞ্চিত আরিফুল মাদরাসায় পড়াশোনা করছে। আরবি প্রাথমিক শিক্ষা শেষে এখন কোরআনে কারিমের হাফেজ হওয়ার স্বপ্ন তার। আট বছর বয়সী এ শিশু নামাজ-রোজাও নিয়মিত আদায় করেন।

এই মাহে রমজানে বুক ভরা আনন্দ আর তৃপ্তি নিয়ে আরিফুল সেহেরি ও ইফতার করতে পারেন না। কারণ প্রতিদিনই তাকে অন্যের বাসার (লজিং) খাবারে সেহেরি ও ইফতার সারতে হয়। এতে বেশিরভাগ দিনেই ওর কপালে খুব সাদামাটা খাবার জোটে।

আরিফুলের মতো ছোট-বড় নানা বয়সী আরও ৩২ শিশু অন্যের বাসায় সেহেরি ও ইফতার করেন। তাদের ভাগ্যে সেহেরি ও ইফতারে ভালো খাবার খুবই কম জোটে। কারণ নদীবেষ্টিত গ্রামের সাধারণ মানুষরাই তাদের খাবারের ব্যবস্থা করে থাকেন।

মাদরাসায় এভাবেই একরুমে থাকতে ও পড়তে হয় তাদের, ছবি: বার্তা২৪.কম
মাদরাসায় এভাবেই একরুমে থাকতে ও পড়তে হয় তাদের, ছবি: বার্তা২৪.কম

রংপুর মহানগর থেকে অন্তত ১৩ কিলোমিটার দূরে তিস্তা নদীবেষ্টিত গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘন্টা ইউনিয়ন। এখানকার দক্ষিণ হাবু (কিসামত) হাফিজিয়া মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং এ আরিফুলের মতো অনেক অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের শিশুরা পড়ালেখা করছেন।

আধাপাকা টিনসেটে তৈরি এই মাদরাসায় ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৩৩ জন শিশু রয়েছে। এরা কায়দা, আমপারা ও কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা শিক্ষাও নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে রহমতুল্লাহ্ নামে একজন হাফেজে কোরআন সেখানে শিক্ষকতা করছেন।

সারা বছরের মতো রমজান মাসেও এই মাদরাসার ছাত্রদের অন্যের বাসায় গিয়ে খেয়ে আসতে হয়। তবে খুব দূরে কারও লজিং হলে, সেখান থেকে খাবার আগে-ভাগেই এনে রাখেন অনেকে।

আল-আমিন সাইফি নামের এক ছাত্র বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'আমাদের পরিবারে অভাব অনটন থাকায় লিল্লাহ্ বোডিংয়ে ভর্তি হয়েছি। এখানে পড়ালেখার মান ভালো। স্থানীয়রা থেকে শুরু করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সবাই আন্তরিক। ওনারাই আমাদের লজিংয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সেহেরি ও ইফতারের সময় আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খেয়ে আসি।'

আরেক ছাত্র শফিউল ইসলাম বার্তা২৪.কম বলেন, 'আল্লাহ্ রিজিকে যা রেখেছেন, তাই তো খেতে হবে। আমরা অন্যের বাসায় গিয়ে খাই কিন্তু রমজানের আনন্দ তৃপ্তি পাই না। আমরা ৩৩ জন একসাথে বসে খেতে পাই না। তবে কখনও কখনও মাদরাসায় বিভিন্নজনের দেওয়া ইফতার সবাই মিলে একত্রে খাই।'

২৮ বছরের পুরোনো দক্ষিণ হাবু (কিসামত) হাফিজিয়া মাদরাসা ও লিল্লাহ্ বোডিংটি এভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছে। গঙ্গাচড়া উপজেলাসহ লালমনিরহাট, নীলফামারী জেলার বিভিন্ন এলাকার এতিম, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের ছাত্ররা এখানে পড়ালেখা শিখছেন বলে জানান শিক্ষক হাফেজ রহমতুল্লাহ্।

স্থানীয় সমাজকর্মী ও সংগঠক মিজানুর রহমান লুলু বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'গ্রামবাসীর সহযোগিতায় মাদরাসাটি পরিচালিত হচ্ছে। এখানকার ছাত্রদের জন্য লজিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া রমজান মাসে বিভিন্নজনের পাঠানো খাবার দিয়ে ইফতার হয়ে থাকে।'

আপনার মতামত লিখুন :

একসঙ্গে ৫৮ জনের জানাজা!

