Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

স্বাধীনতা ও ইসলাম

স্বাধীনতা ও ইসলাম
আল্লাহতায়ালা মানুষকে স্বাধীন করে সৃষ্টি করেছেন, ছবি: সংগৃহীত
মাওলানা আবদুল জাব্বার
অতিথি লেখক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

আল্লাহতায়ালা মানুষকে স্বাধীন করে সৃষ্টি করেছেন। স্বাধীনতা নিয়েই মানুষ জন্মগ্রহণ করে। মানুষের জন্মগত অধিকার হচ্ছে কেউ তাকে স্বাধীনতা ভোগের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে না এবং জোর-জবরদস্তি তাকে দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি করবে না। ইসলাম যখন স্বাধীনতাকে তার মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করে তখন সময়টি ছিল এমন যে, অধিকাংশ মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনীতিক, সামাজিক, ধর্মীয় এবং অর্থনৈতিকভাবে আক্ষরিক অর্থেই ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছিল। বলছি আইয়্যামে জাহেলিয়া তধা অন্ধকার যুগের কথা।

মানুষের এই বহুরূপ দাসত্ব-শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে ইসলাম স্বাধীনতা ঘোষণা করল। ভূ-খণ্ডের স্বাধীনতা, বিশ্বাসের স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা এবং সমালোচনার স্বাধীনতা। সবক্ষেত্রেই ইসলাম মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছে। আর চিরকাল ধরে এসব বিষয়েই মানুষ তাদের স্বাধীনতা প্রত্যাশা করে আসছে।

স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আমিরুল মুমিনিন হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর সেই বিখ্যাত উক্তিটি আমরা স্মরণ করতে পারি। তিনি বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর বুকে তুমি মানুষকে ক্রীতদাসে পরিণত করেছো, অথচ তার মা তাকে স্বাধীন মানুষ রূপেই জন্ম দিয়েছেন।’ আর চতুর্থ খলিফা হজরত আলী (রা.) একবার কিছু লোককে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘সৃষ্টির শুরু থেকে আল্লাহই যখন তোমাকে স্বাধীন মানুষ করে সৃষ্টি করেছেন, তখন কোনো মানুষ কখনো তোমাকে দাস বানাতে পারে না।’

ইসলাম কথা বলার ও সমালোচনার স্বাধীনতাকে শুধুমাত্র এর মূলনীতির অংশ হিসেবেই গ্রহণ করেনি কিংবা একে শুধুমাত্র স্বাধীনতার অংশ হিসেবেই গুরুত্ব প্রদান করেনি, বরং সমাজ-সংস্কৃতি ও গণমানুষের স্বার্থ, সার্বজনীন নৈতিকতা ও জীবন পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত জনগুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনে সত্য বলা, সত্য প্রকাশ এবং সমালোচনাকে আইনগত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কাউকে তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সত্য কথা বলা, সমালোচনা করা, সং কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাকে ধর্মীয় কর্তব্যের অংশ বলে গণ্য করা হয়েছে। সত্যের প্রতি আহ্বান, সৎ লোকদের উৎসাহ প্রদান, দুষ্কৃতিকারীদের নিন্দা করাকে ঈমানদারীর লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ঈমানদার ব্যক্তির নীরবতা যদি সমাজের ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে এর জন্য আল্লাহতায়ালার কাছে তাকেও জবাবদিহি করতে হবে। এ কারণে ঈমানদার ব্যক্তির ওপর অপরিহার্য দায়িত্ব হয়ে পড়ে সত্যের পক্ষে কথা বলার জন্য এগিয়ে আসা এবং এক্ষেত্রে কোনো রক্ত চক্ষুর হুমকি বা কোনো পরিণতির পরোয়া না করে সত্যকে সবার উপরে স্থান দেওয়া।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখ আর যে বিপদই আসুক না কেন তার জন্য ধৈর্যধারণ কর। এসবই আল্লাহ প্রদত্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান এবং এ থেকে অব্যাহতি পাওয়া যেতে পারে না।’ -সূরা লোকমান: ১৭

বস্তুত এটিই ইসলামের পথ, এটিই ইসলামের ব্যাপ্তি। ইসলাম মানুষের মুখে ঠুলি পরানোর ধারণা প্রত্যাখ্যান করে। যেখানে লোকেরা কেবল অনুমতি নিয়ে কথা বলবে আর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে ধর্মবিশ্বাস লালন করবে। কত জঘন্য এই আচরণ, কত জঘন্য এই মানসিকতা! ইসলাম এমন মানসিকতার তীব্র বিরোধী।

