Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

নফল হজের চেয়ে ঋণ পরিশোধ গুরুত্বপূর্ণ

নফল হজের চেয়ে ঋণ পরিশোধ গুরুত্বপূর্ণ
মক্কা শরীফ, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বের মুসলমানদের মাঝে ইসলামি চেতনা, ঈমানি জযবা, ঐক্য ও সংহতি স্থাপনের লক্ষ্যে প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারী মুমিন ব্যক্তির ওপর হজ জীবনে একবার ফরজ করা হয়েছে।

হজ শব্দটি আরবি। শাব্দিক অর্থ ইচ্ছা ও অভিপ্রায় করা, সাক্ষাত করা ও পবিত্র বস্তুর প্রতি ইচ্ছাপোষণ করা।

ইসলামি পরিভাষায়, ইসলামের একটি মহান বিধান আদায় করার নিমিত্তে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভের আশায় কোরআন-সুন্নাহ অনুসারে নির্দিষ্ট কিছু কাজ নির্দিষ্ট সময়ে বায়তুল্লাহিল হারামে সম্পাদন করাকে হজ বলা হয়।

আগেই বলেছি, হজ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। হজের ফজিলত অনেক। তার সওয়াব ও প্রতিদান অনেক। আল্লাহতায়ালা হজ ফরজ করেছেন জীবনে একবার। যদি কোনো ব্যক্তি একবার হজপালন করে এই ফরজ আদায় করে থাকেন তাহলে পরবর্তীতে নফল হজ আদায়ের সময় দেখতে হবে যে, নফল হজ আদায়ের জন্য কোনো ফরজ বা ফরজ পর্যায়ের কর্তব্য বিসর্জন দিয়ে যেতে হচ্ছে কি না। যেমন, নফল হজ করতে চাচ্ছেন এমন কেউ ঋণগ্রস্ত আছেন। এদিকে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ পেরিয়ে গেছে কিংবা ঋণদাতা ঋণ চাচ্ছে। তাহলে তার প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে ঋণ আদায় করা। তা না করে তিনি নফল হজে চলে যাওয়ায় ঋণদাতার যে কষ্ট ও ভোগান্তি হবে তাতে সওয়াবের পরিবর্তে অন্যদিক থেকে গোনাহর পাল্লা ভারি হবে।

একইভাবে ঋণের মতো অন্যান্য বহু পাওনাদির বিষয়েও মনোযোগ দিতে হবে। অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক ও বিত্তবানকে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বেতন-বোনাস বকেয়া রেখে এবং তাদের কষ্টের মধ্যে ফেলে রেখে তারা নফল হজ কিংবা উমরায় চলে যান। এটাও কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তদ্রূপ মিথ্যা বলে হজ করার বিষয়টিও এমন। ধরুন, আপনি ফরজ হজ পালন করেছেন। এখন নফল হজ করতে চান। নফল হজ তো নফলই, ফরজ-ওয়াজিব নয়। অপরদিকে মিথ্যা বলা হারাম। মিথ্যা বলে নফল হজ আদায় করা জায়েয নেই। অথচ দেখা যায়, কেউ কেউ নফল হজ আদায়ের জন্য নানা পথ ও পদ্ধতি অবলম্বন করেন, যার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকে না। অনেকে কিছু টাকা বাঁচানোর জন্য নতুন পাসপোর্ট বানিয়ে হজের সুযোগ নেন। এভাবে মিথ্যা বলে নফল হজ করলে এতে বরং গোনাহ হবে, পরকালে তাকে এ জন্য শাস্তি পেতে হবে।

সুতরাং অবধারিত গোনাহের কাজ করে কেউ হজ করতে গেলে তার কী পরিমাণ সওয়াব হবে, তা সহজেই অনুমেয়। আমাদের সমাজে এসব ক্ষেত্রে সীমাহীন বাড়াবাড়ি আচরণ চালু আছে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ
আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়, ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে আরও ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট কিংবা প্রতিস্থাপনের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২২ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল্লাহ আরিফ মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের কথা জানানো হয়েছে।

হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের জন্য ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে হজ অফিসের পরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে এবং তা অনলাইনে নিশ্চিত করতে হবে। এজেন্সির নিজস্ব প্যাডে লিখিত আবেদনে হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সুপারিশ থাকতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপনযোগ্য হজযাত্রীর গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুজনিত কারণে হজপালন করতে পারবেন না মর্মে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রী অথবা মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর লিখিত আবেদন এবং উপযুক্ত চিকিৎসকের সনদ দাখিল করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি দেখতে ক্লিক করুন

প্রতিস্থাপন প্রাপ্তির জন্য এজেন্সির পক্ষ থেকে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হচ্ছে না মর্মে তিনশ’ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে। হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে জাতীয় হজ ও ওমরা নীতি-২০১৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হজ নীতিমালায় ৫ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয় বিশেষ সার্কুলার জারি করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দিয়ে থাকে। চলতি বছর দুই দফায় ৫ শতাংশ করে ১০ শতাংশ হারে রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এবার আরও ৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দেওয়া হলো।

হজযাত্রার জন্য প্রাক-নিবন্ধনের পর মৃত্যু ও অসুস্থতাসহ নানা কারণে যারা হজপালনে সৌদি আরব যেতে পারেন না, তাদের পরিবর্তে অন্যদের হজপালনের সুযোগকে রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন বলে। সৌদি দূতাবাস কর্তৃক হজ ভিসা দেওয়া বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্লাইট চালু সাপেক্ষে যাত্রীদের রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

৫ লাখ ৬৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন

৫ লাখ ৬৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন
৫ লাখ ৬৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন, ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছর হজপালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজযাত্রীরা যাওয়া শুরু করেছেন। রোববার (২১ জুলাই) সকাল আটটা পর্যন্ত সৌদি আরবে বিভিন্ন দেশ থেকে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬২ জন হজযাত্রী পৌঁছেছেন।

এসব হজযাত্রীদের মধ্যে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১৪৯ জন আকাশপথে, ৮ হাজার ৭১০ জন সড়কপথে ও ৬ হাজার ৩ জন নৌপথে সৌদি আরব পৌঁছেছেন।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১৮৬টি দেশ থেকে হজযাত্রী আসবেন হজপালনের জন্য।

বিভিন্ন দেশের মুসলিম জনসংখ্যার হার অনুপাতে সৌদি আরব হজপালনকারীদের জন্য কোটা বরাদ্দ দিয়ে থাকে। তাদের দেওয়া কোটা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে হজ পালনেচ্ছুদের হজে আসতে হয়। সাধারণত ১০ লাখ লোকের জন্য ১ হাজার কোটা বরাদ্দের একটি নিয়ম তারা অনুসরণ করে।

এবার বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। ইতোমধ্যে ৭২ হাজার ৭৪৬ জন সৌদি আরব গিয়ে পৌঁছেছেন।

সৌদি গেজেটের এক খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের নাগরিক ও দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীসহ ৩ লাখেরও বেশি মানুষ এ পর্যন্ত হজপালনের অনুমতি পেয়েছেন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা নিবন্ধিত হয়েছেন।

হজযাত্রীরা নিরাপদ ও স্বস্তির সঙ্গে হজপালন করতে পারেন, সেজন্য সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হজ সেবা সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো নিরলসভাবে কাজ করছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র