Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

নামাজ আদায়ের ছবি দিয়ে আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ

নামাজ আদায়ের ছবি দিয়ে আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ
নামাজ আদায়ের ছবি দিয়ে আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন মার্কিন তরুণী সানা উল্লাহ, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মার্কিন তরুণী সানা উল্লাহ। বাবা-মা, দুই বোন ও এক ভাইয়ের সংসার। ছোটবেলা থেকেই সানা উল্লাহ একটু আলাদা, জেদি কিন্তু নম্র। নিজের কাজে শতভাগ মনোযোগী ও লক্ষ্যপূরণে অবিচল, তবে ধর্মপরায়ণ।

২০১৫ সালের একটি ঘটনা তার মনে ব্যাপক দাগ কাটে। নিজের বাসার একটি রুমে তার বোন তাকে বাধা দেয় নামাজ আদায়ে। তখনই প্রতিজ্ঞা করেন, নিজে নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি নামাজের চিত্র মানুষকে দেখাবেন। তখন থেকেই এই তরুণী বিভিন্ন স্থানে মানুষের নামাজ আদায়ের ছবি তুলতে শুরু করেন। যা তাকে আন্তর্জাতিক পুরস্কার এনে দেয়।
বরফাচ্ছাদিত পর্বতে নামাজ আদায়ের দৃশ্য

সাগর পাড়, পাহাড়ের চূড়া, বরফাচ্ছাদিত পর্বত, গাড়ির গ্যারেজ, শপিংমল, উড়োজাহাজ, রেলস্টেশন ও রাস্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে একক ও জামাতে নামাজ আদায়ের ছবি (স্থিরচিত্র) তুলে আন্তর্জাতিক পুরস্কার ‘গোল্ডজিহার’ (Goldziher Prize) পেয়েছেন তিনি।

২০১৯ সালে তার তোলা `Places You’ll Pray’ শিরোনামে নামাজ আদায়ের ছবিগুলো এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়। এ অসামান্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পুরস্কার হিসেবে ৫ হাজার ইউএস ডলার পাবেন।
মার্কেটের ছাদে নামাজ আদায়ের দৃশ্য

ছবিগুলো হাফিংটন পোস্ট, ফিউশন ও কোয়ার্টজসহ অনেক সাইটে প্রকাশিত হয়। আগামী ২ মে ২০১৯ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির জাতীয় প্রেসক্লাবে তাকে পুরস্কার প্রদান করা হবে।

আমেরিকায় ইহুদি-খ্রিস্টান ও মুসলিমদের মধ্যে সাধারণত নৈতিকতা, বুদ্ধিমত্তা, শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার অবদানস্বরূপ এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। তবে সানা উল্লাহ ছবির মাধ্যমে মার্কিন মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ নামাজের ছবি কভারেজ দেওয়ার কারণেই তাকে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হলো।
ফুটপাতে নামাজ আদায়ের দৃশ্য

২০১৯ সালে সম্প্রীতির এ অ্যাওয়ার্ডের জন্য ৬ জন মনোনীত হয়। তারা হলেন- সানা উল্লাহ, লায়লা ফাদেল, হান্নাহ আল্লাম, আয়মান ইসমাইল, জায়নাব সুলতান এবং সি চেন। এ ৬ জনের মধ্যে ৫ জনই নারী।

সানা উল্লাহ ২০১৭ সালে ফটো সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তবে ২০১৫ সাল থেকে আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে মানুষের নামাজ পড়ার ছবি তুলেছেন।

ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে বিতর্কের সময়টিতে আমেরিকায় নামাজের ছবি উপস্থাপনের মাধ্যমে এ অ্যাওয়ার্ড লাভ ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য এক বড় অর্জন।

পার্কে নামাজ আদায়ের দৃশ্য

খ্রিস্টান এবং ইহুদি ধর্মের পরে ইসলাম ধর্ম আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম ধর্ম। ২০১৭ সালের এক গবেষণায় দেখা যায় যে, আমেরিকার মোট জনসংখ্যা ১.১ ভাগ মুসলিম।

মুসলমানরা প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। সূর্য ওঠার আগে ফজরের নামাজের মধ্য দিয়ে তাদের দিন শুরু হয় আর সন্ধ্যার পর এশার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে দিন শেষ হয়।
বিভিন্ন স্থানে নামাজ আদায়ের দৃশ্য