ইসলাম এসেছে মানুষকে চিন্তা-ভাবনার সুযোগ দেওয়ার জন্য, এ কারণে ইসলাম মানুষকে ব্যাপকভাবে চিন্তা-গবেষণার নির্দেশ প্রদান করে। লোকেরা যে বিশ্বাসকে ভালো মনে করে তাকে লালন এবং যাকে অযথার্থ মনে করে তা থেকে বিরত থাকার পূর্ণ অধিকার ইসলাম মানুষকে প্রদান করেছে। ইসলাম মানুষের ওপর এ দায়িত্ব অর্পণ করেছে যে, তারা যেন মনের বিরুদ্ধে কোন ধর্ম বিশ্বাসকে গ্রহণ না করে। ইসলাম বলে, এই ধর্মকে যদি কেউ গ্রহণ করে তাহলে যেন সচেতনভাবে জেনে বুঝে আন্তরিকতার সঙ্গে একে গ্রহণ করে। ইসলাম মুসলমানদের বিশ্বাসের দৃঢ়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে এবং বিশ্বাসের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সংগ্রাম করারও নির্দেশ দেয়।

তবে স্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারকে এক করে দেখে না ইসলাম। বর্তমানে পাপাচার, নৈতিক বিকৃতি আর স্বেচ্ছাচারের পক্ষে সাফাই গাওয়া হচ্ছে আর দাবি করা হচ্ছে এগুলো নাকি ‘ব্যক্তি স্বাধীনতা।’ মূলত এর মাধ্যমে ব্যক্তিস্বাধীনতারই যে অবমাননা করা হচ্ছে, বিকৃতি করা হচ্ছে তাতে আর কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না।

ইসলামের অন্যতম একটি বিধান হচ্ছে- নিজের এবং অন্য কারও ক্ষতিই করা যাবে না। উল্লেখিত নীতিমালার আওতায় ক্ষতিকর সব স্বাধীনতাই প্রতিরোধযোগ্য এবং নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। মনে রাখা উচিত, আপনার স্বাধীনতার সমাপন অন্যের স্বাধীনতার সূচনা করে। দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা যায়, রাস্তায় চলাচল কিংবা গাড়ি চালানোর অধিকার আপনার রয়েছে, কিন্তু তার শর্ত হচ্ছে আপনাকে ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তাহলে স্বাধীনতার অজুহাতে আপনার দ্বারা পথচারীকে চাপা দেওয়া, অন্যের গাড়ির ক্ষতি করা কিংবা ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করা আর সম্ভব হবে না। কারণ লাল বাতি জ্বলাকালীন গাড়ি থামানো বা রাস্তায় সঠিকভাবে গাড়ি চালানোর মতো বিধি-নিষেধগুলো সম্পূর্ণভাবেই জনস্বার্থের পক্ষে।

এই দৃষ্টান্তটি ধর্মের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মানব কল্যাণে প্রত্যেক ধর্মেই এবং প্রত্যেক ব্যবস্থাতেই কিছু বিধি-নিষেধ এবং নিয়ন্ত্রণ থাকে। ইসলামও এর থেকে ব্যতিক্রম নয়। যদিও মানবতার কল্যাণে ইসলাম যে আদর্শ পেশ করে তার কাছে পৌঁছতে কোনো সভ্যতাই সক্ষম হয়নি। আসলেই ইসলাম মানবজীবনের জন্য সর্বোত্তম পাথেয়।

আপনার মতামত লিখুন :

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা
সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা, ছবি: সংগৃহীত

কালো কাপড়ের আচ্ছাদিত পবিত্র কাবা দেখতে বিশ্ববাসী অভ্যস্ত। এটাই কাবার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বছরের তিন সপ্তাহের মতো সময় সেই পুরনো রূপে দেখা যায় না কাবাকে। কারণ, তখন কালো কাপড়ের সঙ্গে কাবার গিলাফের নিচের বেশ কিছু অংশ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, আর কিছু অংশ খালি রাখা হয়। তখন সাদা-কালোর মিশ্রণে নতুন রূপে দেখা যায় কাবা ঘরকে।

প্রতিবছর হজ মৌসুমে জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফকে মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠিয়ে খাঁজ করে রাখা হয়। আর কিছু অংশ খোলা রাখা হয়।

কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজপালনেচ্ছুদের অনেকে বরকত লাভের আশায় নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাবার গিলাফ কেটে নিয়ে যায়। তারা মনে করেন, কাবার গিলাফের টুকরো কাফনের কাপড়ের সঙ্গে দিয়ে দিলে কবরের আজাব হবে না, কিংবা পরকালে এটা তার মুক্তির কারণ হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722255398.jpg

অনেকে আবার পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ স্পর্শ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে আহত হন। ফলে অনেকের জন্য তাওয়াফ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।
মূলত কাবার গিলাফের মূল অবয়ব রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এটা করা হয়। তখন সাদা-কালোর গিলাফের সংমিশ্রণে কাবা শরিফের নতুন রূপ পরিলক্ষিত হয়। দেখার সৌভাগ্য হয় কাবার দেয়ালের প্রকৃত রূপ।

