Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

স্বাধীনতার মূল্য ইহকাল ও পরকালে

স্বাধীনতার মূল্য ইহকাল ও পরকালে
স্বাধীনতার মূল্য ইহকাল ও পরকালে, ছবি: সংগৃহীত
মাহমুদা নওরিন
অতিথি লেখক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীন মানুষ হিসেবে, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে যদি সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালা কর্তৃক প্রেরিত জীবনবিধানের আলোকে জীবন গড়া না যায় তবে স্বাধীনতার মূল্য তেমন একটা থাকতে পারে বলে মনে হয় না। কারণ মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে তার সৃষ্টিকর্তার বিধি-বিধান জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।

ভূ-খণ্ডের হিসেবে মানুষ স্বাধীন হচ্ছে, স্বাধীনতার স্বাদ সর্বাংশে নির্বিচারে ভোগ ব্যবহার করছে। কিন্তু স্বাধীনতার প্রকৃত সাধ কি তার পূরণ হচ্ছে? যদি না হয় তবে এ জীবন বৃথা। কারণ একজন মানুষকে তার পার্থিব জীবনের সব কর্মকাণ্ডের হিসাব একদিন দিতেই হবে। এটা থেকে বাঁচার অন্য কোনো পথ নেই। আমরা যারা পরকালকে বিশ্বাস করি, তাদের সামনে বিশাল সংকট অপেক্ষা করছে। কারণ কিয়ামতের দিনে প্রথমে প্রত্যেক মানুষকে পাঁচটি বিশেষ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হবে। ওই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ছাড়া কারও নিস্তার নাই।

এক. মানুষকে একটা মূল্যবান জীবন দেওয়া হয়েছে। সেই জীবনটাকে সে কিভাবে ভোগ ব্যবহার করেছে?
দুই. জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান কালটা হচ্ছে যৌবনকাল। সেই যৌবনটাকে সে কিভাবে ব্যয় করেছে?
তিন. মানুষকে যে বিবেক-বুদ্ধি প্রদান করা হয়েছে সেটা সে কোন কাজে ব্যবহার করেছে?
চার. কিভাবে সে আয় করেছে?
পাঁচ. কিভাবে এবং কোথায় ব্যয় করেছে?
এমন মৌলিক জিজ্ঞাসার সঠিক জবাব নির্ভর করে তার পার্থিব জীবনে তার প্রভুর জীবন বিধান প্রয়োগের স্বাধীনতা কতটুকু ভোগ ব্যবহার করেছে তার ওপর।

সুতরাং পার্থিব জীবনে স্বাধীনভাবে বাধা-বিপত্তি ব্যতিরেকে তার সৃষ্টিকর্তার আদেশ-নিষেধ তার জীবনে প্রয়োগ ও ব্যবহার কতটুকু করেছে সে সব ব্যপারটি সবাইকে এখনই ভাবতে হবে।

যদি মানুষ তাদের জীবনকে সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত জীবন বিধানের ভিত্তিতে জীবন গড়ে তুলতে না পারে, সেটা অবশ্যই কষ্টদায়ক বিষয়, আল্লাহর বিধান না মানার নামান্তর। পরকালে এজন্য কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

আল্লাহতায়ালা মানুষকে স্বাধীনতা প্রদান করেছেন। কিন্তু মানুষের সামনে দু’টো পথই খোলা রাখা হয়েছে। একটি হলো- আল্লাহর পথ। অন্যটি শয়তানের। প্রথমটি সহজ-সরল পথ আর দ্বিতীয়টি হলো গরল বা বাঁকা পথ। যে পথ মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে, এসো এ পথে; এখানে রয়েছে আনন্দ আর আনন্দ। জীবন তো একটাই, এ জীবনে ভোগবিলাস আনন্দ না করলে জীবন তো সার্থক হবে না। মনুষ্যজীবন আনন্দ-উল্লাসে ভরতে না পারলে জীবন তো অপূর্ণ থেকে যাবে।

আর অন্যদিকে রয়েছে সত্যের একমাত্র পথ। যেটা সৃষ্টিকর্তার পথ। যে পথের ডাক দিয়েছেন নবী-রাসূলরা। তারা আল্লাহতায়ালার হুকুমে সত্য দীনসহ এ বিশ্বে আগমন করেছেন বিভিন্ন সময়ে। এ পথে রয়েছে মানুষের পরম পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। এ পথ সত্য-সঠিক, সহজ-সরল ও সুন্দরতম জান্নাতের পথ। এ পথের বিপরীতে রয়েছে জাহান্নামের পথ। মহাসংকট ও মহাদুঃখ কষ্টের পথ। মানুষকে এই দুই পথের মধ্য থেকে যেকোনো একটা পথ গ্রহণ বা বর্জন করতে হয়। মানুষ এ বিষয়ে তার পরিপূর্ণ স্বাধীনতা মানুষকে দেওয়া হয়েছে।

