Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

আফ্রিকা থেকে সাইকেলে চড়া প্রথম হজ কাফেলা যাচ্ছে সৌদি

আফ্রিকা থেকে সাইকেলে চড়া প্রথম হজ কাফেলা যাচ্ছে সৌদি
কেনিয়া থেকে এই ৪ জন সাইকেলযোগে হজ পালন করবেন, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কেনিয়া পূর্ব আফ্রিকার একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। মালভূমি ও উঁচু পর্বতে পূর্ণ দেশটিতে বহু জাতির লোকের বসবাস। অতীতে এটি একটি ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। ১৯৬৩ সালে কেনিয়া স্বাধীনতা লাভ করে এবং ১৯৬৪ সাল থেকে এটি একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। নাইরোবি কেনিয়ার রাজধানী ও বৃহত্তম শহর।

আয়তনের দিক থেকে কেনিয়া বিশ্বের ৪৭তম বৃহত্তম রাষ্ট্র। এর আয়তন ৫৮০,৩৬৭ বর্গ কিলোমিটার। ধর্ম বিশ্বাসের দিক দিয়ে কেনিয়ার অধিকাংশ নাগরিকই খ্রিস্টান। এ ছাড়া অন্য ধর্মের লোকও রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে- প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান ৪৫%, রোমান ক্যাথলিক ৩৩%, মুসলমান ১১%, সনাতন ১০% এবং অন্যান্য ২%।

কেনিয়ায় মুসলমানদের বাস কয়েক শ’ বছর ধরে। বর্তমানে দেশটির ১১ ভাগ মানুষ মুসলমান। মোমবাসার মতো উপকূলীয় শহরে তাদের সংখ্যা বেশি। ওই নগরীর প্রায় অর্ধেকই মুসলমান। কিসুমু ও নাইরোবিতেও অনেক মুসলমানের বাস। দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ খ্রিস্টান হলেও এর মধ্যে স্বকীয়তা বজায় রেখে বসবাস করছেন মুসলমানরা।

সেই কেনিয়া থেকে সাইকেল চালিয়ে পবিত্র হজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন চার জন মুসলিম। এজন্য তারা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণেও অংশ নিয়েছেন। তাদের বিমানে করে হজ পালনের সামর্থ্য আছে, তার পরও এই ৪ অভিজাত নাগরিক ইচ্ছা বরেছেন সাইকেল চালিয়ে হজব্রত পালনের। ওই ৪ জনের একজন নারী ও ৩ জন পুরুষ।

সাইকেল চালিয়ে হজ পালনের উদ্দেশ্য হলো- দরিদ্রদের জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি সেবা সংগঠনের তহবিল সংগ্রহ করা।

কেনিয়া পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১০ জুন কেনিয়া থেকে হজের উদ্দেশ্যে তারা রওয়ানা দেবেন। ৪৫ দিনের দীর্ঘ সাইকেল ভ্রমণের জন্য নিজেদের তৈরি করতে বর্তমানে পাহাড়ি এলাকায় সাইকেল চালিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন তারা।

আফ্রিকা থেকে এটিই হবে সাইকেলে চড়া প্রথম হজ কাফেলা।

কেনিয়া কোস্ট ট্যুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (কেসিটিএ)-এর অফিসার মোসাম্বা জানান, কেনিয়ার এই ৪ সাইক্লিস্ট বলেছেন, তারা ৪৫ দিনে কেনিয়া থেকে পবিত্র হজ পালনে মক্কায় পৌঁছাতে পারবেন।

তারা কেনিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে ইথিওপিয়া, তারপর উত্তর সুদান হয়ে ফেরিতে লাল সাগর পাড়ি দিয়ে জেদ্দা বন্দর হয়ে পবিত্র হজ পালনে মক্কায় পৌঁছাবেন।

সাইকেলযোগে হজ পালন দলের সদস্যরা হলেন- মোহাম্মদ জহির (দলনায়ক), আনোয়ার মানসুর, মোহাম্মদ সেলিম মোহাম্মদ এবং নারী প্রতিনিধি ওসমান ইদরিসা।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' অর্থাৎ 'আমি উপস্থিত হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত।' সাদা দুই টুকরো কাপড় গায়ে জড়িয়ে বারবার এ ঘোষণায় আকাশ-বাতাস মুখর করে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মধ্য দিয়ে এবার হজপালন করলেন প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম। আরাফাতের ময়দানে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সফেদ-শুভ্র কাপড় পরে চোখে পানি নিয়ে মোনাজাত করেছেন হাজিরা জীবনের যাবতীয় পাপ মাফের জন্য।

এবার হজপালন করেছেন ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ জন। ২০১৮ সালে হজপালন করেছিলেন ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৭৫ জন। গতবারের তুলনায় এবার হজপালনকারীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৩১ জন বেশি। এবারের হজপালনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রী ছিলো- ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ জন, আর সৌদি আরবের হজপালনকারী ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৯ জন (সৌদি নাগরিক ২ লাখ ১১ হাজার ৩ জন, সৌদিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৬ জন)। এই বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীর মধ্যে পুরুষ হজযাত্রী ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৩৪ জন (শতকরা ৫৩ ভাগ), নারী হজযাত্রী ১১ লাখ ৪ হাজার ১৭২ জন (শতকরা ৪৭ ভাগ)। এবার ৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৩০ দম্পতি হজপালন করেছেন। হজযাত্রীরা আকাশ পথ, সড়ক পথ ও নৌ-পথ ব্যবহার করে হজপালন করতে সৌদি আরব এসেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় এশিয়া মহাদেশ শীর্ষে। আর দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া। এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে হজপালন করছেন ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী। বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮। বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে বয়স অনুযায়ী ৪১-৬০ বছর বয়সী যাত্রীর হার শকতরা ৩৪ ভাগ। আর লিঙ্গ অনুযায়ী পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ৬৩ ভাগ। বাংলাদেশ থেকে ঢাকা বিভাগের হজযাত্রী বেশি (শতকরা ৩৩ ভাগ) আর যাত্রী কম সিলেট বিভাগের (শতকরা ২ ভাগ)। হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শতকরা ৯ ভাগ চাকরিজীবির বিপরীতে শতকরা ৪০ ভাগ ব্যবসায়ী এবার হজ পালন করেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা হিসেবে শীর্ষ দশের অন্য দেশগুলো হলো- দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান (১ লাখ ৭৯ হাজার ২১০), তৃতীয় ভারত (১ লাখ ৭০ হাজার), পঞ্চম মিসর (১ লাখ ৮ হাজার), ষষ্ঠ ইরান (৮৬ হাজার ৫০০), সপ্তম তুরস্ক (৭৯ হাজার), অষ্টম নাইজেরিয়া (৭৯ হাজার), নবম আলজেরিয়া (৩৬ হাজার) ও দশম স্থানে রয়েছে মরক্কো (৩১ হাজার)।

উল্লেখিত দেশসমূহ বাদে অন্য দেশসমূহের হজযাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১০৬ জন।

এবারও হজ উপলক্ষে সৌদি সরকার ৫ রিয়াল মূল্যমানের ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছে। প্রথমবারের মতো আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া হজের খুতবা রেডিওর মাধ্যমের সরাসরি ৬টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়েছে। ওই ৬টি ভাষা হলো- ইংরেজি, চাইনিজ, উর্দু, ফার্সি, ফ্রান্স ও মালি। সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো ৫০ ভাষার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হজ অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয় হজপালনকারীদের মোবাইলে প্রতিদিন বিভিন্ন পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনামূলক প্রায় ৩২ লাখ এসএমএস পাঠিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র