সানা উল্লাহর উঠানো ছবিগুলো প্রমাণ করে যে, আমেরিকায় মুসলিমরা নির্ভয়ে যে কোনো স্থানে নামাজ আদায় করতে সক্ষম। নিঃসন্দেহে এটি শান্তি ও সম্প্রীতির নিদর্শন।

আপনার মতামত লিখুন :

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি
হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে কাফা, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে ধূমপান নিষিদ্ধ। আর ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান মাকরুহ তথা চরম অবাঞ্ছিত কাজ। তারপরও মক্কায় দেখা যায় অনেকেই মসজিদে হারামের বাইরের চত্বরে ধূমপান করেন। রাস্তাঘাটেও ধূমপান করতে দেখা যায় অনেককে। এমনকি ইহরাম পরিহিত অনেককে মিনা, মুজাদালিফা ও আরাফাতের ময়দানে ধূমপান করতে দেখা গেছে।

ধূমপানের এমন ব্যাপকতা থেকে হজযাত্রীদের নিরুতসাহ করতে সৌদি আরবের তামাক, ধূমপান ও মাদক প্রতিরোধ সংস্থা ‘কাফা’ (The Tobacco and Narcotics Combat Charity Society-Kafa) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।

সংস্থাটি হজের আনুষ্ঠানিকতার জায়গাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র স্থাপন করে। সেখান থেকে ধূমপায়ীদের মাঝে ধূমপান বিরোধী প্রচারপত্র বিলির পাশাপাশি কাউন্সেলিং করানো হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ধূমপান ছাড়তে হজযাত্রীদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ দিয়ে থাকেন। ধূমপানের ক্ষতির বিষয়ে সচেতন করতে হাজিদের মাঝে পুস্তিকা, লিফলেট ও মিসওয়াক বিতরণ করা হয়। এভাবে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র থেকে এবার ১১ হাজার ৪৮০ ধূমপায়ীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

কাফার ক্লিনিকে সেবা নিতে এসে ধূমপানের বিপত্তি ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবগত হয়ে অনেকে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। চলতি হজ মৌসুমের ধূমপান ত্যাগীর সংখ্যা ৩১৩ জন। কাফার সেবাকেন্দ্র থেকে সেবা নিয়ে তার ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন।

মক্কায় ধূমপানের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি জন্য গঠিত কমিটির প্রধান আবু গাজালাহ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের দাতব্য মন্ত্রণালয়, হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাফা ধূমপান বিরোধী নানা কর্মসূচি প্রণয়ন করে থাকে। সেই সঙ্গে কাফা মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতসহ মক্কায় হজযাত্রীদের ধূমপান বিরোধী চিকিতসা দেয়।

চার বছর ধরে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

অবশ্য অনেক ধূমপায়ী পবিত্র হজপালন শেষে নিজ থেকেই ধূমপান ছেড়ে দেন। তাদের হিসাব এখানে আসেনি।

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু
মদিনা হাইওয়ে, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: পবিত্র হজপালন শেষে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে বাংলাদেশি হাজি বহনকারী বাস দুর্ঘটনায় ১ জন হাজি ঘটনাস্থলে ইন্তেকাল ও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া হাজির নাম নুরুল ইসলাম (৭০)। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী সদরে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টার দিকে মদিনা থেকে একশ' মাইল আগে ওয়াদি ফারা নামক স্থান বাসের চাকা বিস্ফোরণ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বাসটি উল্টে যায়। ওই বাসটিতে ৩৫ জন হাজি ছিলেন। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর। বাসের যাত্রীরা স্কাই ট্রাভেলসের মাধ্যমে সৌদি আরবে হজপালনের উদ্দেশ্যে আসেন।

আহতদের মদিনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন নারী ছাড়া বাকিদের অবস্থা উন্নতির দিকে। গুরুতর আহতদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

আহতদের ৮ জন মদিনা কিং ফাহাদ হাসপাতালে, মিকাত হাসপাতালে ৪ জন, উহুদ হাসপাতালে ২ জন, সৌদি-জার্মান হাসপাতালে ২ জন ও ইয়াতামা হাসপাতালে ২ জন চিকিতসাধীন রয়েছেন।

এদিকে হজপালনে সৌদি আরবে এসে শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত পর্যন্ত ৮১ জন হাজি ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৭১ জন, নারী ১০ জন। মারা যাওয়া হাজিদের ৭২ জন মক্কায়, ৮ জন মদিনায় ও ১ জন জেদ্দায় ইন্তেকাল করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র