Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

পরিবারের জন্য খরচ সওয়াবের কাজ

পরিবারের জন্য খরচ সওয়াবের কাজ
এক মুসলিম পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খাবার খাচ্ছেন, ছবি: সংগৃহীত
মাহমুদা নওরিন
অতিথি লেখক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

মানুষ নিজের এবং তার অধীনস্থদের জন্য যা খরচ করে তা সদকা হিসেবে পরিগণিত হয় বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘অনিষ্টতা ও খারাপ থেকে বেঁচে থাকার জন্য যে ব্যক্তি নিজের জন্য কিছু খরচ করল তা তার জন্য সদকা এবং যে ব্যক্তি নিজ স্ত্রী, সন্তান-সন্তুতি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য কিছু খরচ করল তা তার জন্য সদকা হিসেবে পরিগণিত হবে।’ -মুজামুল আওসাত: ৩৮৯৭

আল মিকদাদ ইবন মাদি কারিব (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, ‘তুমি নিজে যা খাবে তা তোমার জন্য সদকা। তুমি তোমার সন্তানকে যা খাওয়াবে তা তোমার জন্য সদকা। তুমি তোমার স্ত্রীকে যা খাওয়াবে তা তোমার জন্য সদকা। তুমি তোমার চাকরকে যা খাওয়াবে তা তোমার জন্য সদকা।’ –মুসনাদে আহমাদ: ১৭২১৮

হজরত ইরবাদ ইবন সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, ‘একজন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে পানি পান করালে সওয়াব লাভ করবে। তিনি বলেন, এ কথা শোনে আমি আমার স্ত্রীর কাছে আসলাম, অতঃপর তাকে পানি পান করালাম এবং আমি যা হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে শুনেছি তা বর্ণনা করলাম।’ -মুসনাদে আহমাদ: ১৭১৯৫

অপর এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, আপন স্ত্রী যা খায় তাও সদকা। হজরত সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী করিম (সা.) শুশ্রুষার জন্য তার কাছে গেলেন। যেই জমিন থেকে তিনি হিজরত করেছেন সে জমিনে মৃত্যুবরণ করতে তিনি পছন্দ করছেন না। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার সব সম্পত্তি অসিয়ত করতে চাই। তিনি (সা.) বললেন, ‘না। তিনি বললেন, তবে অর্ধেক অসিয়ত করি। তিনি (সা.) বললেন, না। তিনি বললেন, তবে আমি এক-তৃতীয়াংশ অসিয়ত করি। নবী করিম (সা.) বললেন, এক-তৃতীয়াংশ করতে পারো, এক-তৃতীয়াংশই অনেক। তুমি তোমার সন্তান-সন্ততিকে মুখাপেক্ষী করে রেখে যাবে, আর তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে চেয়ে বেড়াবে এর চেয়ে তাদের তুমি অমুখাপেক্ষী করে রেখে যাবে, এটিই উত্তম। তুমি পরিবারের জন্য যা খরচ করবে তাই সদকা। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমা তুলে দেবে তাও সদকা।’ –সহিহ বোখারি: ২৫৯১

তবে ওপরে বর্ণিত সওয়াব তখনই পাওয়া যাবে, যখন কোনো মুমিন তার স্ত্রীকে পানাহার করাবে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে, দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করে, ঈমানি চেতনা নিয়ে।

হজরত আবু মাসউদ আল বাদরি (রা.) বর্ণিত অপর এক হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় যখন কোনো মুসলমান তার পরিবারের জন্য কিছু খরচ করে, তখন তা তার জন্য সদকায় পরিণত হয়।’ -সহিহ মুসলিম: ২৩৬৯

সন্তান-সন্তুতির প্রতি অনুগ্রহ করলে জান্নাত লাভ হয় এবং জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে যায়। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমার কাছে দু’টি কন্যা সন্তানসহ এক মিসকিন এলো। আমি তাকে তিনটি খেজুর দিলাম। সে প্রত্যেককে একটি করে খেজুর দিলো এবং সে নিজে খাওয়ার জন্য একটি খেজুর মুখের দিকে উঠাল। কিন্তু তার কন্যাদ্বয় খেজুরটি খাওয়ার জন্য তার কাছে চাইল। ফলে সে যে খেজুরটি খেতে চেয়েছিল তা দু’ভাগে ভাগ করে দু’জনকে দিয়ে দিলো। তার বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করল। সে যা করল আমি তা হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বললাম। অতঃপর নবী করিম (সা.) বললেন, নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দিয়েছেন। অথবা তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা এর বিনিময়ে জাহান্নামের আগুন থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছেন।’ -সহিহ মুসলিম: ৬৮৬৩

