Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জীবনে বরকত লাভের উপায়সমূহ

জীবনে বরকত লাভের উপায়সমূহ
আল্লাহর ওপর ভরসায় জীবনে বরকত আসে, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বরকত বলা হয় কোনো বস্তুতে আল্লাহ প্রদত্ত কল্যাণ স্থায়ী হওয়া। বরকত এমন একটি শব্দ যা আমরা প্রায়ই শুনি। তবে আফসোসের বিষয় হলো- আমরা আমাদের ঘর-বাড়িতে, কাজেকর্মে বরকত পাই না। কারণ, বরকত লাভের খোদায়ী উপায়গুলো আমাদের জানা নেই অথবা জানা থাকলেও আমলে নেই না।

এখানে বরকত লাভের বেশ কয়েকটি উপায় বলা হলো-

কোরআনে কারিমের তেলাওয়াত
আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনের ইরশাদ করেছেন, এটা একটি বরকতপূর্ণ কিতাব যা আমি অবতীর্ণ করেছি। যে ব্যক্তি এই কিতাব শিখবে, এই কিতাবের শিক্ষা অনুযায়ী আমল করবে সে জীবনে বরকত লাভ করতে থাকবে।

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসেও এ বিষয়ে বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, যে ঘরে কোরআনে কারিমের তেলাওয়াত হয় সেই ঘর সম্পর্কে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, সেই ঘরে ফেরেশতারা বসবাস করে। আর শয়তান সেই ঘর থেকে পলায়ন করে। তার পরিবার-পরিজনের মাঝে প্রশস্ততা লাভ হয়। কাজকর্মে ও জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরকত বৃদ্ধি পায়।

যথাসময়ে নামাজ আদায় করা
জীবনে বরকত লাভের একটি শক্তিশালী উপায় হলো- সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ পড়া। অর্থাৎ আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করা। নারীদেরও ওয়াক্তের শুরুতে নামাজ আদায় করে নেওয়া।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, হে নবী! আপনি আপনার পরিবারকে নামাজের নির্দেশ প্রদান করুন এবং নিজেও এর ওপর অবিচল থাকুন। আপনার নিকট আমি রিজিক চাই না। বরং আমিই আপনাকে রিজিক দান করি। আর উত্তম পরিণতি কেবল তাকওয়ার জন্যই।

সদকা করা
সদকা করলে রিজিকে বরকত হয়। বিশেষত গোপনে সদকা করলে অধিক ফায়দা হয়। সদকা দ্বারা আল্লাহতায়ালার ক্রোধ প্রশমিত হয়।

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা
আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখলে আল্লাহতায়ালা জীবনে ও রিজিকে বরকত দান করেন। আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও উত্তম আখলাক রিজিকে বরকত আনয়ন করে এবং জীবনকে দীর্ঘ করে।’

সকাল সকাল কাজে বের হওয়া
প্রতিদিন ফজর নামাজ পড়ে সকাল সকাল কাজে বের হওয়াও বরকত লাভের অন্যতম উপায়। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমার উম্মতের প্রভাতবেলায় বরকত প্রদান করা হয়েছে।

বিসমিল্লাহ বলা ও আল্লাহর জিকির করা
হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন কেউ ঘরে প্রবেশকালে বিসমিল্লাহ বলে এবং পানাহারের সময় বিসমিল্লাহ বলে, তখন শয়তান পরস্পরকে বলে; এই ঘরে তোমাদের থাকার ব্যবস্থা নেই। খাবারেরও ব্যবস্থা নেই।

বেশি করে তওবা-ইসতিগফার করা
অধিক ইসতিগফার জীবনে বরকত আনে। হজরত নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইসতিগফার করতে থাকে আল্লাহ তার সংকট দূর করেন। তার দুশ্চিন্তা, পেরেশানি হটিয়ে দেন এবং এমন স্থান থেকে তাকে রিজিক দান করেন যা তার ধারণাতেও ছিল না।

তাওয়াক্কুল
আল্লাহর ওপর পূর্ণাঙ্গ ভরসা করাকে বলে তাওয়াক্কুল। এর দ্বারাও জীবনের পেরেশানি দূর হয়। জীবনে বরকত লাভ হয়। আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, যদি তোমরা হক আদায় করে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে পার তাহলে এমনভাবে রিজিক লাভ করবে যেমন পাখী লাভ করে থাকে। সে সকালে শূন্য উদরে বের হয়, আর সন্ধ্যায় ভরা পেটে নীড়ে ফিরে আসে।

আল্লাহতায়ালা সবাইকে সঠিক পথে বরকত লাভের তওফিক দান করুন।

আপনার মতামত লিখুন :

কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম

কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম
কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম, ছবি: সংগৃহীত

কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ে গঠিত আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম।

২ আগস্ট, শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ২০১৭, ১৮ ও ১৯ সালের পরীক্ষায় মুমতাজ (স্টারমার্ক) বিভাগে উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা উপলক্ষে মতবিনিময় সভারও আয়োজন করেছে সংগঠনটি । অনুষ্ঠানে বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, শিক্ষক ও ইসলামি চিন্তাবিদরা উপস্থিত থাকবেন।

উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে 01674609982, 01670269028 এই নম্বরে নাম তালিকাভুক্তির জন্য যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

কওমি ফোরাম দেশের প্রতিনিধিত্বশীল আলেমদের নিয়ে একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম গঠনের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন- মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আউয়ুবি, মাওলানা হাসান জামিল, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান, মাওলানা গাজী ইয়াকুব, মুফতি এনায়েতুল্লাহ ও মুফতি মুর্তজা হাসান ফয়েজি মাসুম ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী আলেমদের উপস্থিতিতে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ‘আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন ‘কওমি মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদান বিল ২০১৮’ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হয়। ৮ অক্টোবর এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হয়।

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ
আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়, ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে আরও ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট কিংবা প্রতিস্থাপনের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২২ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল্লাহ আরিফ মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের কথা জানানো হয়েছে।

হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের জন্য ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে হজ অফিসের পরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে এবং তা অনলাইনে নিশ্চিত করতে হবে। এজেন্সির নিজস্ব প্যাডে লিখিত আবেদনে হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সুপারিশ থাকতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপনযোগ্য হজযাত্রীর গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুজনিত কারণে হজপালন করতে পারবেন না মর্মে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রী অথবা মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর লিখিত আবেদন এবং উপযুক্ত চিকিৎসকের সনদ দাখিল করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি দেখতে ক্লিক করুন

প্রতিস্থাপন প্রাপ্তির জন্য এজেন্সির পক্ষ থেকে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হচ্ছে না মর্মে তিনশ’ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে। হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে জাতীয় হজ ও ওমরা নীতি-২০১৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হজ নীতিমালায় ৫ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয় বিশেষ সার্কুলার জারি করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দিয়ে থাকে। চলতি বছর দুই দফায় ৫ শতাংশ করে ১০ শতাংশ হারে রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এবার আরও ৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দেওয়া হলো।

হজযাত্রার জন্য প্রাক-নিবন্ধনের পর মৃত্যু ও অসুস্থতাসহ নানা কারণে যারা হজপালনে সৌদি আরব যেতে পারেন না, তাদের পরিবর্তে অন্যদের হজপালনের সুযোগকে রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন বলে। সৌদি দূতাবাস কর্তৃক হজ ভিসা দেওয়া বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্লাইট চালু সাপেক্ষে যাত্রীদের রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র