এভাবেই সমগ্র বিশ্বের মানুষ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে স্বাধীন সত্তা নিয়ে জীবনযাপন করছে। সেখানে বাধা ও বাধ্যবাধকতার সুযোগ নেই। নিজ ইচ্ছায় সজ্ঞানে সচেতনভাবে যে যেটা পছন্দ সে পথের পথিক হবে। এখানে জোর-জবরদস্তির কোনো সুযোগ নেই।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে বলেন, ইসলামের জোর-জবরদস্তির মওকা নেই।

বস্তুত ইসলাম হচ্ছে একটি অপার স্বাধীন জীবন বিধানের নাম। যার ইচ্ছে একে গ্রহণ করুক, এতে কারও কিছু বলার প্রয়োজন পড়ে না। বলার বা মন্তব্য করার  সুযোগ রাখা হয়নি, কেননা সবাইকেই একদিন মরণকে বরণ করতে হবে এবং মহাপ্রভুর সামনে সবাইকে সমবেত হতে হবে।

ওইদিন সব কর্মকাণ্ডের হিসাব দেওয়ার বিকল্প কোনো পথ খোলা রাখা হয়নি। কারণ, দুনিয়ায় তো এ দু’টো পথের একটিকে গ্রহণ এবং অপরটিকে বর্জনের সুযোগ ও স্বাধীনতা দেওয়া ছিল।

সুতরাং এত সুবর্ণ স্বাধীনতা পাওয়ার পর আর কোনো স্বাধীনতা চাওয়া-পাওয়ার কি কোনো যুক্তি অবশিষ্ট থাকে? না থাকতে পারে?

আপনার মতামত লিখুন :

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা
মসজিদে হারামে নামাজ আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: হজপালন শেষে মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা মক্কার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে হারামে আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করে কাটাচ্ছেন।

মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা উমরার নিয়ত করলে তাদের ইহরাম বাধার জন্য যেতে হয় আয়েশা মসজিদে। সেখানে যেয়ে (ইহরাম আগেও পড়া যায় মসজিদে আয়েশাতে যেয়েও অনেকে পরিধান করেন) দুই রাকাত নামাজ পড়ে তালবিয়া (লাব্বাইক .... ) পড়ে কাবা শরিফে এসে উমরার সব নিয়মনীতি পালন করেন।

মসজিদটি মক্কার তানঈম এলাকায় অবস্থিত। এটাকে মসজিদে তানঈমও বলা হয়। হেরেম এলাকার বাইরে এটি মক্কা থেকে সর্বাধিক নিকটবর্তী স্থান। মক্কা থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে মক্কা-মদিনা রোডে আল হিজরা এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদ। রাতদিন ২৪ ঘণ্টা এখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392961853.jpg

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে উমরা করেছিলেন। পরে সেখানে একটি বিশাল মসজিদ গড়ে উঠে। মসজিদটি ইসলামি শিল্পনৈপুণ্যের এক অনুপম নিদর্শন।

বিদায় হজের সময় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)কে তার ভাই হজরত আবদুর রহমান (রা.)-এর সঙ্গে হারামের বাইরে এখান থেকে উমরার ইহরাম বাঁধার জন্য পাঠিয়েছিলেন।

এ কারণে এখান থেকে মক্কাবাসীরা উমরার জন্য এখান থেকে ইহরাম বেঁধে থাকেন। বিদেশি হাজিরা এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে থাকেন। অবশ্য এটা নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মাঝে বিতর্ক আছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392972633.jpg

মক্কা থেকে এখানে আসতে বাস ভাড়া ৩ রিয়াল, আর ট্যাক্সি ভাড়া ৫ রিয়াল। সারাক্ষণ নফল উমরার ইহরামের জন্য আসা হাজিদের ভিড় থাকে মসজিদটিতে। বিশাল এই মসজিদের দু’টি মিনার ও একটি গম্বুজ অনেক দূর থেকে দেখা যায়। মসজিদটি খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত। মসজিদের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বিশাল জায়গা রয়েছে। রয়েছেন অজু ও নারীদের নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

হজ বা উমরাপালন করতে যারা বিমানযোগে সৌদি আরব আসেন তারা নিজ দেশ থেকে কিংবা নির্দিষ্ট মিকাত থেকে নিয়ত করেন। কিন্তু হজের পর উমরা করতে চাইলে উত্তম হলো- নির্দিষ্ট মিকাতে যেয়ে উমরার নিয়ত করা। এজন্য তায়েফ, রাবেক, মদিনা, আস-সাইরুল খাবির, আস-সাদিয়াত যেতে পারেন। এসব জায়গা থেকে আসার পথে মিকাত পড়বে। সেখান যথা নিয়মে উমরার নিয়ত করে উমরা আদায় করতে পারেন।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হচ্ছে, হজে গিয়ে বেশি বেশি তাওয়াফ করা। এটি সুন্নত এবং সবচেয়ে উত্তম কাজ। কাজেই যারা মক্কায় অবস্থান করেন, তারা বেশি করে তাওয়াফ করবেন এবং আল্লাহর ঘরে গিয়ে বেশি করে নফল নামাজ আদায় করবেন।

আরও পড়ুন: হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

আরও পড়ুন: হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র