Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

অজু এবং গোসলের বিকল্প বিধান তায়াম্মুম

অজু এবং গোসলের বিকল্প বিধান তায়াম্মুম
অজু এবং গোসলের বিকল্প বিধান তায়াম্মুম, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আল্লাহতায়ালা মানবজাতিকে তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। ইবাদত অপবিত্র অবস্থায় আদায় করা যায় না। পাক-পবিত্র অবস্থায় ইবাদত-বন্দেগি করতে হয়। আর পবিত্রতা অর্জনের জন্য অজু ও গোসলের কোনো বিকল্প নেই। অজু-গোসলের প্রধান মাধ্যম হলো- পানি। আল্লাহতায়ালা তার বিশেষ মেহেরবানীতে বান্দাদের জন্যে প্রচুর পরিমাণে পানির সরবরাহ করে রেখেছেন। তারপরও প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। হতে পারে কোনো স্থানে পানি পাওয়া যাচ্ছে না অথবা গেলেও তা সংগ্রহ করা দুষ্কর বা পেলেও তা ব্যবহার করা দুঃসাধ্য অথবা জীবনের ওপর আঘাত আসতে পারে। এরূপ পরিস্থিতে আল্লাহতায়ালা মেহেরবানী করে মাটি বা মাটি জাতীয় পদার্থ দিয়ে পবিত্রতা অর্জনের অনুমতি প্রদান করেছেন।

সাময়িক পানির অপ্রতুলতার পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন স্বয়ং হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার প্রিয় সাহাবারা। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমরা কোনো এক সফরে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে বের হলাম। আমরা বাইদা কিংবা যাতুল জাইশ নামক স্থানে পৌঁছলে আমার গলার হারটি হারিয়ে যায়। তাই হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তা অনুসন্ধান করার জন্য সেখানে অবস্থান করলেন। আর লোকেরাও তার সঙ্গে রয়ে গেলো। কিন্তু সেখানে পানি ছিলো না এবং তাদের সাথে আনা পানিও অবশিষ্ট ছিলো না। হজরত আবু বকর (রা.) আমার কাছে এসে বললেন, তুমি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং অন্যসব লোককে এমন এক জায়গায় আটকে ফেলেছো যেখানে পানি নেই এবং তাদের সঙ্গেও পানি নেই। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, হজরত আবু বকর (রা.) আমাকে তিরস্কার করার পর আমার পার্শ্বদেশে হাত দ্বারা সজোরে আঘাত করলেন। কিন্তু হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঘুমের ব্যঘাত ঘটার ভয়ে আমি ধৈর্য ধরে স্থির থাকলাম। এ অবস্থায় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ভোর পর্যন্ত পানি ছাড়াই ঘুমালেন। ঠিক এই সময় মহামহিম আল্লাহ তায়াম্মুমের আয়াত নাজিল করলেন। লোকেরা সবাই তায়াম্মুম করলো। আক্বাবা রাতের প্রতিনিধিদের একজন উসাঈদ ইবনে হুদাঈর বলে উঠলেন, হে আবু বকরের পরিবার তোমাদের কারণে কেবলমাত্র এটিই প্রথম বরকত নয়। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, অতঃপর আমি যে উটের ওপর ছিলাম সেটিকে উঠালে তার নিচে আমার হারটি পাওয়া গেলো। -সহিহ মুসলিম শরিফ

তায়াম্মুম প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য ওঠো, তখন স্বীয় মুখমণ্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত এবং পদযুগল গিটসহ ধৌত করো। যদি তোমরা অপবিত্র হও, তবে সারাদেহ পবিত্র করে নাও এবং যদি তোমরা রুগ্ন হও, অথবা প্রবাসে থাকো অথবা তোমাদের কেউ প্রস্রাব-পায়খানা সেরে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করো, অতঃপর পানি না পাও, তবে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও অর্থাৎ স্বীয় মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয় মাটি দ্বারা মুছে ফেলো। আল্লাহ তোমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না; কিন্তু তোমাদেরকে পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নিয়ামত পূর্ণ করতে চান- যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’ -সূরা মায়িদা: ৬

তায়াম্মুমের ফরজ
তায়াম্মুমের ফরজ তিনটি যথা- ১. তায়াম্মুমের নিয়ত করা, ২. তায়াম্মুমের বস্তুর ওপর উভয় হাত ঘর্ষণ শেষে সমস্ত মুখমণ্ডল একবার মাসেহ করা এবং ৩. কনুইসহ উভয় হাত মাসেহ করা।
 
