Alexa

ভোররাতে ইবাদত-বন্দেগি আল্লাহর প্রিয় হওয়ার মাধ্যম

ভোররাতে ইবাদত-বন্দেগি আল্লাহর প্রিয় হওয়ার মাধ্যম

ভোররাতে ইবাদত-বন্দেগি আল্লাহর প্রিয় হওয়ার মাধ্যম, ছবি: বার্তা২৪.কম

কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে, যাদের সামনে এই আয়াতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং অহংকারমুক্ত হয়ে তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে।’ ‘(গভীর রাতে) তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।’ ‘কেউ জানে না তার কৃতকর্মের জন্য কি কি নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে।’ -সূরা সিজদা: ১৫-১৭

বর্ণিত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইসলামি স্কলাররা বলেছেন, পৃথিবীতে ঈমানের দাবিদার বহু মানুষ আছে যাদের কথার সঙ্গে কাজের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা ঈমানের দাবি করেন কিন্তু তাদের কাজ-কর্ম কোরআনের শিক্ষাভিত্তিক নয়। ঈমানের দাবিদার হওয়া সত্ত্বেও তারা আল্লাহর সামনে যেমন সিজদাবনত হয় না তেমনি মানুষের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রেও বিনয়ী নয়। তারা একদিকে আল্লাহর আদেশের সামনে নাফরমানি করে এবং অন্যদিকে মানুষের সামনে দম্ভ ও অহংকার করে বেড়ায়।

প্রকৃত ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য হলো, পবিত্র কোরআনের সামনে নিজেকে পুরোপুরি আত্মসমর্পন করা। আল্লাহতায়ালার নেয়ামতের প্রশংসা করা। তার প্রশংসা ও মহিমা ঘোষণা করা, নামাজ আদায় করা। জীবনের দুঃখ-কষ্ট, ঘাত-প্রতিঘাতের জন্য আল্লাহকে দায়ী না করে ধৈর্য্যধারণ করা। গর্ব, অহংকার ও দম্ভ মনে স্থান না দেওয়া।

ঈমানদার ব্যক্তির আরও কিছু বৈশিষ্ট্য হলো, তারা শুধু ফরজ নামাজই আদায় করে না সেইসঙ্গে গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমে থাকে তখন জাগ্রত হয় এবং নামাজ ও মুনাজাতে মশগুল হয়ে যায়। কারণ, আল্লাহর সঙ্গে কথা বলার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে শেষরাত। আলেমরা বলেছেন, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য শেষরাত হচ্ছে সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় আল্লাহতায়ালার কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য এবং তার রহমতের অবগাহনে সিক্ত হওয়ার আশায় কান্নাকাটি করে মোনাজাত করা।

কোনো ধরনের প্রদর্শন ইচ্ছা ছাড়া যারা এভাবে প্রবল অনুরাগে আল্লাহতায়ালার ইবাদত করে এবং তার বান্দাদের খোঁজ-খবর রাখে তাদেরকে আল্লাহ এমন প্রতিদান দেবেন যা কেউ কোনোদিন কল্পনা করতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না, তিনি কি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার তাদের জন্য নির্ধারিত রেখেছেন।

বস্তুত প্রকৃত মুমিন নিজেকে আল্লাহর আজাব থেকে যেমন মুক্ত ভাবে না তেমনি তার রহমতের ব্যাপারেও নিরাশ হয় না। সে সব সময় ভয় ও আশা নিয়ে বেঁচে থাকে এবং কখনও অহংকার বা হতাশা তাকে পেয়ে বসে না।

মধ্যরাতের পর ঘুম থেকে জেগে কোআন তেলাওয়াত করা, নামাজ পড়া এবং আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করা প্রকৃত মুমিনের লক্ষণ। এবং আল্লাহর অফুরন্ত পুরস্কার পেতে চাইলে ভোররাতে ঘুম থেকে জাগার কষ্ট সহ্য করতে হবে।

ইসলাম মনে করে, ঈমান ও আমল দু’টি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। জান্নাত হচ্ছে মানুষের আমলের প্রতিদান। আর শুধু ঈমানের দাবিদার আমলহীন মানুষ জান্নাতের গন্ধও পাবে না।

আপনার মতামত লিখুন :