Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

শুধু মারা গেলে নয়, সবসময় পিতা-মাতার জন্য দোয়া করা

শুধু মারা গেলে নয়, সবসময় পিতা-মাতার জন্য দোয়া করা
পিতা-মাতার জন্য রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা বলে দোয়া করা, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে পিতা-মাতার জন্য ‘রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা’ দোয়াটি শিখিয়েছেন। যদিও অনেকে মনে করেন, রহমতের এ দোয়াটি মৃত পিতা-মাতার জন্য। আসলে বিষয় তেমন নয়। যেহেতু দোয়াটি আল্লাহতায়ালার শেখানো দোয়া এবং এর অর্থ হচ্ছে, ‘আল্লাহ! আপনি তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন’ এই রহমত মৃত্যুর পরে যেমন প্রয়োজন তেমনি মৃত্যুর আগেও প্রয়োজন। অতএব পিতা-মাতা জীবিত থাকা অবস্থায়ও এই দোয়াটি পড়া যাবে। অনেক আলেম তো পিতা-মাতার জন্য এই দোয়াটিই উত্তম বলেছেন।

বস্তুত ইসলাম পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ করেছেন, তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতর সঙ্গে সদাচরণ করো। তাদের একজন বা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে পৌঁছলে, তাদেরকে উফ শব্দটি বলো না, তাদের ধমক দিও না; তাদের সম্মান দিয়ে কথা বলো। তাদের সামনে ভালোবাসার সঙ্গে নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলো হে প্রভু! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া করো, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।’ -সূরা বনি ইসরাইল: ২৩-২৪

সন্তানের অসহায়ত্বের সময় যেভাবে মা-বাবা তাদের স্নেহভরে লালন-পালন করেছিলেন। তেমনি মা-বাবার বৃদ্ধাবস্থায় সন্তানরা তাদের সব চাহিদা পূরণ করবে। এটা ইসলামের বিধান। অবশ্য বাংলাদেশের আইনেও মা-বাবার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা এবং তাদের সঙ্গে সন্তানের বসবাস বাধ্যতামূলক করার বিধান রয়েছে। ‘পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন ২০১৩’ নামে এ সংক্রান্ত একটি আইন পাস করা হয়েছে জাতীয় সংসদে।

ইসলামের বিধান হলো, সর্বাবস্থায় পিতা-মাতার সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এক লোক এসে প্রশ্ন করলেন, আমার কাছ থেকে সবচেয়ে ভালো আচরণ পাওয়ার অধিকার কার? নবী করিম (সা.) বললেন, তোমার মায়ের। লোকটি আবার প্রশ্ন করলে তিনি একই উত্তর দেন। তিন-তিনবার এমন উত্তর দেওয়ার পর লোকটি আবার একই প্রশ্ন করে। নবী করিম (সা.) বলেন, তোমার পিতার। -সহিহ বোখারি: ২২২৭

কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি তো মানুষকে তার মা-বাবার সঙ্গে ভালো আচরণের নির্দেশ দিয়েছি। মা সন্তানকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভেধারণ করে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দু’বছরে। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট।’ -সূরা লুকমান: ১৪

কোরআনে কারিমে আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি, পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যহার করতে।’ –সূরা আনকাবুত: ৮

হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মাতা-পিতার রাজি-খুশির মধ্যেই আল্লাহর রাজি-খুশি। মাতা-পিতার অসন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি।’ -সুনানে তিরমিজি: ২/১২

অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়। তা হলো- ক. মজলুমের দোয়া, খ. মুসাফিরের দোয়া এবং গ. সন্তানের জন্য মা-বাবার দোয়া।’ -সুনানে তিরমিজি

