Alexa

ধৈর্যশীল মানুষের পাপ কম হয়

ধৈর্যশীল মানুষের পাপ কম হয়

ধৈর্যশীল মানুষের পাপ কম হয়, প্রতীকী ছবি

মানুষের ধৈর্যশক্তি বৃদ্ধির পেছনে ধর্মীয় জ্ঞান ও ঈমানি শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ধৈর্যশক্তি মানুষের ভালো কাজের সুযোগ ও ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা যায়।

যারা ধৈর্যশীল হয়, তারা পরকালে পুরস্কারতো পায়ই, একইসঙ্গে ইহকালীন জীবনেও সাফল্য পায় এবং তাদের জীবন হয় প্রশান্তিময়। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে ধৈর্যশীলদের। এ ধরনের ব্যক্তিরা নিরর্থক অভিযোগ- অনুযোগ ও অন্যায় আচরণের দরুণ অস্থির হন না। এ কারণে এমন মানুষ অনাকাঙ্খিত বিপদ-আপদের ধৈর্য হারায় না। দুঃখ-কষ্টের মাঝেও চূড়ান্ত কল্যাণের তালাশ করেন।

প্রবাদে আছে, ‘সবুরে মেওয়া ফলে।’ ইতিহাসের সফল ব্যক্তিদের জীবন পর্যালোচনা করলেও এটা দেখা যায় যে, তাদের বিজয়ের পেছনে ধৈর্য শক্তি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। যাদের ধৈর্যশক্তি নেই, তারা সামান্য বিপদে ভেঙে পড়েন।

অনেক সময় আমাদেরকে উদ্বেগ ও হতাশা কাবু করে ফেলে, এর পেছনে অধৈর্য ও অস্থিরতা প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। ধৈর্যহারা ব্যক্তিরা সম্ভাব্য স্বল্পতম সময়ে কাজ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা কোনো কাজের জন্য সময় ব্যয় করতে চান না। কিন্তু এটা বুঝতে হবে যে, অনেক কাজ তাড়াহুড়োর মাধ্যমে করা সম্ভব নয়।

মানুষ ভুল-ভ্রান্তির উর্ধ্বে নয়। কোনো কিছু যদি অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটে যায়, তাহলে আপনি ধৈর্যহীন হয়ে পড়লে কোনো সমাধান আসবে না রবং আরও ক্ষতি হবে। এ কারণে যেসব বিষয় আপনার মাঝে অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়, চিন্তা ও চেতনাকে সেসব বিষয়কেন্দ্রীক করলে চলবে না। দয়া-মায়া, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ও পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে হবে। সব সময় এটা মনে রাখতে হবে যে, যা প্রত্যাশা করছেন; আপনার প্রাপ্তি সেরকম না-ও হতে পারে। এ জন্য জীবনে ধৈর্য ও স্থিতিশীলতা জরুরি।

ইসলাম ধর্মে বারবারই ধৈর্যের প্রভাব নিয়ে কথা বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে প্রচুর বর্ণনা রয়েছে।

ধৈর্যশীল হলে অনেক পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারে মানুষ। এমন মানুষ আল্লাহতায়ালার ন্যায়বিচারের বিষয়ে নিরাশ হয় না। এ কারণে তাদের পুরস্কার অবশ্যম্ভাবী। ধৈর্যের পুরস্কার অপরিসীম।

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা হচ্ছে তিন ভাগে বিভক্ত। এক. বিপদের সময় ধৈর্য, দুই. আল্লাহর নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে ধৈর্য ও তিন. ধৈর্যের মাধ্যমে পাপ করা থেকে বিরত থাকা।

এ তিন ধরনের ধৈর্যের পুরস্কার প্রসঙ্গে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বিপদের সময় যে ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহতায়ালা তাকে আসমান ও জমিনের মধ্যকার দূরত্বের সমতুল্য মর্যাদা দান করেন। যে ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহতায়ালার নির্দেশ মেনে চলবে অর্থাৎ ইবাদত-বন্দেগি করবে, আল্লাহতায়ালা তাকে জমিনের তলদেশ থেকে আল্লাহর আরশ পর্যন্ত যে জায়গা, সে পরিমাণ মর্যাদা দেবেন। আর যে ব্যক্তি ধৈর্যের মাধ্যমে পাপ থেকে বিরত থাকবে, আল্লাহ তাকে জমিনের তলদেশ ও আরশের শেষ প্রান্তের মধ্যকার দূরত্বের সমতুল্য মর্যাদা দেবেন। কাজেই ধৈর্যের সঙ্গে পাপ কাজ করা থেকে বিরত থাকার পুরস্কারই সর্বোচ্চ।

আপনার মতামত লিখুন :