Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

উদ্বোধনের অপেক্ষায় আফ্রিকার বৃহৎ মসজিদ

উদ্বোধনের অপেক্ষায় আফ্রিকার বৃহৎ মসজিদ
দ্য গ্রেট মস্ক অব আলজিয়ার্স, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক


  • Font increase
  • Font Decrease

সুদানের পর আফ্রিকা মহাদেশের বৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র হলো আলজেরিয়া। এর ৪০.৬১ মিলিয়ন জনসংখ্যার প্রায় শতভাগ মুসলিম। সেই আলজেরিয়ায় দীর্ঘ সাত বছর এবং ১শ’ কোটি ডলার ব্যয়ে সম্পন্ন হলো- নতুন মসজিদের নির্মাণ কাজ। মসজিদটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য গ্রেট মস্ক অব আলজিয়ার্স।’

মসজিদটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। প্রথম রমজানের তারাবির নামাজের মধ্য দিয়ে মসজিদ উদ্বোধন করা হবে বলে জানা গেছে। নবনির্মিত মসজিদটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। বর্তমানে এটি আফ্রিকা মহাদেশের বৃহত্তম মসজিদ এবং বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ মসজিদের স্বীকৃতি লাভ করেছে।

মসজিদটির আয়তন ৪ লাখ বর্গমিটার, এটির মিনারের উচ্চতা ২৬৫ মিটার (৮৭০ ফুট), যেখানে একটি পর্যবেক্ষণ ডেক রাখা হয়েছে। আলজিয়ার্স উপকূলের কাছে অবস্থিত যৌগিক গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদে একসঙ্গে ১ লাখ ২০ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবেন। এর ভূগর্ভস্থ পার্কিংয়ে ৭,০০০ গাড়ি রাখার ব্যবস্থা আছে।

মসজিদ কমপ্লেক্সে একটি কোরআনিক স্কুল, ২১ হাজার ৮০০ বর্গমিটারের সুবিশাল ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, একটি রেস্টুরেন্ট ও আলজেরিয়ার ইতিহাস-ঐতিহ্য বিষয়ক একটি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে।

বর্তমানে এটি আফ্রিকা মহাদেশের বৃহত্তম মসজিদ। আর বিশ্বের মধ্যে ইরানের মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজা শ্রাইন (৬ লাখ বর্গমিটার) ও ওমানের মাসকাটে অবস্থিত সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মসজিদের (৪ লাখ ১৬ হাজার বর্গ মিটার) পরে এটি তৃতীয় সর্ববৃহৎ মসজিদ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে। এই মসজিদের মিনারটি এখন আফ্রিকার মধ্যে উচ্চতম মিনার। এর আগে উচ্চতম মিনার ছিল মরক্কোর ক্লাসাব্লাংকায় অবস্থিত হাসান দ্বিতীয় মসজিদের। ওই মিনারের উচ্চতা ছিল ৬৭০ ফুট।

আলজিয়ার্সের মসজিদটি তৈরি করেছে চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (সিএসসিইসি)। এটি একটি বিশাল বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান যারা আফ্রিকা ও বিশ্বব্যাপী ভারী শিল্প ও অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করে।

২০১১ সালে এই মসজিদ প্রকল্পের জন্য কোম্পানিটি যখন দায়িত্ব পায়, তখন এটিই ছিল তাদের বিদেশি প্রকল্পগুলোর মধ্যে সর্ব বৃহৎ প্রকল্প।

গত বছরের শেষের দিকে এটি উদ্বোধনের কথা থাকলেও, বিশ্বব্যাপী তেলের দাম কমে যাওয়ায় মসজিদটি বাজেট সংকটের মুখোমুখি হয়, যার ফলে এর নির্মাণ কাজ বিলম্বিত হয়।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির জন্য আফ্রিকার বৃহত্তম মসজিদ নির্মাণ একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। দেশটি রাজনৈতিক সংকট বহুবছর ধরে চলমান। ১৯৯২ সালের নির্বাচনে ইসলামপন্থীরা জয়ী হলেও সরকার তখন সেই নির্বাচন বাতিল করে দেয়। যার ফলে বেসামরিক বিদ্রোহ সূচনা হয়। এতে প্রায় ২ লাখ মানুষ নিহত হয়।

আলজেরিয়া আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। দেশটির এমন কৃতিত্বে খুশি আলজেরিয়ার নাগরিকরা।

আপনার মতামত লিখুন :

একসঙ্গে ৫৮ জনের জানাজা!

