Alexa

রমজানের বরকত লাভের উপায়সমূহ

রমজানের বরকত লাভের উপায়সমূহ

রমজান মাসের বরকত হাসিলের জন্য সবাইকে চেষ্টা করতে হবে, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাস বছরের বাকি এগারো মাস অপেক্ষা অধিক মর্যাদাশীল ও বরকতপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘রমজান মাসই হলো সেই মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত।’ সূরা বাকারা: ১৮৫

হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যখন রমজানের আগমন হয় তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। -সহিহ বোখারি: ১৮৯৯

আরেক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহতায়ালা প্রত্যহ ইফতারের সময় অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। -মুসনাদে আহমদ: ২১৬৯৮

তাই এ মাস হচ্ছে হেদায়েত লাভের মাস, আল্লাহতায়ালার রহমত এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত লাভের মাস। সুতরাং বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা এবং তওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে মুক্তির সনদ লাভে সচেষ্ট হওয়া কর্তব্য।

এ মাসের রোজাকে আল্লাহতায়ালা ফরজ করেছেন। তাই প্রত্যেক সুস্থ ও প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম নর-নারীর জন্য রোজা রাখা অপরিহার্য।

উল্লেখ্য যে, ফরজ ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহতায়ালার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জন করে।

রমজানের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে তারাবির নামাজ। রমজানের বরকতময় রাতে বিশ রাকাত তারাবির নামাজ আদায়ে যত্নবান হওয়া উচিত। রমজান মাস হচ্ছে কোরআনে কারিম নাজিলের মাস। তাই কোরআনে কারিম শোনার জন্য এবং এই পুণ্যময় রাতগুলোতে আল্লাহতায়ালার সান্নিধ্যে দণ্ডায়মান হওয়ার জন্য তারাবির নামাজের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া কর্তব্য।

অন্য সময়ও ব্যক্তিগতভাবে অধিক পরিমাণে কোরআন মজিদ তেলাওয়াত করা উচিত।

রমজানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামাজ। এ মাসে যেহেতু সাহরি খাওয়ার সুবাদে সুবহে সাদিকের পূর্বে সবাইকে উঠতে হয়, তাই এ সুযোগে তাহাজ্জুদের অভ্যাস করা সহজ।

হাদিস শরিফে তাহাজ্জুদ নামাজের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তদ্রূপ সাধ্যমতো দান-সদকা করা উচিত। হজরত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসে অনেক বেশি দান-সদকা করতেন। এসব নেক আমলের পাশাপাশি গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করাও অপরিহার্য।

রমজান মাস হচ্ছে তাকওয়া ও পরহেজগারী অর্জনের মাস। আল্লাহতায়ালা রোজাকে ফরজ করেছেন তাকওয়া অর্জনের জন্য।

হাদিসের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, গোনাহ থেকে সর্বোতভাবে বেঁচে থাকা ছাড়া রোজা পূর্ণাঙ্গ হয় না। তাই রোজাকে নিখুঁতভাবে আদায়ের উদ্দেশ্যে মুমিন যখন গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে তখন আল্লাহতায়ালা নিজ অনুগ্রহে তাকে তাকওয়া ও পরহেজগারীর শক্তি দান করেন।

এ জন্য সব ধরনের গোনাহ থেকে, বিশেষ করে পরচর্চা, কুদৃষ্টি, কুচিন্তা, হারাম উপার্জন, হারাম পানাহার ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলিমের একান্ত কর্তব্য। আর এসব পুরোপুরি পালন করলেই তবে রমজান ও রোজার পূর্ণ বরকত লাভ করা সম্ভব হবে, অন্যথায় নয়।

আপনার মতামত লিখুন :