Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ভাউচারে বেশি খরচ দেখিয়ে টাকা নেওয়া হারাম

ভাউচারে বেশি খরচ দেখিয়ে টাকা নেওয়া হারাম
ভাউচারে বেশি খরচ দেখিয়ে টাকা নেওয়া হারাম, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন কাজে অফিসের বাইরে যেতে হয়। ওই সফরে নানাখাতে খরচ হয়। এ খরচগুলো ভাউচারের মাধ্যমে অফিস থেকে আদায় করে নেন তারা। এক্ষেত্রে সাধারণত চাকরির পদ অনুযায়ী উচ্চপদে কর্মরতদের বিল সহজেই পাশ হয়ে যায়। চাকরিজীবীরা পদ অনুযায়ী বিল তৈরি করে দেন। সাধারণত কেউ নিজের পদ থেকে উন্নতমানের অথবা নিম্নমানের যাতায়াত ও অন্যান্য খরচের ভাউচার দেন না।

অনেকে আবার বাড়তি কিছু সঞ্চয়ের আশায় নিজের পদ অনুযায়ী প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে নিম্নমানে যাতায়াত করে ভাউচার তৈরি করার ক্ষেত্রে নিজ পদমর্যাদা সমমানের খরচ লিখে বিল পাশ করায়। এটা ইসলামি শরিয়তে জায়েজ কি না?

বর্ণিত অবস্থায় দু’টি বিষয়ে খেয়াল রাখার জন্য ইসলামি স্কলাররা মত দিয়েছেন।

এক. যদি কর্তৃপক্ষ যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খরচের টাকা দায়িত্বশীলকে মালিক বানিয়ে প্রদান করে থাকে। যাতায়াত খরচ কম হোক বা বেশি হোক, এর দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের নয়, বরং কাজটি সম্পন্ন করা দায়িত্বশীলের দায়িত্ব। আর এ জন্য যাতায়াত ভাড়া, থাকা-খাওয়া ইত্যাদি নামে টাকা বরাদ্দ করা হয়। এক্ষেত্রে কমবেশি মেনে নিয়ে কাজ করলে, উদ্ধৃত্ত টাকা থাকলে সেটা নিজে নিতে পারবে। এক্ষেত্রে টাকা কম হয়ে গেলে, নিজ থেকে পরিশোধ করার মানসিকতা থাকতে হবে। এ পদ্ধতি একটা চুক্তিবিশেষ। সুতরাং এখানে চুক্তি অনুযায়ী কাজ হবে।

দুই. কর্তৃপক্ষ যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় খরচ হিসেবে টাকা প্রদান করেন। কোনো কারণে খরচ বেশি হলে কর্তৃপক্ষ এর দায় গ্রহণ করেন।

উপরোক্ত দুই অবস্থার মাঝে প্রথম অবস্থায় কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীলকে যাতায়াত খরচ হিসেবে যে টাকা প্রদান করেন, ওই টাকার মালিক বানিয়ে দেন, খরচের কমবেশির জিম্মাদার কর্তৃপক্ষ হন না। এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ব্যক্তি খরচ কমিয়ে বাকি টাকা রেখে দেওয়া তার জন্য বৈধ।

তবে দ্বিতীয় অবস্থায় যেহেতু সত্যিকার অর্থে যাতায়াতসহ অন্যান্য খরচ হিসেবে যে টাকা দেওয়া হয়। এর চেয়ে বেশি খরচ হলে কর্তৃপক্ষ জিম্মাদার হয়, তাহলে বুঝা যাচ্ছে, টাকাটা তার যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অন্যখাতে প্রাপ্ত টাকা হিসেবেই প্রদান করা হয়েছে। দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে এর মালিক বানিয়ে দেওয়া হয়নি। শুধু কাজটি শেষ করতে যে পরিমাণ টাকা প্রয়োজন ততটুকু খরচের অধিকার প্রদান করা হয়েছে।

তাই এক্ষেত্রে কম খরচ করার পর টাকা উদ্বৃত্ত থাকলে তা কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত দিতে হবে। এ ছাড়া খরচের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ করা যাবে না। নিজের স্ট্যাটাস অনুযায়ী খরচ করতে হবে। ভাউচারেও বেশি লেখা যাবে না। এটা ধোঁকার শামিল। আর ইসলামের ধোঁকা হারাম কাজ। ধোঁকার মাধ্যমে অর্জিত সবকিছু হারাম।

হাদিসে আছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মতভুক্ত নয়। -সহি মুসলিম: ১৬৪

অন্য হাদিসে আছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, মুসলমানরা তার শর্তের ওপর থাকবে। -সুনানে আবু দাউদ: ৩৫৯৪

আপনার মতামত লিখুন :

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করছেন হজযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজপালনে ৬২ হাজার ৭৪৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ১৪১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৫টিসহ মোট ১৭৩টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব ব্যবস্থাপনামহ ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু করেছে।

অনলাইনে হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ জন হজযাত্রীর।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে সৌদি আরবে ১২ জন ইন্তেকাল করেছেন। তন্মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের ৯ জন মক্কায়, মদিনায় ২ জন ও জেদ্দায় ১ জন ইন্তেকাল করেন।

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র