Alexa

হজরত আইয়ুব আ.-এর অসুস্থতা নিয়ে বানোয়াট কিসসা প্রসঙ্গে

হজরত আইয়ুব আ.-এর অসুস্থতা নিয়ে বানোয়াট কিসসা প্রসঙ্গে

হজরত আইয়ুব আ.-এর অসুস্থতা নিয়ে বানোয়াট কিস্সা প্রসঙ্গে, ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন বক্তার ওয়াজে প্রায়ই শোনা যায়, হজরত আইয়ুব আলাইহিস সালামের সারা শরীরে পচন ধরেছিলো। পোকায় তার শরীরের গোশত সব খেয়ে ফেলে। কিন্তু তিনি সর্বদা জিকির করতেন বলে তার জিহ্বা পোকা খায়নি।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে হজরত আইয়ুব আলাইহিস সালামের বিপদ আপদে আপতিত হওয়ার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এসেছে। তিনি অনেক কষ্ট করেছেন।

প্রধান্য পাওয়া বক্তব্য অনুপাতে তিনি ১৩ বছর পর্যন্ত পরীক্ষা ও মুসিবতে ছিলেন। এরপর তাকে আল্লাহতায়ালা মুসিবত থেকে উদ্ধার করেন।

কিন্তু তার শরীরে পোকায় ধরা সংক্রান্ত কোনো বিশুদ্ধ হাদিস নিই। বরং কিছু বর্ণনা দ্বারা এটাকে অস্বীকার করা হয়েছে। তবে কিছু দুর্বল এবং ইসরাইলি বর্ণনায় পোকায় ধরার বিষয়টি এসেছে। ওই বর্ণনাগুলো যেহেতু দুর্বল এবং ইসরাইলি বর্ণনা, তাছাড়া সহিহ বর্ণনা এসবকে সমর্থন করে না। তাই হজরত আইয়ুব আলাইহিস সালামের ব্যাপারে এসব কথা বলা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

হজরত আইয়ুব আলাইহিস সালামের নাম কোরআনে কারিমে চারটি সূরার চার জায়গায় আলোচিত হয়েছে। আল্লাহতায়ালা তাকে দীর্ঘকাল কঠিন অসুখ দিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন। কিন্তু তিনি ধৈর্যধারণ করে ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

তিনি অসুস্থতাকালীন সময়ে যে দোয়াটি পড়েছেন তাও পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে। দোয়াটি হলো-

উচ্চারণ: আন্নী মাচ্ছানিয়াজ্জুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমীনি।

অর্থ: (হে আমার প্রতিপালক!) আমাকে দুঃখ-ক্লেশ (ব্যাধি) স্পর্শ করেছে, আর তুমি তো (দয়ালুদের মধ্যে) শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ -সূরা আম্বিয়া: ৮৩

এই দোয়া প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘অতঃপর আমি তার (সেই) আহবানে সাড়া দিলাম এবং তার দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিলাম এবং তার পরিবরাবর্গ ফিরিয়ে দিলাম, আর তাদের সঙ্গে তাদের সমপরিমাণ আরও দিলাম আমার পক্ষ থেকে কৃপাবশতঃ আর এটা ইবাদতকারীদের জন্যে উপদেশস্বরূপ।’ -সূরা আম্বিয়া: ৮৪

হজরত ইউসূফ (আ.) এর পরে এবং হজরত মুসা (আ.)-এর আবির্ভাবের পূর্বে হজরত আইয়ুব (আ.) পৃথিবীতে আগমন করেন।

হজরত আইয়ুব (আ.) আল্লাহতায়ালার অত্যন্ত খাঁটি বান্দা ছিলেন। তিনি অতি মহৎ, প্রচণ্ড ধৈর্যশীল ও আল্লাহর প্রতি ভীষণ অনুরাগী ছিলেন। আল্লাহ প্রদত্ত সকল পরীক্ষাতে তিনি কৃতকার্য হন।

প্রত্যেক মুসলমানের উচিত হজরত আইয়ুব (আ.)-এর মতো প্রচণ্ড ধৈর্যশীল, কণ্ঠসহিষ্ণু ও ঈমানদার হওয়া। দুঃখ-কষ্ট-প্রাচুর্য সর্বাবস্থায় আল্লাহতায়ালার শোকরিয়া আদায় করা।

আপনার মতামত লিখুন :