অবশ্য ৯ জিলহজ আরাফার দিন (হজের দিন) পুরনো এই গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে। ফলে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসে হাজি সাহেবর নতুন গিলাফে ঢাকা কাবা দেখতে পাবেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722287338.jpg

কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজযাত্রী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী মক্কার পথে

ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী মক্কার পথে
ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী এখন মক্কার পথে, ছবি: সংগৃহীত

ভিসা জটিলতার কারণে নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করা যাত্রীদের মধ্যে সর্বশেষ ৬৭ জন হজযাত্রী সাধারণ ফ্লাইটে মক্কায় যাচ্ছেন।

রোববার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় এই হজযাত্রীরা অন্য সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গী হয়ে মক্কায় যাচ্ছেন। বিমানের বিজি ১৩৫ নং ফ্লাইটে বিমানের ৪২০ জন যাত্রীর সঙ্গে এই ফ্লাইটে হজযাত্রী রয়েছেন মাত্র ১০০ জন।

মিনার এয়ার ট্রাভেলসের ৬৭ জন হজযাত্রী ভিসা জটিলতায় ১৬ জুলাই বিমানের নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করেন। শুধু মিনার এয়ার ট্রাভেলস নয়, এর সঙ্গে আরও তিনটি ট্রাভেলসের মোট দেড়শ’ হজযাত্রী ফ্লাইট মিস করেছিলেন। তবে অন্যান্য ট্রাভেলসের হজযাত্রীরা ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে মক্কায় চলে গেছেন। কিন্তু মিনার ট্রাভেলসের হজযাত্রীরা বিচ্ছিন্নভাবে যেতে রাজি হননি। তাই তাদের সবাইকে অন্য একটি সাধারণ ফ্লাইটে মক্কায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই ফ্লাইটটি (বিজি ১৩৫) রোববার সন্ধা সাড়ে ছয়টায় ঢাকা ছেড়ে গেছে।

উল্লেখ্য গত ১৪ ও ১৫ জুলাই সৌদি দূতাবাসের অনলাইন সার্ভারের জটিলতায় সঠিক সময়ে ভিসা হাতে না পেয়ে বিমানের দু’টি ফ্লাইট মিস করেছেন এই হজযাত্রীরা। দু’দিন পরে গত মঙ্গলবার ভিসা হাতে পাওয়ার পর বিমানের অন্য ফ্লাইটেও কোনো শিডিউল পাচ্ছিলেন না তারা। ফলে কবে বা কোন ফ্লাইটে এই ১৫১ জন হজযাত্রী মক্কায় যেতে পারবেন সেটিও অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যেই ছিল।

রোববার আশকোনাস্থ হজক্যাম্পে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েকটি হজ এজেন্সির মোট ১৫১ জন হজযাত্রী বিলম্বে ভিসা পাওয়ার কারণে তারা বিমানের ফ্লাইট মিস করেছিলেন। নির্ধারিত ফ্লাইটে তারা হজে যেতে পারেননি। এর মধ্যে মিনার এয়ার ট্রাভেলসের (হজ লাইসেন্স নং ১০৩০) তাদের ৬৭ জন হজযাত্রীর ভিসা দূতাবাসের সার্ভারের সমস্যার কারণে সঠিক সময়ে অর্থাৎ নির্ধারিত ফ্লাইটের আগে হাতে পাননি। এই ৬৭ জন হজযাত্রীর যাত্রার নির্ধারিত ফ্লাইট ছিল ১৬ জুলাই মঙ্গলবার (বিজি ৩০৩৩) ফ্লাইটে।

ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীরা বিমান হজ অফিসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে মক্কায় চলে গেছেন। একমাত্র মিনার এয়ার ট্র্রাভেলস ছাড়া অন্যান্য কোনো ট্রাভেলসের ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রী মক্কায় যাওয়ার বাকি নেই। মিনার ট্রাভেলসের যাত্রীরা বিচ্ছিন্নভাবে হজে যেতে রাজি না হওয়ায় এখন তাদের এই ৬৭ জনসহ মোট ১০০ জন হজযাত্রীকে বিমানের সাধারণ ফ্লাইটেই মক্কায় যেতে হচ্ছে।

রোববার দুপুরে আশকোনাস্থ হজ ক্যাম্পের পরিচালক (হজ অফিসার) মো: সাইফুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্য ফ্লাইটে মক্কায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। মিনার ট্রাভেলস ছাড়া আর কোন ফ্লাইট মিস করা যাত্রী ঢাকায় নেই। তারা সকলেই মক্কায় পৌছে গেছেন। রোববার সন্ধায় বিমানের একটি ফ্লাইটে মিনার ট্রাভেলস এর ৬৭ জন হজযাত্রীও মক্কায় যাচেছন।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র