Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

মুসলিমরা তাদের জীবন নিয়ে সবচেয়ে তৃপ্ত

মুসলিমরা তাদের জীবন নিয়ে সবচেয়ে তৃপ্ত
মুসলিম নারী, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মুসলিমরা তাদের জীবন নিয়ে সবচেয়ে বেশি তৃপ্ত। এর কারণ হিসেবে এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে, অন্য ধর্মের মানুষের চেয়ে মুসলিমদের মধ্যে ‘একতাবোধ’ বা পরস্পরের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অনুভূতি বেশি কার্যকর।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেইল অনলাইন এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরম কাঙ্খিত ‘সুখ’-এর পরিমাণ নির্ধারণের জন্য এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে কার্যকরি উপায় হচ্ছে জীবনে সন্তুষ্টির পরিমাণ মাপা।

এক জার্মান মনস্তাত্ত্বিক তার নতুন গবেষণায় দেখিয়েছেন, মানুষের ‘একতাবোধ’ বা সম্পৃক্ত থাকার অনুভূতি থেকে সামগ্রিক তৃপ্তি অনুমাণ করা যায়।

এর ভিত্তিতে গবেষকরা বিভিন্ন ধর্মের ৬৭ হাজার ৫৬২ জনকে পর্যবেক্ষণ করেন। পরে তাদেরকে ধর্ম অনুযায়ী বিভিন্ন ভাগে ভাগ করলে দেখা যায়, মুসলিমদের মধ্যে একতাবোধ বেশি।

ধর্ম, দর্শন এবং মনস্তত্ত্বসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্নভাবে মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তা সামগ্রিকভাবে মানুষের ভালো থাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

অবশ্য সুখ কী এবং কিভাবে এটা অর্জন করা যায়- এটা নিঢে বিস্তর আলোচনা রয়েছে এ এক বিরাট প্রশ্নও বটে। এর উত্তর অনেকের কাছেই অজানা।

কিন্তু, ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়ের অধ্যাপক ড. এড ডাইনার (Dr Ed Deiner) সুখের মাপকাঠি Satisfaction with Life Scale (SWLS) বা ‘জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি’ তৈরি করে খ্যাতি অর্জন করেছেন মনস্তাত্ত্বিকদের মধ্যে।

ড. ডাইনারের মানদণ্ডে পাঁচটি প্রশ্ন রয়েছে, যা থেকে অনুমাণ করা যায় একজন মানুষ তার জীবন নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট?

সম্প্রতি জার্মানির ইউনিভার্সিটি অফ মানহাইমের গবেষকরা একতাবোধ কিভাবে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে- তা বের করার পরিকল্পনা করেন।

এ উদ্দেশ্যে ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর জরিপ চালান তারা। এই লোকগুলো মানুষের সঙ্গে কতটা সম্পৃক্ত এবং তারা জীবন নিয়ে কতটা তৃপ্ত সেটি জানতে বিশেষ ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেন গবেষকরা।

গবেষণায় দেখা যায়, সব গ্রুপের মানুষের মধ্যে মুসলিমরা মনে করেন; তারা নিজেদের চেয়ে বৃহত্তর একটা কিছুর সঙ্গে সংযুক্ত। আমেরিকান সাইকোলজি অ্যাসোসিয়েশনে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাপত্রটি।

মুসলিমদের পর এ রকম একতাবোধের ধারণা রয়েছে সেসব খ্রিস্টানদের মধ্যে, যারা নিজেদের ক্যাথলিক মনে করেন না। একতাবোধের পরের অবস্থানে রয়েছে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মের অনুসারিরা।

ফলাফলের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, গবেষকদের তৈরি গাণিতিক মডেলটি একতাবোধ এবং জীবনে সন্তুষ্টির মধ্যে যে একটা শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে, তা নিশ্চিত করেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি
হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে কাফা, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে ধূমপান নিষিদ্ধ। আর ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান মাকরুহ তথা চরম অবাঞ্ছিত কাজ। তারপরও মক্কায় দেখা যায় অনেকেই মসজিদে হারামের বাইরের চত্বরে ধূমপান করেন। রাস্তাঘাটেও ধূমপান করতে দেখা যায় অনেককে। এমনকি ইহরাম পরিহিত অনেককে মিনা, মুজাদালিফা ও আরাফাতের ময়দানে ধূমপান করতে দেখা গেছে।