সহজাতভাবেই বৃদ্ধ মা-বাবার সবচেয়ে বড চাওয়া সন্তান ও নাতি-নাতনির সঙ্গে থাকা। সন্তান নাতি-নাতনির সঙ্গে সুখ-দুখ ও আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করতে চান তারা। কিন্তু সব পিতা-মাতার ভাগ্যে এটা জুটে না। অনেকে তো বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রত্যেক সন্তানের কর্তব্য হলো, ইসলামের বিধান মেনে পিতা-মাতার সম্মান করা। তাদের সুচিকিৎসা ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' অর্থাৎ 'আমি উপস্থিত হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত।' সাদা দুই টুকরো কাপড় গায়ে জড়িয়ে বারবার এ ঘোষণায় আকাশ-বাতাস মুখর করে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মধ্য দিয়ে এবার হজপালন করলেন প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম। আরাফাতের ময়দানে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সফেদ-শুভ্র কাপড় পরে চোখে পানি নিয়ে মোনাজাত করেছেন হাজিরা জীবনের যাবতীয় পাপ মাফের জন্য।

এবার হজপালন করেছেন ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ জন। ২০১৮ সালে হজপালন করেছিলেন ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৭৫ জন। গতবারের তুলনায় এবার হজপালনকারীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৩১ জন বেশি। এবারের হজপালনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রী ছিলো- ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ জন, আর সৌদি আরবের হজপালনকারী ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৯ জন (সৌদি নাগরিক ২ লাখ ১১ হাজার ৩ জন, সৌদিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৬ জন)। এই বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীর মধ্যে পুরুষ হজযাত্রী ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৩৪ জন (শতকরা ৫৩ ভাগ), নারী হজযাত্রী ১১ লাখ ৪ হাজার ১৭২ জন (শতকরা ৪৭ ভাগ)। এবার ৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৩০ দম্পতি হজপালন করেছেন। হজযাত্রীরা আকাশ পথ, সড়ক পথ ও নৌ-পথ ব্যবহার করে হজপালন করতে সৌদি আরব এসেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় এশিয়া মহাদেশ শীর্ষে। আর দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া। এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে হজপালন করছেন ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী। বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮। বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে বয়স অনুযায়ী ৪১-৬০ বছর বয়সী যাত্রীর হার শকতরা ৩৪ ভাগ। আর লিঙ্গ অনুযায়ী পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ৬৩ ভাগ। বাংলাদেশ থেকে ঢাকা বিভাগের হজযাত্রী বেশি (শতকরা ৩৩ ভাগ) আর যাত্রী কম সিলেট বিভাগের (শতকরা ২ ভাগ)। হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শতকরা ৯ ভাগ চাকরিজীবির বিপরীতে শতকরা ৪০ ভাগ ব্যবসায়ী এবার হজ পালন করেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা হিসেবে শীর্ষ দশের অন্য দেশগুলো হলো- দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান (১ লাখ ৭৯ হাজার ২১০), তৃতীয় ভারত (১ লাখ ৭০ হাজার), পঞ্চম মিসর (১ লাখ ৮ হাজার), ষষ্ঠ ইরান (৮৬ হাজার ৫০০), সপ্তম তুরস্ক (৭৯ হাজার), অষ্টম নাইজেরিয়া (৭৯ হাজার), নবম আলজেরিয়া (৩৬ হাজার) ও দশম স্থানে রয়েছে মরক্কো (৩১ হাজার)।

উল্লেখিত দেশসমূহ বাদে অন্য দেশসমূহের হজযাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১০৬ জন।

এবারও হজ উপলক্ষে সৌদি সরকার ৫ রিয়াল মূল্যমানের ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছে। প্রথমবারের মতো আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া হজের খুতবা রেডিওর মাধ্যমের সরাসরি ৬টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়েছে। ওই ৬টি ভাষা হলো- ইংরেজি, চাইনিজ, উর্দু, ফার্সি, ফ্রান্স ও মালি। সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো ৫০ ভাষার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হজ অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয় হজপালনকারীদের মোবাইলে প্রতিদিন বিভিন্ন পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনামূলক প্রায় ৩২ লাখ এসএমএস পাঠিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র