Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

হজ-ওমরার আয় সৌদি কোথায় খরচ করে?

হজ-ওমরার আয় সৌদি কোথায় খরচ করে?
মক্কা শরীফ, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক


  • Font increase
  • Font Decrease

সারা পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান প্রতি বছর নির্দিষ্ট একটা সময়ে হজ করতে সৌদি আরবে যান। হজ মৌসুম শেষে সারা বছর ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরবের স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি অন্য দেশের মানুষও যান।

এক পরিসংখ্যানে দেখে গেছে, ২০১৮ সালে ৮৫ লাখ মানুষ হজ-ওমরা পালন করেছেন। তন্মধ্যে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ ওমরা পালন করেছেন। ওমরা পালনকারীদের প্রায় ৫০ লাখ ভিন্ন দেশের। আর বাকী দশ লাখ সৌদি আরবের। সৌদি থেকে ওমরা পালনকারীর সংখ্যা ১০ লাখ হলেও এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবে কর্মরত বিভিন্ন দেশের লোক।

হজের সময় সৌদি আরবের আর্থিক লেনদেনের হার অনেকটাই বেড়ে যায়। অন্যদিকে ওমরাকে কেন্দ্র করেও মক্কা-মদিনায় আর্থিক লেনদেন চাঙ্গা থাকে। এসব কারণে, অনেকেই প্রশ্ন করেন, সৌদি আরবে হজ আর ওমরা করতে যাওয়া মানুষের কাছ থেকে দেশটি আসলে কত অর্থ রোজগার করে?

বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছিল, ২০১৮ সালে হজ থেকে সৌদি আরবের সরাসরি রোজগার হয়েছিল প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। আর হজযাত্রীরা মোট ২৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলেন সৌদি আরব যেয়ে। এই অর্থের একটা বড় অংশ কিন্তু সৌদি অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে।

মক্কার চেম্বার অব কমার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাইরের দেশ থেকে আসা মুসলমানরা মাথাপিছু ব্যয় করেন ৪ হাজার ৬০০ ডলার, আর স্থানীয়রা মাথাপিছু খরচ করেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার।

এসব খরচের মধ্যে রয়েছে, হজ-ওমরার জন্য সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন চার্জ, মোয়াল্লেম ফি, ভিসা ফি, ট্রাভেল ফি, খাওয়া-দাওয়া, পরিবহন ও কেনাকাটা ইত্যাদি। এসব খরচ কোনো না কোনোভাবে সৌদি অর্থনীতিতেই যোগ হচ্ছে।

বিবিসির ওই খবরে আরও বলা হয়েছিল, অপরিশোধিত তেল বিক্রি করে সৌদি আরবের যা রোজগার হয়, তার থেকেও বেশি আয় করে তারা হজ থেকে।

সৌদি আরবের পত্রিকা ওকাজ বলেছে, হজ ও ওমরা থেকে সৌদি আরবের রাজস্ব আয় হয় প্রায় ৩০ ভাগ। এই আয়ের পুরোটা খরচ করা হয় মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীর সংস্কার কাজ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার কাজে।

বিশেষ করে হজের সময় অতিরিক্ত আড়াই লাখ নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ, ৩০ হাজার পরিচ্ছন্ন কর্মী, ৬০ হাজার কর্মকর্তা, হজযাত্রীদের জন্য ১৮ হাজার যানবাহন, শত শত এ্যাম্বুলেন্স, হাজার হাজার ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ব্যবস্থাপনার জন্য ডজন খানেক হেলিকপ্টার নিয়োগ করা হয়।

সুতরাং এটা মনে করার কোনো কারণ নেই, হজ-ওমরা থেকে প্রাপ্ত অর্থ সৌদি আরব অন্যখাতে খরচ করছে, অথবা হজ-ওমরাকে সৌদি আরব আয়ের মাধ্যম বানিয়েছে। সৌদি আরব আল্লাহর মেহমান হজযাত্রীদের আরাম-আয়েশ, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য অনেক গুণ বেশি রাজস্ব ব্যয় করে।