একসঙ্গে ৫৮ জনের জানাজা!
জানাজার নামাজের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: শুক্রবার (১৬ আগস্ট) মসজিদে হারামে ফজরের নামাজের পর দুইবারে ৫৮ জনের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদে হারামের এত সংখ্যক মানুষের নামাজে জানাজা একসঙ্গে আদায়ের ঘটনা আর ঘটেনি। ৫৮ জনের মধ্যে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন হাজি রয়েছেন।

মসজিদে হারামে প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজ শেষে ‘আস সালাতু আলাল আমওয়াতি ইয়ারহামু কুমুল্লাহ', অথবা 'আস সালাতু আলাল আমওয়াতি ওয়াল আতফালি ইয়ারহামু কুমুল্লাহ' বলে জানাজার নামাজের ঘোষণা দেওয়া হয়। 

চলতি হজ মৌসুমে ফরজ নামাজের পর একবার জানাজা শেষে দ্বিতীয়বার ঘোষণা দিয়ে আবার জানাজার নামাজ পড়া হচ্ছে। এটা নিয়ে এক ধরণের কৌতূহল কাজ করছে। এ বিষয়ে খোজ নিয়ে জানা গেছে, জানাজার জন্য আসা লাশের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে দুইবার জানাজা পড়তে হচ্ছে। শুক্রবার ফজরের নামাজের পরও দু'বার ঘোষণা দিয়ে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566023261620.jpg

 

হজযাত্রী এবং মক্কার আশপাশের এলাকার স্থানীয় সৌদি নাগরিক কিংবা কোনা প্রবাসী মারা গেলে তাদের জানাজা মসজিদে হারামে অনুষ্ঠিত হয়। হজযাত্রীরা ফরজ নামাজের পর সঙ্গে সঙ্গে সুন্নত নামাজ শুরু না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন জানাজার জন্য, এটাই রীতি।

হজপালন করতে এসে কোনো হজযাত্রী হোটেল, বাড়ি কিংবা রাস্তায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অথবা হাসপাতালে মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয় না। তবে লাশ দেশে না পাঠালেও মৃত্যুবরণকারী হাজির মৃত্যুর সনদ যথাসময়ে তাদের পরিবার বা তাদের প্রতিনিধি কিংবা এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মরদেহের গোসল করানো, কাফন পরানো, জানাজা পড়ানো ও দাফন করাসহ যাবতীয় কাজ নির্দিষ্ট বিভাগ করে থাকে। মক্কার রুশাইফায় রয়েছে লাশের গোসল ও কাফন পরানোর ব্যবস্থা। হজপালনকারীদের লাশ বহন করার জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশের এখানে কোনো কিছু করতে হয় না।

মসজিদে হারামে জানাজার জন্য লাশ গাড়িতে করে কাবা শরিফের দক্ষিণে নবী করিম (সা.)-এর জন্মস্থানের পাশে বাবে ইসমাইলের কাছে রাখা হয়। ফরজ নামাজের পর ইমাম সাহেব লাশ রাখার স্থানে এসে জানাজার নামাজ পড়ান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566023327139.jpg

 

আরবদের মাঝে লাশ বহরকারী খাটিয়া কাঁধে নেওয়ার আগ্রহ অনেক। এটা তাদের একটি বিশেষ গুণ। এটাকে তারা সৌভাগ্য মনে করে। এজন্য লাশ পরিচিত হওয়া জরুরি নয়।

পবিত্র হাদিসের ভাষ্যমতে, জানাজার নামাজ আদায় করলে উহুদ পর্বত সমান সওয়াব ব্যক্তির আমলনামায় যোগ হয়। জানাজার নামাজ আদায় করা- ‘ফরজে কেফায়া।’ অর্থাৎ সমাজের কিছু মানুষ তা আদায় করলে সবাই দায়িত্ব থেকে মুক্তি লাভ করেন। আর কেউ যদি এই কাজ না করেন, তাহলে সবাই পাপের ভাগীদার।

ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে ‘জানাজার নামাজ’ বলে যে ইবাদতটি পরিচিত, আরব দেশের জনগণ সেটিকে ‘সালাত আলাল মাইয়্যেত’ বা মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া বলে থাকেন। জানাজার নামাজ মূলতঃ মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা।

এক হাদিসের মর্মার্থ হলো- জানাজা মুসলমানের অন্যতম হক। এতে অংশ নিলে পরকালের কল্যাণ লাভের সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানের অধিকার সংরক্ষণের মতো মহৎ একটি কর্ম সম্পাদিত হয়।

 

আরও পড়ুন, হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু

হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু

হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু
দেশে ফিরতে এয়াপোর্টে যাচ্ছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: শুরু হচ্ছে হজের ফিরতি ফ্লাইট। শনিবার (১৭ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া হজের ফিরতি ফ্লাইট চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের হাজিরা দেশে ফিরবেন। এবার ১ লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন বাংলাদেশি হজপালনের জন্য সৌদি আরব এসেছেন। হজপালনে এসে সৌদি আরবে শনিবার পর্যন্ত ৮১ জন ইন্তেকাল করেছেন।

৪১৯ জন হাজি নিয়ে সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় ঢাকার উদ্দেশে জেদ্দা ছেড়ে যাবে বিমানের বিজি৩৫২০ ফ্লাইট। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪০মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছার কথা রয়েছে। প্রথম দিন তিনটি ফিরতি ফ্লাইট রয়েছে।

আরও পড়ুন: ২৬ বছরের জমানো টাকায় হজ!

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইনসের ৩৬৫টি ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন বাংলাদেশি হাজিরা। জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হাজিদের সেবা দিতে কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566019669426.jpg

প্রত্যেক হাজি বিনা মূল্যে সর্বাধিক দুটি ব্যাগে ৪৬ কেজি মালামাল আনতে পারবেন। বিজনেস ক্লাসের জন্য সর্বাধিক দুটি ব্যাগে ৫৬ কেজি মালামাল বহন করতে পারবেন। কেবিন ব্যাগেজে ৭ কেজি মালামাল সঙ্গে রাখতে পারবেন। তবে কোনোভাবেই প্রতি পিস ব্যাগের ওজন ২৩ কেজি এবং বিজনেস ক্লাসে ২৮ কেজির বেশি হতে পারবে না।

আরও পড়ুন: হাজিরা মক্কা ছাড়তে শুরু করেছেন

বাংলাদেশের যাত্রীরা ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে এবং সৌদির যাত্রীরা জেদ্দা এয়ারপোর্ট থেকে ৫ লিটার জমজমের পানি বিনা মূল্যে নিতে পারবেন। সুতরাং মক্কা কিংবা জেদ্দা থেকে জমজমের পানি সংগ্রহের কোনো প্রয়োজন নেই। বিমানে পানির জন্য প্রত্যেককে একটি করে টোকেন দেওয়া হবে। পরে ওই টোকেন দেখিয়ে জমজমের পানি সংগ্রহ করতে হবে বিমান বন্দরের নিদিষ্ট কাউন্টার থেকে।

পবিত্র হজপালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে আসার সময় ৬০ হাজার হাজি মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভের আওতায় ঢাকায় প্রি-ডিপারচার এরাইভাল সুবিধা পেয়েছেন এবং তাদের লাগেজ নিজ নিজ হোটেলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ফিরতি ফ্লাইট মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভের আওতায় না থাকায় হাজিদেরকে তাদের লাগেজ নিজ দায়িত্বে বহন করতে হবে।

আরও পড়ুন: হজের খুতবা দেওয়া হয় যে মসজিদ থেকে

লাগেজসহ মক্কা থেকে হাজিদের জেদ্দা বিমান বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে মক্কা বাংলাদেশ হজ মিশন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র