স্ত্রীকে যাই দেওয়া হোক তাই সদকা হিসেবে গণ্য। হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) একদা আমর ইবন উমাইয়ার কাছে এলেন, তখন তিনি বাজারে রেশমি চাঁদরের দরদাম করছিলেন। তিনি বললেন হে আমর! রেশমি চাঁদর কী করা হবে? তিনি বললেন, আমি এটি ক্রয় করব, অতঃপর তা সদকা করব। তিনি বললেন, কাকে সদকা করবেন? তিনি বললেন, আমার সঙ্গিনীকে। তিনি বললেন, আপনার সঙ্গিনী কে? তিনি বললেন, আমার স্ত্রী। তিনি বললেন, আপনি আপনার স্ত্রীকে সদকা করবেন? তিনি বলেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহকে (সা.) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, তোমরা তোমাদের স্ত্রীদেরকে যা দেবে তাই তোমাদের জন্য সদকা হিসেবে পরিগণিত হবে। তিনি (হজরত উমর) বলেন, হে আমর! আপনি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করবেন না।

অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি হজরত আয়েশা (রা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত আমি আপনাকে ছাড়ব না। বর্ণনাকারী বলেন, তারা উভয়েই গিয়ে হজরত আয়েশা (রা.)-এর কাছে গিয়ে উপস্থিত হলেন। অতঃপর তাকে আমর বললেন, হে আম্মাজান! ইনি উমর। তিনি আমাকে বলছেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করবেন না। আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলি, আপনি কি হজরত রাসূলুল্লাহকে (সা.) এ কথা বলতে শুনেছেন যে, তিনি বলেন, তোমরা যা তাদেরকে (স্ত্রীদেরকে) দেবে তাই তোমাদের জন্য সদকা হিসেবে পরিগণিত হবে। তিনি বললেন, আল্লাহুম্মা! হ্যাঁ, আল্লাহুম্মা হ্যাঁ। -মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার: ২৫৫৮

সন্তান-সন্ততির জন্য যা খরচ করা হয় তাই সর্বশ্রেষ্ঠ দান। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, ‘তুমি একটি দিনার আল্লাহর রাস্তায় খরচ করেছ, একটি দিনার দাস মুক্তির কাজে ব্যয় করেছ, একটি দিনার মিসকিনকে দান করেছ, আর একটি দিনার তোমার পরিবারের জন্য খরচ করেছ। এর মধ্যে যে দিনারটি তুমি তোমার পরিবারের জন্য খরচ করেছ; তার সওয়াব সবচেয়ে বেশি।’ -সহিহ মুসলিম: ২৩৫৮

আপনার মতামত লিখুন :

বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট ৪ জুলাই

বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট ৪ জুলাই
হজযাত্রীদের ফাইল ছবি

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চলতি মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইট আগামী ৪ জুলাই। ওই দিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিজি-৩০০১ ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যাবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মাহবুব আলী এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের বিদায় জানাবেন।

প্রথম দিনে হজ ফ্লাইট বিজি-৩১০১ সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে, বিজি-৩২০১ বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে, বিজি-৩৩০১ সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে এবং শিডিউল ফ্লাইট বিজি-০০৩৫ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে।

নির্ধারিত সময়ে, নির্বিঘ্নে হজ ফ্লাইট পরিচালনার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকেও চলতি বছর যথাক্রমে ১৯টি ও ৩টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন ধর্মপ্রাণ মানুষ পবিত্র হজব্রত পালনে সৌদি আরব যাবেন। চলতি বছর হজ ফ্লাইট ও শিডিউল ফ্লাইটে বিমানে যাবেন মোট ৬৩,৫৯৯ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭,১৯৮ ব্যালটি, অবশিষ্ট ৫৬,৪০১ নন-ব্যালটি হজযাত্রী যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।

এ বছর হজযাত্রীদের ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে পরিবহনের জন্য বিমানের ৪টি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিমানের নিয়মিত শিডিউল ফ্লাইটেও হজযাত্রীরা পবিত্র ভূমি জেদ্দায় যাবেন। ঢাকা থেকে জেদ্দা প্রতি ফ্লাইটের উড্ডয়নকাল হবে আনুমানিক ৭ ঘণ্টা।