একসঙ্গে ৫৮ জনের জানাজা!
জানাজার নামাজের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: শুক্রবার (১৬ আগস্ট) মসজিদে হারামে ফজরের নামাজের পর দুইবারে ৫৮ জনের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদে হারামের এত সংখ্যক মানুষের নামাজে জানাজা একসঙ্গে আদায়ের ঘটনা আর ঘটেনি। ৫৮ জনের মধ্যে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন হাজি রয়েছেন।

মসজিদে হারামে প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজ শেষে ‘আস সালাতু আলাল আমওয়াতি ইয়ারহামু কুমুল্লাহ', অথবা 'আস সালাতু আলাল আমওয়াতি ওয়াল আতফালি ইয়ারহামু কুমুল্লাহ' বলে জানাজার নামাজের ঘোষণা দেওয়া হয়। 

চলতি হজ মৌসুমে ফরজ নামাজের পর একবার জানাজা শেষে দ্বিতীয়বার ঘোষণা দিয়ে আবার জানাজার নামাজ পড়া হচ্ছে। এটা নিয়ে এক ধরণের কৌতূহল কাজ করছে। এ বিষয়ে খোজ নিয়ে জানা গেছে, জানাজার জন্য আসা লাশের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে দুইবার জানাজা পড়তে হচ্ছে। শুক্রবার ফজরের নামাজের পরও দু'বার ঘোষণা দিয়ে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566023261620.jpg

 

হজযাত্রী এবং মক্কার আশপাশের এলাকার স্থানীয় সৌদি নাগরিক কিংবা কোনা প্রবাসী মারা গেলে তাদের জানাজা মসজিদে হারামে অনুষ্ঠিত হয়। হজযাত্রীরা ফরজ নামাজের পর সঙ্গে সঙ্গে সুন্নত নামাজ শুরু না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন জানাজার জন্য, এটাই রীতি।

হজপালন করতে এসে কোনো হজযাত্রী হোটেল, বাড়ি কিংবা রাস্তায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অথবা হাসপাতালে মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয় না। তবে লাশ দেশে না পাঠালেও মৃত্যুবরণকারী হাজির মৃত্যুর সনদ যথাসময়ে তাদের পরিবার বা তাদের প্রতিনিধি কিংবা এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মরদেহের গোসল করানো, কাফন পরানো, জানাজা পড়ানো ও দাফন করাসহ যাবতীয় কাজ নির্দিষ্ট বিভাগ করে থাকে। মক্কার রুশাইফায় রয়েছে লাশের গোসল ও কাফন পরানোর ব্যবস্থা। হজপালনকারীদের লাশ বহন করার জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশের এখানে কোনো কিছু করতে হয় না।

মসজিদে হারামে জানাজার জন্য লাশ গাড়িতে করে কাবা শরিফের দক্ষিণে নবী করিম (সা.)-এর জন্মস্থানের পাশে বাবে ইসমাইলের কাছে রাখা হয়। ফরজ নামাজের পর ইমাম সাহেব লাশ রাখার স্থানে এসে জানাজার নামাজ পড়ান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566023327139.jpg

 

আরবদের মাঝে লাশ বহরকারী খাটিয়া কাঁধে নেওয়ার আগ্রহ অনেক। এটা তাদের একটি বিশেষ গুণ। এটাকে তারা সৌভাগ্য মনে করে। এজন্য লাশ পরিচিত হওয়া জরুরি নয়।

পবিত্র হাদিসের ভাষ্যমতে, জানাজার নামাজ আদায় করলে উহুদ পর্বত সমান সওয়াব ব্যক্তির আমলনামায় যোগ হয়। জানাজার নামাজ আদায় করা- ‘ফরজে কেফায়া।’ অর্থাৎ সমাজের কিছু মানুষ তা আদায় করলে সবাই দায়িত্ব থেকে মুক্তি লাভ করেন। আর কেউ যদি এই কাজ না করেন, তাহলে সবাই পাপের ভাগীদার।

ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে ‘জানাজার নামাজ’ বলে যে ইবাদতটি পরিচিত, আরব দেশের জনগণ সেটিকে ‘সালাত আলাল মাইয়্যেত’ বা মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া বলে থাকেন। জানাজার নামাজ মূলতঃ মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা।

এক হাদিসের মর্মার্থ হলো- জানাজা মুসলমানের অন্যতম হক। এতে অংশ নিলে পরকালের কল্যাণ লাভের সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানের অধিকার সংরক্ষণের মতো মহৎ একটি কর্ম সম্পাদিত হয়।

 

আরও পড়ুন, হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু

হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু

হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু
দেশে ফিরতে এয়াপোর্টে যাচ্ছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: শুরু হচ্ছে হজের ফিরতি ফ্লাইট। শনিবার (১৭ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া হজের ফিরতি ফ্লাইট চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের হাজিরা দেশে ফিরবেন। এবার ১ লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন বাংলাদেশি হজপালনের জন্য সৌদি আরব এসেছেন। হজপালনে এসে সৌদি আরবে শনিবার পর্যন্ত ৮১ জন ইন্তেকাল করেছেন।

৪১৯ জন হাজি নিয়ে সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় ঢাকার উদ্দেশে জেদ্দা ছেড়ে যাবে বিমানের বিজি৩৫২০ ফ্লাইট। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪০মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছার কথা রয়েছে। প্রথম দিন তিনটি ফিরতি ফ্লাইট রয়েছে।

আরও পড়ুন: ২৬ বছরের জমানো টাকায় হজ!

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইনসের ৩৬৫টি ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন বাংলাদেশি হাজিরা। জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হাজিদের সেবা দিতে কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566019669426.jpg

প্রত্যেক হাজি বিনা মূল্যে সর্বাধিক দুটি ব্যাগে ৪৬ কেজি মালামাল আনতে পারবেন। বিজনেস ক্লাসের জন্য সর্বাধিক দুটি ব্যাগে ৫৬ কেজি মালামাল বহন করতে পারবেন। কেবিন ব্যাগেজে ৭ কেজি মালামাল সঙ্গে রাখতে পারবেন। তবে কোনোভাবেই প্রতি পিস ব্যাগের ওজন ২৩ কেজি এবং বিজনেস ক্লাসে ২৮ কেজির বেশি হতে পারবে না।

আরও পড়ুন: হাজিরা মক্কা ছাড়তে শুরু করেছেন

বাংলাদেশের যাত্রীরা ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে এবং সৌদির যাত্রীরা জেদ্দা এয়ারপোর্ট থেকে ৫ লিটার জমজমের পানি বিনা মূল্যে নিতে পারবেন। সুতরাং মক্কা কিংবা জেদ্দা থেকে জমজমের পানি সংগ্রহের কোনো প্রয়োজন নেই। বিমানে পানির জন্য প্রত্যেককে একটি করে টোকেন দেওয়া হবে। পরে ওই টোকেন দেখিয়ে জমজমের পানি সংগ্রহ করতে হবে বিমান বন্দরের নিদিষ্ট কাউন্টার থেকে।

পবিত্র হজপালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে আসার সময় ৬০ হাজার হাজি মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভের আওতায় ঢাকায় প্রি-ডিপারচার এরাইভাল সুবিধা পেয়েছেন এবং তাদের লাগেজ নিজ নিজ হোটেলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ফিরতি ফ্লাইট মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভের আওতায় না থাকায় হাজিদেরকে তাদের লাগেজ নিজ দায়িত্বে বহন করতে হবে।

আরও পড়ুন: হজের খুতবা দেওয়া হয় যে মসজিদ থেকে

লাগেজসহ মক্কা থেকে হাজিদের জেদ্দা বিমান বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে মক্কা বাংলাদেশ হজ মিশন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র