Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভে করণীয়

আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভে করণীয়
আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভে করণীয়, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের লক্ষ্য। তাইতো তারা সব সময় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। তার দেখানে পথে চলেন। দুনিয়ার সব কাজে, প্রতি মুহূর্তে আল্লাহকে স্মরণ করেন।

আল্লাহতায়ালা যেহেতু মানুষের সব বিষয়ে অবগত তাই, প্রকৃত মুমিনের অন্যায়-অপরাধে জড়ানোর কোনো সুযোগ থাকে না।

এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তুমি এমনভাবে ইবাদত কর যে, আল্লাহতায়ালা তোমাকে দেখছন, আর তুমি যদি আল্লাহকে না দেখ, আল্লাহতায়ালা অবশ্যই তোমাকে দেখছেন।’

সুতরাং মানুষের উচিত এই হাদিসের শিক্ষা গ্রহণ করার মাধ্যমে পাপমুক্ত জীবন-যাপন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।

ইসলামি স্কলাররা বলেছেন, ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রে বান্দার মনের অবস্থা এমন হওয়া জরুরি যে, বান্দার প্রতিটি কাজ আল্লাহ দেখছেন। তখন আর বান্দা দ্বারা অন্যায়-অত্যাচার ও পাপাচারসহ কোনো অন্যায় কাজ হবে না।

গভীর রাতে একনিষ্ঠ মনে জীবনের ঘটে যাওয়া সব অন্যায় ও গোনাহের কথা স্মরণ করে আল্লাহর কাছে রোনাজারি করে ক্ষমা প্রার্থনা করা। সিই সঙ্গে নিম্নের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা। যে বিষয়গুলোর কারণে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন সহজ হয়ে যায়।

এক. ইসলামের প্রথম শিক্ষা এবং আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের প্রথম শর্ত হলো- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ বলে ঈমান আনা এবং এর দাবির ওপর অবিচল থাকা।

দুই. অত্যাবশ্যক পরিমাণ ধর্মীয় বিধি-বিধান শিখে নেওয়া এবং সেগুলোর ওপর আমল করা।

তিন. ফরজ ইবাদতসমূহ আদায় করা এবং মানুষের অধিকারগুলো পরিপূর্ণভাবে আদায় করা।

চার. আদব-কায়দয় ও স্বভাব-চরিত্রে ভালো থাকা।

পাঁচ. কখনও গোনাহ হয়ে গেলে তওবা করা এবং কোনো ব্যক্তির সঙ্গে বাড়াবাড়ি হয়ে গেলে বদলা দিয়ে কিংবা মাফ চেয়ে মিটমাট করে নেওয়া।

ছয়. দুনিয়ার সবকিছু থেকে আল্লাহ ও তার রাসূলকে অধিক ভালোবাসা।

সাত. দ্বীনের দাওয়াত, খেদমত ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার মেহনতের সঙ্গে যুক্ত থাকা।

আট. সমস্ত গোনাহ বিশেষত চুরি, ঘুষ, মিথ্যা, ব্যভিচার, অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য, হিংসা-পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি কবিরা গোনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকা।

নয়. তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা করা এবং প্রতিদিন কিছু পরিমাণ জিকির ও কোরআন তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলা। এ ছাড়া কালিমায়ে তামজিদ, তাসবিহে ফাতেমি, দরুদ শরিফ ইত্যাদি পাঠ করা। এর বেশি জিকির করতে চাইলে কোনো যোগ্য ব্যক্তির পরামর্শ নেওয়া।

দশ. আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখ তথা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের প্রতি মনে গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করা। তাদেরকে ভালোবাসা এবং তাদের সান্নিধ্য গ্রহণ করা। মূলত যারা আল্লাহর নেক বান্দাদের সান্নিধ্য পায়, ধীরে ধীরে তাদের মাঝে দ্বীনের সব আমল এসে যায়।

আপনার মতামত লিখুন :

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা
সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা, ছবি: সংগৃহীত

কালো কাপড়ের আচ্ছাদিত পবিত্র কাবা দেখতে বিশ্ববাসী অভ্যস্ত। এটাই কাবার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বছরের তিন সপ্তাহের মতো সময় সেই পুরনো রূপে দেখা যায় না কাবাকে। কারণ, তখন কালো কাপড়ের সঙ্গে কাবার গিলাফের নিচের বেশ কিছু অংশ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, আর কিছু অংশ খালি রাখা হয়। তখন সাদা-কালোর মিশ্রণে নতুন রূপে দেখা যায় কাবা ঘরকে।

প্রতিবছর হজ মৌসুমে জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফকে মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠিয়ে খাঁজ করে রাখা হয়। আর কিছু অংশ খোলা রাখা হয়।

কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজপালনেচ্ছুদের অনেকে বরকত লাভের আশায় নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাবার গিলাফ কেটে নিয়ে যায়। তারা মনে করেন, কাবার গিলাফের টুকরো কাফনের কাপড়ের সঙ্গে দিয়ে দিলে কবরের আজাব হবে না, কিংবা পরকালে এটা তার মুক্তির কারণ হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722255398.jpg