দুই মাসব্যাপী হজ ফ্লাইট পরিচালনায় শিডিউল ফ্লাইটসহ মোট ৩৬৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যার মধ্যে ৩০৪ ‘ডেডিকেটেড’ এবং ৬১টি শিডিউল ফ্লাইট। ০৪ জুলাই থেকে ০৫ আগস্ট পর্যন্ত ‘প্রি-হজ্জ’-এ মোট ১৮৯ টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে (ডেডিকেটেড-১৫৭ এবং শিডিউল ৩২)। ‘পোস্ট-হজ্জ’-এ ১৪৭টি ফ্লাইট চলবে ১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (ডেডিকেটেড-১৪৭ এবং শিডিউল ২৯) এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মদিনা ১৮টি ও মদিনা থেকে বাংলাদেশে ১৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-জেদ্দা উভয় স্থানেই বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন করেছে।

প্রথমবারের মতো এ বছর কিছু ফ্লাইটের জেদ্দা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ঢাকা থেকেই সম্পন্ন করা হবে। এ উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের একটি ইমেগ্রেশন টিম ঢাকায় অবস্থান করবে। এ বছর বিমান হজযাত্রীদের উড়োজাহাজের সামনের অপেক্ষাকৃত বড় ও আরামদায়ক নিশ্চিত আসন নেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়ানওয়ে-তে ১০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকা এবং রির্টান যাত্রা (যাওয়া-আসা) ২০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকার বিধান রেখেছে।

এছাড়া হজযাত্রীদের টিকিট ক্রয় করার পর যাত্রার তারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রার ২৪ ঘণ্টা পূর্বে ২০০ মার্কিন ডলার এবং যাত্রার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রা পরিবর্তনের জন্য ৩০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বাড়তি মাশুল আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া নির্ধারিত ফ্লাইটে না গেলে ওই টিকিটের অর্থ ফেরতযোগ্য হবে না। বিমান কর্তৃক পরিচালিত ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটসমূহের চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা প্রতিবারের মতো এবারও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন আশকোনা হজ ক্যাম্পেই সম্পন্ন করা হবে।

চলতি বছর সৌদি সরকার নির্ধারিত বরাদ্দকৃত স্লটের বাইরে অতিরিক্ত কোন ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে।

প্রত্যেক হজযাত্রী বিনামূল্যে সর্বাধিক ২টি ব্যাগেজে ৪৬ কেজি মালামাল বিমানে এবং কেবিন ব্যাগেজে ৭ কেজি মালামাল সঙ্গে নিতে পারবেন। কোন অবস্থাতেই প্রতি ব্যাগেজের ওজন ২৩ কেজির বেশি হবে না। প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য ৫ লিটার জমজমের পানি ঢাকা/চট্টগ্রাম/সিলেট নিয়ে আসা হবে এবং প্রত্যেক হাজিকে ঢাকা/চট্টগ্রাম/সিলেট ফেরৎ আসার পর তা’ দেওয়া হবে। কোন অবস্থাতেই হাজিরা সঙ্গে করে বিমানে পানি বহন করতে পারবেন না।

যেকোন ধারালো বস্তু যেমন-ছুরি, কাঁচি, নেইল কাটার, ধাতব নির্মিত দাঁত খিলন, কান পরিষ্কারক, তাবিজ ও গ্যাস জাতীয় বস্তু যেমন- অ্যারোসল এবং ১০০ মিলির বেশি তরল পদার্থ হ্যান্ড ব্যাগেজে বহন করা যাবে না এবং কোন প্রকার খাদ্য সামগ্রী সঙ্গে নেওয়া যাবে না। ব্যাগেজ স্যুটকেস অথবা ট্রলিব্যাগ হতে হবে। যে কোন অবস্থায় গোলাকৃত, দড়িবাঁধা ব্যাগ ইত্যাদি বিভিন্ন আকৃতির ব্যাগেজ গ্রহণযোগ্য হবে না।

১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ১০ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৪ জন হাজি হজপালনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবা নিয়েছেন।

একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’

একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’
একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’, ছবি: সংগৃহীত

হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হজপালনের মাধ্যমে মানুষ সদ্যভূমিষ্ঠ নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। হজপালনকারী নিজে জান্নাতে যাবেন এবং অন্যদের ব্যাপারে সুপারিশ করার ক্ষমতা পাবেন। এমন মর্যাদাসম্পন্ন ইবাদতটি সহিহ-শুদ্ধভাবে পালন করা জরুরি। অথচ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক হজপালনকারী এ বিষয়ে গুরুত্ব দেন না।