বর্তমান সৌদি শাসকের আমলেই মক্কা ও মদিনায় সবেচেয়ে বেশি সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ সাধিত হয়েছে। হজযাত্রীদের কষ্ট কমিয়ে আরামদায়ক হজ নিশ্চিত করতে অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছে, এর অনেকগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে, কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে। এসব প্রকল্পের মাঝে রয়েছে, জেদ্দা-মক্কা ও মক্কা-মদিনায় দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালু, আরাফা ও মিনায় নিরাপদ তাঁবু স্থাপন, মুজদালিফায় রাত কাটানোর উন্নত ব্যবস্থা, মিনায় পাথর নিক্ষেপের স্থানে বহুমুখি ও বহুতল ব্যবস্থাপনা, মক্কার চারপাশে টানেল ও উড়াল সেতু নির্মাণ ইত্যাদি।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' অর্থাৎ 'আমি উপস্থিত হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত।' সাদা দুই টুকরো কাপড় গায়ে জড়িয়ে বারবার এ ঘোষণায় আকাশ-বাতাস মুখর করে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মধ্য দিয়ে এবার হজপালন করলেন প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম। আরাফাতের ময়দানে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সফেদ-শুভ্র কাপড় পরে চোখে পানি নিয়ে মোনাজাত করেছেন হাজিরা জীবনের যাবতীয় পাপ মাফের জন্য।

এবার হজপালন করেছেন ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ জন। ২০১৮ সালে হজপালন করেছিলেন ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৭৫ জন। গতবারের তুলনায় এবার হজপালনকারীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৩১ জন বেশি। এবারের হজপালনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রী ছিলো- ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ জন, আর সৌদি আরবের হজপালনকারী ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৯ জন (সৌদি নাগরিক ২ লাখ ১১ হাজার ৩ জন, সৌদিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৬ জন)। এই বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীর মধ্যে পুরুষ হজযাত্রী ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৩৪ জন (শতকরা ৫৩ ভাগ), নারী হজযাত্রী ১১ লাখ ৪ হাজার ১৭২ জন (শতকরা ৪৭ ভাগ)। এবার ৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৩০ দম্পতি হজপালন করেছেন। হজযাত্রীরা আকাশ পথ, সড়ক পথ ও নৌ-পথ ব্যবহার করে হজপালন করতে সৌদি আরব এসেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় এশিয়া মহাদেশ শীর্ষে। আর দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া। এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে হজপালন করছেন ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী। বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮। বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে বয়স অনুযায়ী ৪১-৬০ বছর বয়সী যাত্রীর হার শকতরা ৩৪ ভাগ। আর লিঙ্গ অনুযায়ী পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ৬৩ ভাগ। বাংলাদেশ থেকে ঢাকা বিভাগের হজযাত্রী বেশি (শতকরা ৩৩ ভাগ) আর যাত্রী কম সিলেট বিভাগের (শতকরা ২ ভাগ)। হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শতকরা ৯ ভাগ চাকরিজীবির বিপরীতে শতকরা ৪০ ভাগ ব্যবসায়ী এবার হজ পালন করেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা হিসেবে শীর্ষ দশের অন্য দেশগুলো হলো- দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান (১ লাখ ৭৯ হাজার ২১০), তৃতীয় ভারত (১ লাখ ৭০ হাজার), পঞ্চম মিসর (১ লাখ ৮ হাজার), ষষ্ঠ ইরান (৮৬ হাজার ৫০০), সপ্তম তুরস্ক (৭৯ হাজার), অষ্টম নাইজেরিয়া (৭৯ হাজার), নবম আলজেরিয়া (৩৬ হাজার) ও দশম স্থানে রয়েছে মরক্কো (৩১ হাজার)।

উল্লেখিত দেশসমূহ বাদে অন্য দেশসমূহের হজযাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১০৬ জন।

এবারও হজ উপলক্ষে সৌদি সরকার ৫ রিয়াল মূল্যমানের ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছে। প্রথমবারের মতো আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া হজের খুতবা রেডিওর মাধ্যমের সরাসরি ৬টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়েছে। ওই ৬টি ভাষা হলো- ইংরেজি, চাইনিজ, উর্দু, ফার্সি, ফ্রান্স ও মালি। সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো ৫০ ভাষার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হজ অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয় হজপালনকারীদের মোবাইলে প্রতিদিন বিভিন্ন পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনামূলক প্রায় ৩২ লাখ এসএমএস পাঠিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র