অনেকে আবার পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ স্পর্শ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে আহত হন। ফলে অনেকের জন্য তাওয়াফ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।
মূলত কাবার গিলাফের মূল অবয়ব রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এটা করা হয়। তখন সাদা-কালোর গিলাফের সংমিশ্রণে কাবা শরিফের নতুন রূপ পরিলক্ষিত হয়। দেখার সৌভাগ্য হয় কাবার দেয়ালের প্রকৃত রূপ।

অবশ্য ৯ জিলহজ আরাফার দিন (হজের দিন) পুরনো এই গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে। ফলে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসে হাজি সাহেবর নতুন গিলাফে ঢাকা কাবা দেখতে পাবেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722287338.jpg

কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজযাত্রী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী মক্কার পথে

ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী মক্কার পথে
ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী এখন মক্কার পথে, ছবি: সংগৃহীত

ভিসা জটিলতার কারণে নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করা যাত্রীদের মধ্যে সর্বশেষ ৬৭ জন হজযাত্রী সাধারণ ফ্লাইটে মক্কায় যাচ্ছেন।

রোববার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় এই হজযাত্রীরা অন্য সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গী হয়ে মক্কায় যাচ্ছেন। বিমানের বিজি ১৩৫ নং ফ্লাইটে বিমানের ৪২০ জন যাত্রীর সঙ্গে এই ফ্লাইটে হজযাত্রী রয়েছেন মাত্র ১০০ জন।

মিনার এয়ার ট্রাভেলসের ৬৭ জন হজযাত্রী ভিসা জটিলতায় ১৬ জুলাই বিমানের নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করেন। শুধু মিনার এয়ার ট্রাভেলস নয়, এর সঙ্গে আরও তিনটি ট্রাভেলসের মোট দেড়শ’ হজযাত্রী ফ্লাইট মিস করেছিলেন। তবে অন্যান্য ট্রাভেলসের হজযাত্রীরা ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে মক্কায় চলে গেছেন। কিন্তু মিনার ট্রাভেলসের হজযাত্রীরা বিচ্ছিন্নভাবে যেতে রাজি হননি। তাই তাদের সবাইকে অন্য একটি সাধারণ ফ্লাইটে মক্কায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই ফ্লাইটটি (বিজি ১৩৫) রোববার সন্ধা সাড়ে ছয়টায় ঢাকা ছেড়ে গেছে।

উল্লেখ্য গত ১৪ ও ১৫ জুলাই সৌদি দূতাবাসের অনলাইন সার্ভারের জটিলতায় সঠিক সময়ে ভিসা হাতে না পেয়ে বিমানের দু’টি ফ্লাইট মিস করেছেন এই হজযাত্রীরা। দু’দিন পরে গত মঙ্গলবার ভিসা হাতে পাওয়ার পর বিমানের অন্য ফ্লাইটেও কোনো শিডিউল পাচ্ছিলেন না তারা। ফলে কবে বা কোন ফ্লাইটে এই ১৫১ জন হজযাত্রী মক্কায় যেতে পারবেন সেটিও অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যেই ছিল।

রোববার আশকোনাস্থ হজক্যাম্পে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েকটি হজ এজেন্সির মোট ১৫১ জন হজযাত্রী বিলম্বে ভিসা পাওয়ার কারণে তারা বিমানের ফ্লাইট মিস করেছিলেন। নির্ধারিত ফ্লাইটে তারা হজে যেতে পারেননি। এর মধ্যে মিনার এয়ার ট্রাভেলসের (হজ লাইসেন্স নং ১০৩০) তাদের ৬৭ জন হজযাত্রীর ভিসা দূতাবাসের সার্ভারের সমস্যার কারণে সঠিক সময়ে অর্থাৎ নির্ধারিত ফ্লাইটের আগে হাতে পাননি। এই ৬৭ জন হজযাত্রীর যাত্রার নির্ধারিত ফ্লাইট ছিল ১৬ জুলাই মঙ্গলবার (বিজি ৩০৩৩) ফ্লাইটে।

ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীরা বিমান হজ অফিসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে মক্কায় চলে গেছেন। একমাত্র মিনার এয়ার ট্র্রাভেলস ছাড়া অন্যান্য কোনো ট্রাভেলসের ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রী মক্কায় যাওয়ার বাকি নেই। মিনার ট্রাভেলসের যাত্রীরা বিচ্ছিন্নভাবে হজে যেতে রাজি না হওয়ায় এখন তাদের এই ৬৭ জনসহ মোট ১০০ জন হজযাত্রীকে বিমানের সাধারণ ফ্লাইটেই মক্কায় যেতে হচ্ছে।

রোববার দুপুরে আশকোনাস্থ হজ ক্যাম্পের পরিচালক (হজ অফিসার) মো: সাইফুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্য ফ্লাইটে মক্কায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। মিনার ট্রাভেলস ছাড়া আর কোন ফ্লাইট মিস করা যাত্রী ঢাকায় নেই। তারা সকলেই মক্কায় পৌছে গেছেন। রোববার সন্ধায় বিমানের একটি ফ্লাইটে মিনার ট্রাভেলস এর ৬৭ জন হজযাত্রীও মক্কায় যাচেছন।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র