Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘নিশ্চয়ই ব্যবসায়ীরা কিয়ামতের দিন পাপী হিসেবে উঠবে’

‘নিশ্চয়ই ব্যবসায়ীরা কিয়ামতের দিন পাপী হিসেবে উঠবে’
নিশ্চয়ই ব্যবসায়ীরা পাপী হিসেবে কিয়ামত দিবসে উঠবে, কিন্তু যারা আল্লাহকে ভয় করেছে, সৎ ও সত্যবাদী হিসেবে ব্যবসা করেছে তারা ব্যতীত, ছবি: সংগৃহীত
মাওলানা আবদুল জাব্বার
অতিথি লেখক
ইসলাম
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অর্থই সব অনর্থের মূল। ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ নিয়ে কারবার। একটু অসৎ হলে নগদ টাকা হাতে এসে যায় এ অর্থের লোভ ত্যাগ করা অনেক কষ্টকর। তাই নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই ব্যবসায়ীরা পাপী হিসেবে কিয়ামত দিবসে উঠবে, কিন্তু যারা আল্লাহকে ভয় করেছে, সৎ ও সত্যবাদী হিসেবে ব্যবসা করেছে তারা ব্যতীত।’ –সুনানে তিরমিজি

রমজান মাস আসে পরকালীন লাভের পাল্লা ভারী করতে। কিন্তু পরকাল বিমুখ, লোভী কিছু লোক রমজান মাসকে উপলক্ষ করে দুনিয়ার লাভের পাল্লা ভারী করার চেষ্টায় তৎপর হয়। পণ্য মজুদদারী, অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি করা, খাদ্যে ভেজাল দেওয়া, মিথ্যা শপথ করে পণ্য বিক্রি, মধ্যসত্ত্ব ভোগী তৎপরতা ইত্যাদি এ সময় বৃদ্ধি পায়।

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। ক্রয়-বিক্রয় তথা ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে রয়েছে ইসলামি বিধান। যেমন কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ইনসাফ মোতাবেক যথাযথভাবে ওজন করো এবং ওজনে কম দিও না।’ -সূরা রহমান: ৯

কোরআনে আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘হে জাতি! তোমরা পরিমাপ ও ওজন পরিপূর্ণভাবে ন্যায়সংগতভাবে কর, মানুষকে তাদের জিনিসপত্র কম দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ করো না, পৃথিবীতে ফাসাদ ছড়িয়ে দিও না।’ –সূরা হুদ: ৮৫

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অসংখ্য হাদিসে ক্রয়-বিক্রয়ের নীতিমালা বর্ণিত রয়েছে। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত একবার নবী (সা.) বিক্রির জন্য রাখা এক স্তুপ (খেজুর) খাদ্যের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন যেগুলো সুন্দরভাবে সাজানো ছিল। নবী করিম (সা.)-এর (স্তুপের) ভেতর হাত প্রবেশ করিয়ে দেখলেন ভেতরে ভেজা। নবী করিম (সা.) বিক্রেতাকে বললেন এরুপ কেন হলো? বিক্রেতা বলল বৃষ্টি হয়েছিল তাই। তিনি বললেন, ভেজাগুলো ওপরে রাখলেনা কেন? যেন মানুষ তা দেখতে পারে। যে ধোঁকা দেয় সে আমার উন্মত নয়। -সহিহ মুসলিম

নবী করিম (সা.) বলেন, তিন শ্রেণির লোকদের সঙ্গে কিয়ামত দিবসে আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র (ক্ষমা) করবেন না, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, হজরত আবু যর (রা.) বললেন, সে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রেণি কারা? নবী করিম (সা.) বললেন, টাখনুর নিছে কাপড় পরিধানকারী পুরুষ, উপকার করে খোটা দানকারী, মিথ্যা শপথ করে পণ্য বিক্রয়কারী। -সহিহ মুসলিম

নবী করিম (সা.) বলেছেন, সত্যবাদী ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিবসে নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের কাতারে অন্তর্ভুক্ত হবেন। -তিরমিজি

বর্ণিত কোরআনের আয়াত ও হাদিসের আলোকে আমাদের ব্যবসায়িক জীবন পরিচালনা করা উচিৎ। দুনিয়ার অস্থায়ী জীবনের সামান্য সময়ের অর্থ সম্পদ লাভের তুলনায় পরকালের পাথেয় সংগ্রহকে বেশি গুরুত্ব প্রদান প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য। কিন্তু আমাদের দেশে রমজান মাসে, কোরবানির ঈদের সব ধরনের পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়, এ জন্য গুদামজাত থেকে শুরু করে যা যা করা দরকার; তার সবই করেন।

মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে সৌদি আরব, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ বেশ কিছু মুসলিম দেশে রমজানে ব্যবসায়ীরা লাভের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে রমজানে দ্রব্যমূল্য কম থাকে। যে পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য আমরা অসৎভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছি। পরিবারের কোনো সদস্য কি আমার পাপের দায়ভার নেবে? অসৎ ব্যবসায়ের মাধ্যমে সম্পদের যে পাহাড় গড়ছি সে সম্পদ মৃত্যুর সময় আমার সংগী হবে বা আমার আদৌ কোনো উপকারে আসবে? ফরমালিন বা কেমিক্যাল ব্যবহারে মানুষ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে কষ্ট পেলে বা মৃত্যুবরণ করলে ফরমালিন, কেমিক্যাল মিশ্রণকারী হত্যাকারী হিসেবে অপরাধী হবে।

আল্লাহ পাক সবাইকে ইসলামি নির্দেশনা মেনে সততার সঙ্গে ব্যবসা করার তাওফিক দিন। অসৎ ব্যবসায়ের মহাপাপে পাপী হওয়া থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

আপনার মতামত লিখুন :

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি
হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে কাফা, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে ধূমপান নিষিদ্ধ। আর ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান মাকরুহ তথা চরম অবাঞ্ছিত কাজ। তারপরও মক্কায় দেখা যায় অনেকেই মসজিদে হারামের বাইরের চত্বরে ধূমপান করেন। রাস্তাঘাটেও ধূমপান করতে দেখা যায় অনেককে। এমনকি ইহরাম পরিহিত অনেককে মিনা, মুজাদালিফা ও আরাফাতের ময়দানে ধূমপান করতে দেখা গেছে।

ধূমপানের এমন ব্যাপকতা থেকে হজযাত্রীদের নিরুতসাহ করতে সৌদি আরবের তামাক, ধূমপান ও মাদক প্রতিরোধ সংস্থা ‘কাফা’ (The Tobacco and Narcotics Combat Charity Society-Kafa) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।

সংস্থাটি হজের আনুষ্ঠানিকতার জায়গাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র স্থাপন করে। সেখান থেকে ধূমপায়ীদের মাঝে ধূমপান বিরোধী প্রচারপত্র বিলির পাশাপাশি কাউন্সেলিং করানো হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ধূমপান ছাড়তে হজযাত্রীদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ দিয়ে থাকেন। ধূমপানের ক্ষতির বিষয়ে সচেতন করতে হাজিদের মাঝে পুস্তিকা, লিফলেট ও মিসওয়াক বিতরণ করা হয়। এভাবে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র থেকে এবার ১১ হাজার ৪৮০ ধূমপায়ীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

কাফার ক্লিনিকে সেবা নিতে এসে ধূমপানের বিপত্তি ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবগত হয়ে অনেকে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। চলতি হজ মৌসুমের ধূমপান ত্যাগীর সংখ্যা ৩১৩ জন। কাফার সেবাকেন্দ্র থেকে সেবা নিয়ে তার ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন।

মক্কায় ধূমপানের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি জন্য গঠিত কমিটির প্রধান আবু গাজালাহ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের দাতব্য মন্ত্রণালয়, হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাফা ধূমপান বিরোধী নানা কর্মসূচি প্রণয়ন করে থাকে। সেই সঙ্গে কাফা মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতসহ মক্কায় হজযাত্রীদের ধূমপান বিরোধী চিকিতসা দেয়।

চার বছর ধরে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

অবশ্য অনেক ধূমপায়ী পবিত্র হজপালন শেষে নিজ থেকেই ধূমপান ছেড়ে দেন। তাদের হিসাব এখানে আসেনি।

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু
মদিনা হাইওয়ে, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: পবিত্র হজপালন শেষে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে বাংলাদেশি হাজি বহনকারী বাস দুর্ঘটনায় ১ জন হাজি ঘটনাস্থলে ইন্তেকাল ও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া হাজির নাম নুরুল ইসলাম (৭০)। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী সদরে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টার দিকে মদিনা থেকে একশ' মাইল আগে ওয়াদি ফারা নামক স্থান বাসের চাকা বিস্ফোরণ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বাসটি উল্টে যায়। ওই বাসটিতে ৩৫ জন হাজি ছিলেন। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর। বাসের যাত্রীরা স্কাই ট্রাভেলসের মাধ্যমে সৌদি আরবে হজপালনের উদ্দেশ্যে আসেন।

আহতদের মদিনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন নারী ছাড়া বাকিদের অবস্থা উন্নতির দিকে। গুরুতর আহতদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

আহতদের ৮ জন মদিনা কিং ফাহাদ হাসপাতালে, মিকাত হাসপাতালে ৪ জন, উহুদ হাসপাতালে ২ জন, সৌদি-জার্মান হাসপাতালে ২ জন ও ইয়াতামা হাসপাতালে ২ জন চিকিতসাধীন রয়েছেন।

এদিকে হজপালনে সৌদি আরবে এসে শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত পর্যন্ত ৮১ জন হাজি ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৭১ জন, নারী ১০ জন। মারা যাওয়া হাজিদের ৭২ জন মক্কায়, ৮ জন মদিনায় ও ১ জন জেদ্দায় ইন্তেকাল করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র