হজ পালন করা যেমন ফরজ, হজের মাসয়ালাসমূহ জানাও তেমনিভাবে ফরজ। পাশাপাশি আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা, কাবা শরিফের মহব্বত, মক্কা শরিফের প্রতি সম্মান, মদিনা শরিফের প্রতি আকর্ষণ এবং নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সর্বোচ্চ ইশ্ক নিয়ে হজ পালন করা দরকার।

হজপালনকারী হজপালনের উদ্দেশে নিজ ঘর থেকে বের হয়ে হজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে হজের প্রস্তুতিসহ মক্কা-মদিনায় যেসব সুবিধা-অসুবিধা, নতুন নতুন সংকট ও তার সমাধান কী সেগুলো বোঝার জন্য সহজবোধ্য করে বর্ণনা করা হয়েছে ‘জীবন্ত হজ্জ’ বইটিতে।
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে লেখক সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের হজ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিজেও হজপালন করে আসছেন। অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বইটি রচনা করেছেন।
জীবনে প্রথমবার যে হজপালন করবেন বইটি পড়লে হজের আমল পরিপালনের স্থানগুলো অনেকটা তার চোখের সামনে ভেসে উঠবে। এমন কিছু খুঁটিনাটি বিষয় এ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সাধারণত হজ গাইডে উল্লেখ করা হয় না।

এক কথায়, ঘর থেকে বের হয়ে পুনরায় ফিরে আসা পর্যন্ত প্রতিটি স্থানের করণীয় ও দলিলনির্ভর মাসয়ালাসহ হজের পূর্ণাঙ্গ দিক-নির্দেশনা সম্বলিত বই ‘জীবন্ত হজ্জ’।

বইটির লেখক মুফতি অহিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে উত্তরার মসজিদ আল-মাগফিরাহ-তে খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সঙ্গে জামিয়া ইমাম বুখারী ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল।

বইটিতে শুধু হজ-উমরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করা হয়নি। ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে- মসজিদুল হারামে নামাজের ফজিলত, হজের প্রস্তুতির নানাদিক, হজের সফরে যে সামগ্রীগুলো প্রয়োজন, ইহরাম বাঁধার আগে করণীয়, ইহরাম বাঁধার নিয়ম-পদ্ধতি, বিমানবন্দরে উপস্থিতি ও করণীয়, মক্কা শরিফ পৌঁছে কী কী করবেন, কিভাবে উমরার তাওয়াফ করবেন, তাওয়াফ করা অবস্থায় কোন কোন কাজ বেয়াদবি, হজের মূল পাঁচদিনের আমলসমূহ, মিনা-আরাফা ও মুজদালিফার আমলসমূহ, শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের বিধান, কোরবানি প্রসঙ্গ, ফরজ তাওয়াফসহ হজের বিধানগুলো বর্ণনা করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে লেখক উল্লেখ করেছেন, হজের সফরে কষ্ট হয় কেন? কোন স্থানে ঝগড়া হয়, অজ্ঞতাবশত ও আবেগতাড়িত হয়ে যে ভুলগুলো হাজিরা করে থাকেন, নারীদের হজের মাসয়ালা, বদলি হজের বিধান ও ফজিলত, যেসব কারণে হজের কাজা ওয়াজিব হয়, মক্কা-মিনা-আরাফা ও মুজদালিফায় নামাজের বিধান, মক্কায় দোয়া কবুলের স্থানসমূহ, মক্কার ঐতিহাসিক জায়গার বিবরণ, মদিনা শরিফের মর্যাদা, মসজিদে নববীর পরিচিতি ও জিয়ারতে মদিনার বিধান, মদিনায় করণীয়, মসজিদে নববীতে প্রবেশের নিয়ম, রওজাতুল জান্নাহতে প্রবেশের বিধান, রওজা শরিফে সালাম পেশ করার তরিকা, অন্যের সালাম কিভাবে দেবেন, মসজিদে নববীতে নামাজের ফজিলত, হজের পরিভাষা ও হজ থেকে ফিরে এসে কিভাবে চলবেন সেসব বিষয় অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বইটিতে।

এক কথায় বইটি হজযাত্রীদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বইটি নির্ভরযোগ্য ও প্রাণবন্ত। আমরা এর বহুল প্রচার কামনা করি।

বই: জীবন্ত হজ্জ
লেখক: মুফতি অহিদুল আলম
প্রথম প্রকাশ: জুলাই ২০১৭
প্রকাশনায়: ইমাম বুখারী রহ. ট্রাস্ট, বাড়ী- ৯, রোড-৯৯/বি, সেক্টর-৫, উত্তরা, ঢাকা
মূল্য: ২০০ (দুইশত) টাকা মাত্র।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র