Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

চাঁদপুর জেলায় মসজিদের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৪২টি

চাঁদপুর জেলায় মসজিদের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৪২টি
হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত
মনিরুজ্জামান বাবলু
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
চাঁদপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

চাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলা, ৭টি পৌরসভা, ৮৯টি ইউনিয়ন ও ১ হাজার ৩৬৫টি গ্রামে ২৫ লাখ মুসলমানের জন্যে ৪ হাজার ৮৪২টি মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদে সারা বছর ৫ ওয়াক্ত আজান ও নামাজ আদায় করা হলেও পবিত্র মাহে রমজানে মুসল্লিদের সমাগম বাড়ে।

নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে গ্রাম ও শহরের কিছু মসজিদে রয়েছে শীতাতপ (এসি) নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা। প্রতিটি মসজিদে রয়েছে একজন খতিব বা পেশ ইমাম ও একজন বা একাধিক মুয়াজ্জিন। এসব মসজিদের বেশিরভাগ ইমাম বা খতিব ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ও কওমি মাদরাসার আলেম।

চাঁদপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)-এর দেওয়া পরিসংখ্যান মতে, চাঁদপুর সদরে ৬৬৭টি, মতলব দক্ষিণে ৪৫৫টি, মতলব উত্তরে ৫৭৬টি, হাজীগঞ্জে ৬ ২৬টি, ফরিদগঞ্জে ৯৬০টি, কচুয়ায় ৮ ৭১টি, শাহরাস্তিতে ৪৩৩টি এবং হাইমচরে ২৫৪টি মসজিদ রয়েছে। অধিকাংশ মসজিদেই জুমার নামাজ হয়।

জেলার বিখ্যাত মসজিদগুলোর মধ্যে রয়েছে- হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ, অলিপুর শাহ আলমগীরী মসজিদ, আলীগঞ্জ মাদ্দাখা মসজিদ, চাঁদপুর পৌরসভায় বাইতুল আমিন মসজিদ, বেগম মসজিদ, চিশতিয়া মসজিদ, পুরাণ বাজার জামে মসজিদ, চেয়ারম্যান ঘাট বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদ, কালেক্ট্ররেট জামে মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড গোরে-এ গরীবা জামে মসজিদ, বাবুরহাট জামে মসজিদ, আবদুল করীম পাটওয়ারী জামে মসজিদ, বড়স্টেশন জামে মসজিদ, দাসাদী জামে মসজিদ ও কল্যান্দী জামে মসজিদ।

আলীগঞ্জ মাদ্দাখা মসজিদ
আলীগঞ্জ মাদ্দাখা মসজিদ ও মাজার, ছবি: বার্তা২৪.কম

ইফার দেওয়া তথ্য মতে, জেলার ১ হাজার ২৩৬টি মসজিদে রয়েছে শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম। মসজিদের ইমামরা সেখানে দ্বীনি শিক্ষাসহ শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত ও নৈতিক শিক্ষা দিয়ে থাকেন।

চাঁদপুর ইফার উপ-পরিচালক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের মাধ্যমে এ শিশু ও গণশিক্ষালয়ে শিশুরা নৈতিক শিক্ষা পাচ্ছে ও শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শিশু ঝরে পড়ারোধ হচ্ছে, পড়াশুনায় আগ্রহ বাড়াচ্ছে ও শুদ্ধভাবে কোরআন শিক্ষার সুযোগ লাভ করছে।’

চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগের উপ-নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব রহমান বলেন, ‘দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলায় ১টি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। জেলার মতলবের ছেঙ্গারচর উপজেলায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে নির্মিত হচ্ছে মডেল মসজিদ।’

আপনার মতামত লিখুন :

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা
মসজিদে হারামে নামাজ আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: হজপালন শেষে মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা মক্কার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে হারামে আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করে কাটাচ্ছেন।

মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা উমরার নিয়ত করলে তাদের ইহরাম বাধার জন্য যেতে হয় আয়েশা মসজিদে। সেখানে যেয়ে (ইহরাম আগেও পড়া যায় মসজিদে আয়েশাতে যেয়েও অনেকে পরিধান করেন) দুই রাকাত নামাজ পড়ে তালবিয়া (লাব্বাইক .... ) পড়ে কাবা শরিফে এসে উমরার সব নিয়মনীতি পালন করেন।

মসজিদটি মক্কার তানঈম এলাকায় অবস্থিত। এটাকে মসজিদে তানঈমও বলা হয়। হেরেম এলাকার বাইরে এটি মক্কা থেকে সর্বাধিক নিকটবর্তী স্থান। মক্কা থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে মক্কা-মদিনা রোডে আল হিজরা এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদ। রাতদিন ২৪ ঘণ্টা এখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392961853.jpg

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে উমরা করেছিলেন। পরে সেখানে একটি বিশাল মসজিদ গড়ে উঠে। মসজিদটি ইসলামি শিল্পনৈপুণ্যের এক অনুপম নিদর্শন।

বিদায় হজের সময় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)কে তার ভাই হজরত আবদুর রহমান (রা.)-এর সঙ্গে হারামের বাইরে এখান থেকে উমরার ইহরাম বাঁধার জন্য পাঠিয়েছিলেন।

এ কারণে এখান থেকে মক্কাবাসীরা উমরার জন্য এখান থেকে ইহরাম বেঁধে থাকেন। বিদেশি হাজিরা এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে থাকেন। অবশ্য এটা নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মাঝে বিতর্ক আছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392972633.jpg

মক্কা থেকে এখানে আসতে বাস ভাড়া ৩ রিয়াল, আর ট্যাক্সি ভাড়া ৫ রিয়াল। সারাক্ষণ নফল উমরার ইহরামের জন্য আসা হাজিদের ভিড় থাকে মসজিদটিতে। বিশাল এই মসজিদের দু’টি মিনার ও একটি গম্বুজ অনেক দূর থেকে দেখা যায়। মসজিদটি খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত। মসজিদের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বিশাল জায়গা রয়েছে। রয়েছেন অজু ও নারীদের নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

হজ বা উমরাপালন করতে যারা বিমানযোগে সৌদি আরব আসেন তারা নিজ দেশ থেকে কিংবা নির্দিষ্ট মিকাত থেকে নিয়ত করেন। কিন্তু হজের পর উমরা করতে চাইলে উত্তম হলো- নির্দিষ্ট মিকাতে যেয়ে উমরার নিয়ত করা। এজন্য তায়েফ, রাবেক, মদিনা, আস-সাইরুল খাবির, আস-সাদিয়াত যেতে পারেন। এসব জায়গা থেকে আসার পথে মিকাত পড়বে। সেখান যথা নিয়মে উমরার নিয়ত করে উমরা আদায় করতে পারেন।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হচ্ছে, হজে গিয়ে বেশি বেশি তাওয়াফ করা। এটি সুন্নত এবং সবচেয়ে উত্তম কাজ। কাজেই যারা মক্কায় অবস্থান করেন, তারা বেশি করে তাওয়াফ করবেন এবং আল্লাহর ঘরে গিয়ে বেশি করে নফল নামাজ আদায় করবেন।

আরও পড়ুন: হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

আরও পড়ুন: হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র