তায়াম্মুমের সুন্নত
তায়াম্মুমের সুন্নত ৬টি যথা- ১. বিসমিল্লাহ বলে তায়াম্মুম আরম্ভ করা, ২. মাটি বা মাটি জাতীয় বস্তুর ওপর দু’হাত চাপড় মারা, ৩. হাত ঝেড়ে নেওয়া, ৪. প্রথমে মুখমণ্ডল মাসেহ করা, ৫. তারপর ডান হাত, পরে বাম হাত তারতিবের সঙ্গে মাসেহ করা এবং ৬. পরপর ধারাবাহিকভাবে মাসেহ করা।

তায়াম্মুম করার পদ্ধতি
পাক মাটি, চুন, সুরকি, পাথর, ঘরের দেয়াল জাতীয় পদার্থে ওপর আঙ্গুলগুলো ফাঁক রেখে দুই হাতের তালু এমনভাবে মারতে হবে যেন ধুলা উড়ে আঙ্গুলগুলোর ফাঁকেও প্রবেশ করে। এ সময়ে পবিত্র হওয়ার নিয়ত করতে হবে। এরপর দু’হাত সমস্ত মুখমণ্ডলের ওপর মাসেহ করতে হবে। চুল ও লোমকূপের মধ্যে ধুলি পৌঁছার জন্য অতিরিক্ত চেষ্টা করার প্রয়োজন নেই। আঙ্গুলে আংটি থাকলে খুলে নিতে হবে।
 
এরপর আঙ্গুল ফাঁক রেখে পুনরায় পূর্বের মতো মাটির ওপর হাতের তালু আঘাত করতে হবে। এবার হাত তুলে বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলী ব্যতীত অন্যান্য আঙ্গুলগুলোর ওপর ডান হাতের আঙ্গুলগুলোর পৃষ্ঠে স্থাপনপূর্বক বাম হাতের আঙ্গুলগুলোর পেট দ্বারা ডান হাতের আঙ্গুলগুলোর পৃষ্ঠদেশে অগ্রভাগ হতে আরম্ভ করে ধীরে ধীরে মাসেহ করতে করতে কনুইর ওপর পর্যন্ত আনতে হবে। পরে সেখান থেকে বাম হাতের তালু ডান হাতের ভেতরের দিকে কনুইর ওপর হতে আঙ্গুলের দিকে আস্তে আস্তে মাসেহ করে শেষভাগে বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলোর পেট দ্বারা ডান হাতের আঙ্গুলগুলোর পিঠ মুছে ফেলতে হবে। এভাবে ডান হাত দ্বারা বাম হাত মুছতে হবে।
 
এরপর উভয় হাতের তালু পরস্পর ঘর্ষণ করতে হবে এবং এক হাতের আঙ্গুলগুলো অপর হাতের আঙ্গুলগুলোর ফাঁকে ফাঁকে প্রবেশ করে ঘর্ষণ করতে হবে। এ পদ্ধতিতে তায়াম্মুম সম্পন্ন করে তা দ্বারা এক ওয়াক্তের ফরজ নামাজ এবং সুন্নত ও নফল নামাজ যতো ইচ্ছা পড়া যাবে। তবে অন্য ওয়াক্তের ফরজ নামাজের জন্য পুনরায় তায়াম্মুম করতে হবে।
 
তায়াম্মুম ভঙ্গের কারণসমূহ
যে সব কারণে অজু ভঙ্গ হয়, সে সমস্ত কারণে তায়াম্মুমও ভঙ্গ হয়ে যায়। যে সমস্ত কারণে গোসল ফরজ হয়, সেসব কারণে তায়াম্মুম নষ্ট হয়। এ ছাড়া পানি পাওয়া গেলে, তায়াম্মুম করার পর নামাজ শুরু করার পরে পানি পাওয়া গেলে কিংবা কূপ হতে পানি ওঠানোর পাত্র পাওয়া গেলে তখন তায়াম্মুম ও নামাজ উভয়ই ভঙ্গ হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় অজু করে পুনরায় নামাজ পড়তে হবে। তবে নামাজ শেষ হওয়ার পরে পানি পাওয়া গেলে নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে না।

আপনার মতামত লিখুন :

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করছেন হজযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজপালনে ৬২ হাজার ৭৪৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ১৪১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৫টিসহ মোট ১৭৩টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব ব্যবস্থাপনামহ ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু করেছে।

অনলাইনে হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ জন হজযাত্রীর।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে সৌদি আরবে ১২ জন ইন্তেকাল করেছেন। তন্মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের ৯ জন মক্কায়, মদিনায় ২ জন ও জেদ্দায় ১ জন ইন্তেকাল করেন।

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র