ধূমপানের এমন ব্যাপকতা থেকে হজযাত্রীদের নিরুতসাহ করতে সৌদি আরবের তামাক, ধূমপান ও মাদক প্রতিরোধ সংস্থা ‘কাফা’ (The Tobacco and Narcotics Combat Charity Society-Kafa) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।

সংস্থাটি হজের আনুষ্ঠানিকতার জায়গাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র স্থাপন করে। সেখান থেকে ধূমপায়ীদের মাঝে ধূমপান বিরোধী প্রচারপত্র বিলির পাশাপাশি কাউন্সেলিং করানো হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ধূমপান ছাড়তে হজযাত্রীদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ দিয়ে থাকেন। ধূমপানের ক্ষতির বিষয়ে সচেতন করতে হাজিদের মাঝে পুস্তিকা, লিফলেট ও মিসওয়াক বিতরণ করা হয়। এভাবে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র থেকে এবার ১১ হাজার ৪৮০ ধূমপায়ীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

কাফার ক্লিনিকে সেবা নিতে এসে ধূমপানের বিপত্তি ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবগত হয়ে অনেকে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। চলতি হজ মৌসুমের ধূমপান ত্যাগীর সংখ্যা ৩১৩ জন। কাফার সেবাকেন্দ্র থেকে সেবা নিয়ে তার ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন।

মক্কায় ধূমপানের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি জন্য গঠিত কমিটির প্রধান আবু গাজালাহ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের দাতব্য মন্ত্রণালয়, হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাফা ধূমপান বিরোধী নানা কর্মসূচি প্রণয়ন করে থাকে। সেই সঙ্গে কাফা মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতসহ মক্কায় হজযাত্রীদের ধূমপান বিরোধী চিকিতসা দেয়।

চার বছর ধরে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

অবশ্য অনেক ধূমপায়ী পবিত্র হজপালন শেষে নিজ থেকেই ধূমপান ছেড়ে দেন। তাদের হিসাব এখানে আসেনি।

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু
মদিনা হাইওয়ে, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: পবিত্র হজপালন শেষে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে বাংলাদেশি হাজি বহনকারী বাস দুর্ঘটনায় ১ জন হাজি ঘটনাস্থলে ইন্তেকাল ও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া হাজির নাম নুরুল ইসলাম (৭০)। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী সদরে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টার দিকে মদিনা থেকে একশ' মাইল আগে ওয়াদি ফারা নামক স্থান বাসের চাকা বিস্ফোরণ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বাসটি উল্টে যায়। ওই বাসটিতে ৩৫ জন হাজি ছিলেন। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর। বাসের যাত্রীরা স্কাই ট্রাভেলসের মাধ্যমে সৌদি আরবে হজপালনের উদ্দেশ্যে আসেন।

আহতদের মদিনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন নারী ছাড়া বাকিদের অবস্থা উন্নতির দিকে। গুরুতর আহতদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

আহতদের ৮ জন মদিনা কিং ফাহাদ হাসপাতালে, মিকাত হাসপাতালে ৪ জন, উহুদ হাসপাতালে ২ জন, সৌদি-জার্মান হাসপাতালে ২ জন ও ইয়াতামা হাসপাতালে ২ জন চিকিতসাধীন রয়েছেন।

এদিকে হজপালনে সৌদি আরবে এসে শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত পর্যন্ত ৮১ জন হাজি ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৭১ জন, নারী ১০ জন। মারা যাওয়া হাজিদের ৭২ জন মক্কায়, ৮ জন মদিনায় ও ১ জন জেদ্দায় ইন্তেকাল করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র